Team Zero Degree

Team Zero Degree Team Zero Degree (0°)
Hidden Crime Investigators... Detective Mind.

17/10/2017

বিশ্বের ২০৩টি দেশে পেপ্যাল সেবা চালু আছে। এর মধ্যে মাত্র ২৯টি দেশে পেপ্যালের পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু আছে এবং ১০৩টি দেশে শুধু ইনবাউন্ড সেবা চালু রয়েছে। আর যে সকল দেশে পেপ্যাল পূর্ণাঙ্গ সেবা দিচ্ছে, তার অধিকাংশ দেশেই পেপ্যাল প্রাথমিকভাবে ইনবাউন্ড সেবা চালুর পরই পর্যায়ক্রমে আউটবাউন্ডসহ পরিপূর্ণ সেবা চালু করেছে

PayPal Holdings, Inc বিশ্বের বৃহত্তম ইন্টারনেট ভিত্তিক পেমেন্ট কোম্পানি। জুম এখন পেপ্যাল এরই অংশ এবং এর মাধ্যমে দ্রুত, সহজ এবং নিরাপদ পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিকভাবে আর্থিক লেনদেন, মোবাইল লোড এবং বিল প্রদান করা যায়। আমরা যেমন গুগলের ই-মেইল সার্ভিস জিমেইল ব্যবহার করি, তেমনি পেপ্যালের লেনদেন সুবিধাগুলোও জুমের মাধ্যমে করা য়ায়।

১৯ অক্টোবর আমরা পেপ্যালের জুম সার্ভিস উদ্বোধন করার মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল ট্রানজেকশনে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। এতে করে দেশের বাইরের পেপ্যাল একাউন্টধারী সহজেই তার একাউন্ট থেকে সরাসরি বাংলাদেশী জুম গ্রাহকের একাউন্টে অর্থ পাঠাতে পারবেন(ইনবাউন্ড)।

প্রাথমিকভাবে ইউএসএ থেকে পেপ্যালের একাউন্টধারী যে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশে টাকা পাঠাতে পারবেন। আগামী বছর থেকে এ তালিকায় আরও নতুন নতুন দেশ সংযুক্ত হবে।


এর ফলে গ্রাহক ৪০ মিনিটের মধ্যেই গ্রহীতা টাকা গ্রহণ করতে সক্ষম হবে।
প্রতিবার লেনদেনে $ ১,০০০ পর্যন্ত মাত্র $ ৪.৯৯ ফি লাগবে। $ ১,০০০ এর ওপর লেনদেনের ক্ষেত্রে কোন ফি নেই।
প্রতি লেনেদেনে সর্বোচ্চ $ ১০,০০০ পাঠাতে পারবেন।





ফ্রিল্যান্সাররা বর্তমানে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার নানাভাবে তাদের উপার্জনকৃত অর্থ বাংলাদেশে নিয়ে আসছে।এই অর্থ নিয়ে আসতে নানা ধরণের সমস্যার ফলে ফ্রিল্যান্সারদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল--সরকার যেন তাদেরকে পেপ্যালের মাধ্যমে বিদেশ থেকে অর্থ নিয়ে আসার সুবিধা করে দেয়। আমরা তাদের দাবি পূরণ করতে পারছি। ফলে, পেপ্যাল সেবা চালুর মাধ্যমে তাদের অর্থ নিয়ে আসা যেমন সহজ হবে, তেমনিভাবে অর্থ নিয়ে আসার হারও কয়েকগুণ বাড়বে । আর প্রবাসীদের যে ১৫ বিলিয়ন রেমিট্যান্স বাংলাদেশে আসে, তাও কয়েকগুণ বাড়বে। সোনালী ব্যাংক, রুপালী ব্যাংক, অগ্রণীব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পুবালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকে প্রাথমিকভাবে এ সেবা চালু হলেও অচিরেই তা অন্যান্য ব্যাংকগুলোতে সম্প্রসারিত হবে।এভাবেই ধীরে ধীরে আমরা ক্যাশলেস সোসাইটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবো।

দেশে পেপ্যাল সেবা চালুর ফলে ৫.৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার ও ১ কোটি প্রবাসীর যেমন উপকার হবে, এই সেবা চালুর ফলে তেমনিভাবে ক্ষতিগ্রস্থও হবে কিছু অসাধু ও অবৈধ ব্যবসায়ী।কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা,আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ, জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় কখনোই গুটি কতক অসাধু মানুষের সুবিধা চাইতে বিবেচনার চাইতে বরং সমাজের বৃহৎ অংশের সুবিধা ও তাদের চাহিদাকে প্রাধান্য দেয়। ফলে, বিতার্কিকরা বিতর্ক করুক। ওনারা পদ্মা সেতু নিয়েও বিতর্ক করেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু পদ্মা সেতুকে দৃশ্যমান করেছেন। এখনো কিছু মানুষ বিতর্ক করছে, আমরা ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ ওয়ালেট চালুর মাধ্যমে পেপ্যালের সুবিধাও সবাইকে পৌঁছে দেবো ইনশাআল্লাহ।

10/09/2017

ওয়ার্ল্ডে ১৩৩ টা মিলিটারি পাওয়ারের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে ৫৭ তম । গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের রিপোর্ট অনুযায়ী ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে আমাদের সৈন্য সংখ্যা হইলো প্রায় আড়াই লক্ষ । এর মধ্যে এক্টিভ ফোর্স ১ লক্ষ ৬০ হাজারের মতো । বাকি ৬৫ হাজার হইলো রিজার্ভ ফোর্স ।
অন্যদিকে ৫ কোটি জনসংখ্যার মিয়ানমারে সৈন্য সংখ্যা হচ্ছে ৫ লাখ । এক্টিভ ফোর্স হচ্ছে ৪ লাখ ৬ হাজার । বাকিরা রিজার্ভ ফোর্স ।
১৬৬ টা হালকা এয়ার ক্রাফট নিয়ে আমরা যখন হুঙ্কার ছাড়ছি তখন মিয়ানমারের টোটাল এয়ার ক্রাফট হচ্ছে ২৪৯ টি । এর মধ্যে ফাইটার জেট ৫৬ টা । এটাক প্লেন হইলো ৭৭ টা । আমাদের ফাইটার আর এটাক প্লেন সমান সমান । দুইটাই ৪৫ টা করে আছে ।
আমাদের ল্যান্ড ফোর্সে কমব্যাট ট্যাঙ্ক হচ্ছে ৫৩৪ টা । আর বার্মার হচ্ছে ৫৯২ টা । জিএফপির হিসাব মতে আর্মড ফাইটিং ভেহিক্যাল আমাদের আছে ৯৪২ টা । আর বার্মার আছে ১৩৫৮ টা ।
নেভালের অবস্থা দেখবেন ?
আমাদের নেভাল এসেট হইলো ৮৯ টা । এর মধ্যে ৬ টা হইলো ফ্রিগেট । ২৮ টা পেট্রোল ফোর্স । আর বার্মার টোটাল নেভাল এসেট হইলো ১৫৫ টা । ফ্রিগেট আমাদের থেকে কম । মাত্র ৫ টা । কিন্তু পেট্রোলে আমাদের থেকে বেশি । প্রায় ৪০ টা ।
বিশ্বের দশটা সুপার মিলিটারি পাওয়ারের মধ্যে প্রতিবেশি ভারত আর চীনের নামও আছে । স্বাধীনতা যুদ্ধ ভারতেও হয়েছে । আবার আমাদের এখানেও হয়েছে । ১৯৪৭ সালে হিন্দুস্তান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার পর আজকের দিনে ভারত প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করে ৪৬ মিলিয়ন ডলার । ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং এ ভারতের পজিশন চার নম্বরে । দুই হাজার একশো দুই টা এয়ার ক্রাফটের বিশাল এয়ার ফোর্স ৬৭৬ টা ফাইটার প্লেন আর ৮০৯ টা এট্যাক প্লেন নিয়া পৃথিবীর যে কোন দেশকে নাস্তানাবুদ করার ক্ষমতা রাখে ভারত । ল্যান্ড ফোর্সের কথা শুনলে লজ্জা পাবেন । শুধু জানিয়ে রাখি হিন্দুস্তানের কম্বব্যাট ট্যাংকের সংখ্যাই চার হাজারের মতো । আর নেভালে তাদের সাবমেরিনই আছে ১৫ টা ।
৭১ সালে পাকিস্তান কিন্তু যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিল । চেতনার উপর ভর করে আমরা জিতেছিলাম । সেই রাজাকার পাকিস্তানের কমব্যাট ট্যাংক হইলো ২৯০০ । এয়ার ক্রাফট হইলো ৯৫১ টা । এর মধ্যে ৩০১ টা হইলো ফাইটার প্লেন । আর ৩৯৪ টা হচ্ছে এটাক প্লেন । বাকি জায়গাগুলা পুরন করেছে ট্রান্সপোর্ট প্লেন আর ত্রেনিং প্লেন ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান হয়ে গিয়েছিল একটা ধ্বংসস্তূপ । সেই ১৯৪৫ সালের কথা এটা । আজকের ১০ টা সুপার মিলিটারি পাওয়ারে জাপানের নাম আছে । এই ক্ষেত্রে তারা ইসরাইল থেকেও এগিয়ে । আগের মতো যে কোন ধরনের আগ্রাসী অপারেশনে যায় না বলে জাপানের নামটা সেইভাবে আসে না । কিন্তু তলে তলে জাপান ঠিকই এগিয়েছে । শর্ট নোটিসে পরমানু বোমা বানানোর ক্যাপাবিলিটি জাপানের আছে । ৩ লক্ষ আর্মির ছোট একটা বাহিনী হইলেও তাদের এয়ার ক্রাফট আছে ১৫৯৪ টা । এর মাঝে ফাইটার হইলো২৮৮ টা । ৭০০ টা অত্যাধুনিক কমব্যাট ট্যাংকের সমন্বয় জাপান কে বানিয়েছে একটা সাইলেন্ট ফ্রাঙ্কেস্টাইন ।
বাঙ্গাল পড়ে আছে চীনের লেড টর্চ লাইট নিয়া ।
chendu j-20 এয়ার ক্রাফটের নাম শুনেছেন ? চীনের মাথা থেকে আসছে এই জিনিস । সুপার কমব্যাট ফাইটার প্লেন । পৃথিবীর সেরা দশটা এয়ার ক্রাফটের মধ্যে একটা । এটা যেমন আকাশ থেকে আকাশে হামলা করতে পারে একই ভাবে আকাশ থেকে ভূমিতেও সমান দক্ষতায় আঘাত হানতে পারে । আমেরিকার তৈরি F-22 র‍্যাপ্টর থেকেও এই প্লেইন বেশি ফুয়েল বহন করতে পারে ।
রাশিয়ার সুখই ,আমেরিকার F-15 ঈগল , F-35 , F-22 র‍্যাপ্টর নিয়ে যখন মেতে আছে তখন আমরা মেতে থাকি বন্ধু চুলা ,আর সনোফিল্টার নিয়ে । আমাদের ড্রোন তখন ১০০ ফিট উপরে উঠে ৯০ ফিট নিচে নেমে যায় । আহারে ... শুধু মুখের বুলিতে কি একটা দেশের উন্নতি হয় ? সময় তো কম গেলো না । ৭১ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সত্যিকারের অর্জন টা কি ? দেশের ৩৯ টা পাব্লিক ভার্সিটির নাম বেচে খাওয়া ছাড়া আমরা কি করতে পেরেছি ? আমাদের বিনোদোনের মাধ্যম হইলো রোস্টিং ভিডিও । আমরা সমাজ সেবার নাম করে ভিক্টিম মেয়েদের টাকা মেরে তরুন প্রজন্মের আইডল সাজি ।
বিশ্বের সেরা ১০ টা যে ব্যাটেল ট্যাঙ্ক আছে তার সব গুলা চারটা দেশের দখলে আছে । আমেরিকা , রাশিয়া ,তুরস্ক , এবং ফ্রান্স । ব্ল্যাক প্যান্থার সিরিজের ট্যাঙ্কগুলো ভারত অনেক দিন থেকেই বানানোর চেষ্টা করছে । এখনো পেরে উঠতে পারে নাই । তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।
আর আমরা কি করছি ?
আমাদের বুয়েট পাশ মেধাবী তরুণটি বিদেশে গিয়ে স্যাটেল হয় । এই দেশের তরুনেরা ইউটিউবে প্রাঙ্ক ভিডিও বানিয়ে নাম কামায় । রাস্তাঘাটে মেয়ে মানুষের গায়ে হাত তুলে শিরোনামে আসে । ফেসবুকে ভারত মাতার অর্ধেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে হাগে -- এই স্ট্যাটাস দিয়ে হাগার সমান শান্তি লাভ করে । অথচ ভুলে যায় খোলা আকাশের নিচে দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার ল্যাট্রিন সম্পন্ন করা এই দেশটা পরমানু বোমার অধিকারী । তাদের আছে ""ব্রহ্ম "" নামের আধুনিক মিসাইল ব্যাবস্থা । আছে উন্নত আইটি সেক্টর । আছে আধুনিক সমরাস্ত্র কারখানা । দিল্লীর মতো ইউনিভার্সিটি আছে তাদের । আইআইটির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তাদের । হরগোবিন্দ খোরানার মতো নোবেল উইনার সাইন্টিস্ট আছে তাদের ।
পাকিস্তান কে গালি দিয়ে বহুত বড় মুক্তিযোদ্ধা সাজতে চায় কিছু অতি চেতনাবাদী । কিন্তু সবাই ভুলে গেছেন তালেবান বিধ্বস্ত এই দেশটা পরমানু বোমার অধিকারী । শাহীন আর গাজ্জালী নামে ভয়ানক ক্ষেপণাস্ত্র আছে তাদের । তাদের ইউনিভার্সিটি গুলা ১০০ র‍্যাঙ্কিং এর মাঝে আছে । ৭১ সালের পর আপনার উন্নতিটা ঠিক কোথায় ? শিক্ষা ব্যাবস্থায় নাকি সমরাস্ত্রে ?নাকি মেরুদন্ডবিহীন পররাষ্ট্রনীতিতে ? শুধু জিডিপি দিয়েই কি একটা দেশের সব কিছু বিবেচনা করা উচিত ? আর কিছু লাগে না ? শুধুই মুক্তযুদ্ধের ইতিহাস দিয়ে একটা দেশ উন্নতি করতে পারে ? শুধুই ধর্ম দিয়ে একটা দেশ দাঁড়িয়ে যেতে পারে ? শুধু মাত্র ক্রিকেটের মতো একটা খেলা কোন দেশকে সমীহ করার কারন হতে পারে ?
বলছি না আমাদের সেনাবাহিনী কিছুই পারে না । তারা অনেক দিক দিয়েই চৌকস । জানিয়ে রাখি বাইরের বিশ্বে বাংলাদেশি কমান্ডোদের আলাদা একটা সুনাম আছে । বুঝা যায় আমাদের মধ্যে ক্যালিবার আছে । কিন্তু সেটাকে কাজে লাগাতে হবে না ? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি শুধু বই কপচালেই হবে ? সেই অনুপ্রেরনা কাজে লাগিয়ে সামনে এগোতে হবে না ? অবশ্যই এগোতে হবে ।
জাপান এগিয়ে গেলো ।
ভারত এগিয়ে গেলো ।
পাকিরা টেক্কা দিলো ।
সর্বংসহা পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলতে গিয়ে বন্যার মৌসুমে আমাদের হজম করতে হয় তিস্তার পানি । ভারত মাতা সীমান্তে গুলি করে মানুষ মারে । পাকিস্তান সুযোগ পাইলে বাঁশ দেয় । হজম করতে হয় মিয়ানমারের রোহিঙ্গা । তার সাথে হজম করতে হয় রোহিঙ্গাদের আমদানী করা ইয়াবাও । চীন বাংলাদেশকে বানিয়েছে তাদের থার্ড ক্লাস জিনিসের ফাস্ট ক্লাস বাজার । তুরস্ক আমাদের জন্য কান্না করে । আবেগ নিয়ে মেতে থাকি আমরা । ওদিকে তুরস্ক হইলো ন্যাটোর মেম্বার । মিলিটারি পাওয়ারে সিরিয়াল হইলো ৯ নম্বর । আমাদের কি আছে শুনি ? ৭১ এর যুদ্ধ দিয়ে ঠিক কতোদিন চলবো আমরা ?
প্রশ্ন রেখে গেলাম ।
Arafat Abdullah ( মধ্যরাতের অশ্বারোহী )
University Of Chittagong

14/08/2017

আইনস্টাইন সাহেবের লাইফে অনেক মজার মজার ঘটনা
১. আইনস্টাইন বিশ্বখ্যাত তাঁর আপেক্ষিক তত্ত্বের জন্য। কিন্তু কে কী ভাবত তাঁর আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে? জার্মান বা ফরাসীরা? ১৯৩০-এর দশকে সরবোনে (Sorbonne) বক্তৃতা দেওয়ার সময় এ বিষয়ে বলেন, ‘যদি আমার আপেক্ষিক তত্ত্ব সত্য প্রমাণিত হয়, তবে জার্মানি আমাকে জার্মান হিসেবে দাবি করবে। আর ফ্রান্স বলবে যে আমি পুরো বিশ্বের নাগরিক। কিন্তু যদি তত্ত্বটা ভুল প্রমাণিত হয়, তবে ফ্রান্স বলবে, আমি একজন জার্মান এবং জার্মানি বলবে আমি হলাম ইহুদি।’
২. একবার এক অনুষ্ঠানে আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি একটু সহজ করে আপনার তত্ত্বটা আমাদের বোঝাবেন?’ আইনস্টাইন তখন এই গল্পটা শোনালেন।আমি একবার বন্ধুর সঙ্গে হাঁটছিলাম। বন্ধুটি ছিল অন্ধ। আমি বললাম, দুধ পানকরতে ইচ্ছা করছে। ‘দুধ?’ বন্ধুটি বলল, ‘পান করা বুঝি, কিন্তু দুধ কী জিনিস?’ ‘একটা সাদা তরল পদার্থ।’ বললাম আমি। ‘তরল আমি বুঝি, কিন্তু সাদা জিনিসটা কী?’ ‘বকের পালকের রং।’‘পালক আমি বুঝি, কিন্তু বক কী?’‘ঘাড় কুঁজো বা বাঁকানো ঘাড়ের এক পাখি।’‘ঘাড় সে তো বুঝি। কিন্তু এই কুঁজো কথাটার মানে কী?’ এরপর আর ধৈর্য থাকে, বলুন! আমি তার হাতটা ধরে এক ঝটকায় টানটান করলাম। বললাম, ‘এটা এখন একদম সোজা, তাই না। তারপর ধরো, কনুই বরাবর এটা ভেঙে দিলাম। এবার তোমার হাতটা যেমন আছে সেটাকেই কুঁজো বা বাঁকানো বলে, বুঝলে?’‘আহ্!’ অন্ধ বন্ধু বলল, ‘এবার বুঝেছি, দুধ বলতে তুমি কী বুঝিয়েছ।’
৩. একবার এক ছাত্র আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করল, ‘গত বছর পরীক্ষায় যেসব প্রশ্ন পড়েছিল, এবারের পরীক্ষায়ও ঠিকঠিক ওই সব প্রশ্নই পড়েছে।’ ‘ঠিক বলেছ।’ আইনস্টাইন বললেন, ‘কিন্তু এ বছরের উত্তরগুলো আগেরবারের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা!’
৪.আইনস্টাইনকে প্রাচীন গণিতের ইতিহাসবিদ অটো নিউগেব্যুর বলেছেন, ‘কিংবদন্তি’। কিন্তু এই কিংবদন্তি মানুষটি তুলনামূলক দেরিতে কথা বলতে শেখেন। ফলে তাঁর মা-বাবা খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। তো, একদিন রাতে খাবার টেবিলে সবাই আছেন। আইনস্টাইনও। হঠাৎ তিনি চিত্কার করে বললেন, ‘এই স্যুপটা খুবই গরম।’ উহ্, হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন মা-বাবা। ছেলের মুখে প্রথম বুলি শুনে তাঁরা আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এর আগে কেন তুমি কোনো কথা বলোনি?’ জবাবে আইনস্টাইন বললেন, ‘কারণ, এর আগে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল!’
৫. মানুষ মাত্রই কি ভুল হয়? নিজের ভুলভ্রান্তি নিয়ে কী ভাবতেন আইনস্টাইন? ১৯৩৫ সালে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য আপনার কী কী দরকার?’ আইনস্টাইন বললেন,‘একটা ডেস্ক, কিছু কাগজ আর একটা পেনসিল। সঙ্গে দরকার বড় একটা ডাস্টবিন, যেখানে আমার সব ভুল করা বা ভুলে ভরা কাগজগুলো ফেলব!’
৬. অনেকের কাছে অঙ্কের সমার্থক শব্দ আতঙ্ক। তো, একবার ১৫ বছর বয়সী এক তরুণী আইনস্টাইনের কাছে সাহায্য চাইল। গণিতের ওপর বাড়ির কাজ বা হোম ওয়ার্ক সে সঠিকভাবে করতে পারছিল না। তরুণীর কাছে অঙ্ক এমনিতেই আতঙ্কের নাম। আইনস্টাইন ওই তরুণীকে বলেছিলেন,‘গণিতের সমস্যা নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করো না। তোমার কাছে গণিত যতটা কঠিন, আমার কাছে গণিত তার চেয়েও কঠিন।’
৭. ১৯২১ সালে ফিলিস্তিন ভ্রমণে বেরিয়েছেন আইনস্টাইন। সেখানে ‘যুব সংঘ’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। সমাজের নানা বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করছিলেন আইনস্টাইন। একবার আইনস্টাইন তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, ‘আচ্ছা, এখানে নারী-পুরুষে সম্পর্ক কেমন?’ এ প্রশ্নশুনে ওই তরুণী লজ্জায় পড়ে গেলেন। তিনি বললেন, ‘দেখুন অধ্যাপক, এখানে কিন্তু একজন পুরুষের একটিই স্ত্রী।’ একটু হেসে তাঁর হাতখানা ধরে আইনস্টাইন বললেন, ‘না, না। আমার প্রশ্নটা ওভাবে নিয়ো না। আমরা পদার্থবিজ্ঞানীরা “সম্পর্ক” কথাটা দিয়ে সহজ কিছুকে বোঝাই। আমি আসলে জানতে চেয়েছি, এখানে কতজন নারী আর কতজন পুরুষ মানুষ।’

৮. এক সহকর্মী আইনস্টাইনের কাছে একবার তাঁর টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন। তখন আইনস্টাইন একটা টেলিফোন বই খুঁজেবের করলেন এবং সে বইতে তাঁর নম্বরটা খুঁজতে লাগলেন। তখন সহকর্মীটি বললেন,‘কী ব্যাপার, নিজের টেলিফোন নম্বরটাও মনে নেই আপনার?’ আইনস্টাইন বললেন, ‘না। তার দরকারই বা কী? যেটা আপনি বইতে পাবেন, সে তথ্যটা মুখস্থ করে মস্তিষ্ক খরচ করবেন কেন?’
৯. ১৯৩১ সালে চার্লি চাপলিন আমন্ত্রণ জানালেন আইনস্টাইনকে। তখন সিটি লাইটস সিনেমার স্কিনিং চলছিল চাপলিনের। তো যখন চাপলিন ও আইনস্টাইনশহরের পথ ধরে যাচ্ছিলেন, অনেক মানুষ ভিড় জমায়। চাপলিন আইনস্টাইনকে বললেন,‘সবাই আমাকে সহজেই বোঝে। এজন্যই আমার যত জনপ্রিয়তা। তা আপনাকে মানুষ এত পছন্দ করে কেন, বলতে পারেন?’ ‘আসলে’, আইনস্টাইন বলছেন, ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতেই পারে না বলে আমাকে এত বেশি পছন্দ করে!’
১০. স্বামী সম্পর্কে কেমন ধারণা ছিল আইনস্টাইনের স্ত্রীর? তাঁর স্ত্রীকেএকবার জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব কি বুঝতে পারেন?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘না, কিন্তু আমার স্বামীকে বুঝি। আমি জানি, তাঁকে বিশ্বাস করা যায়।’
১১) বিখ্যাত ভাষ্কর জেকব এপস্টিন একবার আইনস্টাইনের একটি আবক্ষ মূর্তি খোদাই করছিলেন।আইনস্টাইন নিজেই মডেল হয়ে ধৈর্য ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে শিল্পীকে সাহায্য করতেন। সে সময় একদিন তিনি জেকবকে বলেন,’’ প্রায় শ’খানেক বিজ্ঞানী বই লিখে আমার আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে। আমার থিওরী যদি ভুল হয়, তবে এতজনের দরকারটা কী? একজন বললেই যথেষ্ট।
১২) একবার বেলজিয়ামের রাণী আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানালেন তাঁর দেশ সফরের। নির্দিষ্ট দিনে আইনস্টাইনকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাবার জন্য রেল স্টেশনে হাজির হল গাড়ির বহর। কিন্তু কোথায় কী? রেল স্টেশনে আইনস্টাইনকে খুঁজেই পাওয়া গেল না। ফিরে চলল গাড়্রির বহর রাজপ্রাসাদের দিকে। কিছুক্ষণ পর সাদাসিধে পোশাকে বেহালা বাজাতে বাজাতে রাজপ্রাসাদে হাজির হলেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। রাণী ব্যাপারটাতে লজ্জিত হলেন। সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থণা করে জানালেন যে, বিজ্ঞানীকে নিয়ে আসার জন্য গাড়ি বহর রেল স্টেশনে গিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে না পেয়ে ফিরে এসেছে। আইনস্টাইন বললেন,’’আমি ইচ্ছে করেই গাড়ি বহরকে এড়িয়ে গেছি। আর পায়ে হেঁটে বেহালা বাজাতে বাজাতে এসেছি। যদি আপনার ঐ রাজকীয় গাড়িতে আসতাম, তবে কি এভাবে বেহালা বাজাতে পারতাম? সাধারণ মানুষের মত শহরটাকে দেখে নিতে পারতাম?’’ এমনই সহজ সরল আর সাধারণ ছিলেন বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। এত বড় বিজ্ঞানী অথচ মনে এতটুকু অহংকার ছিল না।
১৩) আইনস্টাইন যে কত সহজ সরল ছিলেন তা বোঝা যায় তাঁর আরেকটি মজার ঘটনায়। আপেক্ষিকতা তত্ব আবিষ্কার করে তিনি তখন বিখ্যাত ও বিতর্কিত। সত্যি কথা বলতে কি, বিজ্ঞানী-অবিজ্ঞানী কারোর মগজের এন্টেনাই ব্যাপারটা ক্যাচ করতে পারছিল না। তিনি বিভিন্ন সভা সেমিনারে, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর উদ্ভাবিত তত্ত্বটি বোঝাতে লেকচার দিতে যেতেন। প্রায় সব সেমিনারে তিনি একই ধরনের আলোচনা করতেন। একবার এমনি এক সেমিনারে তিনি আমন্ত্রিত হয়েছেন, লেকচার দেবার জন্য। পথিমধ্যে তাঁর ড্রাইভার করে বসল এক আজব আবদার।বলল, ‘’স্যার, আপনার লেকচারগুলু শুনতে শুনতে আমার মুখস্থ হয়ে গেছে। আজ একদিনের জন্য আমি আইনস্টাইন সেজে সেমিনারে বক্তব্য চাই।‘’ মজার মানুষ আইনস্টাইনেরও কথাটা খুব মনে ধরল। তিনি এক কথায় রাজি। দেখাই যাক না, ব্যাপারটা কী হয়? তো, ড্রাইভার আইনস্টাইন সেজে অনুষ্ঠানে গেল বক্তব্য দিতে আর স্বয়ং আইনস্টাইন দর্শক সারিতে বসে রইলেন আইনস্টাইনেরই ড্রাইভার হয়ে। তখন তো আর মিডিয়ার এত দৌরাত্ন্য ছিল না। তাই ব্যপারটা কেউ বুঝতে পারল না। আইনস্টাইনরূপী ড্রাইভার মঞ্চে বক্তব্য রাখল এবং চমৎকার বক্তব্য রাখল।দর্শক সারিতে বসে মুগ্ধ আইনস্টাইন বার বার হাত তালি দিতে লাগলেন।অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত একজন আইনস্টাইনের ড্রাইভারের কাছে যেয়ে বললেন, ‘’ আপনার বক্তব্যটি আমার খুব ভাল লেগেছে। কিন্তু কি জানেন, আমি এই অমুক অমুক বিষয়গুলু একদম বুঝতে পারিনি। আপনি কি অনুগ্রহ করে আমাকে বিষয়গুলু বুঝিয়ে দেবেন?’’ আইনস্টাইনের ড্রাইভার বিন্দু মাত্র না ঘাবড়ে উত্তর দিল,’’ওহ! এই ব্যাপার? এই ব্যাপারটা তো আমার ড্রাইভারই বুঝিয়ে দিতে পারবে। চলুন তার কাছেই যাই।
১৪) একবার আইনস্টাইনকে সফলতা লাভের একটি গাণিতিক ফর্মুলা দিতে বলা হল। তিনি বলেছিলেন,’’ X+Y+Z=A, যেখানে X=কাজ, Y=খেলাধুলা আর A=সফলতা।‘’ ‘’আর মানে Z কী?’’ আবারও জিজ্ঞেস করা হল তাঁকে। ‘’তোমার মুখ বন্ধ রাখা‘’, আইনস্টাইনের উত্তর।
১৫) আইনস্টাইন তাঁর জটিল আপেক্ষিকতার তত্ত্বের একটি সহজ ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন ঠিক এইভাবে,’’যখন তুমি একজন সুন্দরী মহিলার পাশে বসে থাকো তখন দু’ঘণ্টাকে মনে হয় দু’ মিনিট; আর যখন তুমি দু’ মিনিট গরম চুলার পাশে বসে থাকো তখন দু’মিনিটকে মনে হয় দু ঘণ্টা। এটাই হল আপেক্ষিকতাবাদ।‘’ আর রেডিও সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘’তুমি টেলিগ্রাফের তার দেখেছ। মনে করো, এটা লম্বা, অনেক লম্বা একটা বিড়াল।তুমি নিউইয়র্কে বসে এর লেজে টান দেবে, ওদিকে লস এঞ্জেলেসে এর মাথা মিউ মিউ করে উঠবে।ব্যাপারটা বুঝতে পারছ? বেতার ঠিক এভাবেই কাজ করে। তুমি এদিকে ইশারা দাও, ওদিকে সাড়া পড়ে। পার্থক্য হল এই বেতারের ক্ষেত্রে বিড়াল বলে কিছু উপস্থিত নেই।
১৬) এত সুন্দর ব্যাখ্যা যিনি দিতে পারেন, তিনি কিন্তু অনেক সময় জীবনের সহজ ব্যাপারগুলো বুঝতে পারতেন না। একবার আইনস্টাইন বাড়ি বানালেন। একদিন তিনি বাড়িটা কেমন হল তা দেখতে গেলেন। ঘুরে ঘুরে সব দেখে তিনি জানতে চাইলেন, তাঁর ছোট্ট বিড়ালছানাটি ঘরে ঢুকবে কি করে? তার জন্য তো কোন আলাদা ছোট দরজা বানানো হয় নি। আসলে যাঁরা অনেক বড় মানুষ, তাঁরা সব সময় বড় বড় চিন্তায় মগ্ন থাকেন তো, তাই ছোট ছোট ব্যাপারগুলো তাঁরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না।বিজ্ঞানী আইনস্টাইনও এই ছোট্ট ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝতে পারলেন না।অবশেষে তাঁকে খুশি করার জন্য বড় দরজার পাশে আরেকটি ছোট দরজা তৈরি করে দেওয়া হল, যেন তাঁর আদরের বেড়ালছানাটি নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত বেড়ালছানাটি কোন দরজা ব্যবহার করত তা আইনস্টাইনই ভাল বলতে পারবেন।
১৭) গুজব আছে, সুন্দরী অভিনেত্রী মেরিলিন মনেরো আইনস্টাইনের প্রতি দুর্বল ছিলেন।তাই একদিন মনেরো আইনস্টাইনকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন এইভাবে, ‘’চলুন না, আমরা বিয়ে করে ফেলি? তাহলে আমাদের সন্তানেরা হবে সৌন্দর্য ও জ্ঞানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সন্তান। ওরা দেখতে আমার মত আর বুদ্ধিতে আপনার মত।‘’ আইনস্টাইন তৎক্ষণাৎ বললেন, ‘’আর যদি উল্টোটা হয়? দেখতে আমার মত আর বুদ্ধিতে আপনার মত?‘’ এর উত্তরে মনেরো কী বলেছিলেন তা অবশ্য আমি অনেক চেষ্টা করেও জানতে পারিনি।
১৮) তিন হাজার শব্দের মধ্যে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব যে সবচেয়ে ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবে, তার জন্য মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করে সায়েন্টিফিক আমেরিকান। ‘বন্ধুদের মধ্যে কেবল আমিই অংশ নিইনি। আমার বিশ্বাস হয়নি তিন হাজার শব্দে এটা ভালো বোঝাতে পারতাম আমি’−মন্তব্য করেন আইনস্টাইন।
১৯) কাজে যাওয়ার আগে প্রায়ই ভালো পোশাক পরে যাওয়ার আইনস্টাইনকে অনুরোধ-উপরোধ করতেন তাঁর স্ত্রী। বেশির ভাগ সময়ই তিনি জবাব দিতেন, ‘আমি কেন এটা করব? সেখানে সবাই আমাকে চেনে।’ তারপর আইনস্টাইনের প্রথম বড় ধরনের আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় যখন ঘনিয়ে এল, তখন আবার তাঁকে একটু ভালো কাপড়চোপড় পরে সেখানে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন তাঁর স্ত্রী। এবার তিনি জবাব দিলেন, ‘কেন আমি এটা করব? সেখানে কেউই তো আমাকে চেনে না।’
২০) ১৯৩৫ সালে প্রিন্সটনে পৌঁছানোর পর গবেষণার জন্য তাঁর কী কী প্রয়োজন হবে জিজ্ঞেস করা হলে আইনস্টাইন জানালেন, ‘একটি ডেস্ক, কিছু প্যাড, একটা পেন্সিল আর সব শেষে আমার ভুলগুলো ফেলার জন্য বিশাল একটা ময়লার ঝুড়ি।
২১) মাউন্ট উইলসন মানমন্দির পরিদর্শনে গেছেন আইনস্টাইনের স্ত্রী। সেখানকার বিশাল অপটিক্যাল টেলিস্কোপটি ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম। এক জ্যোতির্বিদ তাঁকে জানালেন, এসব স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতির প্রধান কাজ মহাবিশ্বের বিস্তার, আকৃতি নির্ণয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে উঠলেন, ‘ও! আমার স্বামী তো পুরোনো একটা খামের পেছনেই এটা করে।
২২) অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথিদের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার চমৎকার এক বুদ্ধি বের করেন আইনস্টাইন। বাড়িতে কেউ আসার কিছু সময় পরই এক বাটি স্যুপ নিয়ে কামরায় ঢোকে এক গৃহপরিচারক। যদি তিনি এটা গ্রহণ করেন, তবে অতিথি ধরে নেন তিনি এখন খাবেন এবং মানে মানে কেটে পড়াই তাঁর জন্য শ্রেয়। অন্যদিকে আইনস্টাইনের যদি কথা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা হয়, তবে স্যুপটা এক পাশে সরিয়ে দেন, যেন-বা এটা এখানে ছিলই না।
২৩) ১৯৩০ সালে আমেরিকার উদ্দেশে বার্লিন ত্যাগ করেন আইনস্টাইন। বার্লিন রেলস্টেশনে পৌঁছেই স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেন তিনি। যা হোক, একসময় খুঁজে পেলেন তাঁকে। তারপরই টিকিট জোড়া হারিয়ে বসলেন। শেষ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া গেল তাও, আর এভাবেই শুরু হলো তাঁর দ্বিতীয় আমেরিকা যাত্রা।
২৪) মাউন্ট উইলসন মানমন্দির পরিদর্শনে গেছেন আইনস্টাইনের স্ত্রী। সেখানকার বিশাল অপটিক্যাল টেলিস্কোপটি ছিল পৃথিবীর বৃহত্তম। এক জ্যোতির্বিদ তাঁকে জানালেন, এসব স্পর্শকাতর যন্ত্রপাতির প্রধান কাজ মহাবিশ্বের বিস্তার, আকৃতি নির্ণয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলে উঠলেন, ‘ও! আমার স্বামী তো পুরোনো একটা খামের পেছনেই এটা করে।
& Edited

31/03/2017

এ কি করলেন আর্কিমিডিস😀😀?
না দেখলে চরম মিস..... ☺☺!

ভিডিওসহ ( মাত্র ২ এমবি)
#আর্কিমিডিস যেদিন তার সোনার খাদ এক্সপেরিমেন্ট এ সফল হয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উলঙ্গ অবস্থায় রাজদরবারে প্রবেশ করলো, সেটা যদি এই যুগে হতো তাহলে 'না দেখলে চরম মিস' এই টাইপের লিংকগুলো ভাইরাল হয়ে পরতো। এরকম অনেক পোষ্ট সচরাচর ই চোখে পড়ে সবার। সামান্য ব্যাক্তিগত স্বার্থের জন্য কত ভ্রান্ত নিউজ ই না পোষ্ট করছে আমাদের অনলাইন পোর্টালগুলো। বোকা বানাচ্ছে সবাইকে। ব্যাক্তি সত্তা যদি এত নিচে নেমে আসে তাহলে সামাজিক অবক্ষয় কিভাবে রোধ করা সম্ভব। আসল দোষ আমাদের সমাজ ব্যবস্থার না ব্যাক্তিপর্যায়ের সেটা বোঝাই মুশকিল। ঝাপসা, ধোঁয়াশা, বিবর্ণ😧।
একটি ভাল কিছু সার্চ করলেও এই টাইপের নিউজগুলোই আসে সর্বাগ্রে। There's no Chance to have happy browsing on online nowadays. Boring..... 😦
এই অনলাইন প্লাটফর্মে যে যার মত রোল করে যাচ্ছে। সত্যিই বিচিত্র।
যাইহোক, ব্যাক্তিস্বার্থ ই সকলের উর্ধ্বে 😲😧😵।

17/02/2017

সৌরজগৎ
● সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহ, নক্ষত্র, ধুমকেতু, গ্রহাণুপুঞ্জ প্রভৃতি মজাকর্ষ শক্কির দ্বারা অাকৃষ্ট হয়ে নির্দিষ্ট সসয়ে সূর্যের চারিদিকে পরিভ্রমণের মাধ্যমে যে বিরাট জগৎ গড়ে তোলে তাকে বলে – সৌরজগৎ।
● বর্তমানে সৌরজগতের গ্রহ – ৮ টি।
● সৌরজগতের মোট উপগ্রহের সংখ্যা – ১৭৩ টি।
● পৃথিবীর উপগ্রহহ – ১ টি।
● মঙ্গলের উপগ্রহ – ২ টি।
● বৃহস্পতির উপগ্রহ – ৬৭ টি।
● শনির উপগ্রহ – ৬২ টি।
● ইউরেনাসের উপগ্রহ – ২৭ টি।
● নেপচুনের উপগ্রহ – ১৪ টি।
● সৌরজগতের গ্রহের স্বীকৃতি দানকারী সংস্থার নাম – ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্
যাল ইউনিয়ন (IAU)
● International Astronomical Union প্রতিষ্ঠিত হয় – ১৯১৯ সালে।
● IAU এর সদর দপ্তর অবস্থিত – প্রাগ, চেক রিপাবলিক।
● প্লুটোর গ্রহের মর্যাদা বাতিল করে – IAU, ২৪ অাগষ্ট ২০০৬
✿ সূর্য :
● সৌরজগতের কেন্দ্রীয় বস্তুপিন্ড হচ্ছে – সূর্য। গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থই সূর্যের মৌলিকত্ব। সূর্যে উপস্থিত গ্যাস ও তাদের শতকরা হার হলো হাইড্রোজেন ৫৫%, হিলিয়াম ৪৪%, অন্যান্য গ্যাস ১%
● সূর্যের মৌলিক পদার্থ – হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও অন্যান্য বায়বীয় পদার্থ।
● সূর্যের মধ্যে যে মৌলিক গ্যাস বেশি অাছে – হাইড্রোজেন।
● সূর্যে মোট গ্যাসীয় বা বায়বীয় পতার্থের পরিমাণ – ২০৩২১০০০০ মিলিয়ন মেট্রিক টন।
● সূর্য পৃষ্ঠের উত্তাপ – ৬০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
● সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র – প্রক্ষিমা সেন্টেরাই।
● সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা বড় – ২ কোটি ৩০ লক্ষগুণ।
● সূর্য হতে পৃথিবীর দুরত্ব – ১৫ কোটি কিলোমিটার।
● সৌরজগতের বাইরে প্রথম অাবিষ্কৃত গ্রহটির নাম – ৫১ পেগাসাস।
● সূর্যগ্রহণ ঘটে – চাঁদ, সূর্য ও ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে।
● সূর্য থেকে পৃথিবীতে অালো অাসতে সময় লাগে – ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড।
✿ বুধ:
● সৌরজতের ক্ষুদ্রতম ও দ্রুততম গ্রহ – বুধ।
● সূর্যের সবচেয়ে নিকটে অবস্থিত গ্রহের নাম – বুধ।
● সূর্য থেকে বুধের দুরত্ব – ৫.৮ কোটি কিমি।
● সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধ গ্রহের সময় লাগে – ৮৮ দিন।
✿ শুক্র :
● পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ – শুক্র।
● পৃথিবী থেকে শুক্রের দুরত্ব – ৪.৩ কোটি কিলোমিটার।
● যে গ্রহের উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনোই দেখা যায় না – শুক্র।
● ভোরের অাকাশে শুকতারা ও সন্ধ্যার অাকাশে সন্ধ্যাতারা নামে পরিচিত – শুক্র গ্রহ।
● কোন গ্রহের তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি – শুক্র।
✿ পৃথিবী ও চাঁদ:
● সৌরজগতের একমাত্র যে গ্রহে প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে – পৃথিবী।
● দুরত্ব অনুসারে পৃথিবী সূর্যের – তৃতীয় গ্রহ।
● পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ – চাঁদ।
● পৃথিবীর অায়তনের তুলনায় সূর্যের অায়তন মোটামুটি – ১৩ লক্ষ গুণ।
● সূর্য ছাড়া পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র – প্রক্সিমা সেন্টারাই।
● পৃথিবী থেকে সূর্যের দুরত্ব হলো – ৯৩ মিলিয়ন মাইল।
● যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন তাকে বলে – সূর্যগ্রহণ।
● চন্দ্রগ্রহণ ঘটে – পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্রের মাঝখানে অবস্থান করলে।
● ‘শান্ত সমুদ্র’ অবস্থিত – চন্দ্রে।
● মানুষ প্রথম চাঁদে অবতরণ করে – ১৯৬৯ সালে২০ জুলাই।
● সর্বপ্রথম চন্দ্র পৃষ্ঠে পা রাখেন – মার্কিন নভোচারী – নীল অার্মস্ট্রং।
● চাঁদে প্রথম নভোযান পাঠায় – সোভিয়েত ইউনিয়ন, ২ জানুয়ারী ১৯৫৯
● ভারতে প্রথম মনুষ্যবিহীন নভোযানের নাম- চন্দ্রযান-১।
● SMART- এর পূর্ণরুপ – Small Missions for Advanced Research in Technology-1
● চাঁদে কোন বস্তুর ওজন পৃথিবীতে ঐ বস্তুর ওজনের – ৬ ভাগের ১ ভাগ।
● পৃথিবীর চারিদিকে চাঁদ একবার ঘুরে অাসতে সময় লাগে – ২৭.৩ দিন।
✿ মঙ্গল :
● লাল গ্রহ বলা হয় – মঙ্গলকে।
● মঙ্গলের উপগ্রহ অাছে – দুটি (ফোবাস ও ডিমোস)
● মঙ্গলের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গেরর নাম – অলিম্পাস মনস (২৬ কিমি)
● মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণকারী প্রথম নভোযান – ভাইকিং-১ (২০ জুলাই ১৯৭৬)
● পাথ ফাইন্ডার মঙ্গলে অবতরণ করে – ৪ জুলাই ১৯৯৭।
● সৌরজগতের যে গ্রহে দুবার সূর্যোদয় হয় – মঙ্গলে।
● কিউরিওসিটি মঙ্গলে পাঠানো হয় – ২৬ নভেম্বর ২০১১
● শীতল, প্রাণহীণ, ধূ-ধূ মরু হিসেবে বর্ণনা করা হয় – মঙ্গল গ্রহকে।
● একজন নভোচারী মঙ্গলগ্রজে অবতরণ করলে তার ওজন – কমবে।
✿ বৃহস্পতি :
● সৌরজগতের সর্ববৃহৎ গ্রহ – বৃহস্পতি।
● গ্রহরাজ বলা হয় – বৃহস্পতিকে।
● সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ – বৃহস্পতির।
● বৃহস্পতির উপগ্রহ – ৬৭ টি। এদের মধ্যে লো, ইউরোপা, গ্যানিমেডি ও ক্যালিস্টো প্রধান।
● নিজ অক্ষের উপর ঘূর্ণায়মান গ্রহ – বৃহস্পতি।
● বৃহস্পতি গ্রহে কৃত্রিম উপগ্রহ গ্যালিলিও অবতরণ করে – ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৫।
✿ শনি :
● শনির উপগ্রহ – ৬২ টি। এর মধ্য টাইটান, জুয়া, ডাইওন, ক্যাপিটাস, টেথিস প্রধান।
● শনির টাইটান উপগ্রহ অাবিষ্কার হয় – ২৫ মার্চ ১৯৫৫।
● শনির উপগ্রহ টাইটানের অাবিষ্কারক – ক্রিশ্চিয়ান হুগেন্স।
● শনি পৃথিবীর চেয়ে বড় – ৯ গুণ।
● শনির চতুর্দিকে বেস্টনকারী বলয়ের সংখ্যা – ৩ টি।
✿ ইউরেনাস :
● ইউরেনাস এর অাবিস্কারক – উইলিয়াম হার্শেল।
● ইউরেনাস অাবিষ্কৃত হয় – ১৩ মার্চ, ১৭৮১।
● ইউরেনাস এর গ্রহ – ২৭ টি। এরিয়েল, অামব্রিয়েল, টাইটানিয়া, ওবেরন, মিরান্ডা প্রধান।
● সবুজ গ্রহ বলা হয় – ইউরেনাসকে।
✿ নেপচুন:
● নেপচুনের উপগ্রহ সংখ্যা – ১৪ টি।
● নেপচুন এর প্রধান দুটি উপগ্রহ – ট্রিটন ও নিরিয়ড
● সবচেয়ে অনুকূল উপগ্রহ – নেপচুন।
● সৌরজগতের যে গ্রহে বায়ু প্রবাহের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি – নেপচুন (ঘন্টায় ২০০০ কিমি)
Written by -----অনিক সরকার।

17/02/2017

গুয়ান্তানামো বন্দীর ডায়েরিতে নির্যাতনের চিত্র
- সাহাদত হোসেন খান

আফ্রিকার মৌরিতানিয়ার জুদিয়ান শহরের নাগরিক মোহাম্মদ ওলুদ সালাহি হলেন গুয়ান্তানামো বন্দিশিবিরের নির্মম অভিজ্ঞতার সাক্ষী। নাইন-ইলেভেন সন্ত্রাসী হামলার সমন্বয়কারী রামজি বিনাল শিবাহ সাক্ষ্য দেয়, বৃত্তি নিয়ে ডুয়েসবার্গে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অধ্যয়নকালে হামবুর্গের সন্ত্রাসী সেলের সাথে সালাহির যোগসাজশ ছিল। কিন্তু সালাহি অস্বীকার করে যে, নাইন-ইলেভেন সন্ত্রাসী হামলার সাথে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না।

২০১৫ সালের ২০ জানুয়ারি ‘ডায়েরি অব গুয়ান্তানামো ডিটেইনি রিকলস টর্চার, সেক্সুয়াল এবিউস ডিউরিং টুয়েলভ ইয়ার্স অ্যাস প্রিজনার’ শিরোনামে নিউ ইয়র্ক ডেইলি নিউজে তার করুণ উপাখ্যান প্রকাশিত হয়। লস এঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিলেনিয়াম দিবসে ব্যর্থ বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনা এবং নাইন-ইলেভেনের হামলাকারীদের সাথে যোগসাজশ এবং আফগানিস্তানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের অভিযোগে ২০০২ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০১৫ সালেও তিনি মুক্তি পাননি। তিনি ডায়েরির মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাকে নিয়মিত প্রহার করা হতো, মিথ্যা সাক্ষ্য দানে উপর্যুপরি জেরা করা হতো এবং দু’জন মহিলা সৈনিক তাকে যৌন কর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করত। স্পাইগেল অনলাইন ‘গুয়ান্তানামো ডায়েরি’ নামে তার ডায়েরি প্রকাশ করে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম জার্মানির ডার স্পাইগেলে এ ডায়েরি প্রকাশিত হয়।

২০০৫ সালে সালাহি কারাগারে তার আত্মজীবনী লেখেন। সংশোধন সাপেক্ষে মার্কিন সরকার ২০১৩ সালে তার আত্মজীবনী প্রকাশের অনুমতি দেয়। ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে এ আত্মজীবনী প্রকাশিত হতে থাকে। ডায়েরিতে সালাহি তার ওপর মার্কিন মহিলা সামরিক পুলিশের যৌন নির্যাতনের বিবরণ দিতে গিয়ে লিখেছেন
একটি ছোট্ট মাদুর এবং একটি জরাজীর্ণ কম্বল ছাড়া আমার আর কিছু ছিল না। আমাকে বই পড়তে দেয়া হতো না। এমনকি কোরআনও নয়। আমাকে কোনো সাবান, টুথপেস্ট অথবা টয়লেট পেপার দেয়া হতো না। আমার সেলটি ম্যাচ বাক্সের চেয়ে বড় ছিল না। সেলটি এত ঠাণ্ডা ছিল যে, অধিকাংশ সময় আমি শীতে কাঁপতাম। আমাকে দিনের আলো দেখতে দেয়া হতো না। রাতে তারা আমাকে অন্য বন্দীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ এবং কথাবার্তা বলার সামান্য সময় দিত। আক্ষরিকভাবে আমি আতঙ্কের সাথে বসবাস করতাম। পরবর্তী ৭০ দিন আমি ঘুমের স্বাদ নিতে পারিনি। কোনো কোনো দিন ২৪ ঘণ্টা আবার কোনো কোনো দিন তিন-চারবার আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। আমাকে একদিনও বিশ্রাম নেয়ার সুযোগ দেয়া হতো না। রাতে শান্তিতে ঘুমানোর কোনো স্মৃতি আমার মনে নেই। তারা আমাকে প্রায়ই বলতো, ‘আমাদের সাথে সহযোগিতা করলে তোমাকে সামান্য ঘুমাতে এবং গরম খাবার দেয়া হবে।’

একদিনের একটি ঘটনা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। দু’জন মার্কিন মহিলা সৈনিক এসে আমাকে বললো, ‘আজ আমরা তোমাকে মহান আমেরিকার যৌনতা শিক্ষা দিতে যাচ্ছি। উঠে দাঁড়াও।’ বিগত ৭০ দিন যেভাবে কষ্ট করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতাম আমি ঠিক সেভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। তারা বললো, তুমি খুবই স্মার্ট। উঠে দাঁড়াতে না পারলে খুব বিশ্রী কাণ্ড ঘটবে। আমি উঠে দাঁড়ানো মাত্র দু’জন তাদের অন্তর্বাস খুলে ফেলে এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলতে শুরু করে। তারা আমাকে ত্রয়ী যৌন কর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করে। একজন মহিলাকে জোর করে যৌন কর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হলে সে যেভাবে আহত হয়, একজন পুরুষও সেভাবে আহত হয়। উভয়ে আমার ওপর উদগত হয়। একজন সামনে দিয়ে এবং আরেকজন পেছন দিক দিয়ে। তারা আমার শরীর মন্থন করতে শুরু করে। এসময় তারা আমার সাথে নোংরা ভাষায় কথা বলছিল এবং আমার যৌনাঙ্গ নিয়ে খেলছিল। আমি দুপুর কিংবা রাত ১০টা নাগাদ তাদের মুখ থেকে উচ্চারিত উক্তিগুলো উল্লেখ করতে চাই না। তারা আমার পরনের পোশাক খুলে নেয়নি। বরাবরই আমার পরনে ইউনিফর্ম থাকতো। সিনিয়র সবকিছু দেখতো। আমি সারাক্ষণ দোয়া কালাম পাঠ করতাম। তারা আমাকে ধমক দিয়ে বলতো, ‘রাখো তোমার দোয়া কালাম। তুমি আমেরিকানদের সাথে যৌন ক্রিয়া করছ। তাহলে আরাধনা করে লাভ কি? তুমি কত ভণ্ড!’ আমি দোয়া কালাম পাঠ না করার নির্দেশ অমান্য করি। শাস্তি হিসেবে আমাকে এক বছর নামাজ আদায় করতে দেয়া হয়নি।

২০০৩ সালের অক্টোবরে আমাকে রমজানের রোজা পালনে বাধা দেয়া হয়। আমাকে জোর করে পানাহার করানো হতো। রমজানে আমি খাবার খেতে এবং পানি পান করতে অস্বীকৃতি জানাই। কিন্তু তারা আমাকে প্রতিবার পানি পান করতে বলতো। আমি দুর্যোগ কেটে যাওয়ার জন্য প্রার্থনা করতাম। নিস্তার না পাওয়ায় আমি অনশন করি। আমি জানতাম, এ ধরনের লোকের কাছে আমার অনশনের কোনো মূল্য নেই। অবশ্যই তারা চাইতো না যে, আমি মরে যাই। তারা আমাকে লক্ষ্য করে বলতো, তোমাকে মরতে দেয়া হবে না। আমি কখনো নিজেকে ভ্রষ্ট হিসেবে ভাবতে পারিনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের টিম আমার ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করে। আমার কাছ থেকে আমি যা জানি না এমন সব ঘটনার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করে। রাত ১০টা নাগাদ নির্যাতন, যৌন হয়রানি, ভীতি ও অনাহার ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। বিদায় নেয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদকারী বলত, ‘আমি এখন তোমাকে তোমার সেলে পাঠাতে যাচ্ছি। আগামীকাল তুমি আরো কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে।’ আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতাম। কেবল বিশ্রাম এবং নিঃসঙ্গ থাকতে চাইতাম। বিধ্বস্ত হয়ে পড়তাম। আমাকে তখন কেমন দেখাতো জানি না। আমাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে আহত করা হতো। আমার সাথে শুধু মিথ্যা কথা বলা হতো। আমি নিস্তার পাইনি। ডিওসি আমার ওপর নির্যাতন চালাতে আসতেন। তার পালা শেষ হলে তিনি আরেকটি টিম পাঠাতেন। দরজার কাছে পৌঁছা মাত্র মাথা ঘুরে পড়ে যেতাম। হাঁটার শক্তি আমার ছিল না। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। প্রহরী দাঁড় করাতে ব্যর্থ হলে আমাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

আকস্মিকভাবে তিনজন সৈন্যের একটি কমান্ডো টিম এবং একজন জার্মান রাখাল আমাদের সেলে প্রবেশ করে। চোখের পলকে সবকিছু ঘটে যায়। তাদের একজন বললো, ‘(উচ্চারণের অযোগ্য শব্দ), আমি তোকে কী বলেছিলাম?’ এই লোকটির সহযোগী আমাকে আঘাত করতে থাকে। বিশেষ করে আমার মুখে ও কোমরে। প্রথম লোকটি ছিল আপাদমস্তক মুখোশধারী। কোনো কথা না বলে সে কেবল আমাকে প্রহার করছিল। সে নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে চায়নি। তৃতীয় লোকটির কোনো মুখোশ ছিল না। এই লোকটি কুকুরের গলা ধরে দরজায় অবস্থান করছিল। সে কুকুরটি আমার দিকে লেলিয়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কমান্ডো টিমের নেতা চিৎকার করে তাদের একজনকে বললো, ‘তোমাকে এ কাজ করতে কে বলেছে? তুমি বন্দীকে আঘাত করছ কেন?’ আমি পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করি। ভাবছিলাম তারা হয়তো ভুল করে আমাকে ধরেছে। আমি চারদিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি। এসময় প্রহরীদের একজন আমাকে দেয়ালে চেপে ধরে। কুকুরটি আমার দিকে ছুটে আসার চেষ্টা করে। আমি অসহায়ভাবে প্রহরীদের দিকে তাকিয়ে থাকি। একজন বললো, ‘এই (উচ্চারণের অযোগ্য শব্দ), তাকানোর চেষ্টা করলে তার চোখ বেঁধে ফেলবে।’ তাদের একজন আমার মুখে প্রচণ্ড আঘাত করে, দ্রুত আমার চোখে গগলস পরিয়ে দেয় এবং আমার কান ও মাথা ঢেকে দেয়। কে কি করছিল আমি বলতে পারছি না। তারা আমার পা ও কব্জি বেঁধে ফেলে। আমার রক্তক্ষরণ শুরু হয়। আমি শুধু অভিশম্পাত করতে শুনতে পাই।

‘এফ-দিস’ এবং ‘এফ-দ্যাট’ বলা হচ্ছিল। আমি একটি শব্দও উচ্চারণ করিনি। আমি বিস্মিত হই। মনে হচ্ছিল তারা আমাকে হত্যা করতে নিয়ে যাচ্ছে। প্রহার করায় আমি দাঁড়াতে পারিনি। তাই আমাকে সারাটা পথ টেনে নেয়া হয় এবং একসময় তারা আমাকে একটি ট্রাকে ছুড়ে মারে। অবিলম্বে ট্রাক যাত্রা করে। তিন-চার ঘণ্টা পর এই দল আমাকে আরেকটি দলের কাছে হস্তান্তর করে। দ্বিতীয় দল আমার ওপর নির্যাতনের নয়া কৌশল প্রয়োগ করে। দ্বিতীয় দলের একজন আমাকে বললো, ‘তুই দোয়া কালাম বন্ধ কর। তুই মানুষ হত্যা করছিস।’ এই বলে লোকটি আমার মুখে আঘাত করে। আমার মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকে। আমার ঠোঁট অত্যধিক ফুলে যাওয়ায় আমি কথা বলতে পারছিলাম না। প্রত্যেকে পালাক্রমে আমাকে কিল ঘুষি মারছিল। প্রহার করতে করতে আমাকে ধাতব ট্রাকের এক কোণে ঠেলে দেয়া হয়। তাদের একজন আমাকে এত জোরে আঘাত করে যে, আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। মনে হচ্ছিল আমি যেন পাঁজরের মধ্য দিয়ে দম নিচ্ছি। তাদের অজ্ঞাতে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। মাথায় কভার থাকায় আমি দম নিতে পারছিলাম না। আমি সবকিছু দেখছিলাম।

কয়েকবার আমার মুখের ওপর প্রশ্রাব করতে দেখতে পাই। একজন আমার ‘প্রাণরক্ষাকারী’ হিসেবে আবির্ভূত হয়। আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ১০ কিংবা ১৫ মিনিট পর ট্রাকটি সৈকতে থামে। প্রহরাদানকারী টিম আমাকে টেনেহিঁচড়ে ট্রাক থেকে নামিয়ে একটি দ্রুতগামী নৌকায় তুলে। আমার ওপর নির্যাতনে কোনো বিরতি দেয়া হয়নি। তারা আমাকে অনবরত প্রহার করছিল। আমি জানতাম যে, তারা একজন অসহায় বন্দীর ওপর নির্যাতন চালিয়ে একটি ঘৃণ্য অপরাধ করছে। নৌকায় আমাকে লবণাক্ত পানি পান করতে দেয়া হয়। আমি ধারণা করতে পারছিলাম, এ পানি সমুদ্রের। মারাত্মক লবণাক্ত হওয়ায় আমি পানি ফেলে দেই। তারা আমার মুখের ওপর কিছু রেখে বলল, তুই গিলে ফেল। কিন্তু আমি ভেতরে ভেতরে লবণাক্ত পানি পান না করার সিদ্ধান্ত নেই। তারা আমার নাক মুখ দিয়ে পানি ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করলে আমার দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। আমি দ্রুত চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেই যে, মৃত্যুর চেয়ে নিকৃষ্ট পানি পান করা উত্তম। আমাকে উচ্চগতিসম্পন্ন নৌকায় প্রায় তিন ঘণ্টা প্রহরা দিয়ে রাখা হয়।

এ ধরনের যাত্রার প্রথম লক্ষ্য ছিল বন্দীর ওপর নিপীড়ন চালিয়ে দাবি করা যে, পরিবহনকালে বন্দী নিজেকে আঘাত করেছে। দ্বিতীয়ত বন্দীকে এ ধারণা দেয়া যে, তাকে দূর দূরান্তের গোপন কারাগারে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা বন্দীরা সবকিছু জানতাম। আমরা অন্য বন্দীদের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, তাদের অন্তত চার ঘণ্টা দূরে বহন করে নিয়ে যাওয়া হতো এবং পরবর্তীতে তারা নিজেদেরকে একই কারাগারে দেখতে পায়। শুরুতে আমি জানতাম, আমাকে পাঁচ মিনিট দূরে নিয়ে যাওয়া হবে। শোনামাত্র আমার শরীর গিন গিন করতে লাগলো।

কয়েক দিনের মধ্যে আমি প্রায় ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। আমাকে বলা হলো, আমাকে অপহরণ করে একটি গোপন কারাগারে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করা হয় যে, আমাকে দূূরবর্তী দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হবে। আমাকে আরো জানানো হয়, আমার মাকে আটক করে একটি বিশেষ কারাগারে রাখা হয়েছে। গোপন কারাগারে শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক দুর্ভোগ ছিল সর্বোচ্চ। আমি দিন ও রাতের পার্থক্য বুঝতে পারতাম না। আমার চারদিকে ছিল ঘন অন্ধকার। আমাকে অনিয়মিত খাবার দেয়া হতো। আমি দীর্ঘ সময় অনাহারে থাকতাম। আমাকে খাবার দেয়া হতো। তবে খাবার গ্রহণে সময় দেয়া হতো না। একজন প্রহরী চিৎকার করে বলতো, ‘তোমার হাতে সময় মাত্র তিন মিনিট। খাও।’ আধা মিনিট পর সে থালা কেড়ে নিয়ে বলতো, ‘তোমার সময় শেষ।’
শাস্তিদানে আমাকে পর্যাপ্ত খাবার দেয়া হতো। একজন প্রহরী আমার সেলে এসে আমাকে সব খাবার খেতে বাধ্য করত। গলায় খাবার আটকে গেলে আমি পানি চাইতাম।

প্রহরী আমাকে ২৫ আউন্স পানির দু’টি বোতল দিতো। আমার তলপেট ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলে আমি পানি পানে অস্বীকৃতি জানাই। প্রহরী চিৎকার দিয়ে ওঠে এবং আমাকে হুমকি দেয়। আমাকে দেয়ালের একপাশে ঠেলে দেয়া হয়। প্রহরী আঘাত করার জন্য হাত উঠায়। নিস্তার পেতে আমি বমি করা নাগাদ লবণাক্ত পানি পান করি। সব প্রহরী ছিল মুখোশ পরিহিত। এমনকি চিকিৎসা কর্মীরাও। প্রহরীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল যে, আমি অত্যন্ত মূল্যবান এবং ধারণার অতীত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী।

একজন প্রহরী আমাকে বলল, ‘তুমি কি জানো তুমি কে? তুমি একজন সন্ত্রাসী। তুমি তিন হাজার লোককে হত্যায় সহায়তা করেছো।’ ‘সত্যি আমি সন্ত্রাসী?’ জবাব দিলাম আমি। আমি জানতাম, যে আমার সম্পর্কে কিছু জানে না তার সাথে তর্ক করা অর্থহীন। প্রহরীরা ছিল বৈরী। তারা আমাকে অভিশম্পাত করত, গালি দিতো এবং সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণ দিতো। বলতো, ‘ওঠে দাঁড়াও। কাঁটাতার পর্যন্ত হেঁটে যাও। থামো। থালা ধরো। খাও। সময় মাত্র দুই মিনিট। ব্যস, থালা ফিরিয়ে দাও। পানি পান করো। তোমাকে পুরো বোতল পানি পান করতে হবে। জলদি করো। বসো। আমি ওঠে দাঁড়াতে বলা নাগাদ বসে থাকো।’

Address

Dhaka
0088

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Team Zero Degree posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share