16/10/2025
কথায় কথায় যারা বলেন, ঘরের নারীদের হাতে এন্ড্রয়েড দিলে সেই ঘরে শান্তি আসবে না, সেই নারী পরকিয়ায় জড়িয়ে যাবে, বিয়ের পর বাটন ফোন কিনে দিবেন ভেবে এখন থেকেই Aura ভাব নেন, সেসব ভাইরা একটু সহনশীল হন, আরেকটু বুঝেশুনে মন্তব্য করুন।
আপনি যেমন মনে করেন ঘরে স্ত্রীর কাছে এন্ড্রয়েড থাকলে সে পরকিয়া করবে, স্ত্রীও তো আপনার ব্যাপারে এমন ধারণা রাখতে পারে! নাকি আমরা পুরুষরা ফিরিশতা হয়ে এরপর বিয়ে করি? গুনাহের আসবাব থেকে বেঁচে থাকার দায়িত্ব তো নারী-পুরুষ সবার জন্যই সমান। উপরন্তু দেখা যায় পুরুষদের জন্য গুনাহে জড়িয়ে যাওয়া যতটা সহজ, নারীদের জন্য ততটা সহজ না। নারীদের মন-মস্তিষ্ক ততটা দ্রুত চলমান না, যতটা দ্রুত পুরুষদের মন গুনাহের দিকে যায়। হয়তো দুজনেই এন্ড্রয়েড থেকে দূরে থাকুন, অথবা দুজনেই সীমিত পরিসরে ব্যবহার করুন।
পুরো ব্যাপারটাই নির্ভর করছে দুজনের তাকওয়ার ওপর। যেই পরিবারে তাকওয়া রয়েছে, তাদের ঘরে উন্নত প্রযুক্তির সমাহার থাকলেও তারা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন। আমি পরিচিত এক বুয়েটিয়ান কাপল দম্পত্তির বাসায় গিয়েছিলাম, তাদের ঘরে প্রযুক্তির ব্যবহার দেখে আশ্চর্য হয়েছিলাম। কিন্তু দুজনেই অত্যন্ত বুযুর্গ মানুষ। তাবলীগী পরিবারের সন্তান। এমন হলেই তো হলো।
কিন্তু নাহ, আমাদেরকে পুরুষত্ব জাহির করতে হবে অন্যভাবে। নিজে গুনাহের শিখরে চড়ে ঘরের স্ত্রীকে শাসনের নামে আওরা ভাব দেখাব, অথচ আড়ালে লুকিয়ে থাকে জুলুমের সমাহার।
প্রয়োজনে অনলাইন ব্যবহার কমানোর ব্যবস্থা করুন। কিন্তু আপনি যেমন তাকে চোখের সামনে রাখতে চান সবসময়, নিজেও তার চোখের সামনে পরিষ্কার থাকুন! নিজের চােখ উঠবে না স্ক্রিন থেকে, অথচ স্ত্রীকে দিতে চান বাটন ফোন! কেন তার কি মনে চায় না কাজের ফাঁকে ফাঁকে তিলাওয়াত শুনতে, নাশীদ শুনতে, কিংবা আপনার সাথে মাঝে মাঝে মেসেজে কথা বলতে!
এমন আওরা ভাব অনেকের মাঝেই দেখি। কিছু বলতে চেয়েও পারি না। নারীবাদী ট্যাগ লাগিয়ে দিবে, সুশীল বলবে। অথচ একটা পরিবারে মধ্যপন্থা কী জিনিস এরা সেটা জানেও না।