19/04/2026
ঘোষণামূলক মামলা (Declaratory Suit)
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা-৪২ অনুযায়ী এই ধরণের মোকদ্দমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে ।
এটি এক ধরনের দেওয়ানি মামলা, যেখানে বাদী আদালতের কাছে তার কোনো আইনগত অধিকার বা মর্যাদার (যেমন: সম্পত্তির স্বত্ব, পদমর্যাদা, বা ধর্মীয় অধিকার) স্বীকৃতি বা ঘোষণা চেয়ে আবেদন করেন, যখন অন্য কেউ সেই অধিকারকে অস্বীকার করে বা তাতে হস্তক্ষেপ করে। এই মামলার মাধ্যমে, আদালত কর্তৃক একটি আনুষ্ঠানিক রায় বা ডিক্রি (Declaratory Decree) জারি করা হয় যা সেই অধিকারের আইনি বৈধতা প্রতিষ্ঠা করে।
♦ মামলা করার অধিকার সৃষ্টি হয়:
যখন কোনো ব্যক্তি তার আইনগত স্বত্ব বা মর্যাদার অধিকারী, কিন্তু অন্য কেউ তা অস্বীকার করে বা তাতে বাধা দেয়।
যদি কোনো ব্যক্তি বেদখল হয়ে থাকে এবং শুধু দখল পুনরুদ্ধার না করে, বরং নিজের স্বত্বের একটি সুস্পষ্ট ঘোষণা চায়।
সুতরাং, ২ টি বিষয়ে ঘোষণা চেয়ে Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৪২ এর অধীনে মামলা করা যায়।
১) আইনগত পরিচয় (Legal Character)
২) সম্পত্তিতে কোন অধিকার (Right as to property)
নোট: কোন সম্পত্তিতে কোন ব্যাক্তির অধিকার বলতে-
১) স্বত্বের অধিকার
২) দখলে রাখার অধিকার
৩) হস্তান্তর করার অধিকার
৪)ক্রোক করার অধিকার-কে বোঝায়।
♦ এরুপ মামলার কোর্ট ফি: শুধুমাত্র স্বত্ব বা অধিকার ঘোষণার জন্য সর্বনিম্ন কোর্ট ফি (বাংলাদেশে) ৩০০ টাকা নির্ধারিত (অন্যান্য প্রতিকার চাইলে কোর্ট ফি ভিন্ন হতে পারে)।
♦ ঘোষণামূলক মোকদ্দমা এবং আনুষাঙ্গিক প্রতিকার:
যে ক্ষেত্রে বাদী আনুষঙ্গিক প্রতিকার (further relief) দাবি করতে পারে কিন্তু তা করা হতে বিরত থাকে সেক্ষেত্রে আদালত কোন ঘোষণা দিবে না।আনুষঙ্গিক প্রতিকারসহ ঘোষণামূলক মোকদ্দমা করতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক।যেক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক প্রতিকার চাওয়ার দরকার নেই সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘোষণামূলক আদেশ দেওয়া যায়।
যেমন-
১) ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় সহ-শরিকদের মধ্যে দখল এবং স্বত্ব নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে আনুষাঙ্গিক প্রার্থনা হিসেবে বাটোয়ারা না চাইলে সহ-শরিকদের নির্দিষ্ট অংশের স্বত্বের ঘোষণা দেওয়া সম্ভব না।আনুষাঙ্গিক প্রতিকার অবশ্যই চাইতে হবে। (4 BLC (1999),59
২) ডিক্রি রদের জন্য ঘোষণামূলক মোকদ্দমায় উক্ত ডিক্রির ফলশ্রুতিতে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর করা হলে আনুষাঙ্গিক প্রতিকার হিসেবে উক্ত দলিলের রেজিস্ট্রি বাতিলের প্রার্থনা চাইতে হবে। (5 BLC (AD) (2000) 185, 8BLT (AD) (2000),49)
ঘোষণামূলক মোকদ্দমার বাস্তবভিত্তিক উদাহরণ :
#২০১২ সালে সৃজিত এক দলিলে টাইপিং মিসটেকের কারনে দাগ নাম্বারটি ভূল লিপিবদ্ধ হয়। দলিলটি পুনরায় রেজিস্ট্রি করার কথা বললে দাতা দিবে বললেও এক বছর যাবৎ রেজিষ্ট্রি দেয়না এখন নামজারিও করা যাচ্ছে না এখন দাতার সহযোগিতা ছাড়া আইনি সমাধান কি?
#সমাধান----
সাধারণত, দলিলের বড় ধরনের ভুল, যেমন দাগ বা খতিয়ান নম্বরের ভুল, ধরা পড়ার ৩ বছরের মধ্যে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের (Specific Relief Act, 1877) ৩১ ধারা অনুযায়ী দলিল সংশোধনের মামলা করতে হয়।
তবে, যেহেতু আপনার দলিলটি ২০১২ সালের, তাই এই ধরনের সরাসরি সংশোধনের মামলার জন্য তামাদির মেয়াদ সম্ভবত পার হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে -
#. ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করা একটি আইনী প্রতিকার হিতে পারে।
এক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সরাসরি সংশোধনের মামলা না করে, আপনি দেওয়ানি আদালতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করতে পারেন।
মামলার ফলাফল: যদি আদালত উক্ত ব্যাক্তির পক্ষে রায় দেন এবং ভুলটি পারস্পরিক ভুল বা প্রতারণার কারণে হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে আদালতের এই ঘোষণামূলক ডিক্রি বা রায়ই সংশোধিত দলিলের মতো কাজ করবে।
নামজারির জন্য করণীয়: আদালতের রায়ের একটি সত্যায়িত কপি নামজারির জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে জমা দিতে হবে।পরবর্তীতে আদালত কর্তৃক সংশোধিত বিবরণ অনুযায়ী তখন নামজারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
♦ ঘোষণা ও সংশোধন: মামলা দায়েরের সময় আবেদনপত্রে (আরজিতে) দলিল সংশোধনের পাশাপাশি সম্পত্তির উপর স্বত্ব ঘোষণার আবেদনও করতে হবে।
তামাদি মেয়াদ :
আনুষাঙ্গিক প্রার্থনা ব্যাতিত ঘোষণামূলক মোকদ্দমা হলে সেক্ষেত্রে তামাদি আইনের ১২০অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৬বছরের মধ্যে দায়ের করতে হবে।
বেয়ার এ্যাক্ট, প্রিলি মাস্টার ও বিচার প্রক্রিয়া বই ও সংগৃহীত তথ্যের আলোকে আলোচিত।
সাজেশন : বিস্তারিত ভাবে পড়ার জন্য অবশ্যই বই অনুসরণ করতে হবে।