হেফাজতে ইসলাম চাড়িপুর ১২ নং ওয়ার্ড, ফেনী সদর।

  • Home
  • Bangladesh
  • Feni
  • হেফাজতে ইসলাম চাড়িপুর ১২ নং ওয়ার্ড, ফেনী সদর।

হেফাজতে ইসলাম চাড়িপুর ১২ নং ওয়ার্ড, ফেনী সদর। Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from হেফাজতে ইসলাম চাড়িপুর ১২ নং ওয়ার্ড, ফেনী সদর।, Business service, feni, Feni.

06/04/2020

৩৬৭ নং ফতোয়া
'শবে বরাত গ্রহণযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত'
----------------------------------
প্রশ্নঃ?
মাননীয় মুফতী সাহেব!
শবে বরাত সম্পর্কে আপনি নিশ্চুপ কেন?
আপনার কোন ফতোয়া পাচ্ছিনা কেন? জানার বিষয় হলো শবে বরাত হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কিনা?
অনেক শায়েখেরা বলেনঃ শবে বরাত হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয়! তাই শবে বরাত পালন করা বিদআত হবে৷ শায়েখদের কথা সঠিক কিনা? হাওয়ালাসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো!
'
উত্তরঃ
بسم الله الرحمن الرحيم
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতই আমাদের কাছে শবে বরাত হিসেবে পরিচিত। যার আরবী
হলো ‘লাইলাতুল বারাআত’৷ আর ফার্সিতে বলা হয় শবে বরাত৷
যার অর্থ হলো মুক্তি বা পরিত্রানের রজনী৷
এই রাতে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তার বান্দাদেরকে মাগফিরাত বা গুনাহ থেকে পরিত্রাণ দান করেন,তাই এই রাতের নামকরণ
করা হয়েছে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা ‘শবে বরাত’। হাদীসের পরিভাষায় এই রাতের নাম হলো-
ﻟﻴﻠﺔﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ .
অর্থাৎ“মধ্য শাবানের রাত৷
'
শবে বরাতের ফযিলত সংক্রান্ত কতিপয় হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

☞ ১ নং হাদীসঃ
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِى فَأَسْتَجِيبَ لَهُ وَمَنْ يَسْأَلُنِى فَأُعْطِيَهُ وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِى فَأَغْفِرَ لَهُ.
হযরত আবূ হুরাইরা রাযিঃ থেকে বর্ণিত,
হযরত রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের বরকতময় মহান প্রতিপালক প্রত্যহ রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে নীচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেনঃ কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব! কে আমার নিকট প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করব! এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করব! (ফজর পর্যন্ত এ আহবান চলতে থাকে।) হাদীসটি সহীহ৷ (সহীহুল বুখারী ১১৪৫, ৬৩২১,৭৪৯৪, সহীহু মুসলিম ১৮০৮-১৮১৩, মিশকাত শরীফ ১২২৩)
কিন্তু শবে বরাতের রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সূর্যাস্তের সাথে সাথেই দুনিয়ার আকাসে চলে আসেন৷ যেমন নিম্নে বর্নিত হাদীসঃ
'
☞ ২ নং হাদীসঃ
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﻟْﺤَﺴَﻦُ ﺑْﻦُ ﻋَﻠِﯽٍّ ﺍﻟْﺨَﻠَّﺎﻝُ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﻧْﺒَﺄَﻧَﺎ ﺍﺑْﻦُ ﺃَﺑِﯽ ﺳَﺒْﺮَۃَ، ﻋَﻦْ ﺇِﺑْﺮَﺍﮨِﯿﻢَ ﺑْﻦِ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ، ﻋَﻦْ ﻣُﻌَﺎﻭِﯾَۃَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﮧِ ﺑْﻦِ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﯿﮧِ، ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﯽِّ ﺑْﻦِ
ﺃَﺑِﯽ ﻃَﺎﻟِﺐٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﮧِ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﷲُ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ
" ﺇِﺫَﺍ ﮐَﺎﻧَﺖْ ﻟَﯿْﻠَۃُ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ، ﻓَﻘُﻮﻣُﻮﺍ ﻟَﯿْﻠَﮩَﺎ
ﻭَﺻُﻮﻣُﻮﺍ ﻧَﮩَﺎﺭَﮨَﺎ، ﻓَﺈِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﮧَ ﯾَﻨْﺰِﻝُ ﻓِﯿﮩَﺎ ﻟِﻐُﺮُﻭﺏِ ﺍﻟﺸَّﻤْﺲِ ﺇِﻟَﯽﺳَﻤَﺎﺀ ِ ﺍﻟﺪُّﻧْﯿَﺎ، ﻓَﯿَﻘُﻮﻝُ : ﺃَﻟَﺎ ﻣِﻦْ ﻣُﺴْﺘَﻐْﻔِﺮٍ ﻟِﯽ ﻓَﺄَﻏْﻔِﺮَ ﻟَﮧُ ﺃَﻟَﺎ
ﻣُﺴْﺘَﺮْﺯِﻕٌ ﻓَﺄَﺭْﺯُﻗَﮧُ ﺃَﻟَﺎ ﻣُﺒْﺘَﻠًﯽ ﻓَﺄُﻋَﺎﻓِﯿَﮧُ ﺃَﻟَﺎ ﮐَﺬَﺍ ﺃَﻟَﺎ ﮐَﺬَﺍ، ﺣَﺘَّﯽ
ﯾَﻄْﻠُﻊَ ﺍﻟْﻔَﺠْﺮُ.
হযরত আলী রাযিঃ সূত্রে বর্ণিত,হযরত রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মধ্য শা’বানের
রজনীতে জাগ্রত থাকো এবং তারপর দিন রোযা রাখো! কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের সময় আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেতে থাকেন,আছো কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী? আমি তাকে ক্ষমা কের দেব!
আছো কি কেউ রিযিক যাচনাকারী? আমি
তাকে রিযিক প্রদান করব! আছো কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে
বিপদ থেকে মুক্তিদান করব! এরূপ কেউ আছো কি? এরূপ কেউ আছে কি? এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আহ্বান করতে থাকেন। উপরে বর্নিত হাদীস অনুপাতে এই হাদীসের বিষয় বস্তুও সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৮৮, শু’আবুল ঈমান-৩৫৪২; মিশকাতুল মাসাবীহ ১৩০৮;কানযুল উম্মাল ৩৫১৭৭)
'
☞ ৩ নং হাদীসঃ
عَنْ أَبِي بَكْرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ يَنْزِلُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لِعِبَادِهِ إِلَّا مَا كَانَ مِنْ مُشْرِكٍ أَوْ مُشَاحِنٍ لِأَخِيهِ
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাযিঃ হতে বর্ণিত,তিনি বলেন- হযরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ যখন পনেরই শাবানের রাত হয়,তখন আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে তশরীফ আনেন এবং সকল বান্দাকে ক্ষমা করে দেন! শুধু মুশরিক ও অপর ভাইয়ের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত। হাদীসটি সহীহ লিহাইরিহী৷
(মুসনাদে আবু বকর সিদ্দীক রাযিঃ ১০৪, মুসনাদে বাযযার ৮০; মাজমাউজ যাওয়ায়িদ ১২৯৫৭)
'
☞ ৪ নং হাদীসঃ
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ أَبُو بَكْرٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، أَنْبَأَنَا حَجَّاجٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ فَقَدْتُ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَخَرَجْتُ أَطْلُبُهُ فَإِذَا هُوَ بِالْبَقِيعِ رَافِعٌ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَقَالَ ‏"‏ يَا عَائِشَةُ أَكُنْتِ تَخَافِينَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْكِ وَرَسُولُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَتْ قَدْ قُلْتُ وَمَا بِي ذَلِكَ وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ أَتَيْتَ بَعْضَ نِسَائِكَ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَنْزِلُ لَيْلَةَ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيَغْفِرُ لأَكْثَرَ مِنْ عَدَدِ شَعَرِ غَنَمِ كَلْبٍ ‏"‏ ‏.‏
আম্মাজান হযরত আয়িশা সিদ্দীকা রাযিঃ থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,এক রাতে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (বিছানায়) না পেয়ে তাঁর খোঁজে বের হলাম। আমি লক্ষ্য করলাম,তিনি জান্নাতুল বাকিতে,তাঁর মাথা আকাশের দিকে তুলে (মুনাজাতে রত) আছেন। অতপর তিনি বলেনঃ হে আয়িশা! তুমি কি আশঙ্কা করেছো যে,আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করবেন? আমি বললাম,তা নয়! বরং আমি আশঙ্কা করলাম যে,আপনি হয়তো আপনার কোন স্ত্রীর নিকট তাশরিফ নিয়ে গেছেন। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ আজ মধ্য শাবানের রজনী৷ এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করেন এবং কালব গোত্রের মেষপালের পশমের চাইতেও অধিক সংখ্যক লোকের গুনাহ মাফ করেন। অনেকের মতে এ হাদীসটিও সহীহ৷ (সুনানে ইবনে মাজাহ ১৩৮৯,সহীহ মুসলিম ৯৭৩-৭৪,সুনানে তিরমিযী ৭৩৯,সুনানে নাসায়ী ২০৩৭,মুসনাদে আহমাদ ২৫৪৮৭)
'
☞ ৫ নং হাদীসঃ
عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ اللَّيْلِ يُصَلِّي فَأَطَالَ السُّجُودَ حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ قَدْ قُبِضَ، فَلَمَّا رَأَيْتُ ذَلِكَ قُمْتُ حَتَّى حَرَّكْتُ إِبْهَامَهُ فَتَحَرَّكَ، فَرَجَعْتُ، فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ السُّجُودِ، وَفَرَغَ مِنْ صَلَاتِهِ، قَالَ: ” يَا عَائِشَةُ أَوْ يَا حُمَيْرَاءُ ظَنَنْتِ أَنَّ النَّبِيَّ خَاسَ بِكِ؟ “، قُلْتُ: لَا وَاللهِ يَا رَسُولَ اللهِ وَلَكِنِّي ظَنَنْتُ أَنَّكَ قُبِضْتَ لِطُولِ سُجُودِكَ، فَقَالَ: ” أَتَدْرِينَ أَيَّ لَيْلَةٍ هَذِهِ؟ “، قُلْتُ: اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: ” هَذِهِ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَطْلُعُ عَلَى عِبَادِهِ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَيَغْفِرُ لِلْمُسْتَغْفِرِينَ، وَيَرْحَمُ الْمُسْتَرْحِمِينَ، وَيُؤَخِّرُ أَهْلَ الْحِقْدِ كَمَا هُمْ
আম্মাজান হযরত আয়েশা রাযিঃ হতে বর্ণিত,তিনি বলেন,হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম একদা রাতে সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সিজদায় গিয়ে এত দীর্ঘ সময় সিজদায় থাকলেন যে,আমার মনে হলো তাঁর ওফাত হয়ে গেছে। আমি তখন শোয়া থেকে উঠে তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি নাড়া দিলাম,ফলে তিনি নড়ে উঠলেন। তখন আমি (বিছানায়) ফিরে গেলাম। অতঃপর তিনি সিজদা থেকে মাথা উঠালেন এবং নামায শেষ করলেন৷ তখন আমাকে বললেনঃ হে আয়েশা! তুমি কি মনে করেছিলে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম তোমার সাথে প্রতারণা করছেন? আমি বললাম,আল্লাহর শপথ, আমি এমনটি মনে করিনি। বরং আপনার দীর্ঘ সিজদার কারনে আমার মনে হয়েছে যে, আপনার ওফাত হয়ে গেছে। তখন তিনি বললেনঃ তুমি কি জান এটি কোন রাত? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম অবগত। তিনি বললেনঃ এটি মধ্য শাবানের রাত। আল্লাহ তাআলা এ রাতে তার বান্দাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদেরকে ক্ষমা করেন৷ যারা দয়া প্রার্থনা করে তাদেরকে দয়া করেন৷ তবে যারা বিদ্বেষী তাদেরকে তাদের অবস্থাতেই রেখে দেন। হাদীসটি মুরসাল৷
(সুনানে বায়হাকী ৩৫৫৪, শুয়া’বুল ঈমান-৩৬৭৫, ফাযায়িলুল আওকাত ২৬;তাফসীরে দুররুল মানসুর ৭/৪০৩)
'
☞ ৬ নং হাদীসঃ
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸۃؓ۔۔۔ﮨَﻞْ ﺗَﺪْﺭِﯾﻦَ ﻣَﺎ ﻓِﯽ ﮨَﺬِﮦِ ﺍﻟﻠَّﯿْﻠَۃِ؟ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻣَﺎ ﻓِﯿﮩَﺎ ﯾَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﮧِ؟ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻓِﯿﮩَﺎ ﺃَﻥْ ﯾُﮑْﺘَﺐَ ﮐُﻞُّ ﻣَﻮْﻟُﻮﺩٍ ﻣِﻦْ ﺑَﻨِﯽ ﺁﺩَﻡَ ﻓِﯽ ﮨَﺬِﮦِ ﺍﻟﺴَّﻨَۃِ، ﻭَﻓِﯿﮩَﺎ ﺃَﻥْ ﯾُﮑْﺘَﺐَ ﮐُﻞُّ ﮨَﺎﻟِﮏٍ ﻣِﻦْ ﺑَﻨِﯽﺁﺩَﻡَ ﻓِﯽ ﮨَﺬِﮦِ ﺍﻟﺴَّﻨَۃِ، ﻭَﻓِﯿﮩَﺎ ﺗُﺮْﻓَﻊُ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟُﮩُﻢْ، ﻭَﻓِﯿﮩَﺎ ﺗَﻨْﺰِﻝُ ﺃَﺭْﺯَﺍﻗُﮩُﻢْ۔
হযরত আয়েশা রাযিঃ সূত্রে বর্ণিত,হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তোমার কি জানা আছে এই রাত তথা মধ্য শা’বানের রাত্রিতে কী হয়? হযরত আয়েশা রাযিঃ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কী হয়? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এই বছর যারা জন্ম গ্রহন করবে এবং যারা মৃত্যুবরণ করবে,সব এই রাতে লেখা হয়। এই রাতে বান্দাদের সারা বছরের আমল উত্তোলন করা হয় এবং সারা বছরের রিযিক বণ্টন করা হয়। হাদীসটি গ্রহণযোগ্য৷ যেমন- ইবনে আব্বাস রাযিঃ বলেছেনঃ
وعن ابن عباس إن الله اللَّهَ يَقْضِي الْأَقْضِيَةَ فِي لَيْلَةِ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ، وَيُسَلِّمُهَا إِلَى أَرْبَابِهَا فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,তিনি বলেন- আল্লাহ তায়ালা শ’বানের পনেরতম রাতে সিদ্ধান্তসমুহ চুড়ান্ত করেন এবং শবে ক্বদরে তা বাস্তবায়নকারী ফেরেশতাদের নিকট অর্পন করেন।
(সুনানে বায়হাকী, তাফসীরে কুরতুবী ১৬/১২৭,তাফসীরে
খাজিন ৪/১১২,১১৬; তাফসীরে বাগাভী ৪/১৭৪,ইবনে আ’দিল আল লুবাব ফি উলুমিল কিতাব-১৭/৩১১)
'
☞ ৭ নং হাদীসঃ
ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﻌَﺎﻓَﯽ ﺍﻟْﻌَﺎﺑِﺪُ ﺑِﺼَﯿْﺪَﺍ، ﻭَﺍﺑْﻦُ ﻗُﺘَﯿْﺒَۃَ
ﻭَﻏَﯿْﺮُﮦُ، ﻗَﺎﻟُﻮﺍ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﮨِﺸَﺎﻡُ ﺑْﻦُ ﺧَﺎﻟِﺪٍ ﺍﻟْﺄَﺯْﺭَﻕُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ
ﺃَﺑُﻮ ﺧُﻠَﯿْﺪٍ ﻋُﺘْﺒَۃُ ﺑْﻦُ ﺣَﻤَّﺎﺩٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺄَﻭْﺯَﺍﻋِﯽِّ، ﻭَﺍﺑْﻦِ ﺛَﻮْﺑَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ
ﺃَﺑِﯿﮧِ، ﻋَﻦْ ﻣَﮑْﺤُﻮﻝٍ، ﻋَﻦْ ﻣَﺎﻟِﮏِ ﺑْﻦِ ﯾُﺨَﺎﻣِﺮَ ﻋَﻦْ ﻣُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ
ﺟَﺒَﻞٍ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﯽِّ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﻟﻠَّﮧُ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ﯾَﻄْﻠُﻊُ ﺍﻟﻠّٰﮧُ
ﺇِﻟَﯽ ﺧَﻠْﻘِﮧِ ﻓِﯽ ﻟَﯿْﻠَۃِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ ﻓَﯿَﻐْﻔِﺮُ ﻟِﺠَﻤِﯿﻊِ ﺧَﻠْﻘِﮧِﺇِﻟَّﺎ ﻟِﻤُﺸْﺮِﮎٍ ﺃَﻭْ ﻣُﺸَﺎﺣِﻦٍ
হযরত মু’আয বিন জাবাল রাযিঃ সূত্রে বর্ণিত,হযরত রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
আল্লাহ তায়ালা শা’বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে সমস্ত
মাখলুকের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন এবং
মুশরিক ও বিদ্বেষকারী ব্যতীত সকলকে ক্ষমা
করে দেন। হাদীসটি সহীহ৷ (সহীহ তাবারানী ২০৩,সহীহে ইবনে হিব্বান ৫৬৬৫,সুনানে বায়হাকী ৬২০৪, শু’আবুল ঈমান-৩৫৫২, ৬২০৪;মাজমাউজ যাওয়ায়িদ-১২৯৬০; সহীহ আত তারগীব ১০২৬,২৭৬৭)
(ইমাম তাবরানী রহঃ বলেছেনঃ শবে বরাত প্রমানের জন্য এই হাদীসটিই যথেষ্ট৷ শায়েখ আলবানীও অনুরুপ মতই ব্যক্ত করেছেন৷ সহীহাহ ৩/১৩৫-১৩৯)
'
☞ ৮ নং হাদীসঃ
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺣَﺴَﻦٌ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺍﺑْﻦُ ﻟَﮩِﯿﻌَۃَ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺣُﯿَﯽُّ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﮧِ،ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﯽ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟْﺤُﺒُﻠِﯽِّ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﮧِ ﺑْﻦِ ﻋَﻤْﺮٍﻭ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﮧِ ﺻَﻠَّﯽ ﺍﷲُ ﻋَﻠَﯿْﮧِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : " ﯾَﻄَّﻠِﻊُ ﺍﻟﻠّٰﮧُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﺇِﻟَﯽ ﺧَﻠْﻘِﮧِ ﻟَﯿْﻠَۃَ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ ﻓَﯿَﻐْﻔِﺮُ ﻟِﻌِﺒَﺎﺩِﮦِ ﺇِﻟَّﺎ
ﻟِﺎﺛْﻨَﯿْﻦِ : ﻣُﺸَﺎﺣِﻦٍ، ﻭَﻗَﺎﺗِﻞِ ﻧَﻔْﺲٍ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিঃ সূত্রে
বর্ণিত,হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা শা’বান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে সমস্ত মাখলুকের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন এবং
বিদ্বেষপোষণকারী ও খুনি ব্যতীত সকলকে
ক্ষমা করে দেন। হাদীসটি সহীহ৷ (মুসনাদে আহমাদ-৬৬৪২; মাজমাউজ যাওয়ায়িদ ১২৯৬১; তাফসীরে রূহুল মা’আনী ১৮/৪২৩)
'
☞ ৯ নং হাদীসঃ
ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ : ﻭَﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﯽ ﻣَﻦْ ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟْﺒَﯿْﻠَﻤَﺎﻧِﯽَّ ﯾُﺤَﺪِّﺙُ
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﯿﮧِ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ : " ﺧَﻤْﺲُ ﻟَﯿَﺎﻝٍ ﻟَﺎ ﺗُﺮَﺩُّ ﻓِﯿﮩِﻦَّ
ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀ َ : ﻟَﯿْﻠَۃُ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَۃِ، ﻭَﺃَﻭَّﻝُ ﻟَﯿْﻠَۃٍ ﻣِﻦْ ﺭَﺟَﺐٍ، ﻭَﻟَﯿْﻠَۃُ
ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ، ﻭَﻟَﯿْﻠَﺘَﯽِ ﺍﻟْﻌِﯿﺪَﯾْﻦِ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিঃ সূত্রে বর্ণিত,
পাঁচটি রাত এমন আছে; যে রাতে দোয়া ফেরত
দেওয়া হয় না। তন্মধ্যে একটি হলো মধ্য শাবানের রজনী।
(মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৭৯২৭)
'
☞ ১০ নং হাদীসঃ
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﯽ ﺍﻟﺪَّﺭْﺩَﺍﺀ ِ ﻗَﺎﻝَ : " ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻡَ ﻟَﯿْﻠَﺘَﯽِ ﺍﻟْﻌِﯿﺪِ ﻟِﻠَّﮧِ
ﻣُﺤْﺘَﺴِﺒًﺎ ﻓَﻠَﻢْ ﯾَﻤُﺖْ ﻗَﻠْﺒُﮧُ ﺣِﯿﻦَ ﺗَﻤُﻮﺕَ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮﺏُ ". ﻗَﺎﻝَ
ﺍﻟﺸَّﺎﻓِﻌِﯽُّ : " ﻭَﺑَﻠَﻐَﻨَﺎ ﺃَﻧَّﮧُ ﮐَﺎﻥَ ﯾُﻘَﺎﻝُ : ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺪُّﻋَﺎﺀ َ ﯾُﺴْﺘَﺠَﺎﺏُ
ﻓِﯽ ﺧَﻤْﺲِ ﻟَﯿَﺎﻝٍ , ﻓِﯽ ﻟَﯿْﻠَۃِ ﺍﻟْﺠُﻤُﻌَۃِ، ﻭَﻟَﯿْﻠَۃِ ﺍﻟْﺄَﺿْﺤَﯽ، ﻭَﻟَﯿْﻠَۃِ ﺍﻟْﻔِﻄْﺮِ، ﻭَﺃَﻭَّﻝِ ﻟَﯿْﻠَۃٍ ﻣِﻦْ ﺭَﺟَﺐٍ، ﻭَﻟَﯿْﻠَۃِ ﺍﻟﻨِّﺼْﻒِ ﻣِﻦْ ﺷَﻌْﺒَﺎﻥَ " ,ﻗَﺎﻝَ : " ﻭَﺑَﻠَﻐَﻨَﺎ ﺃَﻥَّ ﺍﺑْﻦَ ﻋُﻤَﺮَ ﮐَﺎﻥَ ﯾُﺤْﯿِﯽ ﻟَﯿْﻠَۃَ ﺟَﻤْﻊٍ , ﻭَﻟَﯿْﻠَۃُ ﺟَﻤْﻊٍ ﮨِﯽَ ﻟَﯿْﻠَۃُ ﺍﻟْﻌِﯿﺪِ؛ ﻟِﺄَﻥَّ ﻓِﯽ ﺻُﺒْﺤِﮩَﺎ ﺍﻟﻨَّﺤْﺮُ
হযরত আবুদ দারদা রাযিঃ সূত্রে বর্ণিত,
তিনি বলেন,যে লোক সাওয়াবের আশায় ঈদের রাত্রে ইবাদতে জাগ্রত থাকবে তার অন্তর ওই দিনও জাগ্রত
থাকবে,যেদিন সকলের অন্তর মুরদা থাকবে।
ইমাম শাফেঈ রহ. বলেছেনঃ আমার কাছে এই মর্মে বিশুদ্ধ বানী পৌঁছেছে যে,পাঁচ রাতের দোয়া কবুল হয়ঃ
১৷ জুমু’আর রাত৷
২৷ ঈদুল ফিতরের রাত৷
৩৷ ঈদুল আযহার রাত৷
৪৷ রজবের প্রথম রাত৷
৫৷ শাবানের মধ্য রাত৷
(সুনানে বায়হাকী ৬২৯৩, সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭৮২,শু’আবুল ঈমান ৩৪৩৮,মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ৭৯২৭; ফাজায়িলুল আওকাত ১৪৯,কিতাবুল উম্ম-১/২৩১)
'
☞ ১১ নং হাদীসঃ
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ: أَنَّه سَأَلَه أَوْ سَأَلَ رَجُلًا وَعِمْرَانَ يَسْمَعُ فَقَالَ: «يَا أَبَا فُلَانٍ أَمَا صُمْتَ مِنْ سَرَرِ شَعْبَانَ؟» قَالَ: لَا قَالَ: «فَإِذَا أَفْطَرْتَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ». (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
হযরত ইমরান ইবনু হুসায়ন রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন,নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিতাকে অথবা অন্য কোন লোককে জিজ্ঞেস করেছেন,আর আমি তা শুনছি,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হে অমুক ব্যক্তির পিতা! তুমি কী শা‘বান মাসের শেষ দিনগুলো সওম রাখো না? তখন তিনি বললেন, না। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি রমাযানের শেষে শা‘বান মাসের দু’টি সওম পালন করে নিবে।
হাদীসটি সহীহ৷ অনেকের মতে উক্ত সাওম দুটি হলো ১৪ ও ১৫ শাবানের সাওম৷ (সহীহুল বুখারী ১৯৮৩, সহীহু মুসলিম ১১৬১, মুসনাদে আহমাদ ১৯৯৪৭,সুনানে বায়হাক্বী ৭৯৬৭,সহীহ ইবনু হিব্বান ৩৫৮৮, মিশকাতুল মাসাবীহ ২০৩৮)
'
☞ ১২ নং হাদীসঃ
عن أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ : قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ لَمْ أَرَكَ تَصُومُ شَهْرًا مِنَ الشُّهُورِ مَا تَصُومُ مِنْ شَعْبَانَ، قَالَ ذَلِكَ شَهْرٌ يَغْفُلُ النَّاسُ عَنْهُ بَيْنَ رَجَبٍ وَرَمَضَانَ وَهُوَ شَهْرٌ تُرْفَعُ فِيهِ الأَعْمَالُ إِلَى رَبِّ الْعَالَمِينَ فَأُحِبُّ أَنْ يُرْفَعَ عَمَلِى وَأَنَا صَائِمٌ
হযরত উসামাহ বিন যায়দ রাযিঃ থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, একদা আমি বললাম,হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শাবান মাসে যত সিয়াম রাখতে দেখি অন্য কোন মাসে তো তত সিয়াম রাখতে দেখি না, (এর রহস্য কী?) উত্তরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ এটা তো সেই মাস! যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন৷ যা হল রজব ও রমযানের মধ্যবর্তী মাস। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশ্ব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে,সিয়াম রাখা অবস্থায় আমার আমল সমূহ (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক। হাদীসটি সহীহ৷ (মুসনাদে আহমাদ ২১৭৫৩,সুনানে নাসাঈ ২৩৫৭,সহীহ আত তারগীব ১০০৮)
'
☞ ১৩ নং হাদীসঃ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ ابْنِ أَبِي لَبِيدٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنْ صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ كَانَ يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ صَامَ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ قَدْ أَفْطَرَ وَلَمْ أَرَهُ صَامَ مِنْ شَهْرٍ قَطُّ أَكْثَرَ مِنْ صِيَامِهِ مِنْ شَعْبَانَ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ كُلَّهُ كَانَ يَصُومُ شَعْبَانَ إِلَّا قَلِيلًا
হযরত আবূ সালামাহ রাযিঃ থেকে বর্ণিত,
আমি আয়িশা রাযিঃ এর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেনঃ তিনি একাধারে সিয়াম রেখেই যেতেন। এমনকি আমরা ভাবতাম,তিনি সিয়াম রেখেই যাবেন। আবার তিনি একাধারে রোযাহীন অবস্থায় কাটাতেন, এমনকি আমরা বলতাম, তিনি রোযাহীন অবস্থায়ই থাকবেন। শা‘বান মাস ব্যতীত অন্য কোন মাসে আমি তাঁকে এত অধিক সিয়াম রাখতে দেখিনি। তিনি প্রায় পুরা শা‘বান মাসই সিয়াম রাখতেন। তিনি শা‘বানের অল্প কিছুদিন বাদ দিয়ে পুরা মাসই সিয়াম রাখতেন। হাদীসটি সহীহ৷
(সুনানে ইবনে মাজাহ ১৭১০,সহীহুল বুখারী ১৯৬৯, সহীহু মুসলিম ৭৪৬,সুনানে আবূ দাউদ ১৩৪২,২৪৩৪, মুসনাদে আহমাদ ২৪৭৮৯, ২৫৫২২, ২৫৭৭৮,মুয়াত্তা মালেক ৬৮৮,মিশকাত ২০৩৬)

শবে বরাত সংক্রান্ত এরূপ আরো বহু হাদীস বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্ন সূত্রে বর্নিত হয়েছে৷ তাছাড়া আমি তাহমীদ একটি তালিকা তৈরী করে দেখেছি যে,প্রায় ২৫জন সাহাবী থেকে শবে বরাত সংক্রান্ত হাদীস বর্নিত হয়েছে৷ তন্মধ্যে কয়েক জনের নাম নিম্নে উল্লেখ করছি-
১৷ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযিঃ
২৷ হযরত আলী ইবনে আবি তলিব রাযিঃ
৩৷ উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়শা সিদ্দীকা রাযিঃ
৪৷ হযরত আবু হুরায়রা রাযিঃ
৫৷ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আ’মর রাযিঃ
৬৷ হযরত আবু মুসা আশআরী রাযিঃ
৭৷ হযরত আউফ ইবনে মালিক রাযিঃ
৮৷ হযরত মুআয ইবনে জাবাল রাযিঃ
৯৷ হযরত উসমান ইবনে আবীল আস রাযিঃ
১০৷ হযরত আবু ছালাবাহ আল খুসানী রাযিঃ
১১৷ হযরত কাছীর ইবনে মুররা আল হাজরমী রাযিঃ
১২৷ হযরত উসামা বিন যায়দ রাযিঃ প্রমূখ৷
(আত তাহমীদ)
'
উল্লিখিত হাদীসসমূহ থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে,শবে বরাত বা মধ্য শা’বানের রজনীর মহত্ব, গুরুত্ব,তাৎপর্য ও ফজীলত অপরিসীম।
অতএব শবেবরাত সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত৷ তাই এ রাতের অস্তিত্বকে অস্বীকার করার কোনো সুয়োগ নেই।
জ্ঞাতব্য বিষয় হলো- নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কোন হাদীসই যয়ীফ নয়! বরং শুধু হাদীস শাস্ত্রিক বিশ্লেষণের দিক থেকে মুহাদ্দীসিনে কিরাম হাদীস গুলোকে শ্রেনি বিন্যাস করেতে যেয়ে কোন হাদীসকে সহীহ,কোন হাদীসকে হাসান এবং কোন হাদীসকে যয়ীফ হিসেবে নির্নয় করেছেন৷ আর মুহাদ্দীসিনে কেরামের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হল,একাধীক সনদে বর্নিত জয়ীফ হাদীসগুলো হাসানের দরজায় পৌঁছে যায়। আর ফাযায়েলের ক্ষেত্রে যয়ীফ হাদীসও গ্রহণযোগ্য। তাছাড়া শা'বান মাসে বেশি বেশি নফল রোযা রাখার কথা একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত এবং আইয়ামে বীয অর্থাৎ প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখার বিষয়টিও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তদুপরি ইসলামের প্রারম্ভ যুগ থেকে এর ওপর আমল চলে আসাটা হাদীসগুলো নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার সবচেয়ে বড় দলিল।

এর পরও কি বলবেন শবে বরাত হাদীস দ্বারা প্রমানিত নয়!?
আসলে প্রচলিত অজ্ঞ শায়েখগুলোই যমানার সবচেয়ে বড় ফিতনা৷ কাজেই এসব ফিতনাবাজ শায়েখদের থেকে দূরে থাকা ঈমানী দায়িত্ব৷
ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ .
'
📖 প্রমাণ্যগ্রন্থাবলীঃ
তাফসীরে কুরতুবী ১৬/১২৭ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে রূহুল মা’আনী ১৮/৪২৩ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে খাযীন ৪/১১২ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে মাযহারী ৮/ ৩৬৮ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে জালালাইন ৫/৮৬০ পৃষ্ঠা৷
তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ৭/৭৪৯ পৃষ্ঠা৷
দরসে তিরমিযী ২/৬৮২ পৃষ্ঠা৷
সুনানে ইবনে মাজাহ ২/১৬০ পৃষ্ঠা৷
সুনানে বায়হাকী ৫/৩৫৪
৯/২৪ পৃষ্ঠা৷
সহীহ তাবরানী ১/১২৮ পৃষ্ঠা৷
সহীহ ইবনে হিব্বান ১২/৪৮১পৃষ্ঠা৷
সিলসিলাতুস সহীহাহ ৩/১৩৫-১৩৯ পৃষ্ঠা৷
মাযমাউয যাওয়ায়েদ ৮/৬৫ পৃষ্ঠা৷
ইক্বতিযাউস সিরাতুল মুস্তাক্বীম-২/৬৩১-৬৪৩ পৃষ্ঠা৷
তুহফাতুল আহওয়াজী ২/৫৩ পৃষ্ঠা৷
লাত্বায়িফুল মা‘আরিফ ১৫১-১৬০ পৃষ্ঠা৷
'
উত্তর লিখনেঃ
মুফতী তাহমীদ শামী
আত তাহমীদ ইসলামীক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ৷
তারিখ-১১ই শাবান ১৪৪১ হিজরী৷

22/04/2016

ডাক্তার জাকির নায়েক প্রকৃত ইসলামের দাঈ নন কাদিয়ানী-রাফেজী,তথাকথিত আহলে হাদীসের মতো নতুন ধর্মমতের প্রবক্তা ——————————————- ————- তার গোমরাহীর প্রচারকেন্দ্র পিস টিভি ও তার লেকচারের সকল ধরনের প্রকাশনা নিষিদ্ধ করা সময়ের দাবী ------------------------------ --------------- ------------- ডাক্তার জাকির নায়েক ইসলাম প্রচারের নামে সুপরিকল্পিতভাবে নিজের গর্হিত ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার করে চলেছেন। তিনি ইসলামের নামে কাদিয়ানী, তথাকথিত আহলে হাদীস, শিয়া, রাফেজী ও বাহায়ীদের মতো নতুন মতধারা সৃষ্টি করেছেন। তার ভ্রান্ত মতবাদের এ সকল বিষয় মাসিক আদর্শ নারীতে বিগত চার বছরের অধিককাল যাবত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং এসবের বাইরেও তার অনেক ভ্রান্ত মতবাদ রয়েছে। ডাক্তার জাকির নায়েকের এ সকল গোমরাহী মতবাদের কোনটা আকীদাসংশ্লিষ্ট, আবার কোনটা মাসআলাবিষয়ক। উদাহরণ স্বরূপ তার সেই ভ্রান্ত ধর্মমতের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় নিম্নে তুলে ধরা হলো-- ——————————————- ————- ডাক্তার জাকির নায়েকের নতুন ধর্মমতের থিউরি---১ ——————————————- ————- ‘আল্লাহর নাম’ সম্পর্কে ডাক্তার জাকির নায়েকের মতবাদ হলো-- ------------------------------ --------------- ---------------------- “ মহান আল্লাহকে হিন্দুদের দেবী-দেবতা তথা ব্রাহ্ম, বিষ্ণু প্রভৃতি নামে ডাকা যাবে। / আল্লাহকে পৃথিবীর যে কোন নামে ডাকা যাবে, তবে নামটি সুন্দর হতে হবে। “ (দ্রষ্টব্য : ডা. জাকির নায়েক লেকচার সমগ্র, ভলিয়াম নং ১, পৃষ্ঠা নং ২৬৫ এবং ভলিয়াম নং ২, পৃষ্ঠা নং ৩৮০ ॥ মুদ্রণ ও প্রকাশনায় : পিস পাবলিকেশন, বাংলা বাজার--ঢাকা) # # # # # # # # # # # # # # # # পর্যালোচনা # # # # # # # # # # # # # # # # এটা শিরকী মতবাদ। আল্লাহ তা‘আলাকে তাঁর জন্য নির্ধারিত ৯৯ নামে ডাকা কর্তব্য। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন-- ﻭَﻟِﻠّٰﮧِ ﺍﻟۡﺎَﺳۡﻤَﺎٓﺀُ ﺍﻟۡﺤُﺴۡﻨٰﯽ ﻓَﺎﺩۡﻋُﻮۡﮦُ ﺑِﮩَﺎ “আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ রয়েছে। সুতরাং তাঁকে এ নামসমূহের দ্বারা ডাকো।” (আল-কুরআন, সূরাহ আ‘রাফ, আয়াত নং ১৮০) তেমনি আল্লাহর এ নামগুলোর অর্থসূচক কোন শব্দ দ্বারাও আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকা যাবে, তবে এর জন্য শর্ত হলো, তা বিধর্মীদের কোন বাতিল মা‘বূদ বা গাইরুল্লাহর জন্য ব্যবহৃত না হতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-- ﻭَﺫَﺭُﻭﺍ ﺍﻟَّﺬِﯾۡﻦَ ﯾُﻠۡﺤِﺪُﻭۡﻥَ ﻓِﯽۡۤ ﺍَﺳۡﻤَﺎٓﺋِﮧٖ ؕ ﺳَﯿُﺠۡﺰَﻭۡﻥَ ﻣَﺎ ﮐَﺎﻧُﻮۡﺍ ﯾَﻌۡﻤَﻠُﻮۡﻥَ “তাদেরকে বর্জন করো যারা আল্লাহর নামের ব্যাপারে সীমা লংঘন করে। অচিরেই তারা যা করে চলেছে তার প্রতিফল পাবে।” (আল-কুরআন, সূরাহ আ‘রাফ, আয়াত নং ১৮০) সুতরাং হিন্দুদের দেবতা ব্রাহ্ম বা বিষ্ণু নামে আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকা যাবে না। তা ছাড়া পৃথিবীর যে কোন সুন্দর নামে আল্লাহকে ডাকা যাবে না, বরং তা আল্লাহর উক্ত নামসমূহের সাথে সামঞ্জস্যশীল বা তাঁর পবিত্র সত্তার মহান গুণ প্রকাশকারী হতে হবে। (প্রমাণের জন্য দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২৭৩৬/ বাদায়িউল আক্বায়িদ, ১ম খ-, ১৬৯ পৃষ্ঠা)

26/03/2016
26/03/2016
26/03/2016

আবুল আলা মওদুদীর ঈমান বিধ্বংসী কুফরী আকিদা সমুহ ।
------------------------------------------------------
ইসলামের বিভ্রান্ত আক্বিদা প্রবেশ
করিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার
কাজটি মদুদীকে দিয়ে খুব ভালো ভাবেই
করিয়ে নিয়েছে তার প্রভু ব্রিটিশরা।
সে আমেরিকান খ্রিস্টিয়ান সি. আই. এর
এজেন্ট ছিল। রেফারেন্স: দ্য আর্কাইভ অব
মিত্রোখিন-২য় খন্ড।

জীবন বৃত্তান্তঃ আবুল
আ’লা মওদুদী (২৫শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৩
– ২২শে সেপ্টেম্বের, ১৯৭৯),
সে মালানা মওদুদী বা শাইখ আবুল
আ’লা মওদুদী নামেও পরিচিত, ছিলো।
নিজেকে একজন মুসলিম গবেষক, সাংবাদিক,
মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও বিংশ শতাব্দীর
একজন গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চিন্তাবিদ ও
দার্শনিক হিসেবে পরিচয় দিতো। সে তার
নিজ দেশ পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলের
সাথে জড়িত ছিলো।
মওদুদী জামায়াতে ইসলামী নামক
একটি ভ্রান্ত ইসলামী রাজনৈতিক দলেরও
প্রতিষ্ঠাতা।
যা বর্তমানে বাংলাদেশে এবং পাকিস্তানে বিদ্যমান।
আবু আলা মওদুদির কুফরি আক্বিদার
কয়েকটি প্রমান নিছে বর্ণনা করা হলোঃ
১। আল��লাহ সুবহানাহু
ওয়াতা’লাসম্পর্কেকুফরিআক্বিদাঃ“যেক্ষেত্রেনর-
নারীর অবাধ মেলা মেশা,
সে ক্ষেত্রে যেনার কারনে (আল্লাহ
পাকে আদেশকৃত) রজম শাস্তি প্রয়োগ
করা নিঃসন্দেহে জুলুম।” (নাউযুবিল্লাহ)
(তাফহীমাদ ২য় খন্ড, ২৮১ পৃষ্ঠা)
২।ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সম্পর্কেকুফরীআক্বীদাঃ“ফেরেশতাপ্রায়
ঔ জিনিস যাকে গ্রীক, ভারত
ইত্যাদি দেশের
মুশরিকরা দেবী দেবতা স্থির
করেছে।” (নাউযুবিল্লাহ) (তাজদীদ ও
ইহইয়ায় দ্বীন, ১০ পৃষ্ঠা)
৩। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সম্পর্কে কুফরী আক্বীদাঃ “নবীগন
মাছুম নন।প্রত্যেক নবী গুনাহ
করেছেন।” (নাউযুবিল্লাহ) (তাফহীমাত, ২য়
খন্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা)
৪। হুযুরে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সম্পর্কেকুফরীআক্বিদাঃ“মহানবীছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানবিক
দূর্বলতা থেকে মুক্ত ছিলেন
না।” (নাউযুবিল্লাহ) (তরজমানুস সুন্নাহ, ৩য় খন্ড,
৩০৫ পৃষ্ঠা)
৫। সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগনের
সম্পর্কেকুফরীআক্বিদাঃ“সাহাদিগকেসত্যের
মাপকাঠি জানবেন।” (নাউযুবিল্লাহ)
(দস্তরে জামাতে ইসলামী, ৭ পৃষ্ঠা)
আরও উল্লেখ্য যে, মওদুদি মৃত্যুর পর
শিয়া সম্প্রদায়ের
একটি মুখপাত্রে বলা হয়েছিল, “মরহুম
(মওদুদী) তার ভিন্ন আঙ্গিকে শিয়া মতবাদ
প্রচলনেও সহায়তা করেছেন।” (সাপ্তাহিক
শিয়া, লাহোর,১৯৭৯ ইং, ৫৭ সংখ্যা ৪০/৪১;
খোনেনী ও মওদুদী দুই ভাই, পৃষ্ঠা ১২)।
আসুন দেখি সে আরো কি কি মন্তব্য
করেছে যা খুব ঘৃণিত এবং সম্পূর্ণ
ইসলামি শরিয়ত বিরোধী।
(ক) পবিত্র কুরআন শরীফ
সম্পর্কে বক্তব্যঃ মালানা মওদুদী পবিত্র
কুরআন শরীফ এর মুল্যায়ন
প্রসঙ্গে লিখেছে, “কোরআন করিম
হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু নাজাত
বা মুক্তির জন্য নয়।” [তাফহিমাত, ১ম খন্ড, ৩১২
পৃষ্ঠা]
(খ) পবিত্র হাদীছ শরীফ
সম্পর্কে বক্তব্যঃ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র হাদীছ
সম্পর্কে মালানা মওদুদী বলেছে,
“হাদীস কিছু লোক থেকে কিছু লোক
পর্যন্ত অর্থাৎ মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত
হয়ে আসছে। এসব বড়জোর সঠিক
বলে ধারণা করা যায়, কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস
করা যায় না। আর একথা স্পষ্ট যে, আল্লাহর
ধর্মের যেসব বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ,
যেগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের
পার্থক্য পরিস্কার হয়ে যায়,
সেগুলো কয়েকজন লোকের
বর্ণনা নির্ভর করে মানুষকে বিপদাপন্ন
করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ
করতে পারেন না।” [রাসায়েল ও মাসায়েল,
৬৭ পৃষ্ঠা]
সাহাবা কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুমগনের
সম্পর্কে ভ্রান্ত আক্বীদাঃ আহলে সুন্নাত
ওয়াল জামাআতের আক্বিদা হল-
সাহাবায়ে কেরাম সমলোচনার উর্দ্ধে।
তাদের দোষ বর্ণনা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ”।
(শরহুল আকায়েদ পৃষ্ঠা ৩৫২)
* মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ
করেছেন যেঃ “আমি [সাহাবাদের] তাদের
প্রতি সন্তুষ্ট আর তারাও আমার অনুগত”।
{সূরা তাওবা-১০০}
* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগনের সম্পর্কে বলেন-
আমার সাহাবীরা তারকাতুল্য। তোমরা যারই
অনুসরণ করবে(তাদের) হেদায়েত
পেয়ে যাবে। {কানুযুল উম্মাল ফি সুনানিল
আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০০২,
জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-২৪৩৫৫}
অথচ দেখুন
মওদুদী কিভাবে সাহাবায়ে কিরামকে আক্রমণ
করেছে নোংরা উক্তিতে-
১) “সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগন সমলোচনার বাহিরে নন।
তাদের দোষ বর্ণনা করা যায়। সাহাবাদের
সম্মান করার জন্য
যদি ইহা জরুরী মনে করা হয় যে,
কোনভাবেই তাদের দোষ
বর্ণনা করা যাবে না তবে আমার (মওদুদী)
দৃষ্টিতে ইহা সম্মান নয় বরং মূর্তি পূজা। যার
মূলোৎপাটন এর লক্ষ্যেই
জামাতে ইসলামীর জন্ম”।{নাউযুবিল্লাহ্}
(তরজুমানুল কুরআন ৩৫শ’ সংখ্যা, পৃষ্ঠা ৩২৭)
২) “সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগন অনেকে মনগড়া হাদিস
বর্�না করেছেন।” {নাউযুবিল্লাহ্} (তরজমানুল
কোরআন ৩৫ সংখ্যা) ঙ/৩)
৩) “সাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহুমগনের মধ্যে জাহেলিয়াতের
বদ-স্বভাবের
পুনরাবৃত্তি ঘটে।” {নাউযুবিল্লাহ্} (তাফহীমাত
২য় খণ্ড, ১৫৫ পৃষ্ঠা)
৪) “হযরত আবু বকর সিদ্দিক রদ্বিয়াল্লাহু
তা’য়ালা আনহু খিলাফতের দায়িত্ব
পালনে সম্পুর্ণ অযোগ্য ছিলেন”।
{নাউযুবিল্লাহ্} (তাজদীদ ও ইয়াহইয়ায়ে দীন:
পৃষ্ঠা ২২)।
৫) “নবী করীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ওফাতের সময়
ব্যাক্তি সম্মানের কু-মনোবৃত্তি হযরত উমর
রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু কে পরাভূত
করেছিল।{নাউযুবিল্লাহ্} (তরজুমানুল কুরআন,
রবিউস সানি ৩৫৭ হিজরী)
৬) “হযরত উসমান রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু এর
মাঝে সজন-প্রীতির বদগুণ বিদ্যমান ছিল।
{নাউযুবিল্লাহ্} (খেলাফত ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ৯৯)
৭) “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু
স্বীয় খেলাফত কালে এমন কিছু কাজ
করেছেন যাকে অন্যায় বলা ছাড়া উপায় নেই।
{নাউযুবিল্লাহ্} (খেলাফত ও মুলকিয়াত,
পৃষ্ঠা ১৪৬/১৪৩)
৮) “হযরত মুয়াবিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহু স্বার্থবাদী,
গনিমতের মাল আত্মসাৎকারী,
মিথ্যা সাক্ষ্যগ্রহকারী ও
অত্যাচারী ছিলেন”।{নাউযুবিল্লাহ্} (খেলাফত
ও মুলকিয়াত, পৃষ্ঠা ১৭৩)
পবিত্র কোরআন উল কারিম উনার
সম্পর্কে তার মন্তব্য।
পবিত্র কুরআন শরীফ
সম্পর্কে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য: কোরআন
করিম হেদায়েতের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু
নাজাত বা মুক্তির জন্য নয়।”{নাউযুবিল্লাহ্}
(তাফহিমাত, ১ম খণ্ড, ৩১২ পৃষ্ঠা)
* আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি কুরআন
অবতীর্ণ করেছি যেন আপনি (রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
মানবজাতিকে অন্ধকারের অতল গহবর
থেকে উদ্ধার করে আলোর পথ
দেখাতে পারেন। {সূরা ইবরাহীম, আয়াতঃ ১}
মুফাসসিরীনে কেরামের
ব্যাখ্যানুযায়ী আলোর পথই হচ্ছে মুক্তির
পথ। কে সত্যবাদী? মহান মালিক
নাকি মাওদূদী?
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস
সম্পর্কে ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য: “হাদীস কিছু
লোক থেকে কিছু লোক পর্যন্ত অর্থাৎ
মানুষের মুখে মুখে বর্ণিত হয়ে আসছে।
এসবকে বড়জোর সঠিক
বলে ধারণা করা যেতে পারে কিন্তু
দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করার কোন অবকাশ নেই।
আর একথা স্পষ্ট যে, আল্লাহর দীনের
যে সকল বিষয় এতো গুরুত্বপূর্ণ যে,
এগুলোর দ্বারা ঈমান ও কাফেরের
মাঝে পার্থক্য নির্ণীত হয়
সেগুলো গুটিকয়েক লোকের বর্ণনার
উপর নির্ভর করে মানুষকে বিপদগ্রস্ত
করা আল্লাহ তায়ালা কখনো পছন্দ
করতে পারেন না।” {নাউযুবিল্লাহ্} (রাসায়েল
ও মাসায়েল, ৬৭ পৃষ্ঠা) কী কুখ��যাত মন্তব্য!!!
একটু বিবেচনা করুন।
মওদূদীর আরো কিছু ভ্রান্ত মতবাদ-
ইসলামি রীতিনীতি নিয়ে।
“পোশাক পরিচ্ছদ, চাল-চলন, আকৃতি-প্রকৃতি চুল
কার্টিং ইত্যাদির ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ
করতে কোন দোষ নেই”।{নাউযুবিল্লাহ্}
(তরজুমানুল কুরআন, ছফর সংখ্যা, ১৩৬৯
হিজরী)
* ইসলাম বলে, ইসলামী পোশাক-পরিচ্ছদ-
প্রকৃতি চাল-চলন ইত্যাদি গ্রহণ করবে। এসব
ব্যাপারে বিধর্মীদের অনুকরণ করবে না।
(এমদাদুল মুফতিয়ীন, ২য় খণ্ড, ১৫৪ পৃষ্ঠা)
প্রসঙ্গঃ দাড়ি কাটা ও রাখা
* ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু উনার
হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
তোমরা গোফ খাট কর আর দাড়ি লম্বা কর।
(তিরমিযী শরীফ, হাদিস নং-২৭৬৩)
* এছাড়া অন্য হাদিসে এসেছে-পুরুষদের
স্বাভাবিক প্রকৃতি হল সে তার দাড়ি লম্বা রাখবে।
(আবু দাউদ শরীফ, হাদিস নং-৫৩)
দাড়ি লম্বা করার কথা হয়েছে হাদিসে। কাটার
কথা কোথাও নেই। তাই সাহাবায়ে কিরামের
আমলই আমাদের একমাত্র ভরসা এই
ক্ষেত্রে যে, দাড়ি কতটুকু বড়
রাখতে হবে?
মুসান্নাফে ইবনে শাইবাতে এসেছে-
হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’লা আনহু এর
আমল ছিল-তিনি দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখতেন।
সুতরাং দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ রাখা ওয়াজিব। ��র চে’
কম দাড়ি রাখা আর চেছে ফেলার
মাঝে কোন পার্থক্য নাই। যেমন
জোহরের ফরজ নামায চার রাকাত। দুই রাকাত
সারা জীবন পড়লেও যেমন জোহর
কোনদিনও আদায় হবেনা। তেমনি এক মুষ্টির
কম দাড়ি রাখলে তা কোনদিনও
দাড়ি রাখা বলে সাব্যস্ত হবেনা।
অথচ মওদুদী সাহেবের আক্বিদা দেখুন
কী বলে?
“দাড়ি কাটা ছাঁটা জায়িয। কেটে ছেঁটে এক
মুষ্টির কম হলেও ক্ষতি নেই। হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে পরিমাণ
দাড়ি রেখেছেন সে পরিমাণ
দাড়ি রাখাকে সুন্নত বলা এবং এর
অনুসরণে জোর দেয়া আমার
মতে মারাত্মক অন্যায়”।{নাউযুবিল্লাহ্}
(রাছায়েল মাছায়েল, ১ম খণ্ড, ২৪৭ পৃষ্ঠা)
প্রসঙ্গঃ সুন্নতে রাসূল “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঊনার আদত,
আখলাককে সুন্নত
বলা এবং তা অনুসরণে জোর দেয়া আমার
মতে সাংঘাতিক ধরনের বিদয়াত ও মারাত্মক ধর্ম
বিকৃতি। {নাউযুবিল্লাহ্} (রাছায়েল মাছায়েল, ২৪৮
পৃষ্ঠা)

* ইসলাম বলে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদত, আখলাক ও
স্বভাব-চরিত্র আমাদের অনুকরণের জন্য
উত্তম নমুনা বা সুন্নত। মহান রাব্বুল আলামীন
ইরশাদ করেন-তোমাদের জন্য
নবীজীর মাঝে রেখেছি উত্তম
আদর্শ। {সূরা আহযাব, আয়াতঃ ২১, সহীহ
বুখারী, হাদীস নং-১৫৪৪}
প্রসঙ্গঃ দ্বীনের আসল উদ্দেশ্য
“দ্বীনের আসল মকছুদ
হলো ইসলামী হুকুমত। নামায, রোযা,
হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি সমস্ত ইবাদত
হলো উক্ত মকছুদ অর্জনের মাধ্যম”।
(আকাবেরে উম্মত কী নজরমে, ৬৪
পৃষ্ঠা)
* ইসলাম বলে, দ্বীনের আসল মকছুদ
নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কায়েম করা।
ইসলামী হুকমত উক্ত মকছুদ
অর্জনে সহায়ক। (শরহুল আকায়েদ, ৩০৪
পৃষ্ঠা) এত সব ভ্রান্ত আক্বিদা পোষণ করার
পরও যদি কেউ তাকে আল্লাহ
ওয়ালা বলে সম্বোধন
করে তাহলে তাদের ক্ষেত্রে আমাদের
কী’বা বলার আছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের
মওদুদী ফিতনা এবং কথিত আহলে হাদীস
ফিতনা, এবং বেদআতি ভন্ড পীর যেমন
দেওয়ানবাগি ফিতনা থেকে আমাদের
দেশে সাধারণ মুসলমানদের হিফাযত করুন
এবং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন উনার রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনার
সাহাবায়ে কেরাম রাদ্বিয়াল্লাহু
তা’লা আনহুমগনের পথে যে সমস্থ তবে-
তাবেঈন, আইম্মে মুস্তাহিদিন
সালফে সালেহিন ও আওলিয়ায়ে কেরাম
রাহমাতুল্লাহি আলাইহিম গন ছিলেন তিনাদের
দেখানো সরল এবং সঠিক পথে চলার তৌফিক
দিন আমীন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ পোষ্ট
টা পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই
কমেন্ট বক্স এ আপনার মতামত জানাবেন
আর আপনার বন্ধু বান্দব দের সাথে শেয়ার
করতে ভুলবেন্না, আসসালামু আলাইকুম,
ফি আমানিল্লাহ !!! আল্লাহ �ায়ালা আমাদের
সবাইকে সঠিক বুজ দান কর

সরাসরী লেখা দেখতে হলে সিলেট জকিগন্জ ফুলতলী সাহেব ত্রর মাদ্রাসায় আসলে নিজের চোখে মওদুদির বই দেখে যাবেন ৷ যে বইটিতে সাহাবা রাঃ সমালুচনা করছেন ৷

Address

Feni
Feni
FENI

Telephone

8801859453774

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when হেফাজতে ইসলাম চাড়িপুর ১২ নং ওয়ার্ড, ফেনী সদর। posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share