30/04/2026
আহারে জাপান। 🇯🇵আবারো প্রাণ গেলো জাপানে অবস্থানরত এক ভাইয়ের....
গতকাল বিকেল আনুমানিক চারটার পর চিবা প্রিফেকচারের কিসারাজু শহরের কুযুমা এলাকায় বাসার সামনের একটি গাছের সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করা হয়। মৃত যুবকের নাম রাব্বি ইসলাম, বয়স মাত্র ২১ বছর, বাড়ি বাংলাদেশের যশোর জেলায়। বর্তমানে তাঁর মরদেহ জাপান পুলিশের হেফাজতে স্থানীয় থানার মর্গে রয়েছে।
রুমমেট ও পরিচিতদের কাছ থেকে যা জানা গেছে, তা পড়লে যে কারো বুক ভারি হয়ে আসবে। রাব্বি প্রায় বারো-তেরো লাখ টাকা খরচ করে টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ভিসায় জাপানে এসেছিলেন। এই ভিসায় আমিও জাপান আসি ২০২০ সালে।তবে সরকারি ভাবে।এই ভিসায় মূলত কন্সট্রাকশন রিলেটেড কাজ ই বেশি।বেশি মানে ৯৫%.
রাব্বি দেশে রেখে এসেছিলেন ঋণের বোঝা, পাওনাদারদের তাগাদা, পরিবারের প্রত্যাশা।
জাপানে এসে দেখলেন, এদেশের জীবনযাত্রার খরচও তাঁর সাধ্যের বাইরে।
পকেটে টাকা ছিল না, তবুওকুমিআইকে তিনি জানিয়েছিলেন দুই মাস পর দেশে ফিরবেন।কারন কাজের প্রেসার ,১৩/১৪ লাখ টাকা দিয়ে TITP ভিসায় এসে আসলেই একটা বড় ভুল করেছে রাব্বি।এত টাকা দিয়ে TITP ভিসায় আসতে আমি কতজন কে কতবার নিষেধ করেছি আল্লাহ ই ভাল জানেন।কিন্তু অনেকেই ভাবে,তারা সফল হোক এটা আমরা চাইনা।বিভিন্ন এজেন্সি ৩/৪ লাখ টাকা বেতন পাবা,উন্নত জীবন,বুলেট ট্রেনে চড়বা ,সুশি খাবা,ফুজি পাহাড় দেখবা টাইপের আলুপাম দিয়ে এইধরনের ভিসায় পাঠিয়ে টাকা হাতাচ্ছে।
অবশ্য জাপান সরকার ও সেটা টের পেয়ে এই ভিসায় ২০২৭ সালের মার্চের পর বাদ করে দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
জাপানে আসার আগে ভালভাবে প্ল্যান করে আসুন।জাপানে টাকা ওড়েনা ভাই।প্রচুর পরিশ্রম করেই সবাই এখানে টিকে আছে।এটা বুঝতে শিখুন।মেন্টালি ভাবে প্রস্তুত থাকুন যে যত বাধাই আসুক পেরিয়ে যাব।এই মানষিকতা না থাকলে আপনার পরিনতি ও রাব্বির মতই হবে।
রাব্বির পরিবার ভাবত, ছেলে গার্লফ্রেন্ডকে টাকা দিয়ে দিচ্ছে।
গার্লফ্রেন্ড চাপ দিচ্ছিলেন বিয়ের জন্য। পরিবার চাইছিল না সেই মেয়েকে বিয়ে করুক।
দেশের ঋণ, জাপানের খরচ, পরিবারের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ,চারদিক থেকে ঘিরে ধরা একটা একুশ বছরের ছেলে শেষ পর্যন্ত পথ খুঁজে পেলেন না।
পুলিশি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না, কিন্তু কাছের মানুষদের ভাষ্য থেকে যা উঠে আসছে — এটা একটা তীব্র মানসিক ট্রমার পরিণতি।
ভাইয়েরা, এই খবরটা পড়ার পর একটা কথা মনে রাখুন।
প্রবাসে আসা মানে শুধু কিছু টাকা উপার্জন করা না ।
এটা একটা একাকী লড়াই। দেশে যে চাপগুলো ছিল, সেগুলো প্লেনে চড়ে আপনার সাথেই জাপানে আসে। এখানে এসে সেগুলোর সঙ্গে যোগ হয় ভাষার দেয়াল, সংস্কৃতির ধাক্কা, পরিচিত মুখের অভাব, আর পরিবারের প্রত্যাশার চাপ।
সব মিলিয়ে যে মানসিক বোঝাটা তৈরি হয়, সেটা একা বহন করা যায় না। একা বহন করতে গেলে কোনো একদিন সেটা ভেঙে পড়ে।
যদি মনে করেন,আপনি এই মুহূর্তে সেই বোঝা বহন করছেন ,যদি ঋণের চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, বা একাকীত্ব আপনাকে গ্রাস করছে ,দয়া করে চুপ করে বসে থাকবেন না।
যে কাউকে বলুন।
রুমমেটকে বলুন, বন্ধুকে বলুন, কমিউনিটির বড় ভাইকে বলুন।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকুন।
মুসলিম হলে মসজিদে যান, জুমার নামাজে গিয়ে অন্তত একজনের সঙ্গে কথা বলুন। অন্য ধর্মের হলে সেই উপাসনালয় এ যান।
কথা বললে সমস্যা পুরোপুরি মিটবে না হয়তো, কিন্তু একজন শোনার মানুষ পেলে বুকের ওপরের পাথরটা একটু হালকা হবে।।
আর যাঁরা পরিবারের সদস্যকে জাপানে পাঠিয়েছেন ,দেশ থেকে কেবল টাকার খবর জিজ্ঞেস করবেন না।
ছেলেটা কেমন আছে, ঘুমাচ্ছে কিনা, খাচ্ছে কিনা, মন ভালো আছে কিনা — এই খোঁজ নিন।
কারণ প্রবাসে টাকার চেয়েও বেশি দরকার আশ্বাস। দেশ থেকে একটা সহানুভূতিশীল কথা একজন প্রবাসীর কাছে হাজার ইয়েনের চেয়ে বেশি দামি।
রাব্বির পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন।
আর আমরা যাঁরা এই দেশে আছি, আমরা যেন একজন আরেকজনের পাশে দাঁড়াতে শিখি। প্রবাসী জীবন কঠিন, কিন্তু একসাথে থাকলে সহনীয়।
কেউ যদি মানসিকভাবে চরম সংকটে থাকেন, জাপানে ২৪ ঘণ্টা TELL Lifeline সেবা চালু আছে :০৩-৫৭৭৪-০৯৯২।
ইংরেজিতে কথা বলা যায়।
এছাড়া আপনার কাছাকাছি বাংলাদেশি কমিউনিটির বড় ভাই বা মসজিদের ইমামের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। একটা ফোন কল একটা জীবন বাঁচাতে পারে।
তথ্যসূত্র :Japanbanglanews
Post creadit : শাহীন আকন,
ওকিনাওয়া, জাপান
***de ***dejapan