Hibat Allah

Hibat Allah Help Allah's Slave And Make Your Heart Soul
(1)

কে বলে দোয়া কবুল হয় না?মক্কার হারামে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এক বিস্ময়কর ঘটনা। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে...
04/03/2026

কে বলে দোয়া কবুল হয় না?

মক্কার হারামে কর্মরত একজন পাকিস্তানি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর এক বিস্ময়কর ঘটনা। ইফতারের ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি অত্যন্ত বিনয় ও একাগ্রতার সাথে আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলেন।

অভাব-অনটনে জর্জরিত এই ব্যক্তিটি নিজের ঋণ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলে কাঁদছিলেন।

ঠিক সেই মুহূর্তে হারামের লাইভ ক্যামেরাটি তাঁর ওপর ফোকাস করে। হারাম শরীফের চ্যানেল থেকে সেই দৃশ্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

সৌদি আরবের একজন দানবীর ব্যক্তির চোখে ভিডিওটি পড়লে তিনি সেই কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেন এবং তাঁর সমস্ত ঋণ পরিশোধ করার দায়িত্ব নেন।

পরবর্তীতে সেই কর্মীকে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি তখন কোন দোয়াটি পড়ছিলেন? তিনি জানালেন, তিনি অভাব মুক্তির সেই দোয়াটি পড়ছিলেন যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এক মেহমানের আগমনের সময় পড়েছিলেন।

ঘটনাটি হলো, একবার নবীজী ﷺ-এর ঘরে একজন মেহমান এলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে খাবারের খোঁজে লোক পাঠালেন, কিন্তু খবর এলো ঘরে কিছুই নেই। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এই দোয়াটি পাঠ করলেন,

"اَللّٰهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ وَرَحْمَتِكَ، فَإِنَّهُ لَا يَمْلِكُهَا إِلَّا أَنْتَ"

(আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা মিন ফাদলিকা ওয়া রাহমাতিকা, ফাইন্নাহু লা ইয়ামলিকুহা ইল্লা আন্তা)

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ ও রহমত প্রার্থনা করছি। কেননা, আপনি ছাড়া আর কেউ এর মালিক নয়।" (আবু দাউদ, সহীহ আল জামে, তাবারানী)

দোয়া করার কিছুক্ষণ পরই নবীজী ﷺ-এর কাছে উপহার হিসেবে একটি ভাজা বকরি এলো।

উলামাদের মতে, অভাব ও সংকটের সময় এই দোয়াটি পড়া অত্যন্ত বরকতময়।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তাঁর কাছে চাইলে তিনি এমন জায়গা থেকে সাহায্য করেন যা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।

28/01/2026
01/12/2025

পানি কোথায় ?
মাটিতে......
তেল কোথায় ?
মাটিতে......
বাকি যত জিনিষ আছে সব কোথায় ?
মাটিতে......
মানুষ কোথা থেকে এসেছে এবং মৃত্যুর পর যাবে কোথায় ?
মাটিতে......
ফলমূল ফসল কোথা থেকে এসেছে ?
বীজ রোপণ করে ও এটি বের হয়ে আসে এবং খাদ্য পায় কোথায় ?
মাটিতে......
এখন এই সব কিছু কার নিচে ?
মাটির নিচে.............

তাহলে সকল কিছুই বলা যায় কোথায় ?
মাটির নিচে............

এখন বলেন মাটি কোথায় ?
আল্লাহ আকবর♥️
আমাদের পায়ের নিচে...........
সুবাহানাল্লাহ♥️

পায়ের নিচে...........
আমাদের পায়ের নিচে...........

আল্লাহ বলেন নভোমন্ডলে যা কিছু আছে সব তোমাদের জন্য♥️♥️♥️

আরে পুরো পৃথিবী সৃষ্টি করেছি তোমাদের জন্য
আর তোমাদের সৃষ্টি করেছি আমার জন্য।

“নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চয়ই তাঁর কাছেই আমরা প্রত্যাবর্তনকারী।”
সূরা আল-বাকারা, ১৫৬

"Emotional black hole" মানে হলো এমন এক মানসিক অবস্থা বা মানুষ, যিনি চারপাশের সবার ভালোবাসা, মনোযোগ, সহানুভূতি সব কিছু টে...
18/10/2025

"Emotional black hole" মানে হলো এমন এক মানসিক অবস্থা বা মানুষ, যিনি চারপাশের সবার ভালোবাসা, মনোযোগ, সহানুভূতি সব কিছু টেনে নেন, কিন্তু ফিরিয়ে কিছুই দেন না।

একটা ব্ল্যাক হোল যেমন আলো পর্যন্ত গিলে নেয়, তেমনি emotional black hole সবসময় অন্যের আবেগ, যত্ন, এবং শক্তি শোষণ করে নেয়।

এই মানুষগুলো সাধারণত সবসময় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে—
“আমি কষ্টে আছি”, “আমার জীবন খারাপ”, “আমাকে কেউ বোঝে না।”

তারা চায় সবাই তাদের ঘিরে রাখুক, তাদের সমস্যা শুনুক, তাদের জন্য কষ্ট পাক।

কিন্তু যখন অন্য কেউ কষ্টে থাকে তখন তারা অনুপস্থিত।

ফলাফল? পাশে থাকা মানুষগুলো মানসিকভাবে শূন্য হয়ে পড়ে, ক্লান্ত হয়, এবং ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়।

এটি cilinical depression বা anxiety disorder-এর মতো নয়, বরং একটি আচরণগত ও মানসিক ধরণ, যা সম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে।

অফুরন্ত মানসিক চাহিদা: তাদের মনোযোগ ও সান্ত্বনার চাহিদা কখনোই মেটে না। আপনি যতই দিন না কেন, তারা আবারও চাইবে।

নেতিবাচকতার কেন্দ্রবিন্দু: তাদের কথোপকথন, চিন্তাভাবনা এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রায় সবসময়ই সমস্যা, অভিযোগ, হতাশা ও দুঃখকেই কেন্দ্র করে ঘোরে।

শক্তিশোষণকারী: তাদের সাথে সময় কাটানোর পর আপনি নিজেকে emotionally drained (মানসিকভাবে খালি) এবং ক্লান্ত বোধ করবেন।

নিজের জন্য দায়িত্ববোধের অভাব: তারা নিজের খারাপ Feelings বা জীবনের সমস্যার জন্য প্রায়শই অন্যদের দায়ী করে।

অত্যন্ত কম self-esteem: নিজের প্রতি অগভীর বিশ্বাস ও মূল্যবোধের অভাব।

নিজেকে শনাক্ত করার সংকট: তারা বিশ্বাস করে যে তাদের মূল্য শুধুই তাদের সমস্যার মধ্যেই নিহিত।

(Example’s)
উদাহরণ ১: কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী

রিনা Apnar একজন সহকর্মী। যেকোনো আলোচনায় সে তার কাজের চাপ, বসের অন্যায় আচরণ, সহকর্মীদের বিশ্বাসঘাতকতার গল্পই শোনায়। আপনি তাকে কোনো ভালো খবর দিলে, সেটা থেকেও সে কোনো না কোনো নেতিবাচক দিক বের করে আনে। লাঞ্চের সময় তার সাথে বসলে আপনি নিজের সব Energy হারিয়ে ফেলেন এবং কাজে মনোযোগ দিতে কষ্ট হয়।

উদাহরণ ২: পারিবারিক সম্পর্ক

আপনার চাচাতো ভাই সজীব প্রায়ই ফোন করে তার জীবনের নিয়ে কথা বলতে। আপনি তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন, উৎসাহ দেন। কিন্তু পরের সপ্তাহে আবার সে একই সমস্যা নিয়ে ফোন করে, আপনার দেওয়া কোনো পরামর্শই সে কাজে লাগায়নি। আপনার মনে হয় আপনি একটি গর্তে কথা বলছেন, যেখান থেকে কোনো শব্দ ফিরে আসে না। আপনার নিজের ভালোলাগা বা সমস্যা share করার কোনো সুযোগই হয় না।

উদাহরণ ৩: বন্ধুত্ব

আপনার বন্ধু তানিয়া Relationship-এ সমস্যায় আছে। আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার কথা শুনে সান্ত্বনা দেন। কিন্তু যখনই আপনি আপনার জীবনের একটি ছোট সমস্যার কথা বলতে চান, সে ঘুরিয়ে instantly আবার নিজের সমস্যায় ফিরে যায়। আপনি বুঝতে পারেন, এই বন্ধুত্বটি একটি One-way street; শুধুই তাকে শোনা, আপনার বলার কেউ নেই।

Emotional black hole = এমন মানুষ বা অবস্থা, যা শুধু নেয়, কিন্তু কিছুই দেয় না—ফলে অন্যের মানসিক শক্তি শুষে নেয়।

Hibat Allah

জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভেরেন: ঘৃণা থেকে হিদায়াতের পথে🌿🌿🌹জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভেরেন (Joram Jaron van Klaveren) একজন ডাচ (নেদারল্য...
05/10/2025

জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভেরেন: ঘৃণা থেকে হিদায়াতের পথে🌿🌿🌹

জোরাম ভ্যান ক্ল্যাভেরেন (Joram Jaron van Klaveren) একজন ডাচ (নেদারল্যান্ডস) রাজনীতিবিদ, লেখক এবং প্রাক্তন ইসলামবিদ্বেষী। জন্ম ২৩ জানুয়ারি ১৯৭৯ সালে, আমস্টারডামে। তিনি ডাচ সংসদের সদস্য ছিলেন এবং একসময় গির্ট উইল্ডারসের নেতৃত্বাধীন কুখ্যাত ইসলামবিরোধী দল Party for Freedom (PVV)-এর প্রভাবশালী নেতা ছিলেন।

তার রাজনীতিক জীবনের বেশিরভাগ সময় ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা ও বিরূপ প্রচারণা চালিয়েছেন। একসময় তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে একটি বই লেখার কাজও শুরু করেন যার উদ্দেশ্য ছিল ইসলামকে “ভুল ধর্ম” হিসেবে প্রমাণ করা।

কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।

যখন তিনি গভীরভাবে ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে শুরু করেন, তখন তিনি দেখেন যে ধর্মকে তিনি এতদিন ভুল ভাবতেন, সেটিই আসলে সত্য ও যুক্তিসঙ্গত। কুরআন ও রাসূল মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবন অধ্যয়ন করতে গিয়ে তার অন্তর পাল্টে যায়। অবশেষে, ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন—

“আমি যখন ইসলামের বিরুদ্ধে বই লিখতে বসেছিলাম, তখনই বুঝতে পারি আমি ইসলামের পক্ষে লিখছি।”

পরবর্তীতে তিনি সেই বইটির নাম দেন “Apostate” (ডাচ: Afvallige), যেখানে তিনি নিজের পরিবর্তনের গল্প বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বইটি প্রকাশের পর পুরো ইউরোপে আলোড়ন তোলে।

জোরাম বর্তমানে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা প্রচারে সক্রিয়। তিনি ইসলামি চিন্তাবিদদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ইউরোপে ইসলামের সঠিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

সংক্ষিপ্ত তথ্য:
• পূর্ণ নাম: জোরাম জ্যারন ভ্যান ক্ল্যাভেরেন
• জন্ম: ২৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ – আমস্টারডাম, নেদারল্যান্ডস
• জাতীয়তা: ডাচ
• পেশা: রাজনীতিবিদ, লেখক, বক্তা
• পূর্বের দল: Party for Freedom (PVV)
• বর্তমান পরিচয়: ইসলাম গ্রহণকারী ও ইসলাম প্রচারক
• বই: Apostate (Afvallige)

তার জীবন আমাদের শেখায়:
মানুষ যতই ইসলাম থেকে দূরে থাকুক না কেন, সত্য যখন হৃদয়ে পৌঁছায়—অন্ধকার দূর হয়ে যায়। যেমন আল্লাহ বলেন,

“যাকে আল্লাহ হিদায়াত দেন, তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না।”
(সূরা আয-যুমার ৩৯:৩৭)

04/10/2025
Stockholm Syndrome: অপহরণ অপরাধ এবং অপহরনকারী যখন এক সরল রেখায় দাড়িয়ে-১৯৭৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়...
04/10/2025

Stockholm Syndrome: অপহরণ অপরাধ এবং অপহরনকারী যখন এক সরল রেখায় দাড়িয়ে-

১৯৭৩ সালে সুইডেনের স্টকহোমে একটি ব্যাংকে ডাকাতি হয়। ছয় দিন চারজন কর্মী বন্দি থাকে, আর আশ্চর্যের বিষয় এই বন্দিরাই পরে অপহরণকারীর পক্ষ নেয়! পুলিশ পর্যন্ত অবাক হয়ে যায়। এখান থেকেই জন্ম নেয় মনোবিজ্ঞানের এক অদ্ভুত শব্দ “Stockholm Syndrome”।

এর মানে হলো যখন কেউ দীর্ঘসময় ধরে ভয়, চাপ বা নির্ভরতার মধ্যে বন্দি থাকে, তখন সে নিজের অপহরণকারীর প্রতিই সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। কেউ কেউ তো তাদেরকে “ভালো” মানুষ হিসেবেও দেখতে শুরু করে। একে আগে মনোবিজ্ঞানীরা বলতেন “Capture Bonding Syndrome”।

এই নামটি জনপ্রিয় হয় ঠিক ৫২ বছর আগে, ১৯৭৩ সালে। ধারণা করা হয়, ১৯৭৪ সালের দিকেই শব্দটি অভিধানে যুক্ত হয়।

কিন্তু আসলে এই প্রবণতা নতুন না।
১৯৩৩ সালে আমেরিকার Mary McElroy নামে এক তরুণী অপহৃত হয়েছিলেন চারজনের হাতে। তার ধনী বাবা ৩০,০০০ ডলার মুক্তিপণ দিয়ে মেয়েকে ছাড়ান। অপহরণকারীরা ধরা পড়ে, কিন্তু মেরি তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য না দিয়ে বরং তাদের পক্ষে কথা বলেন। এমনকি যাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, তার জন্য মেরি ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
পরে ১৯৪০ সালে মেরি আত্মহত্যা করেন। বলা হয়, তার নোটে তিনি লিখেছিলেন—
“যারা আমাকে অপহরণ করেছিল, তারা ছাড়া সবাই আমাকে বোকা ভাবতো। শুধু ওরা আমাকে মানুষ হিসেবে সম্মান করতো তাই আমি তাদের ভালোবাসি।”

এই দুই ঘটনাই মনোবিজ্ঞানের চোখে দেখিয়েছে মানুষ কখনও কখনও বিপদের মুখে নিজের শত্রুর সঙ্গেই মানসিক বন্ধন গড়ে তোলে।
একই সঙ্গে ভয়, নির্ভরতা আর আশার এক অদ্ভুত মিশেল যা মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, কে আসল শত্রু আর কে বন্ধু।

মূল কথা:
Stockholm Syndrome কোনো রোগ না এটা একধরনের মানসিক প্রতিক্রিয়া। যেখানে বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছাই বন্দিকে তার দমনকারীর প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলে।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম — আকাশের বাঙালি ঈগলযে মানুষ নিজের জীবন বাজি রেখে তিনটি দেশের আকাশ রক্ষা করেছে, অথচ নিজেকে কখন...
03/10/2025

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম — আকাশের বাঙালি ঈগল

যে মানুষ নিজের জীবন বাজি রেখে তিনটি দেশের আকাশ রক্ষা করেছে, অথচ নিজেকে কখনো বীর মনে করেনি তিনি ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম (Saiful Azam)।
বাংলাদেশের এই কিংবদন্তি পাইলট শুধু আমাদের নয়, গোটা মুসলিম বিশ্বের গর্ব। তিনি পাকিস্তান, জর্ডান ও ইরাক এই তিন দেশের পক্ষে যুদ্ধ করেছেন, এবং ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লিখেছেন এক অমর যোদ্ধা হিসেবে।

প্রারম্ভিক জীবন

সাইফুল আজম জন্মগ্রহণ করেন ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৪১ সালে, পাবনা জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল আকাশে ওড়া।
তিনি পাকিস্তান এয়ার ফোর্স একাডেমিতে ভর্তি হন ১৯৫৮ সালে এবং ১৯৬০ সালে অফিসার হিসেবে কমিশন পান।

পাকিস্তান এয়ার ফোর্সে বীরত্ব

১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে তিনি এক অনন্য কীর্তি গড়েন। তখন তিনি PAF-এর No. 17 Squadron-এ কর্মরত ছিলেন।
এই যুদ্ধে তিনি একটি ভারতীয় ফাইটার বিমান (Folland Gnat) গুলি চালিয়ে ধ্বংস করেন এবং এজন্য তাঁকে পাকিস্তান সরকার Sitara-e-Jurat (সিতারা-এ-জুরাত) পদকে ভূষিত করে।
এই পদক পাকিস্তানে বীরত্বের অন্যতম সেরা স্বীকৃতি।

আরব দুনিয়ায় ঈগল পাইলট

১৯৬৬ সালে তাঁকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয় প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টা হিসেবে।
১৯৬৭ সালের Six-Day War চলাকালে তিনি জর্ডান ও ইরাক বিমানবাহিনী–এর হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেন।
তাঁর হাতে চারটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় যা কোনো মুসলিম পাইলটের পক্ষে এক রেকর্ডস্বরূপ অর্জন।

এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে জর্ডান ও ইরাক দুই দেশই সন্মাননা ও পদকে ভূষিত করে।
তাঁর নাম সেই সময় আরব পত্রিকায় ছাপা হয় “The Flying Tiger from the East” নামে।

বাংলাদেশের আকাশে ফিরে আসা

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে তিনি ফিরে আসেন মাতৃভূমিতে।
নতুন স্বাধীন দেশে তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে (BAF)।
পরে তিনি দায়িত্ব পালন করেন ফ্লাইট অপারেশন, সেফটি ও ঢাকা এয়ার বেস কমান্ডে।
তিনি বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও ছিলেন একসময়।

রাজনৈতিক জীবন

অবসরের পর তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।
১৯৯১ সালে পাবনা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দেশের জন্য তাঁর কাজ ছিল নিঃশব্দ, কিন্তু গভীর প্রভাবশালী।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের Air Force Association তাঁকে “Living Eagle” উপাধি দেয় যা ইতিহাসে খুব কম পাইলটই পেয়েছেন।
বিশ্বে এমন পাইলট খুব বিরল যিনি একাধিক দেশের হয়ে যুদ্ধ করে একাধিক পদক অর্জন করেছেন।

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৪ জুন ২০২০ সালে, ৭৮ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন।
তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় বীরের মর্যাদা ও সামরিক সম্মানসহ দাফন করা হয়।
তিনি রেখে গেছেন এক উত্তরাধিকার —

“দেশপ্রেম মানে শুধু নিজের দেশের পতাকা নয়, সত্যের ও ন্যায়ের পতাকা রক্ষা করা।”

মতিউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক

অনেকেই বলেন, তিনি ছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রশিক্ষক।
যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত নথি পাওয়া যায়নি, তবুও দুজনই একই সময় পাকিস্তান এয়ার ফোর্সে কর্মরত ছিলেন এবং একই ঘরানার সাহস ও আদর্শ ভাগ করে নিয়েছিলেন।
দুজনই সেই সময়ের পূর্ব পাকিস্তানের দুই উজ্জ্বল তারকা একজন শহীদ, আরেকজন কিংবদন্তি।

গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম ছিলেন এমন এক মানুষ, যিনি আকাশে উড়লেও পা রাখতেন মাটিতে।
তিনি বাঙালি জাতির সেই স্মারক, যিনি প্রমাণ করেছেন দেশপ্রেমের কোনো সীমানা নেই।
তার আকাশ আজও আমাদের মাথার উপর জ্বলজ্বল করছে, যেমন করে জ্বলজ্বল করে তাঁর নাম—
“সাইফুল আজম, The Eagle of Three Nations.”

“Pale Blue Dot — এক বিন্দু আলোর অহংকার”১৯৯০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, মহাকাশযান Voyager 1 পৃথিবী থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন কিলোম...
01/10/2025

“Pale Blue Dot — এক বিন্দু আলোর অহংকার”

১৯৯০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, মহাকাশযান Voyager 1 পৃথিবী থেকে প্রায় ৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। নাসার বিজ্ঞানী কার্ল সেগান অনুরোধ করেছিলেন, “একবার ঘুরে পৃথিবীর দিকে তাকাও।”
যখন মহাকাশযান ঘুরে সেই দিকের ছবি তোলে ছবিটাতে দেখা গেল একটা ক্ষীণ নীল বিন্দু, ধূলিকণার মতো কিছু।
সেই বিন্দুই আমাদের পৃথিবী।

এই ক্ষুদ্র বিন্দুর ভেতরেই আমাদের সব
ভালোবাসা, যুদ্ধ, ইতিহাস, রাজনীতি, ধর্ম, সাম্রাজ্য, বিজ্ঞান, কবিতা, অহংকার, ক্ষমতা, সব।
এখানেই মানুষ ভালোবাসে, ঘৃণা করে, সন্তান জন্ম দেয়, মরেও যায়।
এখানেই রাজারা রাজত্ব করে, আর সাধারণ মানুষ প্রার্থনায় ডুবে থাকে।
সবটাই ঘটে এক বিন্দুর ওপর— that pale blue dot.

এই ফ্যাকাশে নীল বিন্দুটি আমাদের সেই সমস্ত গর্বকে এক নিমেষে ধূলিসাৎ করে দেয়। কার্ল সাগান, যার দূরদর্শিতায় এই ছবিটি তোলা সম্ভব হয়েছিল, তিনি এ প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন, তা আজও মানবতার জন্য সবচেয়ে গভীর ও মর্মস্পর্শী বক্তব্য:

"ওই বিন্দুর উপরই আছে আমাদের সবাই। ওই ক্ষুদ্র বিন্দুটিতে যাদের তুমি ভালোবাস, যাদের তুমি চেন, যাদের নাম কখনো শোন নি, প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি রাজা-প্রজা, প্রতিটি প্রেমিক যুগল, প্রতিটি মা-বাবা, প্রতিটি আশাবাদী শিশু, প্রতিটি নৈতিকতা শিক্ষাদানকারী, প্রতিটি দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, প্রতিটি সুপারস্টার, প্রতিটি 'মহান' নেতা, প্রতিটি সাধু ও পাপী — মানবজাতির ইতিহাসের সবাইকেই তাদের এই বাসস্থানে অতিবাহিত করতে হয়েছে — এক ধূলিকণার উপর স্থির হয়ে ঝুলে থাকা এক দানাবিশেষ।"

মহাবিশ্বের প্রেক্ষাপট: আমরা কতটা নগন্য?

এই ছবিটি প্রমাণ করে যে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে, এই ব্রহ্মাণ্ডের কাছে কতটা নগন্য, কতটা তুচ্ছ।

ভাবো তো, আমরা কত গর্ব করি— কে বেশি ধনী, কে বেশি ক্ষমতাশালী, কার ধর্ম সঠিক, কার জাতি শ্রেষ্ঠ।
অথচ আমরা সবাই সেই এক বিন্দুর বাসিন্দা, যাকে মহাবিশ্বের অসীমতায় খুঁজে পাওয়াই প্রায় অসম্ভব।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন—

“তোমরা পৃথিবী ও আকাশের সৃষ্টির দিকে চিন্তা করো।”
(সূরা আলে ইমরান: ১৯১)

আরেক জায়গায় বলেন,

“নিশ্চয়ই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিতে এবং দিন-রাতের পরিবর্তনে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৬৪)

এই ছবিটাই প্রমাণ করে—
আমরা সত্যিই ক্ষুদ্র।
আমাদের অস্তিত্ব, যত বড়ই মনে হোক, স্রষ্টার অসীম সৃষ্টির তুলনায় এক বিন্দু ধূলিরও কম।
তবু এই ক্ষুদ্রত্বের মধ্যেই আল্লাহ আমাদের চিন্তার শক্তি দিয়েছেন, ভালো-মন্দ বেছে নেওয়ার বুদ্ধি দিয়েছেন— যেন আমরা বুঝি, গর্ব নয়, কৃতজ্ঞতাই আমাদের আসল পরিচয়।

তাই আসল শিক্ষা হলো:
পৃথিবীটাকে যত বড় মনে হোক, এই বিন্দুর বাইরে অসংখ্য জগৎ আছে, অসংখ্য রহস্য আছে, আর আছে সেই মহান স্রষ্টা— যার ইচ্ছাতেই এই নীল বিন্দু ভেসে আছে অন্ধকার মহাবিশ্বে।
আমরা সত্যিই তুচ্ছ,
কিন্তু তাঁর দয়া আমাদের অনন্ত বড় করে দেয়।

29/09/2025

সুন্দর কাজ ও আচরণ হচ্ছে নেকি। আর যে কাজ করতে গিয়ে অন্তরে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, কেউ তা দেখে ফেলা বা জেনে যাওয়াকে তোমরা অপছন্দ করো, সেটাই গুনাহ।

মুসলিম, তিরমিজী

Address

75/1/1 West Agargone Shere Bangla Nagar
Fulbaria
1207

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hibat Allah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hibat Allah:

Share