M/S M S B Enterprise

M/S M S B Enterprise ALL KINDS OF COTTON,YARN WASTE & RAGS SALE & PURCHASE - EXPORT & IMPORT

02/11/2024

ইসলামে বিশ্বাসঘাতকতা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হিসেবে বিবেচিত, এবং কোরআন ও হাদিসে এ ব্যাপারে কঠোর বার্তা রয়েছে।

১. আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের পছন্দ করেন না
কোরআনে বলা হয়েছে:

> “নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসঘাতকদের পছন্দ করেন না।”
— (সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০৭)

২. অন্যের সঙ্গে চুক্তিভঙ্গ নিষিদ্ধ
আল্লাহ বলেন:

> “তোমরা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি পালন কর এবং চুক্তি করার পর তা ভঙ্গ করো না, যখন তোমরা আল্লাহকে তোমাদের গ্যারান্টার হিসেবে নিয়েছ।”
— (সূরা নাহল, আয়াত ৯১
হাদিস:

১. মুনাফিকের লক্ষণ
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন:

> “মুনাফিকের তিনটি লক্ষণ রয়েছে: যখন সে কথা বলে, মিথ্যা বলে; যখন প্রতিশ্রুতি দেয়, তা ভঙ্গ করে; এবং যখন তাকে আমানত দেয়া হয়, সে তাতে বিশ্বাসঘাতকতা করে।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৩)

২. বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি
তিনি আরও বলেছেন:

> “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে বা বিশ্বাসঘাতকতা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।”
— (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০২)

ইসলামি শিক্ষা অনুসারে, বিশ্বাসঘাতকতা এমন একটি কাজ যা একদিকে মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং অন্যদিকে আল্লাহর অসন্তোষ অর্জন করে।

02/11/2024

"যে মানুষটি একদিন আমার উপর আস্থা রেখেছিল, তার হাতেই শেষমেশ নিজের আস্থা হারাতে হলো। বিশ্বাস ঘাতকদের মনে রাখা উচিত, বিশ্বাস ভাঙা শুধু সম্পর্ক নষ্ট করে না, নিজের আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ভালোবাসার মানুষ যখন পিঠে ছুরি মারে, তখন শুধু সেই বিশ্বাসই নয়, সাথে হারিয়ে যায় মানুষে মানুষে বন্ধন গড়ার ইচ্ছাটুকু।"
"শিক্ষা হলো, সবাইকে বিশ্বাস করো না। যারা কাছে এসে হাত বাড়ায়, তারা হাত ধরার জন্য আসে না, কখনো কখনো তোমার ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজে।"

01/09/2024
20/08/2024

‘গীবত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ পরনিন্দা করা, কুৎসা রটানো, পেছনে সমালোচনা করা, পরচর্চা করা, দোষারোপ করা, কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্যের সামনে তুলে ধরা। ইসলামি শরিয়তে গীবত হারাম ও কবিরা গুনাহ। হাদিসের বর্ণনা, ‘যারা অগ্র-পশ্চাতে অন্যের দোষ বলে বেড়ায়, তাদের জন্য রয়েছে ধ্বংসের দুঃসংবাদ।’ (মুসলিম)। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তোমরা অন্যের দোষ খুঁজে বেড়াবে না।’ (সুরা-৪৯ হুজুরাত, আয়াত: ১২)। ‘দুর্ভোগ তাদের জন্য, যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।…অবশ্যই তারা হুতামাতে (জাহান্নামে) নিক্ষিপ্ত হবে। তুমি কি জানো হুতামা কী? তা আল্লাহর প্রজ্বলিত অগ্নি, যা হৃদয়কে গ্রাস করবে। নিশ্চয় বেষ্টন করে রাখবে, দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।’
(সুরা-১০৪ হুমাজা, আয়াত: ১-৯)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কি জানো গিবত কাকে বলে?’ সাহাবিরা বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) ভালো জানেন।’ তিনি বলেন, ‘তোমার কোনো ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তা-ই গিবত।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি যে দোষের কথা বলি, সেটা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহলেও কি গিবত হবে?’ উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তুমি যে দোষের কথা বলো, তা যদি তোমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তবে তুমি অবশ্যই গিবত করলে আর তুমি যা বলছ, তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তুমি তার ওপর তুহমত ও বুহতান তথা মিথ্যা অপবাদ আরোপ করেছ।’ (মুসলিম)। ‘যদি কেউ কারও ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, ইসলামি দণ্ডবিধিতে তাকে ৮০ দোররা (চাবুক) দেওয়া হবে। এরা ফাসিক, পাপী, অপরাধী। শরিয়তের আদালতে এদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়।’

মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার ইত্যাদি থেকেও মারাত্মক ও নিকৃষ্টতম পাপ ও কবিরা গুনাহ হলো গীবত। অন্যান্য পাপ তওবা দ্বারা মাফ হয়; গীবতকারীর পাপ শুধু তওবা দ্বারা মাফ হয় না, যার গীবত করা হয়েছে সে ব্যক্তি যদি মাফ করে, তবেই আল্লাহর কাছে মাফ পাওয়া যেতে পারে গীবত বা পরনিন্দা ইসলামি শরিয়তে সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নিষিদ্ধ। গীবত করা ও গিবত শোনা সমান অপরাধ। অনেকেই পরনিন্দাকে পাপ বা নিষিদ্ধ বলে মনেই করেন না। মদ্যপান, চুরি, ডাকাতি, ব্যভিচার ইত্যাদি থেকেও মারাত্মক ও নিকৃষ্টতম পাপ ও কবিরা গুনাহ হলো গিবত। অন্যান্য পাপ তওবা দ্বারা মাফ হয়; গীবতকারীর পাপ শুধু তওবা দ্বারা মাফ হয় না, যার গীবত করা হয়েছে, সে ব্যক্তি যদি মাফ করে, তবেই আল্লাহর কাছে মাফ পাওয়া যেতে পারে। একটি কবিরা গুনাহ কাউকে জাহান্নামে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

যখন কেউ আপনার সঙ্গে বসে অন্যের গীবত করে, তখন তাকে থামতে বলুন, আল্লাহর হুকুমের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবধান করুন। আর তাতেও যদি কাজ না হয়, তবে সেখান থেকে সরে আসুন। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (বুখারি ও মুসলিম)।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যখন আমাকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন আমাকে তামার নখবিশিষ্ট একদল লোকের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো। তারা তাদের নখগুলো দিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডলে ও বক্ষদেশে আঘাত করে ক্ষতবিক্ষত করছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাইল! এরা কারা? জিবরাইল (আ.) বললেন, এরা দুনিয়াতে মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং তাদের মানসম্মান নষ্ট করত। অর্থাৎ তারা মানুষের গিবত ও চোগলখোরি করত।”
(আবু দাউদ)।

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে করিম (সা.) বলেছেন, দুনিয়াতে যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে, অর্থাৎ গিবত করবে, কিয়ামতের দিন গীবতকারী পচা মাংস ভক্ষণ করতে বাধ্য করা হবে। অতঃপর সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও চিৎকার করতে করতে তা ভক্ষণ করবে।
(বুখারি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! গিবত কি জেনার চেয়েও মারাত্মক?’ জবাবে তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ। কারণ, কোনো ব্যক্তি জেনার পর তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন। কিন্তু গিবতকারীকে যার গিবত করা হয়েছে, তিনি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন না।’ (মুসলিম)। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, গিবতের কাফফারা হলো তুমি যার গিবত করেছ, তার জন্য মাগফিরাতের দোয়া করবে। তুমি এভাবে বলবে, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার ও তার গুনাহ মাফ করে দাও।’
(বায়হাকি)।

সংশোধনের জন্য বলতে চাইলে যার বিষয় শুধু তাকেই বলা যাবে, অন্যকে নয়। সমালোচনাকারীকে বিচারের দিনে নিজের নেক আমল দিয়ে এর বিনিময় পরিশোধ করতে হবে। যার সমালোচনা করেছে, তার গুনাহ নিয়ে সমালোচনাকারীকে জাহান্নামে যেতে হবে।

হে আল্লাহ আমাদের সকলকে উপরোক্ত আলোচনা প্রতি আমল করার তাওফিক দান করুন, আমিন।

"অপবাদ হারাম"============অপবাদ দুই প্রকার। যথাঃ এক ধরণের অপবাদ হলো, কোন ব্যক্তি দোষী নয় এটা জেনেও তাকে কোন কাজের জন্য দো...
20/08/2024

"অপবাদ হারাম"
============
অপবাদ দুই প্রকার। যথাঃ
এক ধরণের অপবাদ হলো, কোন ব্যক্তি দোষী নয় এটা জেনেও তাকে কোন কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা অথবা নিজে অন্যায় করে তার দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে সে বিষয়ে কুৎসা রটনা করা।
আরেক ধরণের অপবাদ হলো, শুনে কিংবা অজ্ঞতা ও সন্দেহের বশে কাউকে অহেতুক কোন দোষের জন্য দায়ী করে কুৎসা রটনা করা ও উপহাস করা। এ বিষয়ে সূরা হুজুরাত; আয়াত: ৪৯:৬, ১১-১২-তে মহান আল্লাহ সতর্ক করেছেন।
এক কথায় অপবাদ হারাম। অথচ আমরা এটিতে বেশী অভ্যস্ত।
********************************************
প্রশ্ন (২৯/৩০৯): কারো উপর মিথ্যা অপবাদ লাগিয়ে প্রচার করা কিরূপ পাপের অন্তর্ভুক্ত?
============================
উত্তর:
মিথ্যা অপবাদ হ’ল কারো ব্যাপারে অন্যের নিকটে এমন কথা বলা যা তার মাঝে নেই [মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৮]।
কারো উপর মিথ্যা অপবাদ লাগিয়ে প্রচার করা কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
আর মিথ্যা অপবাদকারীর শাস্তি হচ্ছে ৮০ বেত্রাঘাত [নূর ২৪/৪-৫]।
ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন:
এ ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যে, সতীসাধ্বী নারীর উপর অপবাদ দেওয়ার শাস্তি পুরুষের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে [ফৎহুল বারী ১২/১৮১]। উল্লেখ্য, শরী‘আত নির্ধারিত হদ্দ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের, সাধারণভাবে অন্যদের নয়।
***************
দারুল ইফতা।
হাদীছ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।
***************************************************
নীচের আলোচনাটি সংগৃহীতঃ
======================
মানব জীবনের একটি মারাত্মক ও নিন্দনীয় বদস্বভাব হচ্ছে মিথ্যা দোষারোপ করা, ইহকাল ও পরকালে যার পরিণতি খুব কঠিন ও ভয়াবহ। মিথ্যা অপবাদ বা দোষারোপ মানব চরিত্রের অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও নিকৃষ্ট স্বভাব। জঘন্য এ মন্দ কাজের সঙ্গে মিথ্যাচার, পরচর্চা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ, ছিদ্রান্বেষণ, পরশ্রীকাতরতার মতো ঘৃণ্য তত্পরতা জড়িত। মিথ্যাচারে অভ্যস্ত মানুষই কেবল কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করতে পারে। মিথ্যা দোষারোপ মিথ্যাচারের চরম বহিঃপ্রকাশ। মিথ্যাচার জঘন্য ধরনের পাপাচার, এটি তাকওয়ার সম্পূর্ণ পরিপন্থী, কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ ও শরিয়ত-গর্হিত কাজ।
পবিত্র কোরআনে নিষেধ করা হয়েছে যে:
‘তোমরা মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাক।’
[সূরা আল-হজ, আয়াত-৩০]
কারও কাছ থেকে কোনো কথা শোনার পর তার সত্যাসত্য যাচাই-বাছাই না করে অন্যের কাছে বলে বেড়ানো মিথ্যার শামিল। কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে যা শোনে তা-ই বলে বেড়ায়। মিথ্যা দোষারোপ মানুষের দুশ্চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। এ ধরনের অপকর্মে অভ্যস্ত দুশ্চরিত্র ও রূঢ় স্বভাবের মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপের প্রবণতা এমন একটি সামাজিক ব্যাধি, যার কুফল মারাত্মক। মিথ্যা দোষারোপের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে কু-ধারণার সৃষ্টি হয়। ইসলামে কোনো দলিল প্রমাণ ছাড়া কারও প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম।
নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন:
‘মুমিনদের প্রতি তোমরা ভালো ধারণা পোষণ করবে।’
মানব জাতিকে অহেতুক অনুমান থেকে দূরে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছে:
‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাক। কারণ, অনুমান কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাপ।’
[সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত-১২]
এ সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:
‘তোমরা অন্যের প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা থেকে বেঁচে থাকবে। কেননা এরূপ কু-ধারণা জঘন্যতম মিথ্যা। আর কারও দোষ অনুসন্ধান করো না, কারও গোপনীয় বিষয় তালাশ করো না, একে অন্যকে ধোঁকা দেবে না, আর পরস্পর হিংসা করবে না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করবে না এবং পরস্পর বিরুদ্ধাচরণ করবে না বরং সবাই আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে থাকবে।’
[বুখারি ও মুসলিম]
মিথ্যা অপবাদের দ্বারা দোষারোপকৃত ব্যক্তির যথেষ্ট মানহানি করা হয়। ইসলামে এ জাতীয় গুনাহর কাজকে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া জঘন্য ধরনের পাপ। এ জাতীয় পাপের কোনো কাফ্ফারা হয় না।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
‘পাঁচটি পাপ এমন, যার কাফ্ফারা নেই। তন্মধ্যে তৃতীয়টি হলো কোনো মুমিনকে অপবাদ দেওয়া।’
[মুসনাদে আহমাদ]
মিথ্যা দোষারোপ বা অপবাদের কারণে সমাজ জীবনে মানুষের সম্মানহানি ঘটে। তাই কারও মানহানি করা থেকে বিরত থাকার জন্য মুসলমানদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন:
‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে সম্মানহানি করা থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেন।’
[আহমাদ, তাবারানী]
পক্ষান্তরে কেউ অন্যায়ভাবে তার মুসলমান ভাইয়ের মান-ইজ্জত খাটো করলে সম্মান বিনষ্টকারীকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন।
এ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন:
‘কোনো মুসলমান অপর কোনো মুসলমানকে যদি এমন স্থানে লাঞ্ছিত করে যেখানে তার মানহানি ঘটে এবং সর্বদা খাটো করা হয়, আল্লাহ তাকে এমন স্থানে লাঞ্ছিত করবেন, যেখানে তার সাহায্য প্রাপ্তির আশা ছিল।’
[আবু দাউদ]
মিথ্যা দোষারোপ করার কারণ নিজেকে ভালো বা উপযুক্ত অথবা যোগ্য হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা, অবৈধভাবে সুযোগ-সুবিধা অর্জন, নিজের অবৈধ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, ব্যর্থতা বা অযোগ্যতা আড়াল করা, পরশ্রীকাতরতা ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ, অপরের মঙ্গল বা কল্যাণ মেনে না নেওয়ার মানসিকতা প্রভৃতি অন্যতম। মিথ্যা দোষারোপ খুবই মন্দ স্বভাব। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ মানব চরিত্রের জঘন্যতম কু-অভ্যাস।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
‘তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকবে। কেননা মিথ্যা পাপাচার পর্যন্ত পৌঁছে দেয় আর পাপাচার জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।’
[বুখারি ও মুসলিম]
মিথ্যা দোষারোপ করার ক্ষেত্রে দোষারোপকারীকে পরচর্চা ও পরনিন্দার আশ্রয় নিতে হয়। ইসলামে পরনিন্দা ও পরচর্চাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরনিন্দাকারীকে কঠোর দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:
‘দুর্ভোগ প্রত্যেকের যে পশ্চাতে ও সম্মুখে লোকের নিন্দা করে।’
[সূরা আল-হুমাযা, আয়াত-১]
পরনিন্দা ব্যভিচার থেকেও গুরুতর অপরাধ।
হাদিসে বলা হয়েছে:
‘গিবতকারী ব্যক্তিকে যে পর্যন্ত সে ব্যক্তি ক্ষমা না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তাকে মাফ করবেন না।’
[মিশকাত]
কারও বিপক্ষে মিথ্যা দোষারোপ করতে হিংসা-বিদ্বেষ মানুষকে প্ররোচিত করে। মানুষ সাধারণত পরশ্রীকাতর হয়ে এবং অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা দোষারোপের অপরাধে লিপ্ত হয়। মানব চরিত্রের ক্ষতিকর মন্দ স্বভাবের মধ্যে হিংসা-বিদ্বেষ জঘন্য ধরনের বদঅভ্যাস। নেতৃত্বের মোহ, সুযোগ-সুবিধা লাভের ক্ষেত্র তৈরি, অসত্ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা, নিজেকে জোরপূর্বক যোগ্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা প্রভৃতি খারাপ মানসিকতা মানুষকে হিংসা ও বিদ্বেষপরায়ণ হতে প্ররোচিত করে।
হিংসা ও বিদ্বেষপোষণকারীর অনিষ্ট থেকে পানাহ চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে:
‘আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে (পানাহ চাই), যখন সে হিংসা করে।’ [সূরা আল-ফালাক, আয়াত-৫]
ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে মিথ্যা দোষারোপের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে চরম দুরবস্থা দেখা দিয়েছে মানুষের স্ব স্ব কর্মস্থলে; যেখানে মিথ্যা দোষারোপের ব্যাপক প্রতিযোগিতা লক্ষণীয়। কর্মস্থলে বিশেষ করে চাকরিস্থলে দক্ষতা, সততা ও পারদর্শিতা প্রদর্শনের পরিবর্তে অনেকেই মিথ্যা দোষারোপের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অধস্তন বা ঊর্ধ্বতনদের সম্পর্কে মিথ্যা দোষারোপ করা চরম এক বদঅভ্যাসে পরিণত হয়েছে। শুধু চাকরিস্থল নয়, পরিবার ও সমাজ মারাত্মক এ দুষ্ট ব্যাধিতে আক্রান্ত।
হাদিস শরিফে মিথ্যা দোষারোপ করার জন্য কঠোর শাস্তির কথা বিধৃত হয়েছে:
‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনকে এমন দোষে দোষারোপ করবে যা থেকে সে মুক্ত, আল্লাহ তাকে ‘রাদগাতুল খাবাল’ নামক জাহান্নামের গর্তে বাসস্থান করে দেবেন, যতক্ষণ সে অপবাদ থেকে ফিরে না আসে।’ [আবু দাউদ]
মিথ্যা অপবাদের ফলে একদিকে দোষারোপকারীরা অবৈধভাবে নানা ধরনের ফায়দা লুটছে, অন্যদিকে যাকে মিথ্যা দোষারোপ করা হচ্ছে, তাকে দারুণভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এর দ্বারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি ঘটে, হিংসা-বিদ্বেষ বৃদ্ধি পায়, সামাজিক বন্ধনের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং পারস্পরিক ঐক্য ও সৌহার্দ্য-সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। মানব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় ক্ষেত্রে এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পারস্পরিক শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থানকে দুর্বল করে ফেলে। তাই ইসলামের শিক্ষার আলোকে প্রত্যেকেরই মিথ্যা অপবাদ ও দোষারোপের ন্যায় জঘন্য সামাজিক অনাচারমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সর্বাবস্থায় বিরত থাকা উচিত।
সৌজন্যে:
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়।

ইস্পিনিং মিলস্ লিমিটেড, টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড, এবং গার্মেন্টস এর সকল প্রকার বাতিল কৃত মালামাল ক্রয় বিক্রয় এবং এক্সপো...
16/08/2024

ইস্পিনিং মিলস্ লিমিটেড, টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড, এবং গার্মেন্টস এর সকল প্রকার বাতিল কৃত মালামাল ক্রয় বিক্রয় এবং এক্সপোর্ট & ইমপোর্ট করা হয়

Address

MASIMPUR, CO-OPERATIVE MARKET, MILLGATE, TONGI, GAZIPUR
Gazipur
1711

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when M/S M S B Enterprise posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share