13/06/2026
কর আইনজীবীদের দায়িত্ব এবং গুরুত্ব দুটোই কীভাবে বাড়লো ব্যবসায়ীদের রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে?
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৯ অনুযায়ী যেখানে ধারা ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮ এ উল্লিখিত ব্যবসা হতে আয় এবং ধারা ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ এ উল্লিখিত ব্যবসা হতে বিয়োজন যোগ্য খরচ এবং ধারা ৫৫ ও ৫৬ এ উল্লিখিত ব্যবসা হতে অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন প্রয়োগ ও সমন্বয় করিয়া একটি করযোগ্য আয় ও পরিশোধযোগ্য কর পরিগণনার বিবরণী অর্থাৎ Income and Tax Computation Sheet তৈরি করতে হবে যা রিটার্ন দাখিলের সময় অডিট রিপোর্টের সাথে দাখিল করিতে হবে এবং একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অথবা কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট অথবা ধারা ৩২৭ এ সংজ্ঞায়িত আয়কর আইনজীবী দ্বারা প্রস্তুতকৃত এবং প্রত্যয়িত হতে হবে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্যতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কর আইনজীবীদের দায়িত্ব ও গুরুত্ব দুটোই বৃদ্ধি পেয়েছে, কেননা এরা এখন শুধু রিটার্ন প্রস্তুত করলেই চলবে না বরং এই বিবরণীতে প্রতিটি ধারার বিধান সঠিকভাবে প্রয়োগ করেছেন কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা থাকলে তাদের পেশাগত দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে হবে যা তাদের পেশাগত মর্যাদা বাড়ায় এবং ভাবমূর্তি উন্নত করে, আর ধারা ৭৩-এর দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির নিরীক্ষিত প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতার সাথে এই বিধান মিলে সমগ্র ব্যবসায়িক খাতে হিসাবরক্ষণের মান উন্নত ও কর ফাঁকি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে, যেখানে ধারা ৭৩-এ বলা হয়েছে যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হইতে আয় প্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি আয়বর্ষের রিটার্নের সহিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কর্তৃক প্রত্যয়িত আয় বিবরণী ও আর্থিক বিবরণীর অনুলিপি দাখিল করিবেন যা মূলত আর্থিক অবস্থান সম্পর্কিত এবং ধারা ১৬৯-এর বিবরণী মূলত আয় ও কর পরিগণনা সম্পর্কিত, দুটি বিবরণী পরস্পর পরিপূরক এবং একসাথে দাখিল করলে আয়কর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীর সমগ্র আর্থিক অবস্থা ও কর দায় সম্পর্কে একটি সুসংগত চিত্র পান, ফলে কর নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট, দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত হয় এবং করদাতা ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের জন্য সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়, পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য যদিও এটি বাড়তি বোঝা হতে পারে কেননা তাদের অবশ্যই একজন যোগ্য পেশাজীবীর সেবা নিতে হবে যা অতিরিক্ত খরচের কারণ, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের কর বিতর্ক এড়াতে সহায়ক হবে এবং তারা আরও সচেতন হয়ে হিসাব রাখতে শুরু করবেন যা তাদের ব্যবসার জন্যও উপকারী, আর বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এই বিবরণী দাখিল তেমন কঠিন নয় কেননা তাদের ইতিমধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থাকে এবং অভ্যন্তরীণ হিসাব বিভাগ থাকে কিন্তু তাদের অবশ্যই এই বিবরণীতে আয়কর আইনের প্রতিটি ধারা অনুযায়ী বিশেষ বিশ্লেষণ করতে হবে যা তাদের অভ্যন্তরীণ হিসাব বিভাগের জন্য অতিরিক্ত কাজের কারণ হতে পারে এবং তাদের অবশ্যই আয়কর বিভাগ ও হিসাব বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যা তাদের কর্পোরেট গভর্নেন্স ও স্বচ্ছতার ভাবমূর্তি উন্নত করবে এবং বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ইতিবাচক হবে, সামগ্রিকভাবে এই বিধান সমগ্র কর ব্যবস্থা আরও ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর করে এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
উদাহরণ -
মেসার্স রহিম ট্রেডার্স লিমিটেড একটি পাইকারি ব্যবসা পরিচালনা করে যার ২০২৫-২৬ আয়বর্ষের মোট টার্নওভার ৫০ কোটি টাকা, এর মধ্যে পণ্য বিক্রয় থেকে আয় ৪৫ কোটি টাকা যা ধারা ৪৫ অনুযায়ী ব্যবসার মুনাফা এবং কমিশন থেকে আয় ৫ কোটি টাকা যা ধারা ৪৬ অনুযায়ী ব্যবসার আয় শ্রেণিভুক্ত, আবার ধারা ৪৭ অনুযায়ী স্টক ইন ট্রেডের মূল্যায়নে ২ কোটি টাকা বকেয়া আদায় এবং ১ কোটি টাকা বাদপড়া দাবি বিবেচনায় নিয়ে মোট ব্যবসার আয় দাঁড়ায় ৫০ কোটি টাকা, এখন ধারা ৪৯ অনুযায়ী কাঁচামাল ক্রয় খরচ ২০ কোটি টাকা, বেতন ও ভাতাদি ১০ কোটি টাকা, ভাড়া ৫ কোটি টাকা, বিমা প্রিমিয়াম ১ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন খরচ ২ কোটি টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৩ কোটি টাকা, যাতায়াত খরচ ১ কোটি টাকা সহ মোট সাধারণ বিয়োজন যোগ্য খরচ ৪২ কোটি টাকা, ধারা ৫০ অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে ব্যবসার স্থানে ব্যবহৃত যানবাহনের খরচ ১ কোটি টাকা এবং অতিথি আপ্যায়ন খরচ ৫০ লাখ টাকা যা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে বিয়োজন যোগ্য, ধারা ৫১ অনুযায়ী ব্যক্তিগত খরচ ২ কোটি টাকা এবং জরিমানা ৫০ লাখ টাকা বিয়োজন অযোগ্য, ধারা ৫২ অনুযায়ী মূলধন ব্যয় ৫ কোটি টাকা যা সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি করে তাই বিয়োজন অযোগ্য কিন্তু রাজস্ব ব্যয় ৩৮ কোটি টাকা বিয়োজন যোগ্য, ধারা ৫৩ অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ব্যয় হিসেবে ১০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ক্রয়ের বিশেষ প্রমাণাদি দাখিল করা হয়েছে, ধারা ৫৪ অনুযায়ী প্রতিটি ব্যয়ের যুক্তিসঙ্গত ভাউচার ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা হয়েছে, অতএব মোট বিয়োজন যোগ্য খরচ দাঁড়ায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, এখন ধারা ৫৫ অনুযায়ী নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দাতব্য অনুদান ১ কোটি টাকা যা মোট আয়ের ১০ শতাংশের মধ্যে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান ৫০ লাখ টাকা যা সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদত্ত, এবং ধারা ৫৬ অনুযায়ী গবেষণা ও উন্নয়ন খরচ ২ কোটি টাকা যা স্বীকৃত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ব্যয়িত, সুতরাং মোট অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন দাঁড়ায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা, এই সকল আয়, খরচ ও বিয়োজন প্রয়োগ ও সমন্বয় করিয়ে করযোগ্য আয় হলো ৫০ কোটি বিয়োগ ৪৩ কোটি ৫০ লাখ বিয়োগ ৩ কোটি ৫০ লাখ সমান ৩ কোটি টাকা, এবং পরিশোধযোগ্য কর হলো ৩ কোটির ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ সমান ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যা Income and Tax Computation Sheet-এ উপস্থাপন করে একজন আয়কর আইনজীবী দ্বারা প্রত্যয়িত করে রিটার্নের সাথে অডিট রিপোর্টসহ দাখিল করতে হবে, আর যদি এই প্রতিষ্ঠানটি একটি দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ চুক্তিও সম্পাদন করে যা ২০২৫ থেকে ২০২৭ পর্যন্ত চলবে, তাহলে ধারা ৭৩ অনুযায়ী আলাদা একটি নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীও দাখিল করতে হবে যেখানে সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি বৎসরের আয় স্বীকৃতি দিতে হবে, অর্থাৎ ধারা ১৬৯ ও ৭৩ দুটিই একসাথে প্রযোজ্য হবে এবং দুটি পৃথক বিবরণী দাখিল করতে হবে।
“ত্রুটি মানে দায়বদ্ধতা, সঠিকতা মানে বিশ্বাস - আইনজীবীর প্রত্যয়ন মূল্যবান”