17/02/2025
বসন্তের এই দিনে জীবনানন্দ দাশ জন্মেছিলেন, কিন্তু বসন্তের রং কখনো কবির হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারেনি। নামের মধ্যেই আছে জীবন আর আনন্দ কিন্তু পুরো জীবন কাটিয়ে দিলেন নিরানন্দ, দুঃখ, কষ্ট আর হতদরিদ্রের আঁধারে। ভুলতে পারেননি প্রথম প্রেম শোভনাকে। নিজে উচ্চবংশে জন্মালেও স্বপ্ন ছিল রূপসী বাংলার মতোই সাধারণ। পরে বিয়ে করলেন লাবণ্যকে, যে হয়তো ঘরমুখো ছিল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল তার আকাশছোঁয়া। তার জন্যই হয়তো জীবনান্দকে দূরে ঠেলে দিলেন। প্ৰেমে ব্যর্থতা, চাকরিবিহীন জীবন আর স্ত্রীর সাথে বন্ধনহীন সম্পর্কের মাঝেও জীবনানন্দ খুঁজে বেড়ালেন এমন একজন, যে তার মনের গভীরে পৌঁছাতে পারবে, অন্ধকারে আলো ছড়িয়ে দিবে। এই হাহাকার আর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে লিখলেন বনলতা সেন যার পাখির নীড়ের মতো চোখ ছিল। বুকের অসীম শূন্যতা নিয়েই নিড়ত্ব অর্থাৎ আশ্রয় খুঁজলেন কিন্তু তার বদলে পেলেন অবহেলা আর অপমান।
আর রবীন্দ্রনাথ? চারদিকে তার গুণগান, নোবেল পুরস্কারের জয়জয়কার। কবিগুরু আর সমাজের মানুষ তখন তাকে বুঝলো না, প্রশান্তির বদলে দিলো তীব্র অপমান—এতো বেদনার ভেতর দিয়ে তিনি পৃথিবীর দিকে তাকিয়েছিলেন বিপন্ন বিস্ময়ে আর সৃষ্টি করেছিলেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কবিতা। কবিগুরু যখন লাল গালিচায় বিশ্বভ্রমণে বের হলেন একই সময়ে আমাদের কবি মেসে ছারপোকার কামড় সহ্য করে, ক্ষুধার তাড়নায় চড়ুই পাখির ফেলে যাওয়া বিস্কুট খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে গল্প লিখে গেলেন। সস্তা বোর্ডিংয়ে দিনের পর দিন কুঁচো চিংড়ি খেয়ে থেকেছেন।
নিজের সফলতা দেখে যেতে না পারলেও মায়ের কথা জীবনানন্দ রেখেছেন—কুসুমকুমারী দাশ, যিনি বড় হওয়ার মানে বুঝিয়েছিলেন কথা নয়, কাজের মাধ্যমে। মনের মধ্যে বিষন্নতা আর সংসারের টানাটানির পরেও বাংলার মাটি আর হৃদয়ের সঙ্গে তার প্রেম ছিল অফুরন্ত। কখনো সুদর্শন, আবার কখনো লক্ষ্মীপেঁচা হয়ে এই বাংলায় ফিরে আসতে চেয়েছিলেন তিনি। আট বছর আগে নিজেকে নিয়েই লিখলেন আট বছর আগের এক দিনে:
"শোনা গেল লাসকাটা ঘরে
নিয়ে গেছে তারে;
কাল রাতে— ফাল্গুনের রাতের আঁধারে
যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ
মরিবার হ’লো তার সাধ;"
অবিশ্বাস্যভাবে, পৃথিবীতে ট্রাম দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া একমাত্র মানুষ জীবনানন্দই। এখন তিনি মনের মধ্যে অভিমান নিয়ে স্বেচ্ছায় প্রাণ দিলেন নাকি আসলেই দুর্ঘটনার শিকার সেই প্রহেলিকা থাক। আজ আমাদের বিষন্নতার কবির জন্ম দিন। বিনম্র শ্রদ্ধা আমার পছন্দের কবির প্রতি যিনি আমাকে বিষন্নতা আর নিহিলিজমের