02/06/2026
স্মার্টফোনের পর এবার আপনার গলার কম্পিউটার: মেটার নতুন 'AI পেন্ডেন্ট'!
একটি ছোট গোলাকার ডিভাইস, যা আপনার গলায় ঝুলে থাকবে। সামনে মেটার লোগো, পেছনে ক্যামেরা আর মাঝে একটি মাইক্রোফোন। আপনি সারাদিন যা বলবেন, যা শুনবেন সবকিছু এই ডিভাইসটি রেকর্ড করবে এবং AI-এর মাধ্যমে সেটিকে একটি 'সার্চেবল মেমোরি'তে রূপান্তর করবে। এটিই হলো মেটার পরবর্তী বড় বাজি: AI Pendant।
এটি কি সায়েন্স-ফিকশন?
না, এটি এখন বাস্তব। এই প্রযুক্তির পেছনে আছে 'Limitless' নামের একটি স্টার্টআপ, যা মেটা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কিনে নিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই স্টার্টআপটির পেছনে বিনিয়োগ করেছিলেন স্বয়ং ChatGPT-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি আন্দ্রেসেন হরোউইটজ (A16z)। এখন সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেটা তাদের নিজস্ব ভার্সন তৈরি করছে, যার টেস্টিং শুরু হবে ২০২৭ সালে।
মেটার এই সাহসের কারণ হলো তাদের AI চশমার (Ray-Ban Meta) অবিশ্বাস্য গ্রোথ।
> ২০২৩–২৪ (দুই বছর মিলিয়ে): বিক্রি হয়েছিল মাত্র ২০ লক্ষ।
> ২০২৫: এক বছরেই বিক্রি হয়েছে ৭০ লক্ষ!
> ২০২৬ লক্ষ্য: মেটা বছরজুড়ে মোট ২ কোটি ইউনিট উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছাতে চাইছে।
এটি এখন আর কোনো শখের জিনিস নয়, বরং স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে মূলধারায় চলে আসছে।
এই চমৎকার প্রযুক্তির সাথে আসছে বিশাল ঝুঁকি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মেটার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে একটি বড় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মেটার কর্মীরা AI ট্রেনিংয়ের নামে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ (এমনকি ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্যও) দেখছিলেন। পাশাপাশি UK-এর তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ICO) মেটার এই 'সবসময় রেকর্ড করা' এবং বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
মেটার পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির কৌশলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যেমন, তাদের নতুন AI Pendant কথোপকথন রেকর্ড করা, মিটিং সামারাইজ করা এবং একটি সার্চেবল মেমোরি তৈরির কাজ করবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে AI Glasses-এর ৪টি নতুন মডেল বাজারে আসার কথা রয়েছে। মেটা তাদের AI ফিচারের জন্য Meta One Subscription চালু করছে, যার মাসিক খরচ হবে ৭.৯৯(প্লাস) এবং ১৯.৯৯ (প্রিমিয়াম)। এছাড়া অফিসের কাজের জন্য তারা Wearables for Work নামে একটি বিশেষ সাবস্ক্রিপশন টায়ার নিয়ে আসছে।