যশোহরের জলছাপ - Joshohorer Jolchap

যশোহরের জলছাপ - Joshohorer Jolchap Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from যশোহরের জলছাপ - Joshohorer Jolchap, Archaeological service, Jessore.

সময়ের ধুলোয় ঢাকা প্রাচীন সভ্যতা আর জরাজীর্ণ ইতিহাসের বুক চিরে লুকিয়ে থাকা গল্প। বাংলাদেশের প্রথম জেলা 'যশোহর' থেকে শুরু করে গোটা বাংলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা প্রত্নতত্ত্ব, টেরাকোটা ও অমলিন ঐতিহ্যের জলছাপ।

চারপাশে শুধু পানি, আর সেই পানির ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল পাথরের স্তম্ভ! হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ নিশ্চিতভাবে ব...
07/07/2026

চারপাশে শুধু পানি, আর সেই পানির ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল পাথরের স্তম্ভ! হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি, কে নির্মাণ করেছিলেন এটি, আর কেনই বা নির্মাণ করা হয়েছিল।
নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার দিবর দিঘির মাঝখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দিবর স্তম্ভ বা দিব্যক জয়স্তম্ভ, বাংলাদেশের অন্যতম রহস্যময় ঐতিহাসিক নিদর্শন। চারপাশে শান্ত জলরাশি, আর তার মাঝখানে প্রায় ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি উঁচু অখণ্ড গ্রানাইট পাথরের এই স্তম্ভ আজও ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের কৌতূহলের কেন্দ্র।
ইতিহাস,
একাদশ শতকে বাংলার ইতিহাসে ঘটে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, “কৈবর্ত বিদ্রোহ”। পাল সাম্রাজ্যের দুর্বল শাসক দ্বিতীয় মহীপাল-এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন কৈবর্ত নেতা দিব্যক (দিব্য)। যুদ্ধে মহীপাল পরাজিত ও নিহত হলে দিব্যক বরেন্দ্র অঞ্চলের শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ধারণা করা হয়, তখনই এই স্তম্ভ নির্মিত হয়েছিল।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, পাল রাজাকে পরাজিত করে বিজয় অর্জনের স্মৃতি অম্লান রাখতে দিব্যক এই বিশাল জয়স্তম্ভ নির্মাণ করেছিলেন।
আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, তাঁর উত্তরসূরি রুদ্রক বা ভীম দিব্যকের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে এই স্তম্ভ নির্মাণ করেন।
আরও একটি মত বলছে, দিব্যকের রাজত্ব কালে পাল যুবরাজ রামপাল বরেন্দ্র উদ্ধারের চেষ্টা করে দিব্যক এর নিকট পরাজিত হন। দিব্যক তার এই সাফল্যের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে দিঘীর মাঝখানে এই স্তম্ভ নির্মাণ করেন।
স্তম্ভটির নির্মাণ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনটি ভিন্ন ঐতিহাসিক মত থাকলেও, এর কোনটিই এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। কারন, স্তম্ভটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। ফলে নির্মাতা বা নির্মাণকাল সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এই কারণেই দিবর স্তম্ভ আজও ইতিহাসের এক অমীমাংসিত রহস্য হয়ে আছে।
স্থাপত্য,
দিবর দিঘির মাঝখানে স্থাপিত এই স্তম্ভটি একটি অখণ্ড গ্রানাইট পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে অত্যন্ত বিরল। স্তম্ভটির মোট উচ্চতা প্রায় ৩১ ফুট ৮ ইঞ্চি। ব্যাস ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি। এর একটি অংশ পানির নিচে এবং আরও একটি অংশ মাটির গভীরে রয়েছে। উপরের অংশে রয়েছে খাঁজকাটা অলংকরণ, বৃত্তাকার বলয় এবং মুকুটের মতো শীর্ষভাগ, যা প্রাচীন ভাস্কর্যশিল্পের অসাধারণ নিদর্শন।
স্তম্ভটির কোণের সংখ্যা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। কেউ একে আট কোণবিশিষ্ট, আবার প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহাম তাঁর জরিপে এটিকে নয় কোণবিশিষ্ট বলে উল্লেখ করেছিলেন।
আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, এত বিশাল গ্রানাইট পাথর কীভাবে সেই সময়ে দিঘির মাঝখানে এনে স্থাপন করা হয়েছিল, তারও কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আজকের দিবর দিঘি,
আজ দিবর দিঘি শুধু একটি প্রত্নস্থল নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। দিঘির চারপাশে হাঁটার পথ, শানবাঁধানো ঘাট এবং নৌকায় করে স্তম্ভের কাছাকাছি যাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।
তবে, দিঘিতে মাছ চাষ, পানিদূষণ এবং যথাযথ সংরক্ষণের অভাব ভবিষ্যতে এই অমূল্য ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
হাজার বছরের ইতিহাস বুকে নিয়ে দিবর দিঘির মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এটি শুধু একটি পাথরের স্তম্ভ নয়, এটি বাঙালির শৌর্য, ইতিহাস এবং হারিয়ে যাওয়া এক রাজ্যের নীরব সাক্ষী।

— যশোহরের জলছাপ
#যশোহরেরজলছাপ #যশোহরের_জলছাপ #ইতিহাসেরসন্ধানে #লুকানোইতিহাস #পুরোনোদিনেরকথা #ইতিহাসেরসাক্ষী
#ইতিহাস #দিবরস্তম্ভ #নওগা.

01/07/2026

হাজার বছরের প্রাচীন মাটির তৈরি জলপ্রদীপ।
প্রথম দেখায় সাধারণ মাটির পাত্র মনে হলেও, এটি আসলে হাজার বছর আগের পাল যুগের একটি চমৎকার ঐতিহাসিক নিদর্শন।
এটি ঘর বা উপাসনালয় আলোকিত করা একটি চমৎকার মাটির জল প্রদীপ!
এই প্রদীপের মেকানিজমটা দারুণ। প্রদীপটির মাঝখানে যে খাড়া মাথা বা নলের মতো অংশটি দেখছেন, সেটির ভেতরটা সম্পূর্ণ ফাঁপা।এই মাথাটি দিয়ে প্রদীপের একদম ভেতরের ফাঁপা অংশে জল ঢুকানো হতো।
আর এই খাড়া মাথার চারপাশের যে গোল বাটির মতো ভাঙা অংশটি দেখা যাচ্ছে, সেখানে দেওয়া হতো তেল এবং সলতে বা পলতে রেখে আগুন জ্বালানো হতো।
ভেতরের জল ওপরের তেলকে একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা রাখত। এর ফলে তেল চট করে উড়ে যেত না বা ফুরিয়ে যেত না। এই কারণেই একে 'জল প্রদীপ' বলা হতো, যা খুব কম তেলে সারারাত ধরে স্থিরভাবে আলো দিতে পারত।

, এই অনন্য জল প্রদীপটি কিন্তু সাধারণ লাল মাটির নয়, এটি তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত দামী ও খাঁটি সাদা মাটি দিয়ে! কারণ সাধারণ মাটির চেয়ে সাদা মাটি অনেক বেশি শক্ত হয় এবং আগুনের তাপ সহ্য করতে পারে।

​আমাদের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এমন সব নিখুঁত ইতিহাসের গল্প নিয়মিত দেখতে এখনই লাইক ও ফলো দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।
​— যশোহরের জলছাপ
​ #যশোহরেরজলছাপ #যশোহরের_জলছাপ #ইতিহাসেরসন্ধানে #লুকানোইতিহাস #প্রাচীনপ্রদীপ #জলপ্রদীপ #মাটিরপ্রদীপ #পুরোনোদিনেরকথা #ইতিহাসেরসাক্ষী

30/06/2026

অর্ধ সহস্র বৎসর পুরানো এক চমৎকার নিদর্শন।
ইতিহাসের এক অমূল্য দলিল। প্রথম দেখায় এটি কেবল একটি প্রাচীন ইটের টুকরো মনে হলেও, এর গায়ে লেগে থাকা নিখুঁত কারুকার্য আমাদের এক সমৃদ্ধ অতীতের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এই টেরাকোটা ইটের ওপরে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পেঁচানো লতা-পাতা এবং ফুলের কুঁড়ির নকশা। প্রাচীন শিল্পকলার ভাষায় একে বলা হয় 'পত্রলতা' বা লতাপাতার অলংকরণ।
মাটিকে নরম থাকা অবস্থায় ছাঁচে বা হাত দিয়ে কেটে এই নকশা তৈরি করে তারপর আগুনে পুড়িয়ে শক্ত করা হতো।
এই ধরণের অলংকৃত ইটগুলো মূলত প্রাচীন কোনো রাজকীয় ভবন, দুর্গ বা ঐতিহাসিক উপাসনালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার কিংবা দেয়ালের কার্নিশ (Cornice) সাজানোর জন্য সারিবদ্ধভাবে প্যানেল হিসেবে বসানো হতো।
মাটির নিচের প্রতিটি স্তর যে আমাদের ইতিহাসের কতটা সমৃদ্ধ অধ্যায় বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে, এই একটি ইটের টুকরোই তার সবচেয়ে বড় জীবন্ত প্রমাণ।
​আমাদের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা এই হারিয়ে যাওয়া রূপালী ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায় নতুন করে চেনার এই পথচলায় আপনার অনুভূতি কি? কমেন্টে আমাদের জানান!
​ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্বের এমন অজানা ও চমৎকার তথ্য নিয়মিত পেতে এখনই লাইক ও ফলো দিয়ে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে।

​— যশোহরের জলছাপ

​ #যশোহরেরজলছাপ #যশোহরের_জলছাপ #প্রত্নতত্ত্ব #প্রত্ননিদর্শন #প্রাচীনইতিহাস #ইতিহাসেরসন্ধানে #লুকানোইতিহাস #অলংকৃতইট #টেরাকোটা #মৃৎশিল্প #প্রাচীনস্থাপত্য

29/06/2026

কালকে প্রাপ্ত আরেকটি চমৎকার নিদর্শন, টেরাকোটা ( Teracotta ) নকশাকৃত ইট।
প্রথম দেখায় এটিকে সাধারণ একটি নকশা মনে হলেও, একটু ভালো করে খেয়াল করলে বোঝা যায়—এটি আসলে একটি বিশাল আস্ত শিল্পকর্মের ছোট্ট একটা অংশ মাত্র। প্রাচীন যুগে অথবা মধ্যযুগে যখন একটি বড় মন্দির, প্রাসাদ অথবা কোন স্থাপত্যের প্রবেশদ্বার অথবা দেয়াল সাজানোর জন্য পরিকল্পনা করা হতো তখন পুরো নকশাটাকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করে নেয়া হতো। তারপর প্রতিটি ইটের গায়ে সেই নকশার একেকটি অংশ খোদাই করা হতো। ঠিক যেন আজকের দিনের জিগস পাজল (Jigsaw Puzzle) এর মত।
আবার এটি হতে পারত মন্দিরের গর্ভগৃহে থাকা কোনো দেব-দেবীর মূর্তির পেছনের চালচিত্র অথবা দালানের ছাদের নিচের কার্নিশ, কিংবা পুরো দেয়াল জুড়ে চলে যাওয়া কোনো সুদীর্ঘ নকশার বর্ডার! এর আশেপাশে থাকা বাকি ইটগুলো জুড়তে পারলে আজ আমাদের সামনে ভেসে উঠত এক অপূর্ব প্রাচীন দেওয়ালচিত্র।

আমাদের এই রোমাঞ্চকর প্রত্ন-অভিযানের প্রতিটি এক্সক্লুসিভ আপডেট পেতে এবং প্রাচীন বাংলার আসল ইতিহাস জানতে এখনই লাইক ও ফলো দিয়ে যুক্ত থাকুন 'যশোহরের জলছাপ'-এর সাথে।
— যশোহরের জলছাপ

#যশোহরের_জলছাপ
#প্রত্নতত্ত্ব
#প্রত্ননিদর্শন
#প্রাচীনইতিহাস
#ইতিহাসেরসন্ধানে
#লুকানোইতিহাস








25/06/2026

শত শত বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে থেকেও এই পোড়ামাটির কারুকাজটা কীভাবে এত নিখুঁত রয়ে গেল, ভাবলেই অবাক হতে হয়!
এটি সরাসরি শত শত বছর আগের কোনো প্রাচীন মন্দির বা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনার দেয়াল সাজানোর একটি 'টেরাকোটা ফলক'-এর ভাঙা টুকরো।
এর গায়ের কারুকাজ আর নিখুঁত শিল্পশৈলী খেয়াল করুন—
পুরো ফলকটি আকারে বেশ বড় ছিল, যার ঠিক মাঝখানের নকশাটুকু আজকে আমরা অক্ষত অবস্থায় পেয়েছি। টুকরোটির কেন্দ্রে একটি অর্ধবৃত্তাকার খিলান বা তোরণের (Arch) নকশা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আর সেই খিলানের ভেতরে অত্যন্ত নিপুণভাবে খোদাই করা আছে তিনটি পাপড়িযুক্ত একটি বিশেষ ফুল বা ধর্মীয় প্রতীক, যাকে প্রত্নতত্ত্বের ভাষায় 'ত্রিরত্ন মোটিফ'-এর একটি রূপ বলা চলে। খিলানের বাইরের দুই পাশ ঘেঁষে লতা-পাতা ও ছোট ছোট পাপড়ির মালা ঢেউয়ের মতো ওপরের দিকে উঠে গেছে।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলায় পাথর সহজলভ্য ছিল না। তাই স্থপতিরা ইটের তৈরি বড় বড় মন্দির বা প্রাসাদের বাইরের দেয়ালকে দৃষ্টিনন্দন করতে এই রকম পোড়ামাটির ফলক সারিবদ্ধভাবে গেঁথে গেঁথে পুরো দেয়ালে চমৎকার সব দৃশ্য ফুটিয়ে তুলতেন।
শত শত বছর মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার পরও এই ফলকটির ভেতরের সূক্ষ্ম রেখা আর মাটির লালচে আভা আজও কতটা স্পষ্ট! এই একটি মাত্র টুকরোই প্রমাণ করে দেয়—আমাদের এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী কতটা সমৃদ্ধ আর উন্নত ছিল।
প্রাচীন বাংলার মাটির নিচে হারিয়ে যাওয়া এমন সব চমৎকার টুকরো গল্প আর প্রত্ন-অভিযান দেখতে চোখ রাখুন আমাদের পাতায়।

— যশোহরের জলছাপ
#যশোহরের_জলছাপ #প্রত্নতত্ত্ব #প্রাচীন_ইতিহাস #টেরাকোটা #পোড়ামাটির_ফলক #মাটির_নকশা #প্রাচীন_বাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের হাটপাড়ায় টাঙ্গন নদীর বাঁকে জঙ্গলাকীর্ণ জায়গায় যে উঁচু ডিবি দেখা যায় সেটাই রাজভিটা নামে মানুষের নি...
17/06/2026

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের হাটপাড়ায় টাঙ্গন নদীর বাঁকে জঙ্গলাকীর্ণ জায়গায় যে উঁচু ডিবি দেখা যায় সেটাই রাজভিটা নামে মানুষের নিকট পরিচিত।

এখানে শেরশাহ আমলের মুদ্রা ছাড়াও এক হাজার বছর আগের একটি শিলালিপি পাওয়া গেছে যা রাজা মহীপালের আমলের।

শিলালিপিতে একটি উট, একটি ঘোড়া ও একটি শুকরের প্রতিকৃতি আছে। ঘোড়া আর শুকর সঙ্গমরত আর উটটি দেখছে বা অপেক্ষা করছে। এই ধরণের শীলালিপি অদ্ভুত ও অভূতপূর্ব!

এই শীলালিপিটি বর্তমানে স্বচক্ষে দেখতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মিউজিয়াম রাজশাহীর বরেন্দ্র মিউজিয়ামে! ❤️

বাংলার ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী: ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ 🕌দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার জনপদকে যিনি ইসলামের আলোয় আলোকিত করেছিলেন,...
16/06/2026

বাংলার ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী: ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ 🕌

দক্ষিণ-পশ্চিম বাংলার জনপদকে যিনি ইসলামের আলোয় আলোকিত করেছিলেন, সেই মহান সাধক ও বীর হযরত খান জাহান আলী (র.) পঞ্চদশ শতাব্দীতে (১৪৪০-১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে) এই ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি সুলতানি আমলের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন।
মসজিদটির নাম "ষাট গম্বুজ" হলেও বাস্তবে এর মূল ছাদের ওপর সারি দিয়ে মোট ৭৭টি গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া চার কোণের ৪টি মিনারের (বুরুজ) ওপর আরও ৪টি ছোট গম্বুজসহ সর্বমোট গম্বুজের সংখ্যা ৮১টি।
মসজিদের ভেতরের ছাদটিকে ধরে রাখার জন্য পাথর কেটে তৈরি করা পিলারের (স্তম্ভ বা খাম্বা) সংখ্যা ঠিক ৬০টি।
ধারণা করা হয়, ফারসি শব্দ "ষাট সোতুন" (যার অর্থ ষাটটি স্তম্ভ) বা লোকমুখে "ষাট খাম্বাজ" বলতে বলতে কালক্রমে এটি "ষাট গম্বুজ" নামে রূপ নেয়।
১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো (UNESCO) এই প্রাচীন মসজিদ ও এর চারপাশের ঐতিহাসিক শহরটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান (World Heritage Site) হিসেবে ঘোষণা করে।

লাল ইটের কারুকাজ আর শত শত বছরের প্রাচীন এই দেয়ালগুলোর সামনে দাঁড়ালে আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের এক সোনালী অতীত চোখের সামনে ভেসে ওঠে। নিজের দেশের ইতিহাসকে জানুন, দেশের ঐতিহ্যকে ভালোবাসুন। ✨

— যশোহরের জলছাপ 🖊️

#যশোহরের_জলছাপ

এই মুনাজাতরত ছবিটি একটি প্রাচীন অ্যাসিরীয় (Assyrian) শিলাচিত্র বা রিলিফ প্যানেল।এতে দেখা যাচ্ছে অ্যাসিরীয় সম্রাট Sargo...
14/06/2026

এই মুনাজাতরত ছবিটি একটি প্রাচীন অ্যাসিরীয় (Assyrian) শিলাচিত্র বা রিলিফ প্যানেল।
এতে দেখা যাচ্ছে অ্যাসিরীয় সম্রাট Sargon II দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনা করছেন। এটি খ্রিস্টপূর্ব ৭১৩–৭০৬ সালের মধ্যে নির্মিত এবং তাঁর রাজধানী Dur-Sharrukin (বর্তমান ইরাকের খোরসাবাদ) থেকে পাওয়া গেছে।

★শিলাচিত্রটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

সারগন দ্বিতীয় (Sargon II) ছিলেন নব্য-অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী সম্রাট। তিনি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৭২২–৭০৫ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তাঁর আমলে অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্য মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।

এই রিলিফে তাঁকে যুদ্ধ ও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দেবতাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে দেখা যায়। অ্যাসিরীয়দের বিশ্বাস ছিল, রাজা কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি দেবতাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি।

★ ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?

* রাজা দু’হাত উঁচু করে প্রার্থনার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছেন।
* তাঁর মাথায় রাজকীয় অলংকার এবং লম্বা কোঁকড়ানো দাড়ি দেখা যায়, যা অ্যাসিরীয় রাজাদের পরিচিত বৈশিষ্ট্য।
* পোশাকের সূক্ষ্ম নকশা ও খোদাই সেই সময়ের শিল্পকলার উৎকর্ষের প্রমাণ।
* এই ভঙ্গিটি দেবতাদের প্রতি আনুগত্য ও সাহায্য প্রার্থনার প্রতীক।

★ তিনি কাদের কাছে প্রার্থনা করতেন?

অ্যাসিরীয় ধর্ম ছিল বহুদেবতাবাদী। সারগন দ্বিতীয় সাধারণত যেসব দেবতার কাছে প্রার্থনা করতেন:

* Ashur — অ্যাসিরীয়দের প্রধান দেবতা
* Shamash — ন্যায়বিচার ও সূর্যের দেবতা
* Sin — চন্দ্রদেব
* Ishtar — যুদ্ধ, প্রেম ও উর্বরতার দেবী

★ বর্তমানে কোথায় আছে?

এই রিলিফটি বর্তমানে Louvre Museum-এ সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে। এটি অ্যাসিরীয় সভ্যতার শিল্প, ধর্ম ও রাজকীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

★ ঐতিহাসিক গুরুত্ব:

এই শিলাচিত্রটি আমাদের দেখায় যে:

* প্রাচীন রাজারা নিজেদের শক্তির পাশাপাশি দেবতাদের আশীর্বাদের উপরও নির্ভর করতেন।
* যুদ্ধের আগে ও পরে ধর্মীয় আচার ছিল রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
* খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে অ্যাসিরীয় শিল্প ও ভাস্কর্য কতটা উন্নত ছিল।

সংক্ষেপে, এটি শুধু একজন রাজার ছবি নয়; বরং প্রায় ২,৭০০ বছর আগের অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের ধর্ম, রাজনীতি ও শিল্পকলার এক জীবন্ত দলিল।

13/06/2026

আজকের প্রত্ন-অনুসন্ধানে উন্মোচিত হওয়া হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার এক অনন্য নিদর্শন!

আজকের প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে উঠে এলো এক অবিস্মরণীয় নিদর্শন—পোড়ামাটির তৈরি একটি প্রাচীন 'ভোটিভ স্তূপ' (Votive Stupa) বা মানত স্তূপ।
আমাদের চেনা মধ্যযুগীয় ইতিহাসের পাতা ওল্টালে, মাটির গভীর স্তরে স্তরে লুকিয়ে থাকে আরও প্রাচীন কোনো সভ্যতার নীরব গল্প।
নিখুঁত গম্বুজাকৃতির (Dome-shaped) এই নিরেট প্রত্নবস্তুটি আনুমানিক ৮০০ থেকে ১২০০ বছর আগের (পাল আমলের) বৌদ্ধ সংস্কৃতির এক অনন্য স্মারক।
তৎকালীন সময়ে বৌদ্ধ উপাসক, সাধু ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা তীর্থযাত্রীরা নিজেদের পুণ্য অর্জন, রোগমুক্তি বা কোনো বিশেষ মানত পূরণের উদ্দেশ্যে মূল স্তূপের চারপাশে বা বিহারে এই ধরনের প্রতীকী ক্ষুদ্র স্তূপ উৎসর্গ বা দান করতেন। অনেকে একে পবিত্র স্মারক হিসেবেও নিজেদের কাছে রাখতেন।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে মাটির নিচে সুরক্ষিত থাকা এই জীবন্ত ইতিহাস আজ আমার সংগ্রহে ও ভিডিওর ফ্রেমে বন্দি হলো। আমাদের হারিয়ে যাওয়া সোনালী অতীতকে জানতে ও দেখতে চোখ রাখুন আমাদের পেজে।
— যশোহরের জলছাপ
#যশোহরের_জলছাপ #প্রত্নতত্ত্ব #প্রাচীন_ইতিহাস #বৌদ্ধ_নিদর্শন #ভোটিভ_স্তূপ #পাল_আমল #মৃৎশিল্প

খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৬০০ সালের সময়কালে সোমালিয়ার আওয়ুর (Awur) নগরের রাজকীয় কবরস্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে  প্রসাধনী ...
11/06/2026

খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২৬০০ সালের সময়কালে সোমালিয়ার আওয়ুর (Awur) নগরের রাজকীয় কবরস্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রসাধনী সামগ্রী সহ সোনার কসমেটিক বাক্স আবিষ্কৃত হয়েছে। এই আবিষ্কার আওয়ুর সভ্যতার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎকর্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

সেই সময়ে আওয়ুরের রাজপরিবার ও অভিজাত শ্রেণির মধ্যে রূপচর্চা, সৌন্দর্যবোধ এবং বিলাসবহুল সামগ্রীর ব্যবহার সুপ্রচলিত ছিল। এ গুলো তাদের নান্দনিক রুচি ও উচ্চ সামাজিক মর্যাদার ইঙ্গিত বহন করে।এছাড়াও, এই ধরনের সামগ্রী মৃত ব্যক্তির সঙ্গে সমাধিস্থ করার প্রথা থেকে বোঝা যায় যে আওয়ুর সমাজে পরকালীন জীবন সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট বিশ্বাস বিদ্যমান ছিল। ফলে, এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শুধু তৎকালীন সৌন্দর্যচর্চা ও বিলাসিতার পরিচয়ই নয়, বরং আওয়ুর সভ্যতার ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক কাঠামো এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ অনুধাবনের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

Address

Jessore

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when যশোহরের জলছাপ - Joshohorer Jolchap posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share