19/09/2025
কাজের প্রতি আমার শতভাগ নিবেদন থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই সমালোচনা শুনতে হতো। প্রথমে খুব হতাশ হতাম, মনে হতো সব পরিশ্রম বুঝি বৃথা। কিন্তু আমার এক সিনিয়র সহকর্মীর বলা একটি ছোট্ট গল্প আমার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
গল্পটা ছিলো এমন:
অফিসের নতুন কর্মী রিয়াজ। কাজে সে সবার চেয়ে এগিয়ে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটানা কাজ করে, ছুটির দিনেও তার ল্যাপটপ খোলা থাকে। সহকর্মীরা যখন আড্ডায় ব্যস্ত, রিয়াজ তখন ফাইল গোছানো বা নতুন প্রজেক্টের পরিকল্পনায় মগ্ন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভালো কাজ দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করা।
কিন্তু অদ্ভুত বিষয় হলো, তার এই পরিশ্রমের ফলটা আসছিল অন্যভাবে। মিটিংয়ে তার কাজ নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হতো। "রিয়াজ, তোমার উপস্থাপনার এই অংশটা ভালো হয়নি," অথবা "এই রিপোর্টটা আরও গোছানো হতে পারত"—এসব কথা প্রায়ই শুনতে হতো তাকে। রিয়াজ দেখত, যারা তার চেয়ে কম কাজ করে, তাদের কোনো ভুল হলেও কেউ কিছু বলছে না।
প্রথমে রিয়াজ খুব ভেঙে পড়েছিল। রাতে ঘুমাতে পারত না, মনে হতো তার সব পরিশ্রম বৃথা। একদিন সন্ধ্যায় সে অফিসের ছাদে একা বসে ছিল। এমন সময় তার সিনিয়র সহকর্মী তার কাছে এলেন।
"কী ব্যাপার, রিয়াজ? মন খারাপ?"
রিয়াজ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "আমি আমার সবটা দিয়ে কাজ করি, কিন্তু তারপরও শুধু আমাকেই কেন এত কথা শুনতে হয়?"
সিনিয়র সহকর্মীটি হাসলেন। "রিয়াজ, তুমি কি কখনো একটি জ্বলন্ত মোমবাতি দেখেছ?"
রিয়াজ অবাক হয়ে তাকাল। "মোমবাতি? কেন?"
"শোনো, মোমবাতি যখন আলো দেয়, তখন তার আশেপাশে সবচেয়ে বেশি পোকা এসে ভিড় করে। কিন্তু যে প্রদীপ নিভে আছে, তার ধারেকাছেও কেউ আসে না।"
তিনি বলতে লাগলেন, "তোমার কাজটা হলো সেই আলো। তোমার পরিশ্রম সবার চোখে পড়ে, তাই সবাই তোমার কাছে আসে, ভালো-মন্দ সব কথাই বলে। যারা কাজ করে না, তাদের নিয়ে বলার কিছু থাকে না। সমালোচনা তখনই হয়, যখন তোমার মধ্যে কিছু করার ক্ষমতা আছে। মনে রেখো, তোমার কাজই তোমার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। অন্যের কথাকে নিজের সাফল্যের পথের কাঁটা হতে দিও না।"
সেই দিন থেকে রিয়াজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেল। সে আর সমালোচনায় হতাশ হয় না, বরং এটিকে তার কাজের একটি অংশ হিসেবে মেনে নেয়। সে বুঝতে পারে, তার পরিশ্রমই তাকে সবার থেকে আলাদা করেছে। আর এই কারণেই সে সবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
#কর্মজীবনের_গল্প #অনুপ্রেরণা #কঠোরপরিশ্রম #সাফল্যের_পথ #আলো_আর_পোকার_গল্প