05/08/2026
ইতিহাস ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ। প্রাচীন ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এ মসজিদটি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় অবস্থিত। ১৮৫৮-৫৯ সালে মোঘল আমলে তৎকালীন মুসলিম জমিদার কাজী সালামতুল্লাহ খান বাহাদুর মসজিদটি নির্মাণ করেন।
অতীতের ইতিহাস ঐতিহ্যের নিদর্শন এই মসজিদটি তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ নামে গড়ে উঠলেও কালের বিবর্তনে কথাতিত ভাবে এটি ধীরে ধীরে 'মিয়া মসজিদ' নামে পরিচিতি লাভ করে। অনেকে আবার এই মসজিদকে 'হাত কাটা মিয়া' মসজিদ' নামেও অভিহিত করে থাকেন।
লোক মুখে প্রচলিত আছে, এই মসজিদটি যিনি তৈরি করেছিলেন তার হাত কেটে দিয়েছিলেন তৎকালীন সময়ের ওই অঞ্চলের শাসক। হাত কাটার কারণ ছিল, তিনি যেন এই অবকাঠামো ও এমন কারুকার্য খচিত মসজিদ আর দ্বিতীয়টি তৈরি করতে না পারে। তবে এমন প্রচলিত গ্রাম্য কথার সঠিক কোনো প্রমাণ নেই।
জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকে মোঘল আমলে তৎকালীন মুসলিম ধার্মিক জমিদার কাজী সালামতুল্লাহ খান বাহাদুর এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ থাকাকালীন সময়ে বিহারের এক বাসিন্দা মসজিদটির নকশাঁ ও কারুকাজের জন্য প্রধান মিস্ত্রির দায়িত্বে ছিলেন।
মসজিদের গায়ে লাগানো একটি প্লেটে উল্লেখ রয়েছে, মসজিদটি ১৮৫৮-৫৯ সালে নির্মিত হয়। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা খান বাহাদুর মৌলভী কাজী সালামতউল্লাহ
এক একর জমির উপর নির্মিত মসজিদটির উত্তর পার্শ্বে দুই একর জায়গা জুড়ে একটি পুকুর আছে। কথিত আছে, এই পুকুরের জল কখনও শুকায় না। পুকুরটি যখন পানিতে পরিপূর্ণ থাকে তখন মসজিদের সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
মসজিদটিতে ৭টি দরজা, ১৫ ফুট উচ্চতার ৬টি বড় গম্বুজ, ৮ ফুট উচ্চতার ১৪টি মিনার ও ২৫ ফুট উচ্চতার চার কোণায় ৪টি মিনার রয়েছে।
মসজিদের সামনে তৈরি একটি প্লেটে লন্ডনপ্রবাসী মন্টি সিদ্দিকী (কাজী সালামতউল্লাহর বংশধর) নামের ওই ব্যক্তির দেওয়া তথ্য মতে, মসজিদটির সঙ্গে ১৮৪০-৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার শাহজানী বেগম মসজিদ এবং ১৮৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতার ধর্মতলার টিপু সুলতান মসজিদের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।