19/11/2023
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
নিউট্রিশন সুপার ফুড সজিনার পরিচিতি-
সজিনার ইংরেজি নাম Drumstick এবং বৈজ্ঞানিক নাম Moringa Oleifera. উৎপত্তিস্থল পাক-ভারত উপমহাদেশ হলেও এ গাছ শীত প্রধান দেশ ব্যতীত সারা পৃথিবীতেই জন্মে। আমাদের দেশে ২-৩ প্রকারের সজিনা পাওয়া যায়। দেশি-বিদেশি পুষ্টি বিজ্ঞানীরা সজিনাকে অত্যাশ্চর্য বা অলৌকিক বৃক্ষ বলে অভিহিত করেছেন। সজিনা সবজির চেয়ে এর পাতার উপকার আরও বেশি। শুকনো সজিনা পাতায় উচ্চ মাত্রায় পুষ্টি থাকে। সজিনা গাছের বাকল, শিকড়, ফুল, ফল, পাতা ও বীজ এমনকি এর আঠাতেও ঔষধি গুন আছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় এ গাছকে মায়েদের ‘উত্তম বন্ধু’ এবং পুষ্টির এক অনন্য সহজলভ্য উৎস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
Food and Agriculture Organization of the United Nations highly recomended for pregnant and nursing mothers as well as young children.
সজিনা পাতার পুষ্টিগুণ-
ভারতীয় আয়ুর্বেদিক শাস্ত্র মতে, সজিনা গাছ ৩০০ রকমের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। আধুনিক বিজ্ঞানও এ ধারণাকে সমর্থন করে। এক টেবিল চামচ শুকনা সজিনা পাতার গুঁড়া থেকে ১-২ বছর বয়সী শিশুদের অত্যবশ্যকীয় ১৪% আমিষ, ৪০% ক্যালসিয়াম ও ২৩% লৌহ ও ভিটামিন-এ সরবরাহ হয়ে থাকে। দৈনিক ৬ চা চামচ সজনে পাতার গুঁড়া একটি গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মায়ের চাহিদার সবটুকু ক্যালসিয়াম ও আয়রন সরবরাহ করতে সক্ষম।
সজিনা গাছের প্রতি গ্রাম পাতায় গাজরের চেয়ে ৪ গুন বেশি ভিটামিন ‘এ’, দুধের চেয়ে ৪ গুন বেশি ক্যালসিয়াম, কলার চেয়ে ৩ গুন বেশি পটাশিয়াম, কমলালেবুর চেয়ে ৭ গুন বেশি ভিটামিন, দইয়ের চেয়ে ২ গুন বেশি প্রোটিন আছে।
বিজ্ঞানীরা আরও বলেন সজিনা পাতায় ৪২% আমিষ, ১২৫% ক্যালসিয়াম, ৬১% ম্যাগনেসিয়াম, ৪১% পটাশিয়াম, ৭১% লৌহ, ২৭২% ভিটামিন এ এবং ২২% ভিটামিন "সি" সহ দেহের আবশ্যকীয় বহু পুষ্টি উপাদান থাকে। ফলে এটি অন্ধত্ব, রক্তস্বল্পতাসহ বিভিন্ন ভিটামিন ঘাটতিজনিত রোগের বিরুদ্ধে বিশেষ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
সজিনা পাতাকে নিউট্রেশন্স সুপার ফুড, ন্যাচারাল মাল্টিভিটামিন, মিরাকল ভেজিটেবল ও এন্টি অক্সিডেন্টের খনি বলা হয়। এতে ৯২ ধরনের পুষ্টি উপাদান, ৪৬ ধরনের এন্টি অক্সিডেন্ট, ১৮ ধরনের এমিনো এসিড ও ৮ ধরনের এসেনশিয়াল এমিনো এসিড বিদ্যমান। এছাড়াও এর মধ্যে ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, কিউরেকটিন এবং ক্লোরোজেনিক এসিড রয়েছে। উল্লেখ্য এসব উপাদানই মানবদেহের জন্য উপকারী। বিশেষ করে ক্লোরোজেনিক এসিড রক্তের চাপ, শর্করা কমাতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমানে জিঙ্ক থাকে এবং পালং শাকের চেয়ে তিনগুন বেশি আয়রণ আছে যা এ্যামোনিয়া দূরীকরনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সজিনা শরীরে কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনেও অন্যতম অবদান রাখে। ৩ মাসের ব্যবহারে এটি কোলস্টেরল লেভেল অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে।
পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া / সতর্কতা-
ডঃ লয়েল ফিউগিল এর মতে- “দৈনিক এই পাতা গ্রহণে কোন ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া নেই।”
সজিনা গাছ বা পাতায় তেমন কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবে প্রথম অবস্থায় বেশি পরিমানে সেবন করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমের সমস্যা হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া বা পেটে ব্যাথার মতো লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। একটি ছোট ডোজ দিয়ে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে এই প্রভাবগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
সজিনা এলার্জির জন্য উপকারী, তবে বিরল কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সজিনা থেকে এ্যালার্জির লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। যদি আপনি সন্দেহ করেন যে সজিনা সেবনের ফলে আপনার এ্যালার্জি বেড়ে গেছে তবে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
সম্ভাব্য দূষণ-
অনেক প্রাকৃতিক পন্যের মত সজিনা বা সজিনা পাতার গুনমান ও বিশুদ্ধতা উৎসের উপর এবং প্রস্তুতপ্রনালির উপর নির্ভর করে। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা ভারী ধাতু দ্বারা দূষিত হওয়ার ঝুঁকি আছে যদি গাছটি দূষিত অবস্থায় জন্মায়। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর স্থানে প্রস্তত করলে ময়লা, ধুলা-বালি যুক্ত হতে পারে।
খাওয়ার নিয়ম-
সজিনা পাতার গুড়া বা Moringa Powder একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদান হওয়ায় যে কোন সময় খাওয়া যায়।
গবেষকরা বলে থাকেন একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের প্রতিদিন ২০ গ্রাম সজিনা পাতার গুড়া খাওয়া উচিত। প্রথম অবস্থায় সকালে ১-২ চা চামচ এবং রাতে ১-২ চা-চামচ পানিতে মিশিয়ে খাওয়ার পরে খাওয়া উত্তম। এটি খালি পেটেও সেবন করা যায়। তবে শুরুতে এবং খাওয়ার অভ্যাস না থাকলে খালি পেটে না খাওয়াই ভালো। এটি দুধ, মধু ও ঘি ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এছাড়াও ভাত, ভর্তা ও ভাজি ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়। মোটকথা যেকোন উপায়ে খেলেই উপকার পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র-
# Food and Agriculture Organization of the United Nations (FAO)
# Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research (BCSIR)
# কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)
সজিনার উপকারিতা-
* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
* আথ্রাইটিস বা হাড়ের ব্যাথা নিয়ন্ত্রন করে।
* ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করে।
* সজিনা পাতা ইনসুলিন হরমোন, থাইরয়েড হরমোন, টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি ও পুরুষের শুক্রানু বৃদ্ধি করে।
* যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।
* প্রশ্রাবের জ্বালাপোড়া বা ইনফেকশন দূর করে।
* কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
* রক্ত স্বল্পতা দূর করে এবং রক্ত সঞ্চালনের মাত্রা বৃদ্ধি করে ও রক্ত পরিস্কার করতে সহায়তা করে।
* নিয়মিত সজনে পাতা সেবনে মুখে রুচি বাড়ে।
* সজিনা পাতায় এন্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট বিদ্যমান। এটি যকৃত ও কিডনী সুস্থ্য রাখতে সহায়তা করে।
* ত্বকের সৌন্দর্য্য বর্ধক হিসেবে কাজ করে।
* রক্তে কোলস্টেরল কমায় এবং হার্ট ভালো রাখে।
* এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রনে রাখে।
* অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়তা করে।
* চুল পড়া রোধ করে।
* চর্ম রোগের উপশম হয়।
* কোন রকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই মায়ের বুকের দুধ বাড়াতে সাহায্য করে।
* মাইগ্রেন এর ব্যাথা/মাথা ব্যাথা দূর করাসহ আরও অনেক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।
আমাদের পন্যসমূহ-
@ সজিনা পাতার গুড়া
@ সজিনা পাতার ট্যাবলেট
@ অর্জুন ছাল
@ অর্জুন ছালের গুড়া
@ খাঁটি মধু
@ খাঁটি গাওয়া ঘি
@ খাঁটি সরিষার তেল
@ কালো জিরা
@ চিয়া সীড
(এছাড়াও বিভিন্ন ভেষজ ও পুষ্টি সমৃদ্ধ খাদ্যপন্য
উৎপাদন ও বিপনন করা হয়)
"ফলন" এর পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগতম। ফলন একটি কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন কৃষিজাত পণ্য, ভেষজ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন ও ক্রয় বিক্রয় আমাদের লক্ষ্য। উৎপাদিত ও প্রস্তুতকৃত পণ্যের খাঁটি মান এর নিশ্চয়তা প্রদানে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সম্পূর্ণ খাঁটি ও নির্ভেজাল পণ্য দেশের যেকোন প্রান্তে আপনাদের হাতে পৌঁছে দিব আমরা ইনশাআল্লাহ।
আমাদের ঠিকানা
ফলন
হক মঞ্জিল,
১৩, রোনালসে রোড
ঝালকাঠি।
০১৭৪০-৬৪৯০৯১
০১৩০২-৪৬১৬৮৫