26/05/2026
উচিৎ ছিলো, একজন মসজিদের ইমামই এলাকার সবচেয়ে বড় কোরবানি দেওয়া।
কারণ তিনিই তো সারা বছর মানুষকে কোরবানির গুরুত্ব বোঝাইলো, কোরবানির ফজিলত নিয়ে বয়ান করলো।
হজ্ব, যাকাত, সদকা, দান এগুলোর মর্যাদা সবচেয়ে বেশি তো তারাই বোঝেন।
কিন্তু বাস্তবতা কি?
বাংলাদেশের অধিকাংশ ইমাম নিজের পক্ষ থেকে কোরবানিই দিতে পারেন না।
কারণ তাদের সেই আর্থিক সামর্থ্য নেই।
এটা কি শুধু একজন ব্যক্তির সমস্যা?
না, এটা পুরো সমাজ ব্যবস্থার ব্যর্থতা।
ছোটবেলা থেকেই মাদ্রাসার ছাত্রদের শেখানো হয়, টাকা পয়সা দুনিয়াবী জিনিস।
ঠিক আছে, টাকা সবকিছু না।
কিন্তু এই টাকা দিয়েই তো কোরবানি হয়, হজ্ব হয়, যাকাত হয়, মাদ্রাসা চলে, এতিম খাওয়ানো হয়, মসজিদ তৈরি হয়, অসহায়ের চিকিৎসা হয়।
টাকা না থাকলে ফরজ ইবাদতের অনেক কিছুই অসম্ভব হয়ে যায়।
টাকা না থাকলে কোরবানি নেই,
টাকা না থাকলে হজ্ব নেই,
টাকা না থাকলে যাকাত নেই,
টাকা না থাকলে দান সদকা নেই।
তাহলে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়াটাও তো উম্মাহর জন্য জরুরি।
আমার প্রশ্ন হলো,
যারা মানুষকে দ্বীন শেখান, যারা হালাল-হারাম বোঝান, যারা সমাজকে পথ দেখান তারা কেন সবসময় আর্থিকভাবে দুর্বল থাকবেন?
কেন একজন আলেমকে সারাজীবন অন্যের করুণার পাত্র হয়ে থাকতে হবে?
একজন আলেম ব্যবসা জানলে, দক্ষতা অর্জন করলে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে ক্ষতি কোথায়?
বরং তখন তিনি আরও সম্মানের সাথে সত্য কথা বলতে পারবেন, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না।
আমাদের এমন আলেম দরকার যারা শুধু মিম্বারে শক্তিশালী না, জীবন ব্যবস্থাপনাতেও শক্তিশালী।
যারা দ্বীনও বুঝবেন, দুনিয়াও সামলাবেন।
কারণ ইসলাম দারিদ্র্যকে মহিমান্বিত করতে আসেনি, ইসলাম এসেছে ভারসাম্য শেখাতে।