27/04/2026
কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা নির্ধারণ এবং এ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। তিনি মনে করেন, আইনি জটিলতা নিরসনে কথায় কথায় হাইকোর্টে না পাঠিয়ে এনবিআরের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
রবিবার বিকালে এনবিআর ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী কাঁচামাল আমদানির প্রাপ্যতা নিয়ে নানা অভিযোগ উত্থাপন করেন।
রাফেজ আলম চৌধুরীর অভিযোগের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “উনারা আমাদের এখানকার (এনবিআর) কোনো রেলেভেন্ট অথরিটি বিশেষ করে মেম্বার পর্যায় এবং একটা গ্রুপে যদি উনারা প্রমাণ করতে পারেন, কিংবা আলোচনা দেখলেই অন্য একটা বিষয় থেকে বোঝা যাবে যে এই ডিমান্ডটা জেনুইন নাকি এটা বিদ্বেষপ্রসূতভাবে করা হয়েছে। সেটা বুঝে উনাকে এখান থেকে রিবেট (ছাড়) দেওয়া হবে, অথবা কম-বেশি করা হবে; ১০ পারসেন্ট, আপনি ২ পারসেন্ট দেন। আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি লাম্পসাম (এককালীন থোক বরাদ্দ) এত দেন। দিয়ে আপনি করেন অথবা আপনি জিরো দেন। এটা আমাদের এখানেই থাকা দরকার; এটা কথায় কথায় হাইকোর্টে পাঠানো ঠিক না।”
তিনি আয়কর আইনের উদাহরণ টেনে বলেন, “সিমিলার জিনিস কিন্তু আমাদের ইনকাম ট্যাক্স ট্রাইব্যুনালেও এই প্রভিশন আছে অনেক আগে থেকেই আছে। সেখানে কিন্তু তারা আমাদের যে আপিল এবং অবজেকশন শাখা সেখানে ট্যাক্সপেয়ার অ্যাপ্লাই করে লিগ্যাল থেকে হয়, লিগ্যাল এনফোর্সমেন্ট থেকে হয়, যেকোনো একটা শাখা যাকে আমরা ডিফেন্ড করছি। তাদের কাছে যখন তারা অ্যাপ্লাই করে যে আমার এই ডিমান্ডটা আল্টিমেটলি ট্রাইব্যুনালে টিকবে না, এগুলো অন্যায়ভাবে হয়েছে, ইললিগালি হয়েছে এবং যদি সেটা আমাদের অ্যানালাইসিস করে মনে হয় তখন তো এটা রিবেট দেওয়া হয়।”
“সিমিলার জিনিস আমরা কাস্টমসে কেন করব না? আমাদের ইনকাম ট্যাক্সের যে আইনটা আছে ওই আদলে ভ্যাট হোক কাস্টমস হোক সব জায়গায় এটা করা যায়। সব জায়গায় সমাধান করা যায়,” বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
প্রাক-বাজেট আলোচনা শেষে রাফেজ আলম চৌধুরী কাঁচামাল আমদানির অনুমতি বা প্রাপ্যতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন দেশকাল নিউজ ডটকমে। তিনি বলেন, “জিনিসটা হলো যে আমাদের যারা মেম্বাররা আছে, তাদেরকে ওই মেশিনের ওপরে আমাদেরকে একটা এনটাইটেলমেন্ট দেওয়া হয়। মানে ধরেন আমার মেশিনের ক্যাপাসিটি আছে উৎপাদন করতে পারি ১০০ টন। এখন এখানে যে কাজটা করে, মানে ধরেন একটা প্রাপ্যতা আগে নিয়ম ছিল একদম বিগিনিং-এ ৬০ পারসেন্ট দেওয়া। এখন আপনি ৬০ পারসেন্টের মধ্যে যা আনতে পারেন আনলেন, আর যা আনতে পারলেন-যা লাগবে আপনি তা আনবেন আর কী। এটা কেউ ৩০ পারসেন্ট আনতে পারে, ৪০ পারসেন্ট আনতে পারে। আবার অনেক রকম আইটেম থাকে তো; কোনোটা বেশি লাগে, কোনোটা কম লাগে। তো এখন এখানে যেটা নিয়ম করছে- গত বছর যা এক্সপোর্ট করলো, তার ওপরে সে যা র-মেটেরিয়াল লাগলো তার ২০ পারসেন্ট তাকে বেশি আনতে দিবে।”
“এখন ধরেন- একটা কার্টন তৈরি করতে গেলে কাগজ লাগে, তারপরে ধরেন স্টিচিং ওয়্যার লাগতে পারে, গাম লাগতে পারে। এখন দেখা গেল- আমরা মিনিমাম একটা কোয়ান্টিটি ছাড়া তো ইমপোর্ট করতে পারি না। এখন সেটা আমরা ইমপোর্ট করে আনলাম। আনার পরে পরবর্তী বছরে দেখা গেল কিছু আইটেমের দরকার নাই, আনলাম না। এখন তাহলে দেখা গেল কী? পারফরম্যান্স সে শো করলো না, আমার প্রাপ্যতা দিয়ে দিলো লিমিট করে। এখন এই প্রাপ্যতা কম থাকলে…মানে যখন বাৎসরিক আমরা নেই, আমাদের চার-পাঁচ-সাত-দশ লাখ টাকাও খরচ, বুঝছেন?”
কতটুকু র-মেটেরিয়াল আপনি আমদানি করতে পারবেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে দেশকাল নিউজ ডটকমকে রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, “সেটা দেখা গেল হিউজ খরচ। আবার যখনই এটা শেষ হয়ে গেল, নিয়ম করা আছে আবার আপনি অ্যাপ্লাই করলে পাবেন। কিন্তু এটা তো এত সহজে পাওয়া যায় না। আপনাকে সময় দিতে হবে, আপনাকে টাকা দিতে হবে, তারপরে আপনাকে প্রাপ্যতা দিবে। তো এত সময় এত কতবার খরচ করবে?”
মানে কাঁচামাল আমদানির অনুমতিটাকে বলা হয় প্রাপ্যতা?- বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, হ্যাঁ। তো এই জায়গাটাতে গিয়ে আর কী... তারপরে দেখা গেল যে মেশিন আইসা গেছে মানে মাল আইসা গেছে, এখন আপনি ছাড়াইতে পারতেছেন না। ডেমারেজ দিতে হচ্ছে। প্রাপ্যতা সে বাড়াইতে পারতেছে না, এই ঘুরতেছে ঘুরতেছে। কাস্টমসে তো এত সহজ না তো, যত সহজে এখানে হয়।”
‘এটা কোনো মেম্বারের কাছে কাস্টমস বন্ড?’- জবাবে রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, “না এটা বন্ড, উনার তো সমস্যা না। সমস্যাটা তো ধরেন কাস্টমসের যারা নিচের লেভেল থেকে কাজ করে তারা একটা ফাইল পাইলে তো...”
এটা কি এসআরও-তে (আইনগত প্রজ্ঞাপন) কোনো সমস্যা আছে?- জবাবে তিনি দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, “এসআরও-র মধ্যেও সমস্যা আছে বা এসআরও-তে এটাও বলা আছে যারা কমপ্লায়েন্ট ফ্যাক্টরি, যাদের ডিমান্ড নাই তাকে ৬০ পারসেন্ট দিয়ে দাও। কিন্তু সেটা কোনো সময় দেয় না। মিনিমাম একটা মাল আনার জন্য এক কন্টেইনার তাকে আনতে দেওয়া। তাইলে আমাদের সমস্যা নাই। এরপরে আমরা আমাদের মেম্বাররা মিসইউজ করতেছে কি না সেটার জন্য তো বছরে প্রতি নিয়ত অডিট হচ্ছে, বুঝছেন না? আপনি তো সেটা চেক করতে পারেন। এখন আইনা তো আপনি আনলেন, তারপরে আপনার দায়বদ্ধতা আছে না? এটা আর কী।