আমাদের কাপ্তাই

আমাদের কাপ্তাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত

শুরু হোক সচেতনতা: মসজিদে দিরার এবং আজকের দলাদলির ফিতনা​বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম​পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তওবার ১০৭ ও ১০৮...
13/05/2026

শুরু হোক সচেতনতা: মসজিদে দিরার এবং আজকের দলাদলির ফিতনা
​বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
​পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তওবার ১০৭ ও ১০৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করেছেন। মদিনার মুনাফিকরা ইবাদতের নাম করে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল, যার নাম ছিল 'মসজিদে দিরার'। বাহ্যিকভাবে সেটি ইবাদতখানা মনে হলেও আল্লাহর কাছে তা ছিল ষড়যন্ত্রের আখড়া।
​আল্লাহ এই মসজিদের চারটি ভয়াবহ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. ضرارًا (ক্ষতিসাধন): সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষতি করা।
২. كفرًا (কুফরি): সত্যকে গোপন করে ভ্রান্ত আকিদা ছড়ানো।
৩. تفريقًا بين المؤمنين (মুমিনদের মাঝে বিভেদ): মুসলমানদের ঐক্য নষ্ট করে আলাদা দল বা গোষ্ঠী তৈরি করা।
৪. إرصادًا (ষড়যন্ত্রের ঘাঁটি): ইসলামের দুশমনদের আশ্রয়স্থল বানানো।
​⚠️ সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও বিভক্তির রাজনীতি
​বর্তমানে আমরা দেখছি, দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ সমাজকে ভেঙে সুনির্দিষ্ট কিছু মতাদর্শ (যেমন: তথাকথিত নব্য সালাফি বা ওহাবি মতবাদ) প্রচারের জন্য আলাদা আলাদা মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। যেখানে মূল উদ্দেশ্য ইবাদত নয়, বরং সাধারণ মানুষকে "মুশরিক" বা "বিদয়াতি" ফতোয়া দিয়ে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
​রাসূলুল্লাহ ﷺ যে ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছেন, তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাড়ায় পাড়ায় বিভেদ সৃষ্টি করা কি সেই 'মসজিদে দিরার'-এর আধুনিক রূপ নয়? যখন একটি মসজিদ কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং সেখান থেকে অন্য মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ছড়ানো হয়, তখন তা আর 'আল্লাহর ঘর' থাকে না, বরং তা দলাদলির কেন্দ্রে পরিণত হয়।
​📜 নজদ এবং 'শয়তানি সিং' (قرن الشيطان) সংক্রান্ত হাদিস
​রাসূলুল্লাহ ﷺ আজ থেকে চৌদ্দশত বছর আগে এই ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করে গেছেন। সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে:
​"রাসূলুল্লাহ ﷺ দোয়া করলেন: হে আল্লাহ! আমাদের শাম (সিরিয়া) ও ইয়ামেনে বরকত দিন। সাহাবিরা বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের 'নজদ' অঞ্চলেও কি? তিনি আবারও আগের দোয়া করলেন। তৃতীয়বার তিনি বললেন: সেখানে (নজদ এলাকায়) ভূমিকম্প এবং ফিতনা হবে এবং সেখান থেকেই 'শয়তানের সিং' (قرন الشيطان) উদিত হবে।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১০৩৭)
​ইতিহাস সাক্ষী, এই নজদ থেকেই মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাবের উত্থান ঘটেছিল, যার চরমপন্থী মতবাদ ব্যবহার করে হাজার হাজার মুসলমানের রক্তপাত ঘটানো হয়েছে এবং ইসলামের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। আজকের আধুনিক 'সালাফিজম' সেই নজদি ফিতনারই একটি পরিবর্তিত রূপ, যা উম্মতের ঐক্যকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে।
​💡 আমাদের করণীয়:
​১. তাকওয়ার ভিত্তি খুঁজুন: আল্লাহ বলেছেন, সেই মসজিদে নামাজ পড়বেন না যার ভিত্তি তাকওয়ার ওপর নয়। তাই বিভেদ সৃষ্টিকারী কোনো গোষ্ঠীর ফাঁদে পা দেবেন না।
২. ঐক্য বজায় রাখুন: যারা কথায় কথায় মুসলমানদের কাফের বা বিদয়াতি বলে সমাজ থেকে আলাদা হতে চায়, তাদের থেকে দূরে থাকুন।
৩. ইতিহাস জানুন: ইসলামের নামে আসা নব্য চরমপন্থী মতবাদগুলোর শিকড় এবং তাদের পেছনের মদতদাতাদের সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করুন।
​আল্লাহ আমাদের এই বিভক্তির ফিতনা থেকে রক্ষা করুন এবং উম্মতে মুহাম্মদীকে পুনরায় একতাবদ্ধ হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন।

আলবানীর ভ্রান্তিগুলোর একটি হলো—তিনি নবী ﷺ-কে “ভ্রষ্ট” (ضال) বলে আখ্যায়িত করেছেন।আলবানী নবী ﷺ-কে “ভ্রষ্ট” বলেছেন, যেমন ত...
13/05/2026

আলবানীর ভ্রান্তিগুলোর একটি হলো—তিনি নবী ﷺ-কে “ভ্রষ্ট” (ضال) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আলবানী নবী ﷺ-কে “ভ্রষ্ট” বলেছেন, যেমন তিনি নবী-ওলীদের মাধ্যমে তাওয়াসসুলকারীদেরও “ভ্রষ্ট” বলেন।
তিনি বলেনঃ
“আমি বলি, এরা—অর্থাৎ ওলী-সালেহীনদের মাধ্যমে তাওয়াসসুলকারী এবং যারা কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণকে হারাম মনে করে—আমি কোনো সংকোচ ছাড়াই তাদের প্রকৃত নামে ডাকছি; এরা সত্য থেকে ভ্রষ্ট। ইসলামী দৃষ্টিতে এ শব্দ ব্যবহারে কোনো সমস্যা নেই। আমি যখন বলি তারা সত্য থেকে ভ্রষ্ট, তখন আল্লাহ তাআলাই তাঁর নবী সম্পর্কে বলেছেনঃ
﴿وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَى﴾
‘তিনি আপনাকে পথ সম্পর্কে অজ্ঞ পেলেন, অতঃপর হিদায়াত দিলেন।’”
— ফাতাওয়া আল-আলবানী, পৃষ্ঠা ৪৩২
“وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ” আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরদের বক্তব্য
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ
﴿وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ﴾
“তিনি আপনাকে অজ্ঞ অবস্থায় পেলেন, অতঃপর হিদায়াত দিলেন।”
এই আয়াতের অর্থ সম্পর্কে মুফাসসিরগণ বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ
১. “ضالًّا” অর্থ নবুওয়াত সম্পর্কে অজ্ঞ বা অনবগত
ইবনে আব্বাস (রা.) ও আতা (রহ.) বলেনঃ
এখানে “ভ্রষ্ট” বলতে উদ্দেশ্য হলো—নবুওয়াতের দায়িত্ব সম্পর্কে অবগত না থাকা। এরপর আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেন।
ইমাম ওয়াহিদী “আল-বাসীত” গ্রন্থে বলেনঃ
“ইবনে আব্বাস বলেছেনঃ ‘তিনি আপনাকে নবুওয়াত সম্পর্কে অজ্ঞ অবস্থায় পেলেন, অতঃপর নবুওয়াতের মাধ্যমে সর্বোত্তম দ্বীনের দিকে পথ দেখালেন।’”
ইমাম কুরতুবী বলেনঃ
“এখানে ‘ضلال’ অর্থ গাফেল বা অনবগত থাকা। যেমন আল্লাহ বলেনঃ
﴿لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنسَى﴾
অর্থাৎ ‘আমার প্রতিপালক ভুলেন না, বিস্মৃত হন না।’”
তিনি আরও বলেনঃ
“নবী ﷺ নবুওয়াতের আগে ওহী ও শরীয়তের বিষয়ে অবগত ছিলেন না, পরে আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত দিয়েছেন।”
২. শরীয়তের বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকা
হাসান বসরী, দাহহাক, ইবনে কাইসান প্রমুখ বলেনঃ
“নবী ﷺ শরীয়তের বিস্তারিত বিধান ও নবুওয়াতের নিদর্শন সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আল্লাহ তাঁকে তা শিক্ষা দিয়েছেন।”
এর দলিলঃ
﴿وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ﴾
“এর আগে আপনি অবশ্যই এ সম্পর্কে অনবগত ছিলেন।”
এবংঃ
﴿مَا كُنتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ﴾
“আপনি জানতেন না কিতাব কী, ঈমান কী।”
৩. “আপনি ভ্রষ্ট জাতির মধ্যে ছিলেন”
কালবী, ফেরাআ ও সুদ্দী বলেনঃ
“অর্থ হলো—আপনি এমন এক জাতির মধ্যে ছিলেন যারা পথভ্রষ্ট ছিল, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে আপনার মাধ্যমে হিদায়াত দিয়েছেন।”
৪. “ضلال” অর্থ সত্যের সন্ধানে গভীর অনুসন্ধান
কুশাইরী, জুনাইদ ও আলী ইবনে ঈসা বলেনঃ
এখানে “ضلال” অর্থ বিভ্রান্তি নয়; বরং সত্যের সন্ধানে গভীর অনুসন্ধান ও চিন্তামগ্নতা।
নবী ﷺ হেরা গুহায় নির্জনে ইবাদত করতেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সঠিক পথ খুঁজতেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে ইসলামের দিকে হিদায়াত দেন।
৫. সফরের সময় রাস্তা হারিয়ে ফেলা
সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব (রহ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে—
নবী ﷺ এক সফরে তাঁর চাচা আবু তালিবের সঙ্গে ছিলেন। রাতে শয়তান উটের লাগাম ঘুরিয়ে পথভ্রষ্ট করতে চেয়েছিল, পরে জিবরীল (আ.) এসে তাঁকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনেন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
মুফাসসিরদের কেউই বলেননি যে এখানে “ضال” দ্বারা কুফর বা ঈমানহীনতা বোঝানো হয়েছে।
কাজী ইয়ায (রহ.) বলেনঃ
“আমি কোনো মুফাসসিরকে এ কথা বলতে দেখিনি যে এখানে ঈমান থেকে ভ্রষ্টতা বোঝানো হয়েছে।”
ইমাম কাস্তাল্লানী বলেনঃ
“আলেমগণ একমত যে, নবী ﷺ জীবনের এক মুহূর্তের জন্যও পথভ্রষ্ট হননি।”
উপসংহার
সুতরাং,
﴿وَوَجَدَكَ ضَالًّا فَهَدَىٰ﴾
আয়াতের অর্থ এ নয় যে নবী ﷺ পূর্বে কাফির বা পথভ্রষ্ট ছিলেন, পরে আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত দিয়েছেন—নাউযুবিল্লাহ।
বরং নবী ﷺ নবুওয়াতের আগে ওহী ও শরীয়তের বিস্তারিত বিষয়ে অবগত ছিলেন না; পরে আল্লাহ তাঁকে ওহী ও নবুওয়াত দান করেছেন।
নবী ﷺ-এর ইসমত (পাপ ও কুফর থেকে সংরক্ষিত থাকা) নবুওয়াতের আগে ও পরে উভয় অবস্থাতেই প্রতিষ্ঠিত ও মুসলিম উম্মাহর আকীদার অংশ।
অতএব, নবী ﷺ সম্পর্কে এমন ধারণা করা যে তিনি কুফর বা বিভ্রান্তির মধ্যে ছিলেন—এটি গুরুতর ভুল ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। মুসলমানদের উচিত এ ধরনের বক্তব্য থেকে সতর্ক থাকা।
— দারুল ইফতা মিসর (মিশরীয় ফতোয়া বোর্ড

‘আহলুল হাদীস’ বনাম বর্তমানের ‘আহলে হাদিস’ দল: একটি ঐতিহাসিক প্রতারণার ব্যবচ্ছেদ​বর্তমানে একদল মানুষ দাবি করছে যে তারা এব...
12/05/2026

‘আহলুল হাদীস’ বনাম বর্তমানের ‘আহলে হাদিস’ দল: একটি ঐতিহাসিক প্রতারণার ব্যবচ্ছেদ
​বর্তমানে একদল মানুষ দাবি করছে যে তারা এবং খাইরুল কুরুনের (উত্তম যুগের) ‘আহলুল হাদীস’ এক ও অভিন্ন। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় একটু নজর দিলেই দেখা যায়, এটি জাতির সাথে একটি বিশাল তাত্ত্বিক প্রতারণা। ‘আহলুল হাদীস’ কোনো বিশেষ দল বা সংগঠনের নাম ছিল না, এটি ছিল একটি জ্ঞানের মানদণ্ড।
​১. আহলুল হাদীস: একটি স্বর্ণালী মানদণ্ড
পূর্ববর্তী ইমামদের যুগে ‘আহলুল হাদীস’ বলতে তাদের বোঝানো হতো যারা সাহাবা ও তাবেয়ীনদের ‘ফাহম’ বা বুঝ অনুযায়ী হাদিসের ইলম অর্জন করতেন। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফিঈ, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বল—তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন এই ইলমের ধারক। তাঁদের কাছে হাদিস ছিল একটি প্রবহমান নদী, যা আদব, মহব্বত এবং আহলে বায়াতের ভালোবাসার সাথে প্রবাহিত হতো। তাঁরা মাযহাবের মাধ্যমে দ্বীনকে সুশৃঙ্খল করেছিলেন।
​২. বর্তমানের ‘আহলে হাদিস’ দল: একটি নব্য উদ্ভাবন
বর্তমানে আমরা যাদের ‘আহলে হাদিস’ বা ‘সালাফি’ হিসেবে চিনি, তাদের শেকড় মূলত খাইরুল কুরুনে নয়, বরং নজদ অঞ্চলে। এদের চিন্তাধারার মূল স্থপতি হলেন আব্দুল ওহাব নজদী। ১৭শ-১৮শ শতাব্দীতে নজদ থেকে যে চরমপন্থী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, বর্তমানের এই দলটি তারই একটি আধুনিক সংস্করণ। ব্রিটিশ আমলের বিভাজন নীতি এই বিচ্ছিন্নতাবাদকে আরও উসকে দিয়েছিল।
​৩. নজদ: যেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হয়
সহিহ বুখারীর হাদিস (১০৩৭) অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ ﷺ নজদ অঞ্চলের জন্য বরকতের দোয়া করেননি এবং বলেছিলেন সেখান থেকে ফিতনা ও ‘শয়তানের শিং’ (কারনুশ শয়তান) উদিত হবে। বর্তমানের এই তথাকথিত আহলে হাদিসরা সেই নজদী রুক্ষতাকেই দ্বীন মনে করে। তাদের মাঝে সেই প্রবহমান নদীর স্নিগ্ধতা নেই, আছে মরুভূমির শুষ্কতা।
​৪. সাহাবীদের বুঝ বনাম শায়খদের বুঝ
তারা দাবি করে তারা সাহাবীদের বুঝ অনুযায়ী চলে, অথচ বাস্তবে তারা মাযহাবের ইমামদের বাদ দিয়ে নাসেরুদ্দিন আলবানী বা বিন বাযের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের ফতোয়াকে চূড়ান্ত মনে করে। সাহাবায়ে কেরাম যেখানে আহলে বায়াতের মহব্বতকে ঈমানের রূহ মনে করতেন, এই নব্য-ফিরকাটি সেই মহব্বতকে ‘শিরক-বিদআত’ বলে গালি দেয়। এটি সাহাবীদের বুঝ নয়, বরং সাহাবীদের নামের আড়ালে নিজেদের ‘শায়খ পূজা’।
​৫. প্রতারণার স্বরূপ
নামের মিল থাকলেই আদর্শ এক হয় না। প্রাচীন ‘আহলুল হাদীস’ মুহাদ্দিসরা ছিলেন উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক, আর বর্তমানের ‘আহলে হাদিস’ দল হলো বিভক্তির কারিগর। তারা আলাদা মসজিদ বানিয়ে, আলাদা ধর্মতত্ত্ব প্রচার করে উম্মাহর দেহে ক্ষত সৃষ্টি করছে।
​সারকথা:
আহলুল হাদীস একটি গুণের নাম, যা হারিয়ে গেছে এই নব্য-সালাফিদের শুষ্ক ফতোয়াবাজির ভিড়ে। উম্মাহর মূলধারা সেই প্রাচীন নদীর স্রোতেই প্রবাহিত, যা মাযহাব ও আহলে বায়াতের ভালোবাসাকে ধারণ করে আছে। নজদী ফিতনা থেকে নিজেদের ঈমান রক্ষা করা আজ সময়ের দাবি।
​ #আহলুল_হাদীস #নজদী_ফিতনা #ঐতিহ্যের_ইসলাম #আহলে_বায়াত #উম্মাহর_ঐক্য #ফ্যাক্ট_চেক

তাওহীদের আড়ালে রিসালাত ও আদব বর্জনের নব্য ফিতনা: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ​বর্তমানে ‘তাওহীদ’ ও ‘একত্ববাদের’ চটকদারি স্লোগা...
12/05/2026

তাওহীদের আড়ালে রিসালাত ও আদব বর্জনের নব্য ফিতনা: একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
​বর্তমানে ‘তাওহীদ’ ও ‘একত্ববাদের’ চটকদারি স্লোগান দিয়ে একদল মানুষ (তথাকথিত আহলে হাদিস/সালাফি) কৌশলে ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ‘রিসালাত’ এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শান-মানকে খাটো করার এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। মনে রাখবেন, রিসালাত ছাড়া তাওহীদের কোনো অস্তিত্ব নেই। লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ-র পূর্ণতা আসে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ-তে।
​আপনারা যারা সহীহ হাদিসের বুলি আওড়ান, আপনাদের কাছে কিছু মৌলিক প্রশ্ন ও দলিলের জবাব চাই:
​১. সাহাবীদের ইলমী সিস্টেম বনাম আপনাদের ‘গুগল’ জ্ঞান:
সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে জ্ঞান নিয়েছেন ‘সুহবত’ (সান্নিধ্য), ‘আদব’ এবং ‘আমলে’র মাধ্যমে। তাঁদের জ্ঞান ছিল সিনা-ব-সিনা (হৃদয় থেকে হৃদয়ে)। তাঁরা হাদিসের শব্দ নয়, বরং হাদিসের ‘রূহ’ বা হাকিকত বুঝতেন। আর আপনারা? আপনারা পরম্পরাহীন (সনদহীন) ভাবে কেবল লাইব্রেরির বই বা ইন্টারনেটের ফতোয়া পড়ে নিজেদের মুজতাহিদ দাবি করছেন। এটি সাহাবীদের সেই পবিত্র শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
​২. রিসালাত কি কেবল ডাকপিয়নের ভূমিকা? (নাউযুবিল্লাহ):
আপনাদের আকিদায় নবীজি ﷺ-কে কেবল একজন ‘বার্তা বাহক’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। অথচ কুরআন বলছে, নবীজি ﷺ কেবল কিতাব শোনান না, বরং তিনি উম্মাহর ‘তাজকিয়া’ বা আত্মশুদ্ধি করেন (সূরা জুমুআ: ২)। যারা রিসালাতকে ছোট করে, আদবকে ‘শিরক’ বলে আর মহব্বতকে ‘বিদআত’ বলে—তাদের ইসলাম কখনোই পূর্ণাঙ্গ নয়। আদবহীন তাওহীদ আসলে ইবলিসের তাওহীদের মতো, যে আল্লাহকে মেনেও নবীর (আদম আ.) সম্মানে সেজদা না দিয়ে অভিশপ্ত হয়েছিল।
​৩. সহীহ হাদিসের বাহ্যিক পাঠ বনাম হাকিকত:
হাদিসের শব্দ মুখস্থ করা আর হাদিসের ইলম রাখা এক নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির মুখ উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনেছে, তা মুখস্থ করেছে এবং তা অন্যের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। কারণ, অনেক ইলমের বাহক নিজে ফকিহ (গভীর জ্ঞানের অধিকারী) নয়।" (তিরমিযী, আবু দাউদ)। আপনারা সেই সব ‘ইলমের বাহক’ যারা ফিকহী গভীরতা বা হাকিকত বোঝেন না, কেবল ফিতনা সৃষ্টির জন্য বাহ্যিক অর্থ ব্যবহার করেন।
​৪. মহব্বত ও আদবহীন শুষ্ক ধর্মতত্ত্ব:
যে হৃদয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর আহলে বায়াতের প্রতি অগাধ প্রেম নেই, সেই হৃদয়ে ঈমান প্রবেশ করতে পারে না। রাসুল ﷺ বলেছেন: "তোমাদের কেউ মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার সন্তান, পিতা এবং সকল মানুষের চেয়ে প্রিয় হই।" (সহীহ বুখারী)। আপনাদের ফতোয়াগুলোতে সারা দিন ‘শিরক-বিদআত’ খোঁজার নেশা থাকলেও রাসুলের প্রতি সেই মাতোয়ারা প্রেম বা আদব খুঁজে পাওয়া যায় না।
​৫. ফিতনা সৃষ্টি ও উম্মাহর বিভক্তি:
সাহাবী ও তাবিঈদের যুগে যে ইসলাম ছিল ঐক্যের প্রতীক, আপনাদের হাতে তা হয়ে পড়েছে বিভক্তির হাতিয়ার। প্রতিদিন নতুন নতুন ফতোয়া দিয়ে মুসলমানদের বিভ্রান্ত করা, আলাদা মসজিদ তৈরি করা এবং হাজার বছরের আলেমদের গালি দেওয়া—এটি কি আপনাদের সহীহ হাদিসের শিক্ষা?
​উপসংহার:
ইসলামের মূলধারা হলো সেই বিশাল নদী, যা তাওহীদ, রিসালাত এবং আদবের সমন্বয়ে প্রবাহিত। যারা এই নদীর স্রোতধারা পরিবর্তন করে রিসালাত ও মহব্বতের অংশটুকুকে শুকিয়ে ফেলতে চায়, তারা আসলে উম্মাহকে এক ভয়াবহ অন্ধকার ও শুষ্ক মরুভূমির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজেদের ঈমান বাঁচান; রিসালাতের প্রতি আদব ও আহলে বায়াতের মহব্বত ছাড়া জান্নাতের পথ রুদ্ধ।
​ #রিসালাত_ও_আদব #সাহাবীদের_মানহাজ #নব্য_ফিতনা #আহলে_বায়াত #উম্মাহর_ঐক্য #ইলমের_হাকিকত

সাহাবায়ে কেরামের দুশমনরাই কি এখন ‘হক’ পন্থী? বিদআতের নামে এক জঘন্য ধৃষ্টতা!​নিজেদের ‘আহলে হাদিস’ বা ‘সালাফি’ দাবি করে এক...
12/05/2026

সাহাবায়ে কেরামের দুশমনরাই কি এখন ‘হক’ পন্থী? বিদআতের নামে এক জঘন্য ধৃষ্টতা!
​নিজেদের ‘আহলে হাদিস’ বা ‘সালাফি’ দাবি করে একদল মানুষ আজ ইসলামের সেই পবিত্র আলোকবর্তিকা অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরামের (রা.) আমলকেও ‘বিদআত’ বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে। যে হাতে সাহাবীদের সম্মান নিরাপদ নয়, সেই হাত ইসলামের ঝাণ্ডা ধরবে—এটা হতে পারে না।
​আসুন কিছু মৌলিক সত্য ও দলিল দিয়ে তাদের এই জঘন্য চিন্তাধারার মুখোশ উন্মোচন করি:
​১. সাহাবাদের সুন্নাহ কি বিদআত?
রাসুলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজের ভাষণে স্পষ্ট করে গেছেন:
​"তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক।" (আবু দাউদ, তিরমিযী—হাদিসটি সহিহ)।
​হযরত ওমর (রা.) ২০ রাকাত তারাবিহ জামাতে চালু করেছিলেন, হযরত ওসমান (রা.) জুমার দ্বিতীয় আজান চালু করেছিলেন—এগুলো রাসুলের নির্দেশিত ‘সুন্নাহর’ অংশ। যারা এগুলোকে ‘বিদআত’ বলে গালি দেয়, তারা মূলত রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর এই নির্দেশকেই অস্বীকার করছে।
​২. কোরআনের সুরক্ষায় সাহাবাদের অবদান:
আজ যে কোরআন আমরা জবর, জের, পেশ দিয়ে পড়ছি, তা হযরত ওসমান (রা.) এবং পরবর্তী সাহাবা-তাবেয়ীনদের হাত ধরেই বিন্যস্ত হয়েছে। যারা সব নতুন কিছুকেই ‘জাহান্নামী বিদআত’ বলে, তারা কি তবে সাহাবাদের এই মহান কাজকেও (নাউযুবিল্লাহ) সেই কাতারে ফেলবে? আসলে তাদের লক্ষ্য ইসলামকে সংস্কার করা নয়, বরং ইসলামের শিকড়—সাহাবীদের মান-মর্যাদা ধূলিসাৎ করা।
​৩. আহলে বায়াত ও সাহাবা বিদ্বেষ: মুনাফিকির লক্ষণ
যাদের অন্তরে হযরত ওমর (রা.), হযরত ওসমান (রা.) কিংবা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পবিত্র আহলে বায়াতের (নবী পরিবার) প্রতি বিদ্বেষ থাকে, তারা কখনোই হকের ওপর থাকতে পারে না। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো... যারা তাদের ভালোবাসলো সে যেন আমাকেই ভালোবাসলো, আর যারা তাদের কষ্ট দিলো সে যেন আমাকেই কষ্ট দিলো।" (তিরমিযী)। সাহাবীদের আমলকে ‘বিদআত’ বলা কি তাঁদের কষ্ট দেওয়া নয়?
​৪. আদবহীন ‘সহিহ হাদিস’ কেবল ফিতনা:
আপনারা হাদিসের অক্ষর পড়েছেন, কিন্তু সাহাবীদের প্রতি আদব শেখেননি। ইলম ছাড়া অহংকার আর আদবহীন মহব্বত কেবল বিভ্রান্তিই বাড়ায়। যারা সারাদিন উম্মাহর মধ্যে ফাটল ধরাতে ব্যস্ত, আলাদা মসজিদ বানিয়ে মুসলমানদের মধ্যে দেয়াল তুলছে—তারা ইসলামের সেবক নয়, বরং ইসলামের দেহের বিষফোঁড়া।
​৫. হক পন্থী কারা?
হক পন্থী তারা, যারা রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ভালোবাসে, তাঁর পবিত্র আহলে বায়াতকে শ্রদ্ধা করে এবং সাহাবায়ে কেরামের প্রতিটি আমলকে শিরোধার্য মনে করে। নজদ থেকে আসা কোনো শুষ্ক ফতোয়াবাজি আমাদের ঈমানি আদর্শ হতে পারে না।
​উপসংহার:
সাহাবায়ে কেরাম হলেন সেই মাপকাঠি, যাদের ওপর আল্লাহ নিজে সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের আমলকে যারা ‘ভুল’ বা ‘বিদআত’ প্রমাণের চেষ্টা করে, তাদের নিজেদের ঈমান নিয়েই নতুন করে ভাবা উচিত। ইসলামের এই প্রবহমান নদীর স্রোত সাহাবীদের হাত ধরেই আমাদের কাছে পৌঁছেছে; যারা এই স্রোতধারা পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে, তারা নিজেরাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
​ #সাহাবীদের_মর্যাদা #খুলাফায়ে_রাশেদীন #নব্য_ফিতনা #আহলে_বায়াত #উম্মাহর_ঐক্য ্বত

ইবনে বায বলেছেন:"নবী (সাঃ)-এর কবর যিয়ারতে যাওয়া হারাম, এমনকি মদিনা থেকে দূরে থাকা হাজীর জন্যও।"[তাঁর গ্রন্থ "আল-তাহকিক...
10/05/2026

ইবনে বায বলেছেন:

"নবী (সাঃ)-এর কবর যিয়ারতে যাওয়া হারাম, এমনকি মদিনা থেকে দূরে থাকা হাজীর জন্যও।"

[তাঁর গ্রন্থ "আল-তাহকিক ওয়াল-ইদাহ লি-কাথির মিন মাসাইল আল-হাজ্জ ওয়াল-'উমরাহ"-এর ৮৮-৯৮-৯০ পৃষ্ঠায় উল্লিখিত]

===================

আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আমার কাছে শুধুমাত্র আমাকে যিয়ারত করার উদ্দেশ্যেই আসে, তার জন্য সুপারিশ করা আমার উপর ফরজ।" [তাবরানি কর্তৃক বর্ণিত]

ইমাম আন-নাওয়াভি বলেছেন:

"হজ সম্পন্ন করার পর যমযমের পানি পান করা এবং আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব।" [আল-মিনহাজ]

তিনি আরও বলেছেন:

"জেনে রাখুন যে, প্রত্যেক হজ পালনকারী তীর্থযাত্রীর উপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সদকা করা ফরজ, তা তাঁর হজ পথে হোক বা না হোক। কারণ তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সদকা করা ইবাদতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ এবং সর্বোত্তম প্রার্থনা।" [স্মরণীয় বিষয়সমূহ]

ইবনে কুদামাহ আল-মাকদিসী বলেছেন: "নবী (সাঃ)-এর কবর যিয়ারত করা মুস্তাহাব।" এই বর্ণনাটি আল-দারাকুতনী কর্তৃক ইবনে উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি হজ পালন করে এবং আমার মৃত্যুর পর আমার কবর যিয়ারত করে, সে এমন করল যেন আমার জীবদ্দশাতেই আমাকে যিয়ারত করল।'"

[আল-মুগনি]

🔹 সঠিক বক্তব্য হলো, ইবনে বায ভুল করেছেন এবং সমগ্র ওয়াহাবী সম্প্রদায় ভুল করেছে... পক্ষান্তরে ইসলামের ইমামগণ এবং ওহীবাহকগণ সঠিক ছিলেন।

#ওয়াহাবী_সম্প্রদায়

সালাফি-ওয়াহাবিরা জিজ্ঞাসা করল: আপনারা আমাদের খারিজি বলেন কেন? আপনাদের প্রমাণ কী?আমরা উত্তর দিলাম: আমরা তোমাদের মধ্যে সু...
10/05/2026

সালাফি-ওয়াহাবিরা জিজ্ঞাসা করল: আপনারা আমাদের খারিজি বলেন কেন? আপনাদের প্রমাণ কী?

আমরা উত্তর দিলাম: আমরা তোমাদের মধ্যে সুস্পষ্ট নিদর্শন পেয়েছি, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উল্লেখ করেছেন এবং সহীহ হাদিস সংকলনসমূহে বর্ণনা করেছেন: ইমাম বুখারি, ইমাম মুসলিম, সুনানের সংকলকগণ, আল-হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা।

এই নিদর্শনগুলো অন্য কোনো পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে পাওয়া যায় না, এমনকি বাতিনিয়্যা সম্প্রদায়ের মধ্যেও নয়। এগুলো দশটি বৈশিষ্ট্য, যা কোনো দলকে খারিজি হিসেবে গণ্য করার জন্য অবশ্যই একত্রে উপস্থিত থাকতে হবে, আলাদাভাবে নয়। সেগুলো হলো:

১. শেষ সময়ে পূর্ব দিক থেকে, নজদ থেকে, একদল লোক আবির্ভূত হবে।

২. তারা কুরআন পাঠ করে, কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালীর নিচে যায় না।

৩. তারা বয়সে তরুণ।

৪. তারা চিন্তাভাবনায় মূর্খ।

৫. তারা সর্বোত্তম কথা বলে।

৬. তারা ধর্ম থেকে এমনভাবে সরে যায়, যেমন তীর তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় এবং তারা আর সেদিকে ফিরে আসে না।

৭. তাদের স্বতন্ত্র চিহ্ন হলো মাথা মুণ্ডন করা।

৮. তারা আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকে, কিন্তু এর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

৯. তারা মুসলিমদের হত্যা করে। ১০. তারা মূর্তিপূজকদের আহ্বান করে।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এবং তার ওয়াহাবি অনুসারীরা ছাড়া শেষ যুগে নজদ আল-হিজাজ থেকে আর কে আবির্ভূত হয়েছিল, যারা মানুষকে তাদের দিকে হিজরত করার জন্য আহ্বান করেছিল?

যদি আপনি বলেন: তারা নজদ আল-ইরাকের কথা বলছে, আমরা বলব: আপনি মিথ্যা বলছেন। মদিনার পূর্বাংশই হলো নজদ আল-হিজাজ, আর কুফা ও বসরার নিকটবর্তী ইরাকের নজদ এর পূর্বে নয়, বরং এর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

তুমি ছাড়া আর কে আছে যে না বুঝে কুরআন তেলাওয়াত করে, তা আবৃত্তি করে এবং বিভেদ সৃষ্টি ও এর ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর অস্পষ্ট আয়াতগুলো অনুসরণ করে?

তুমি ছাড়া আর কে আছে যে তার অনুসারীদের মধ্যে তারুণ্যের সাথে মূর্খতার মিশ্রণ ঘটায়, এবং যার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অসভ্যতা, রূঢ়তা ও অনমনীয়তা, যা অভদ্রতা, রূঢ়তা এবং রুক্ষতা দ্বারা চিহ্নিত?

তুমি ছাড়া আর কে আছে যে নিজেকে সালাফি বলে দাবি করে, এই বলে যে একমাত্র তারই কাছে সত্যিকারের ইসলাম আছে এবং অন্য সকল মুসলমান কাফের, যাদেরকে কাফের ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে?

তুমি ছাড়া আর কে আছে যে তার অনুসারীদের মাথা মুণ্ডন করার আদেশ দিয়েছে? আর যে কেউ এটা অস্বীকার করবে, তার উচিত মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নাতির এই স্বীকারোক্তিটি দেখা যে, তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল মাথা মুণ্ডন করা। মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের নাতি আব্দুল আজিজ ইবনে হামাদ, নজদ অঞ্চলে মাথা মুণ্ডনের বিধান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন:

"মাথা মুণ্ডন করা আমাদের মধ্যে একটি প্রথা, এবং কেবল মূর্খরাই তা পরিত্যাগ করে। এটিকে নিরুৎসাহিত করার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, কোনো সম্ভাব্য ক্ষতি রোধ করার জন্য চূড়ান্ত বারণ হিসেবে নয়। অধিকন্তু, আমাদের সময়ের কাফেররা মাথা মুণ্ডন করে না, সুতরাং মাথা মুণ্ডন থেকে বিরত থাকা তাদের অনুকরণের শামিল।"

"শয়তানের শিং"-এর নাতির এই কথাগুলোই আমাদের জন্য যথেষ্ট, যদিও তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি প্রথমে এর বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করে এবং তারপর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে মাথা মুণ্ডন থেকে বিরত থাকা কাফেরদের অনুকরণের শামিল, এর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যটিকেই সমর্থন করেন।

যারা এটি যাচাই করতে চান, তারা "শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিরোধীদের দাবি: উপস্থাপন ও সমালোচনা" বইটি দেখুন।

নবী (সাঃ)-এর এই উক্তি দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তুমি ছাড়া আর কার এই বৈশিষ্ট্যগুলো আছে:

"তারা মুসলিমদের হত্যা করে এবং মূর্তিপূজকদের ছেড়ে দেয়"?

#ওয়াহাবি_সম্প্রদায়

#যুগের_খারিজিরা

#সালাফিরা

শেখ আলবানী ও শেখ আব্দুুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর মধ্যকার বিতর্ক​মুহাদ্দিস এবং উসূলে হাদীস বিশেষজ্ঞ শেখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গ...
10/05/2026

শেখ আলবানী ও শেখ আব্দুুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর মধ্যকার বিতর্ক
​মুহাদ্দিস এবং উসূলে হাদীস বিশেষজ্ঞ শেখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ আল-হালাবী এবং শেখ আলবানীর মধ্যে একটি বিতর্ক হয়েছিল। আমার ভাই শেখ মুহাম্মদ মুনীর (রহ.) মদীনা মুনাওয়ারায় আসার পর তার মৃত্যুর আগে (শা'বান মাসে) আমাকে এই ঘটনাটি হুবহু জানিয়েছিলেন।
​ঘটনাটি রিয়াদ শহরে ঘটেছিল। শেখ আব্দুল ফাত্তাহ শেখ আলবানীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: "আপনি কি একজন মুহাদ্দিস এবং হাদীস শাস্ত্রে অভিজ্ঞ?"
আলবানী উত্তর দিয়েছিলেন: "লোকে তো তাই বলে।"
​এরপর শেখ আব্দুল ফাত্তাহ বললেন: "আপনি কার কাছ থেকে হাদীসের সনদ লাভ করেছেন? কোন উস্তাদ বা আলেম থেকে?"
আলবানী বললেন: "বইপত্র থেকে।"
তখন শেখ আব্দুল ফাত্তাহ বললেন: "যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ আহলে হাদীস বা হাদীস বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জ্ঞান গ্রহণ না করে, ততক্ষণ সে মুহাদ্দিস হতে পারে না। যে ব্যক্তি তার উপযুক্ত যোগ্যদের কাছ থেকে শেখেনি, সে প্রকৃত শিক্ষিত নয়।"
​এরপর তিনি তাকে পরীক্ষা করার জন্য বললেন: "আপনি কি নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) এবং অন্যান্য শাস্ত্রে পারদর্শী? দয়া করে আমাদের জন্য সহীহ বুখারী নিয়ে আসুন।"
​সহীহ বুখারী আনা হলে শেখ আব্দুল ফাত্তাহ একটি যুদ্ধের হাদীস বের করলেন যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাহাবীদের একটি শব্দ বলেছিলেন। শব্দটির সঠিক উচ্চারণ ছিল 'অিরবাঊ' (أِربعوا) যার অর্থ: তোমরা চারজন চারজন করে চলো (সংখ্যার অর্থে)।
​তিনি আলবানীকে বইটি দিয়ে বললেন: "আমাদেরকে এই হাদীসটি পড়ে শোনান।"
আলবানী পড়তে শুরু করলেন এবং যখন ওই শব্দে পৌঁছালেন, তখন তিনি পড়লেন 'অ্যারবাঊ' (أَربعوا) (আলিফে যবর দিয়ে)।
আরবি ভাষায় 'অ্যারবাঊ' (যবর দিয়ে) অর্থ হলো: চতুষ্পদ প্রাণীর মতো চার পায়ে হাঁটা।
​তখন শেখ আব্দুল ফাত্তাহ বললেন: "যথেষ্ট হয়েছে! আপনি তো চার পায়ে হাঁটছেন! হে চার পায়ে চলা ব্যক্তি, আপনার মূর্খতা বন্ধ করুন। আগে গিয়ে ভাষা শিখুন, তারপর হাদীস নিয়ে কাজ করবেন। কোত্থেকে যে এই যুগের পণ্ডিতের আবির্ভাব হলো!"
​লেখকের মতে, সৌদি শাসকরা সে সময় হাদীস শাস্ত্রের গভীর বিশেষজ্ঞ না পাওয়ায় তাকে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ছাত্র থাকাকালীন আলবানী এমনও বলতেন যে, সুযোগ পেলে তিনি নবীজির কবর হারাম শরীফ থেকে বের করে দিতেন এবং সবুজ গম্বুজ ভেঙে ফেলতেন।
​জুহায়মান, যে ১৪০০ হিজরীতে হারাম শরীফে ফিতনা সৃষ্টি করেছিল এবং মাহদী দাবিদারকে নিয়ে অস্ত্রসহ প্রবেশ করেছিল, সে-ও আলবানীর ছাত্র ছিল। এই ঘটনার পর আলবানীকে জর্ডানে নির্বাসিত করা হয়। মানুষ তাকে নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছে। শেখ আব্দুল ফাত্তাহ, শেখ আব্দুল্লাহ সিরাজুদ্দীন এবং শেখ মুহাম্মদ আওয়ামা আল-হালাবী—সকলেই আলবানী সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি উম্মাহর মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করেছেন।
​অধ্যাপক আবু ইয়াসির আল-আরবির কলাম
​বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।
আমি সাধারণত কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না, কিন্তু একটি বিষয় এতটাই ছড়িয়ে পড়েছে যে চুপ থাকা আমানতের খেয়ানত বলে মনে করছি। সেটি হলো ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি বাক্য: "এটি আলবানী সহীহ বলেছেন" বা "আলবানী একে যঈফ বলেছেন।"
​অনেকে তো মনে করেন আলবানী যেন ইসলামের নয়জন ইমামের (আইম্মায়ে তিসআ) একজন! অথচ তিনি ১৯৯৯ সালে মারা গেছেন। মূল কথা হলো:
​১. আলবানী মুহাদ্দিস ছিলেন না: তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) পর্যন্ত কোনো একটি হাদীসও পূর্ণ সনদসহ মুখস্থ বলতে পারতেন না।
২. সহীহ বা যঈফ করার অধিকার: হাদীস সহীহ বা যঈফ বলার অধিকার কেবল 'হাফিয' স্তরের আলেমদের থাকে। আলবানী হাফিয ছিলেন না। ফলে তিনি অনেক সহীহ হাদীসকে যঈফ এবং যঈফ হাদীসকে সহীহ বলে রায় দিয়েছেন।
৩. বিখ্যাত ইমামদের সাথে তুলনা: ইমাম তিরমিযীর মতো বড় মাপের হাফিযরা যেখানে একটি হাদীসকে একভাবে মূল্যায়ন করেছেন, সেখানে আলবানী এসে তার প্রতিবাদ করছেন—এটি একজন মেডিকেল ছাত্র কর্তৃক বড় বিশেষজ্ঞ প্রফেসরের ভুল ধরার মতো হাস্যকর।
৪. বিপত্তি: এমনকি 'দুরারু সিনিয়্যাহ'র মতো ওয়েবসাইটগুলোও এখন প্রাচীন ইমামদের নাম বাদ দিয়ে আলবানীর নাম বসাচ্ছে। এটি সুন্নাহর ইতিহাসে একটি বড় বিকৃতি।
​তিনি যা করেছেন তা হাদীস শাস্ত্র নিয়ে এক ধরণের ছিনিমিনি খেলা। যারা হাদীসের বড় বড় হাফিয যেমন—বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী—তাদের নাম বাদ দিয়ে শুধু আলবানীর রেফারেন্স দেয়, তাদের কারণে উম্মাহর সোনালী ইতিহাস মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
​সতর্কবার্তা:
শেখ আলবানী নিজের জীবনে অজস্র ভুল করেছেন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই প্রায় ৫০০ হাদীস সম্পর্কে তার আগের ভুল রায় থেকে ফিরে এসেছিলেন। তাই চোখ বন্ধ করে "আলবানী সহীহ বলেছেন" এটি গ্রহণ করা উচিত নয়। আমাদের উচিত মূল মুহাদ্দিস ও হাফিযদের নামের দিকে ফিরে যাওয়া।

​বি.দ্র: এটি একটি অনুবাদ মাত্র, যা লেখকের ব্যক্তিগত অভিমত ও ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

19/05/2021
25/10/2020

Address

Kaptaimukh

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমাদের কাপ্তাই posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share