গৃহপালিত পশু ও পাখি পালন পদ্ধতি

গৃহপালিত পশু ও পাখি পালন পদ্ধতি ইহা একটি সাহায্যেকারী পেইজ।

সাফল্যের জন্য তোমাকে ৩টি মূল্য দিতে হবে।ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম, আর স্বপ্নকে বাস্তব হতে দেখার জন্য ব্যর্থতার পরও কাজ করে ...
11/03/2021

সাফল্যের জন্য তোমাকে ৩টি মূল্য দিতে হবে।

ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম, আর স্বপ্নকে বাস্তব হতে দেখার জন্য ব্যর্থতার পরও কাজ করে যাওয়া।

অতীতকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়,
কিন্তু ভবিষ্যৎ এখনো তোমার হাতে।

সাফল্যে হল আমরা যা ভয় পাই তার ওপর নয়,
বরং আমরা যা চাই তার ওপর।

যার মাঝে সীমাহীন উ‌ৎসাহ,
বুদ্ধি ও একটানা কাজ করার গুণ থাকে,
তবে তার সফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

যদি তোমার লক্ষ্য যথেষ্ট দৃঢ় হয়,
তাহলে ব্যর্থতা কখনো তোমাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।

কিছু মানুষ কেবল সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখে,
যেখানে অন্যরা প্রতিদিন নিজের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে চেষ্টা করে।

একটি হাঁসের খামারের দৈনিক কাজের রুটিনদৈনিক কার্যাবলিঃযে কোনাে ধরনের খামারই হােক না কেন তার ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ...
08/02/2021

একটি হাঁসের খামারের দৈনিক কাজের রুটিন

দৈনিক কার্যাবলিঃ
যে কোনাে ধরনের খামারই হােক না কেন তার ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রকৃতপক্ষে খামার ব্যবস্থাপনার উপরই খামারের লাভ-লােকসান এমনকি খামারের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নির্ভর করে।

ক) সকাল ৭-৯ টাঃ

জীবাণুমুক্ত অবস্থায় শেডে প্রবেশ করতে হবে এবং হাঁস-মুরগির সার্বিক অবস্থা ও আচরণ পরীক্ষা করতে হবে।
মৃত বাচ্চা/বাড়ন্ত বাচ্চামুিরগি থাকলে তৎক্ষণাৎ অপসারণ করতে হবে।
পানির পাত্র খাবার পাত্র পরিষ্কার করতে হবে।
পাত্রে খাবার ও পানি না থাকলে তা পরিষ্কার করে খাদ্য ও পানি সরবরাহ করতে হবে।
লিটারে অবস্থা পরীক্ষা করতে হবে ও প্রয়ােজন হলে পরিচর্যা করতে হবে।
সকাল ৯.০০ ঘটিকায় ডিম সংগ্রহ করতে হবে।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে হাঁসের আচরণ পরীক্ষা করতে হবে।
হাঁসের খামারে হাঁসগুলােকে সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় ছাড়তে হবে কারণ হাঁস সকাল বেলায় ডিম পাড়ে।
অসুস্থ হাঁস থাকলে আইসোেলশন শেডে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
খ) সকাল ১১-১২টাঃ

খাদ্য নাড়াচাড়া করে দিতে হবে।
পানি গরম ও ময়লা হলে পরিবর্তন করে পরিষ্কার ও ঠান্ডা পানি দিতে হবে।
গ) বিকাল ৪-৫টাঃ

পাত্রে খাদ্য পানি না থাকলে তা সরবরাহ করতে হবে।
ডিম সংগ্রহ করতে হবে ।
ডিম পাড়ার বাসা/বাক্সের দরজা বন্ধ করতে হবে ।
আচরণ পরীক্ষা করতে হবে।
পানির পাত্র অথবা খাদ্যের পাত্র অপরিষ্কার দেখলে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে ।

এর নাম সাধোনা।। এ যখন ওর মায়ের পেটে ছিলো তখন ওর মায়ের পেগন্নেট এর সময় ছিলো ৮ মাস ১৫ দিন । একদিন ভোর রাতে আনুমানিক ৫ টার ...
02/01/2021

এর নাম সাধোনা।।
এ যখন ওর মায়ের পেটে ছিলো তখন ওর মায়ের পেগন্নেট এর সময় ছিলো ৮ মাস ১৫ দিন । একদিন ভোর রাতে আনুমানিক ৫ টার সময় , আমার বাবা গোয়ালঘরে ওর মাকে দেখতে যায়। তখন ওর মা গোয়ালঘরে পাকা মেঝেতে শুয়ে ছিলো পরে সে ওঠে দাড়াতে পারছিলো না পিছনের পায়ের ভর দিয়ে অনকে ছটফট করছিলো দাড়ানোর জন্য আর সেই সাথে অনেক কষ্ট পাচ্ছিলো। ঐ দিন সারাদিন ওর মা ওঠে দাড়াতে পারিনি এভাবে ২ দিন ছিলো, পরে বড় ডাক্তার এসে দেখে বলল ওর মার নাকি ভিটামিন এবং ক্যালসিয়া এর ঘাটতি ছিলো। আর বলল একে তাড়াতাড়ি গায় স্যালাইন দিতে হবে, স্যালাইন দেওয়া হল। তারপর রাত আনুমানিক ৩ টা কিংবা ৪ টার সময় ওর মা ওঠে দাড়ায়। আমরা তখন ওর মায়ের ওঠে দাড়ানো দেখে খুব খুশি হয়। এভাবে ঠিকঠাক মত খাওয়া দাওয়া চলছিলো কয়েকদিন ধরে সবাই চিন্তা মুক্ত ছিলাম। ওর মা সেরা ওঠলে আবার তারপরের দিন সকালে সেই একই অবস্থা আর ওঠে দাড়াতে পারিনি। এভাবে ওর মায়ের মোট ১ মাস কেটে গেল। সাধোনার মা ৯ মাস ৫ দিন হলে সাধোনা জন্মগ্রহণ করল। ডাক্তার বলেছিলো সাধোনা জন্মগ্রহণ করলে ওর মায়ের সব ঠিক হয়ে যাবে কিন্তু সেটা আর হলো না, জন্মগ্রহন করেই সাধোনার কপাল খারাপ এ দিকে মায়ের দুধ টা কি জিনিস তারকপালো জুটলো না। সাধোনা অনেক চেষ্টা করল মায়ের দুধ খাওয়ার জন্য কিন্তু পারল না আর। আমাদের পরিবারে সবাই চিন্তা করছিলাম পরিবারের সবার নাওয়া খাওয়া ঘুম বন্ধ হয়ে গেল, সাধোনার মায়ের বড় ডাক্তার দেখানো হচ্ছিল কোন কাজ হলনা। দিন দিন ওর মায়ের শরীর খারাপ এর দিকে যাচ্ছিলো, সবাই বলল সাধোনার মাকে বিক্রি করে দিতে। আমরা পরিবারের কেউ রাজিছিলাম না। ডাক্তার বললো আপনারা যদি এভাবে রাখেন তাহলে হয়তো আর ওকে বাচানো যাবে না। আমি ঠিক করলাম এভাবে আর কাজ হবে না ওর পিছনের পা দুটো টেনে টেনে ব্যায়াম করিয়ে দিলে ভালো হবে, তারপর পরথেকে টানা ২/৩ দিন দিলাম কোন কাজ হলো না। এরপর সে মাঝে মাঝে ওঠে দাড়ায় পতিদিন ১/২ বার করে, দাড়িয়ে থাকতে পারে ৩/৪ মিনিট করে। সাধোনার বয়স মাত্র ৫ দিন হল, একদিন হঠাৎ আমি দেখতে পেলাম ওর পিছনের ডান পায়ে কোন বল পাচ্ছে না। যেমন একটি মানুষের হাত ভেঙে গেলে যেমনটি দেখতে পাওয়া যায় এমন ভাবে ডান পাটি ঝুলে থাকে বাকি ৩ টি পা সাভাবিক অবস্থায় ভালো আছে। আমরা চিন্তা করলাম কি করব কি হবে সাধোনার মা কে নিয়ে। একজন ডাক্তার এসে বলল একে বিক্রি না করলে পায়ে পচন ধরবে এবং আসতেআসতে মৃত্যু বরন করবে। আমাদের পরিবারে সবার মন খারাপ হয়ে গেল একদম, আমরা জানি গরুটা একদম সুস্থ সবল কিছুই হয়নি। একে বিক্রি করব কেন আমরা কেউ সাধোনার মাকে বিক্রি করতে রাজি হয়নি। সাধোনা দুধ খাওয়ার জন্য ছটফট করে মায়ের কিন্তু কোন লাভ হয় না। আমার মা বাবা সাধোনার জন্য পাশোর বাড়ি থেকে দুধ কিনে এনে খায়ানো শুরু করল। একদিন আমাদের সবাইকে ফাকি দিয়ে সাধোনার মা চলে গেলেন।
# সাধোনার নাম রাখা নিয় কনফিউশান ছিলাম, আমি আমার পরিবারের সকল সদস্য কে বললাম সাধোনা কে অনেক কষ্ট করে পেয়েছি বড় আসা ছিলো ওকে ঘিরে। তাই মা বাবা ও সকল সদস্য কে রাজি করে আমি ওর নাম টি দিলাম
(((সাধোনা)))

10/12/2020

 একটা বাছুরের  বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাছুরের  খাদ্য পরিবেশেন তালিকা👉  পরিবেশন যোগ্য খাদ্য উপদান,১/ প্রথম সপ্তাহ সকা...

10/12/2020

 গরু মোটাতাজাকরণের বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিসামনে কোরবানির ইদ। এ সময় গবাদি প্রাণির চাহিদাকে সামনে রেখে .....

টার্কি মুরগি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন টার্কি কি?টার্কি মেলিয়াগ্রিস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের বড় পাখি। এক সময়ের টার্ক...
04/12/2020

টার্কি মুরগি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

টার্কি কি?

টার্কি মেলিয়াগ্রিস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এক ধরনের বড় পাখি। এক সময়ের টার্কি বন্য পাখী হলেও এখন তা গৃহে বা ফার্মে পালিত বড় আকারের পাখী । বাচ্চা অবস্থায় এগুলো দেখতে মুরগির বাচ্চার মতো। মেলিয়াগ্রিস গ্যালোপাভো প্রজাতির বুনো টার্কি উত্তর আমেরিকা ও মধ্য আমেরিকার বনাঞ্চলে বসবাস করে। গৃহপালিত টার্কি এই প্রজাতি থেকে ভিন্নতর। অন্য জীবিত প্রজাতির মধ্যে মেলিয়াগ্রিস ওসেলাটা বা চক্ষু আকৃতির চিহ্নবিশিষ্ট টার্কি আবাসস্থল হচ্ছে ইউকাতান উপ-দ্বীপের বনাঞ্চলে। বিশ্বের সর্বত্র টার্কি গৃহপালিত পাখি রূপে লালন-পালন করা হয়।
কোথা হতে টার্কি আসল

যখন ইউরোপীয়রা প্রথমবারের মতো টার্কিকে আমেরিকায় দেখতে পেয়েছিল, তখন তারা ভুলবশতঃ ভাবল যে পাখিটি এক ধরণের গিনিয়া মুরগি (নুমিডা মেলিয়াগ্রিস)। পরবর্তীকালে তারা তুরস্ক দেশ থেকে মধ্য ইউরোপে পাখিটিকে নিয়ে আসে। গিনিয়া মুরগি বা গিনিয়া ফাউলকে টার্কি ফাউল নামেও ডাকা হয়। তাই, তুরস্ক দেশের নামানুসারে উত্তর আমেরিকার পাখিটির নামকরণ করা হয় টার্কি। ১৫৫০ সালে ইংরেজ নাবিক উইলিয়ামাম স্ট্রিকল্যান্ড টার্কি পাখিকে সর্বপ্রথম ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন।
পৃথিবীর কোন কোন দেশে টার্কি পাওয়া যায়

এটি সর্বপ্রতশ গৃহে পালন শুরু হয় উত্তর আমেরিকায় । কিন্তু বর্তমানে ইউরোপ সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এই পাখী কম- বেশি পালন করা হয় । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টার্কি পাখির মাংস বেশ জনপ্রিয়। টার্কি বর্তমানে মাংসের প্রোটিনের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখছে । এর মাংসে প্রোটিন বেশি , চর্বি কম এবং আন্যান্য পাখীর মাংসের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। পশ্চিমা দেশসমূহে টার্কি ভীষণ জনপ্রিয় । তাই সবচেয়ে বেশি টার্কি পালন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ডে, ব্রাজিলে । তবে বাংলাদেশেও এখন ব্যাক্তি উদ্যোগে টার্কি চাষ শুরু হয়েছে । তৈরি হয়েছে ছোট-মাঝারি অনেক খামার। ইলেকট্রনিক মিডিয়া আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে বেকার যুবকদের অনেকেই টার্কি পালনে আহগ্রী হয়ে উঠেছেন। কিছু কিছু খামার থেকে টার্কির মাংস বিদেশে রপ্তানীর চেষ্টা চলছে। অচিরেই এ পাখির মাংশ রপ্তানী অর্থনীতিতে অবদান রাখবে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন টার্কি পাখি পালন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে

১। টার্কির মাংস সুস্বাদু এবং মাংস উৎপাদন ক্ষমতাও ব্যাপক ।
২। এটা ঝামেলাহীন ভাবে দেশী মুরগীর মত পালন করা যায় ।
৩। টার্কি পাখি ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে দ্রুত বাড়ে ।
৪। টার্কি পালনে তুলনামূলক খরচ অনেক কম, কারণ এরা দানাদার খাদ্যের পাশাপাশি শাক, ঘাস,লতাপাতা খেতেও পছন্দ করে ।
৫। টার্কির মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি, চর্বি কম । তাই গরু কিংবা খাসীর মাংসের বিকল্প হতে এ পাখির মাংস।
৬। টার্কির মাংসে অধিক পরিমাণ জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ ও ফসফরাস থাকে । এ উপাদানগুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবং নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায় ।
৭। টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ও ট্রিপটোফেন অধিক পরিমাণে থাকায় এর মাংস খেলে শরীওে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
৮। টার্কির মাংসে ভিটামিন ই অধিক পরিমাণে থাকে ।
৯। টার্কি দেখতে সুন্দর, তাই বাড়ির সোভা বর্ধন করে ।

এক নজরে টার্কি

১। ডিম দেয়া শুরুর বয়স ৩০ সপ্তাহ ।
২। পুরুষ ও স্ত্রীর অনুপাত ১ :৪ অথবা ১:৫ থাকলেই চলে।
৩। বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি ডিম দেয়।
৪। ডিম ফুটে বাচ্চা বেড় হয় ২৮ দিনে ।
৫। ২০ সপ্তাহে পুরুষ পাখীর গড় ওজন হয় ৬-৭ কেজি এবং স্ত্রী পাখীর ৩-৪ কেজি ।
৬। ১৪ থেকে ১৫ সপ্তাহই পুরুষ পাখির বাজারজাত করনের সঠিক সময়। আর স্ত্রী পাখীর ১৭-১৮ সপ্তাহ ।
পূর্ণাঙ্গ পুরুষ জাতীয় টার্কির মাথা ন্যাড়া থাকে। সাধারণতঃ এর মাথা উজ্জ্বল লাল রঙের হয়। কখনো কখনো সাদা কিংবা উজ্জ্বল নীলাভ রঙেরও হয়ে থাকে থাকে। পুরুষ টার্কি পাখি গবলার বা টম নামেও পরিচিত। এগুলো গড়ে লম্বায় ১৩০ সে.মি. বা ৫০ ইঞ্চি হয়। গড়পড়তা ওজন ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড হতে পারে। কিন্তু স্ত্রী জাতীয় টার্কি সাধারণতঃ পুরুষ পাখির তুলনায় ওজনে অর্ধেক হয়। বন্য টার্কি আত্মরক্ষার্থে দ্রুত দৌড়িয়ে গা ঢাকা দেয়। কিন্তু এটি স্বল্প দূরত্বে উড়তে পারে।
ডিম উৎপাদন

সাধারণত ৩০ সপ্তাহ বয়স থেকে টার্কি ডিম দেয়া শুরু করে । প্রতিটি স্ত্রী জাতীয় টার্কি প্রতিবাওে ৮ থেকে ১৫টি ছোট ছোট দাগের বাদামী বর্ণাকৃতির ডিম পাড়ে। ডিমের আকার আমাদের দেশের হাঁসের ডিমের আকৃতির হয়ে থাকে। ২৮ দিন অন্তর ডিম ফুটে বাচ্চা টার্কি জন্মায়।
প্রয়োজনীয় আলো বাতাস, পরিষ্কার পানি এবং খাবার সরবরাহ করা হলে বছরে ৮০-১০০ ডিম দিয়ে থাকে । ৬০-৭০ শতাংশ টার্কি মুরগী বিকেল বেলায় ডিম দেয় ।
টার্কি লালন পালন

শেড
টিন, ছন, খড়ের ছাদ দেয়া ঘর বা কনক্রিট দালানে টার্কি পাখি পালন করা যায়। টার্কি পাখি মুক্ত অবস্থায় ও আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা যায় ।
একটি টার্কির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গার তালিকা নিচে দেয়া হলো
বয়স জায়গা (ব.ফু) খাদ্যের পাত্র (সে.মি.) পানির পাত্র (সে.মি.)
০-৪ সপ্তাহ ১.২৫ ব.ফু ২.৫ সে.মি. ১.৫ সে.মি.
৫-১৬ সপ্তাহ ২.৫ ব.ফু ৫.০সে.মি. ২.৫ সে.মি.
১৬-১৯ সপ্তাহ ৪.০ ব.ফু ৬.৫ সে.মি. ২.৫ সে.মি.
প্রজননক্ষম ৫.০ ব.ফু ৭.৫ সে.মি. ২.৫ সে.মি.
লিটার ব্যবস্থাপনা
এই পদ্ধতিতে টার্কির জন্য সহজলভ্য দ্রব্য ব্যাবহার করা যায় । যেমন নারিকেলের ছোবড়া, পূর্ণ তুষ (কেনো ভাবেই ধানের কুড়া নয়) । প্রথমে ২-৩ ইঞ্চি পুরু লিটার তৈরি করতে হয় । পরে আস্তে আস্তে আরো উপাদান যোগ করে ৩ – ৪ ইঞ্চি করলে ভালো হয় । লিটারে সব সময় শুকনো দ্রব্য ব্যবহার করতে হবে । ভিজা লিটার তুলে সেখানে আবার শুকনো লিটার দিয়ে পূর্ণ করতে হবে ।
টার্কি পাখির কি খায়
বন্য টার্কি সাধারণতঃ বনভূমিতে পানির কাছাকাছি এলাকায় থাকতেই বেশি পছন্দ করে। ফসলের বীজ, পোকামাকড় এবং মাঝেমাঝে ব্যাঙ কিংবা টিকটিকি খেয়েও এরা জীবনধারণ করেন।
গৃহপালিত বা খামারে যারা টার্কি পালন করছেন তারা মোট খাবারের ৫০ ভাগ সবুজ ঘাস, শাক (পালং, সরিষা, কলমি, হেলেঞ্চা, সবুজ ডাটা, কচুরিপানা দিবেন। একটি পূর্ণ বয়স্ক টার্কির দিনে ১৪০- ১৫০ গ্রাম খাবার দরকার হয় । যেখানে ৪৪০০- ৪৫০০ ক্যালোরি নিশ্চিত করতে হবে । এছাড়া বয়লার বা লেয়ার মুরগীর খাবারও এরা খেয়ে থাকে।
সতর্কতা: শাকে অনেক সময় কীটনাশক থাকে। তাই শাক দেয়ার আগে এগুলো এক ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর তা কেটে খাওয়াতে হবে।
টার্কির খাবার সরবরাহের জন্য দুইটি পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় । যেমন ম্যাশ ফিডিং ও পিলেট ফিডিং ।
একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো:
ধান ২০%
গম ২০%
ভুট্টা ২৫%
সয়াবিন মিল ১০%
ঘাসের বীজ ৮%
সূর্যমুখী বীজ ১০%
ঝিনুক গুড়া ৭%
মোট ১০০%
সতর্কতা

অন্যান্য পাখির তুলনায় টার্কির জন্য বেশি ভিটামিন, প্রোটিন, আমিষ, মিনারেলস দিতে হয়। কোন ভাবেই মাটিতে খাবার সরবরাহ করা যাবে না । সব সময় পরিষ্কার পানি দিতে হবে ।
প্রজনন ব্যবস্থা
একটি বড় টার্কি পাখির জন্য ৪- ৫ বর্গ ফুট জায়গা নিশ্চিত করতে হবে । ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা থাকতে হবে । ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে । একটি মোরগের সঙ্গে ৩ বা ৪ টি মুরগী রাখা যেতে পারে । ডিম সংগ্রহ করে আলাদা জায়গায় রখতে হবে । ডিম প্রদানকালীন সময়ে টার্কিকে আদর্শ খাবার এবং বেশি পানি দিতে হবে ।
বাচ্চা ফুটানো
টার্কি নিজেই ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফোটায় । তবে দেশী মুরগী অথবা ইনকিউবেটর দিয়ে বাচ্চা ফুটালে ফল ভালো পাওয়া যায় । তাছাড়া বাচ্চা উৎপাদনের জন্য সময় নষ্ট না হওয়ার কারণে টার্কিও ডিম উৎপাদন বেশি করে ।
রোগ বালাই
পক্স, সালমোনেলোসিস, কলেরা , রানিক্ষেত মাইটস ও এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি দেখা যায় । পরিবেশ ও খামার অব্যবস্থাপনার কারণে অনেক রোগ সংক্রমণ হতে পারে ।
টিকা প্রদান
১ম দিন এন ডি ( বি১ স্টেরেইন )
৪ ও ৫ সপ্তাহে ফাউল পক্স
৬ সপ্তাহে এন ডি
৮-১০ সপ্তাহে ফাউল কলেরা
সতর্কতা
কোন অবস্থায় রোগাক্রান্ত পাখিকে টিকা দেয়া যাবে না। টিকা প্রয়োগ করার পূর্বে টিকার গায়ে দেয়া তারিখ দেখে নিবেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ টিকা প্রয়োগ করবেন না ।
এছাড়া নিয়ম মাফিক, পরিচ্ছন্ন খাদ্য ও খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনেক রোগ বালাই এড়িয়ে চলা সম্ভব ।
বাজার সম্ভাবনা

আমাদের দেশে
টার্কির মাংস পুষ্টিকর ও সুস্বাদু হওয়ায় এটি খাদ্য তালিকার একটি আদর্শ মাংস হতে পারে । পাশাপাশি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মাংসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। যাদের অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত মাংস খাওয়া নিষেধ অথবা যারা নিজেরাই এড়িয়ে চলেন, কিংবা যারা গরু/ খাসীর মাংস খায়না, টার্কি তাদের জন্য হতে পারে প্রিয় একটি বিকল্প । তাছাড়া বিয়ে, বৌ-ভাত, জন্মদিন সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খাসীর/গরুর মাংসের বিকল্প হিসেবে টার্কির মাংস হতে পারে অতি উৎকৃষ্ট একটি খাবার। এবং গরু/ খাসীর তুলনায় খরচ ও হবে কম ।
বাণিজ্যিক খামার করলে এবং মাংস হিসেবে উৎপাদন করতে চাইলে ১৪/১৫ সপ্তাহে একটি টার্কির গড় ওজন হবে ৫/৬ কেজি । ৪০০ টাকা কেজি দর হিসেব করলে একটি টার্কির বিক্রয় মূল্য দাঁড়াবে ২০০০/২৫০০ টাকা। ১৪/১৫ সপ্তাহ পালন করতে সর্বোচ্চ খরচ পরবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা । তাহলে কমপক্ষে একটি টার্কি থেকে ৫০০ টাকা লাভ করা সম্ভব।
বর্তমানে ছোট আকারের খামার করার যে চাহিদা দেশব্যাপী তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী ৩/৪ বছরে কয়েক লাখ টার্কির প্রয়োজন হবে। এবং সে ক্ষেত্রে দাম ও বেশি পাওয়া যাচ্ছে । ৩০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত বয়স ও রং ভেদে টার্কির জোড়া কেনা বেচা চলছে ।
টার্কির মাংস রপ্তানী
পৃথিবী বিভিন্ন দেশে টার্কির মাংস রপ্তানী সেই দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ব্রাজিল ২০১৫ সালে ১৩২৯০০ টন টার্কির মাংশ বিদেশে রপ্তানী করে। (সূত্র: ব্রাজিল এসোসিয়েশন অব এনিম্যাল প্রোটিন) । টার্কি পাখির খাদ্য সবুজ ঘাস, শাক লতাপাতা বাংলাদেশে সহজলভ্য। দেশে গড়ে উঠছে অসংখ্য ছোটবড় খামার। তাই বাংলাদেশও টার্কির মাংশ রপ্তানীতে অচিরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন। এক্ষেত্রে সরকারি সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

টার্কীর সমস্যা ও সমাধান ও টার্কির ১২ টি রোগ এবং চিকিৎসা

সমস্যা: টার্কির বাচ্চার কোন ধরনের রোগ হয় এবং এর জন্য কোন প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে কি?

সমাধান: টার্কির বাচ্চার অনেক রোগ হতে পারে যেমন ম্যারেক্স, গামবুরো, রাণিক্ষেত , কলেরা ইত্যাদি। এর জন্য এক দিন বয়সের বাচ্চা থেকে শুরু করে করে বিভিন্ন বয়সের টার্কিকে টিকা প্রদান করতে হবে।

সমস্যা: টার্কির বাচ্চা হয় এবং বাচ্চা অবস্থায় বাচ্চার চোখে ফোট আকৃতি হয় চোখ বন্ধ হয়ে পরে মাড়া যায়।

সমাধান: অসুস্থ্য টার্কিকে আলাদা করে রাখতে হবে। আক্রান্ত টার্কিকে ফাউল পক্স ভেক্সিন (বোতলেরে সাথে নির্দেশিকা মোতাবেক) দিতে হবে।

সমস্যা: টার্কি (৫-৭ টি) খাবার খায় না, নাক দিয়ে পানি পরে, ঝুটিতে পক্স হয়েছে, শ্বাস কষ্ট আছে , হাল্কা চুনা পায়খানা করে।

সমাধান: ডক্সিভেট/টাইরোসেফ আধা কেজি সমপরিমান ভাতের সাথে ৫-১০ গ্রাম ঔষধ মিশিয়ে রোগাক্রান্ত টার্কিগুলোকে খাওয়াতে হবে। অথবা রেনামাইসিন টেব্লেট (২ টি) আধা কেজি সমপরিমান ভাতের সাথে গুরা করে খাওয়াতে হবে।

সমস্যা: টার্কি জিমায়, চুনা চুনা পায়খানা করে, অবশেষে মারা যায়।

সমাধান: রেনামাইসিন ১ লিটার পানির সাথে ১ গ্রাম হারে মিশিয়ে পরপর ৫ দিন খাওয়াতে হবে।

সমস্যা: টার্কি চোখে গুটি, চোখ ফুলে বন্ধ হয়ে গেছে।

সমাধান: ১. পভিসেট তুলা দিয়ে আক্রান্ত স্থানে পরিষ্কার করতে হবে সকাল ও বিকালে।
২. ডিসপ্রিন ১টি টেবলেট পানিতে গুলিয়ে সকালে ১ বেলা খাওয়াতে হবে।

সমস্যা: টার্কির রক্ত আমাশয়।

সমাধান:
১.প্রতি লিটার খাবার পানিতে দুই গ্রাম ‘ইএসবি-৩’ ৩০% ঔষধ মিশ্রিত করে পর পর তিন দিন খাওয়ানোর পর আরও দুই দিন বন্ধ রেখে তারপর আরও দুইদিন খাওয়াতে হবে এবং তারপর আরও একদিনের খাবার পানিতে প্রতি লিটার দেড় গ্রাম হারে ঔষধ মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
২.’সিকাল রক্ত আমাশয়’ এর বেলায় ৬০ মিলি তরল এমবাজিন ১৩.৫ লিটার বিশুদ্ধ খাবার পানিতে অথবা ৪ এম, এল তরল এমবাজিন ১ লিটার বিশুদ্ধ খাবার পানিতে মিশিয়ে পর পর তিনদিন খাওয়ানোর পর দুইদিন ঔষধ বন্ধ রেখে শুধু পানি মেশানো খাওয়াতে হবে।
৩.আন্ত্রিক রক্ত আমাশয়ের বেলায় ৩০ মিলি তরলড় এমবাজিন।

সমস্যা: টার্কির মুখ কালো ও ফ্যাকাশে হয় এবং চুন পায়খানা করে মারা যায়।

সমাধান:ররেনামাইসিন প্রতি চারটি টার্কির জন্য প্রতিদিন একটি ট্যাবলেট খাদ্য বা পানির সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে পরপর তিন দিন।

সমস্যা: ব্রয়লার টার্কির বাচ্চার ১২/১৩ দিন সময় থেকে দেখা যায় খামারে ৫ থেকে ২৫% বাচ্চা দাড়িয়ে থেকে ঝিমায়, বাড়ে না, শুকিয়ে যায়, তলপেটে পানি জমে ফুলে থাকে। অবশেষে মারা যায়। এর প্রতিকার কি?

সমাধান: জেন্টামাইসিন ০.৩ মিলি হারে টার্কির বুকের মাংসে পরপর ৫ দিন ইনজেকশন দিতে হবে।

♦ধৈর্য সহকারে পড়ুন...♥♣জলে যতটুকু নামবেন ঠিক ততটুকুই ভিজবেন♠মূর্তি বনাম ভাস্কর্য : সমকালীন বিতর্কএকটি বিতর্ক : মূর্তি না...
03/12/2020

♦ধৈর্য সহকারে পড়ুন...♥
♣জলে যতটুকু নামবেন ঠিক ততটুকুই ভিজবেন♠

মূর্তি বনাম ভাস্কর্য : সমকালীন বিতর্ক

একটি বিতর্ক : মূর্তি না ভাস্কর্য ?

বিমানবন্দর গোল চক্করে লালনের ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছিল। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বাধার মুখে কর্তৃপক্ষ তা গত ১৫ অক্টোবর ২০০৮ তারিখে সরিয়ে নেয়। এরপর এ নিয়ে সৃষ্টি হয় তুমুল বিতর্ক। কিছু লোক এটি পুনস্থাপনের পক্ষে আন্দোলন শুরু করে। আবার অনেকে এখানে হজ মিনার নির্মাণের পক্ষে আন্দোলন আরম্ভ করে।

এদিকে কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবী বলছেন, 'বিমান বন্দর গোল চক্করে যা নির্মাণ করা হচ্ছিল ওটা মূর্তি নয়; ভাস্কর্য।' তারা 'মূর্তি' ও 'ভাস্কর্য'কে আলাদাভাবে সজ্ঞায়িত করতে চান। বুঝাতে চান দুটো এক জিনিস নয়। তাদের কথা, ইসলামে মূর্তি নিষিদ্ধ হলেও ভাস্কর্য নিষিদ্ধ নয়।

এ বিষয়টি আলোচনা করতে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা হবে :

আভিধানিক অর্থে ভাস্কর্য :

ভাস্কর্য অর্থ : Sculpture (স্কালপচার)। যে আকৃতি বা ছবি খোদাই করে তৈরি করা হয় তা-ই ভাস্কর্য। যেমন বলা হয় 'ভাস্কর্য বিদ্যা' এর অর্থ, The art of carving বা খোদাই বিদ্যা। যিনি এ বিদ্যা অর্জন করেছেন তাকে বলা হয় ভাস্কর (Sculptor) অর্থাৎ যিনি খোদাই করে আকৃতি বা ছবি নির্মাণ করেন। যেমন আছে অক্সফোর্ড অভিধানে- One who carves images or figures. অর্থাৎ যে ছবি অথবা আকৃতি খোদাই করে তৈরি করে। পক্ষান্তরে মূর্তি অর্থ ছায়া বা এমন আকৃতি-শরীর, যার ছায়া আছে।

ভাস্কর্য ও মূর্তির আভিধানিক অর্থে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা গেল। এককথায় যে সকল আকৃতি খোদাই করে তৈরি করা হয় তা ভাস্কর্য- রৌদ্র বা আলোর বিপরীতে যার ছায়া পড়ে না। আর যে সকল আকৃতি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়, রৌদ্রে বা আলোর বিপরীতে যার ছায়া প্রকাশ পায়, তা হল মূর্তি। বিভিন্ন অভিধানে এভাবেই বলা হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হল, যে আকৃতিটা বিমান বন্দর গোল চক্করে নির্মাণ করা হচ্ছিল, এ সংজ্ঞার বিচারে তা কি ভাস্কর্য- যেমনটি বলেছেন এর পক্ষের পণ্ডিত বুদ্ধিজীবীগণ- না মূর্তি- যেমনটি মনে করেছে মাদরাসার মূর্খ (?) অবুঝ ছাত্ররা?

যারা সেটি প্রত্যক্ষ করেছেন নিজ চোখে কিংবা ছবিতে, তারা সকলেই দেখেছেন যে, ওটা এমন আকৃতি যার ছায়া আছে। এবং সেটি কোন কিছুর ওপর খোদাই করে নির্মাণ করা হয়নি। কাজেই বুঝা যাচ্ছে আভিধানিক অর্থে সেটি মূর্তি ছিল; ভাস্কর্য নয়।

এখন প্রশ্ন হল, যে সকল পণ্ডিত-বুদ্ধিজীবী বলেছেন ওটা মূর্তি নয়; ভাস্কর্য তারা কী ভুল করেছেন? কীভাবে ভুল করবেন? তারা বিমান বন্দরের আশেপাশে অবস্থিত মাদ্রাসার ছাত্রদের থেকে অভিধানে বিষয়ে অনেক বেশি বিজ্ঞ তা বলাই বাহুল্য। (বুদ্ধিজীবীদের ধারণায়) এরা অভিধান দেখে কি-না তাতে সন্দেহ আছে পক্ষান্তরে তারা অভিধান শুধু ঘাঁটেনই না রচনাও করেন।

আমি এর উত্তর খুঁজতে চেয়ে যা বুঝেছি তা হল

এক... সম্ভবত বুদ্ধিজীবীরা ওখানে নির্মিতব্য লালনের আকৃতিটা দেখেননি। তারা মতলববাজ মিডিয়ায় প্রচারিত 'ভাস্কর্য' শব্দটি শুনে মনে করেছেন সত্যিই ওটা ভাস্কর্য- যা কোনো দেয়ালে বা স্থাপনায় খোদাই করে নির্মাণ করা হচ্ছিল।

দুই... তারা মনে করেছেন, যদিও ওটা আভিধানিক অর্থে মূর্তি; ভাস্কর্য নয়। কিন্তু পারিভাষিক অর্থে ভাস্কর্য। তারা মনে করেছেন, যে সকল আকৃতি পূজা অর্চনার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয় সেগুলোকে মূর্তি বলে। আর যা পূজার জন্য নয়, তার নাম ভাস্কর্য।

তিন... তারা খুব ভাল করেই জানেন যে, ভাস্কর্য ও মূর্তির মধ্যে আভিধানিক পার্থক্য কী? কিন্তু তারা ওটা নির্মাণের পক্ষে। আর মাদ্রাসার ছাত্ররা যেহেতু এদুয়ের মধ্যকার পার্থক্য বুঝে না, তাই সহজেই তাদের বিভ্রান্ত করা যাবে। বিশ্বাস করানো যাবে যে ওটি আসলে মূর্তি নয়। কাজেই এ নিয়ে তোমাদের প্রতিবাদ বা আন্দোলন করার কিছু নেই। তোমাদের এ আন্দোলন নিছক অর্বাচীনতা বৈ কিছুই নয়।

প্রথম উত্তরের জবাবে বলা যায়, যদি তারা নির্মিতব্য লালন আকৃতিটি না দেখে থাকেন, তাহলে তাদের এ বিষয়ে ফতোয়া দেয়া মোটেই উচিত হয়নি। কোনো বিষয়ে মতামত দিতে হলে ভালভাবে জেনে বুঝে নিতে হয়। এ কথায় তারা ভিন্নমত পোষণ করবেন বলে মনে করি না।

দ্বিতীয় উত্তরের জবাবে বলতে চাই, আপনারা যেমন মনে করেছেন যে, পারিভাষিক অর্থে, যে আকৃতির পূজা করা হয় সেটি মূর্তি। আর যার পূজা করা হয় না সেটি ভাস্কর্য। আপনাদের এ ব্যাখ্যা কোথাও প্রচলিত নয়। যা প্রচলিত নয়, তা কখনো পারিভাষিক অর্থ বলে গণ্য হয় না। বরং ছায়া আছে এমন সকল আকৃতিকে মূর্তি বলে মানুষ জানে ও জানায়। যেমন আমরা দেখেছি যখন লেলিনের দেহটি টেনে নামানো হল, তখন সকলে বলেছে 'লেলিনের মূর্তি ..' এমনিভাবে যখন সাদ্দামের আকৃতি টেনে নামানো হল, তখন সকলে বলল, 'সাদ্দামের মূর্তি নামিয়ে ফেলা হয়েছে।' তখন কেউ ভাস্কর্য বলেছে বলে শুনিনি। এমনিভাবে লোকে বলে ফেরআউনের মূর্তি, আব্রাহাম লিঙ্কনের মূর্তি ইত্যাদি। এ দুটো উদাহরণে প্রমাণ পাওয়া গেল যে, ওই আকৃতিগুলোর ছায়া ছিল ও খোদাই করে নির্মিত নয় বলে ওগুলো মূর্তি। আর ওগুলো পূজার জন্য স্থাপন করা হয়নি, তবু তা মূর্তি। অতএব দেখা গেল, ভাস্কর্য ও মূর্তির আভিধানিক অর্থই পারিভাষিক অর্থ হিসাবে প্রচলিত। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য। পূজার জন্য হলেও মূর্তি, পূজার জন্য না হলেও মূর্তি। এখানে আমাদের বুদ্ধিজীবী ও পণ্ডিতদের জ্ঞানের দৈন্যতার আরেকটি প্রকাশ! তাদের প্রতি করুণা হয়!
তৃতীয় উত্তরের জবাবে বলব, অন্যকে বোকা বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার প্রচেষ্টা কোনো নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না। যারা মানুষকে জ্ঞান দিতে চান তাদের থেকে এ ধরনের আচরণ জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক।

কাজেই বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে যে সকল মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে তাকে ভাস্কর্য বলে চালিয়ে দেয়া একটি মূর্খতা, একটি কাপুরুষতা, একটি কপটতা। উদ্দেশ্য হল, ভাস্কর্য শিল্পের নামে ইসলামি সংস্কৃতির বিরোধিতা করা এবং অন্ধকার যুগের পৌত্তলিক সংস্কৃতি-কে বাঙালীর সংস্কৃতি বলে প্রতিষ্ঠিত করা।

এক বুদ্ধিজীবীর ফতোয়া

প্রিন্ট মিডিয়াতে এ বিষয়ে অনেক বুদ্ধিজীবীর ফতোয়া প্রকাশিত হয়েছে। আমি এর মধ্য থেকে বহুল পঠিত একটি প্রবন্ধের কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরছি- তিনি 'এখন কোথায় যাব কার কাছে যাব' শিরোনামে লিখেছেন,
'আমাদের মহানবী (সা.) কাবা শরিফের ৩৬০ টি মূর্তি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেয়ালের সব ফ্রেসকো নষ্ট করার কথাও তিনি বললেন। হঠাৎ তাঁর দৃষ্টি পড়ল কাবার মাঝখানের একটি স্তম্ভে। যেখানে বাইজেন্টাইন যুগের মাদার মেরির একটি অপূর্ব ছবি আঁকা। নবীজী (সা.) সেখানে হাত রাখলেন এবং বললেন, এই ছবিটা তোমরা নষ্ট করো না। কাজটি তিনি করলেন সৌন্দর্যের প্রতি তাঁর অসীম মমতা থেকে। মহানবীর (সা.) ইন্তেকালের পরেও ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ধর্মপ্রাণ খলিফাদের যুগে কাবা শরিফের মতো পবিত্র স্থানে এই ছবি ছিল, এতে কাবা শরিফের পবিত্রতা ও শালীনতা ক্ষুণ্ন হয়নি। (মহানবীর (সা.) প্রথম জীবনীকার ইবনে ইসহাকের (আরব ইহিহাসবিদ, জন্ম : ৭০৪ খৃষ্টাব্দ মদিনা, মৃত্যু : ৭৬৭ খৃষ্টাব্দ) লেখা দি লাইফ অব মোহাম্মদ গ্রন্থ থেকে ঘটনাটি বললাম। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত বইটি অনুবাদ করেছেন আলফ্রেড গিয়োম (প্রকাশকাল ২০০৬ পৃ. ৫৫২)।

আমরা সবাই জানি, হজরত আয়েশা (রা.) নয় বছর বয়সে নবীজীর (সা.) সহধর্মিণী হন। তিনি পুতুল নিয়ে খেলতেন। নবীজীর তাতে কোনো আপত্তি ছিল না, বরং তিনিও মজা পেতেন এবং কৌতূহল প্রদর্শন করতেন। (মুহাম্মদ আলী আল-সাবুনী, রাওযাইউল বয়ন, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৩) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হজরত ওমর (রা.) জেরুজালেম জয় করেন। প্রাণীর ছবিসহ একটি ধুপদানি তাঁর হাতে আসে। তিনি সেটি মসজিদ-ই-নব্বীতে ব্যবহারের জন্য আদেশ দেন। (আব্দুল বাছির, ইসলাম ও ভাস্কর্য শিল্প : বিরোধ ও সমন্বয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদ পত্রিকা, জুলাই ২০০৫, জুন ২০০৬)
পারস্যের কবি শেখ সাদীকে কি পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু আছে? উনি হচ্ছেন সেই মানুষ যার নাত এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মিলাদে সব সময় পাঠ করে থাকেন। মাদ্রাসার উত্তেজিত বালকেরা শুনলে হয়তো মন খারাপ করবে যে, শেখ সাদীর মাজারের সামনেই তার একটি মর্মর পাথরের ভাস্কর্য আছে। সেখানকার মাদ্রাসার ছাত্ররা তা ভাঙেনি। ইসলামের দুজন মহান সুফিসাধক, যাঁদের বাস ছিল পারস্যে (বর্তমান ইরান) এঁদের একজনের নাম জালালুদ্দীন রুমি। অন্যজন ফরিদউদ্দীন আত্তার (নিশাপুর)। তাঁর মাজারের সামনেও তাঁর আবক্ষমূর্তি আছে। (বরফ ও বিপ্লবের দেশে, ড. আবদুস সবুর খান, সহকারী অধ্যাপক, ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।) কঠিন ইসলামিক দেশের একটির নাম লিবিয়া। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলিতে বিশাল একটা মসজিদ আছে। মসজিদের সামনেই গ্রিকদের তৈরি একটি মূর্তি স্বমহিমায় শোভা পাচ্ছে। সেখানকার মাদ্রাসার ছাত্ররা মূর্তিটা ভেঙে ফেলেনি।

বিগত ২৭ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে লেখাটি ছাপা হয়।

এ লেখা থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় জানতে পারি আর কয়েকটি প্রশ্ন করতে পারি :

১... যদি ইবনে ইসহাকের বর্ণিত তথ্য সত্য হয়ে থাকে তাহলে জানার ইচ্ছা জাগে, যে ছবিটি রাসূল সা. রেখে দিলেন সেটি কোথায় গেল? কোনো মাদ্রাসার ছাত্র সেটা নষ্ট করে দিল? মুসলমানগণ ইবনে ইসহাকের তথ্য গ্রহণ করবেন, না আল্লাহর রাসূল সা. এর নির্দেশ মেনে চলবেন?

২... আয়েশা রা. যখন পুতুল নিয়ে খেলতেন তখন তিনি বয়সে ছোট ছিলেন। তখন ইসলামি অনুশাসন তাঁর ওপর বর্তায়নি বলে রাসূল সা. তাঁকে পুতুল খেলতে নিষেধ করেননি। কিন্তু যখন বয়স্ক হলেন, তখন সামান্য ছবিও তাকে রাখতে নিষেধ করেছেন। আয়েশা রা. এর মুখেই শোনা যাক। তিনি বলেছেন, রাসূল সা. একদিন সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি একটি পর্দা টানিয়েছিলাম। যাতে খুদে প্রাণীর ছবি ছিল। রাসূল সা. যখন এটা দেখলেন, ক্রোধে তার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে আয়েশা! কেয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি তার হবে, যে আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য নির্মাণ করে।' অতপর আমি সেটাকে টুকরো করে একটি বা দুটি বালিশ বানালাম।

৩... উমর রা. ধুপদানিটি মসজিদে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন প্রাণীর ছবিটি প্রদর্শনের জন্য নয়। ধুপদানিটি ধুপ দানের কাজে ব্যবহারের জন্য। প্রাণীর ছবি অস্পষ্ট থাকলে এ ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করতে সমস্যা নেই।

৪... শেখ সাদি, রুমি, আত্তারের কবরে যে সকল মূর্তি আছে সেগুলো তারা নিজেরা স্থাপন করেননি। করার জন্য কাউকে নির্দেশও দিয়ে যাননি।

৫... রুমি ও আত্তারের কবরে স্থাপিত আকৃতিকে লেখক 'মূর্তি ' বলে উল্লেখ করেছেন। লিবিয়াতে স্থাপিত আকৃতিকে মূর্তি বলে উল্লেখ করেছেন। ভাস্কর্য বলেননি। এতে প্রমাণিত হল, যা পূজা করা হয় না, এমন আকৃতিকেও মূর্তি বলা হয়। শুধু সাধারণ মানুষেরা নয়, লেখকের মত বড় বড় পণ্ডিত ও ভাষাবিদরাও বলেন।

৬... বিভিন্ন মুসলিম দেশে যে সকল মূর্তি স্থাপিত আছে, সেগুলো তাদের সমস্যা। দায় তাদের। এর সাথে ইসলামের কী সম্পর্ক? ইসলামের সম্পর্ক আল্ল্লাহর বাণী ও রাসূলের আদর্শের সাথে। কুরআন ও সুন্নাহতে যা পাওয়া যাবে সেটা ইসলাম বলে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। কোনো মুসলমানের আচার-আচরণ, কাজ-কর্ম ইসলাম নয়। যদি তা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অনুমোদিত হয়, তবে ভিন্ন কথা।

৭... কোথাও কোনো বিষয় দেখলেই সেটা অনুসরণযোগ্য মনে করা বিশুদ্ধ ইসলামি চেতনার পরিপন্থী। অনুসরণ করতে হলে দেখতে হবে এটা ইসলামে অনুমোদিত কিনা। ইসলামে যদি অনুমোদিত না হয়, তবে মক্কা শরিফের ইমাম সাহেব করলেও গ্রহণযোগ্য হবে না। মক্কার বড় ইমাম সাহেব কাবা ঘরে ভাস্কর্য নির্মাণ করলেও তা মিটিয়ে দিতে হবে। রাসূল সা. কাবার মূর্তি অপসারণের সময় নবী ইবরাহিম আ. ও নবী ইসমাঈল এর মূর্তিগুলোকেও রেহাই দেননি। এ বিষয়টি বুখারিসহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে।

৮... শ্রদ্ধেয় লেখক প্রবন্ধটি লিখতে যে গবেষণা করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ দিতে হয়। সাথে সাথে তাকে বলতে মনে চায়, এ সকল বিষয়ে আমেরিকান বই পত্র পড়ার সাথে সাথে কোনো ইসলামিক স্কলারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আল-কুরআন ও হাদিস অধ্যায়ন করা উচিত। আর যদি মনে করেন, এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত দেয়ার মত ইসলামিক স্কলার দেশে নেই, তাহলে কর্তব্য হবে, নিজে কুরআন ও হাদিস শিখে নিয়ে সেই দায়িত্বটা পালন করা।

ভাস্কর্য সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি কী ?

ছবি, ভাস্কর্য, মূর্তি ইত্যাদিকে ইসলাম দু'ভাগে ভাগ করে।

এক... প্রাণীর ছবি।

দুই... প্রাণহীন বস্তুর ছবি।

প্রাণীর ছবি, ভাস্কর্য, মূর্তি একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত তৈরি করা যাবে না। প্রদর্শন করা যাবে না। স্থাপন করা যাবে না। হাদিসে এসেছে- আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসূল' সা. একদিন সফর থেকে ফিরে আসলেন। আমি একটি পর্দা টানিয়েছিলাম। যাতে প্রাণীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছবি ছিল। রাসূল সা. যখন এটা দেখলেন, ক্রোধে তার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তিনি বললেন, হে আয়েশা, কেয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি তার হবে, যে আল্লাহর সৃষ্টির সাদৃশ্য নির্মাণ করে।' অতপর আমি সেটাকে টুকরো করে একটি বা দুটি বালিশ বানালাম।

আলী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. আমাকে নির্দেশ দিয়ে পাঠালেন যে, 'কোনো প্রতিকৃতি রাখবে না। সবগুলো ভেঙে দেবে। আর কোনো উঁচু কবর রাখবে না। সবগুলো সমতল করে দেবে।'
আবু তালহা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন,
'যে ঘরে কুকুর ও প্রতিকৃতি আছে সেখানে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।' (বুখারি, মুসলিম)

প্রাণী ব্যতীত যে কোনো বস্তুই হোক তার ছবি, ভাস্কর্য, মূর্তি ইত্যাদি অঙ্কন, নির্মাণ, স্থাপন ও প্রদর্শন করা যাবে। কারণ, হাদিসে যে সকল নিষেধাজ্ঞার কথা এসেছে তার সবই ছিল প্রাণীর ছবি বিষয়ে। কেউ যদি কোনো ফুল, ফল, গাছ, নদী, পাহাড়, চন্দ্র, সূর্য, ঝর্ণা, জাহাজ, বিমান, গাড়ি, যুদ্ধাস্ত্র, ব্যবহারিক আসবাব-পত্র, কলম, বই ইত্যাদির ভাস্কর্য তৈরি করে সেটা ইসলামে অনুমোদিত।

ভাস্কর্য-মূর্তি সম্পর্কে ইসলাম কঠোর কেন ?
যতগুলো পৌত্তলিকতা বিরোধী ধর্ম আছে তার মধ্যে ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ও পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে সবচে' বেশি সোচ্চার। পৌত্তলিকতা মানে এক কথায় বলা যায়, মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি মারাত্মক অবিচার।
ক্ষমার অযোগ্য অন্যায়। তাঁর প্রভূত্বকে অস্বীকার করে তা অন্যকে প্রদান। তাঁর প্রাপ্য উপাসনা অন্যকে নিবেদন করা। অবশ্য যারা ভোগবাদী দর্শনে বিশ্বাসী, সৃষ্টিকর্তা ও পরকাল যাদের কাছে গুরুত্বহীন, তাদের কাছে পৌত্তলিকতা আর একত্ববাদ কোনো বিষয় নয়। এটা কোনো আলোচ্য বিষয় হওয়ার যোগ্যতাই রাখে না। তারা আমার এ কথাগুলো থেকে কোনো কিছু বুঝতে পারবেন না।

ছবি, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য আর মূর্তিকে ইসলাম পৌত্তলিকতার প্রধান উপকরণ মনে করে। শুধু মনে করা নয়, তার ইতিহাস, অভিজ্ঞতা স্পষ্ট। শুধু ইসলাম ধর্ম যে পৌত্তলিকতাকে ঘৃণার চোখে দেখে তা নয়। বরং আরো দুটি একেশ্বরবাদী ধর্ম ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও তা ঘৃণিত। আর এ পৌত্তলিকতার সূচনা হয়েছিল ছবি বা প্রতিকৃতির মাধ্যমে।

ছবি ও ভাস্কর্যের পথ ধরেই যুগে যুগে পৌত্তলিকতার আগমন ঘটেছে। আর এ পৌত্তলিকতার অন্ধকার থেকে তাওহিদের আলোতে নিয়ে আসার জন্যই আল্লাহ যুগে যুগে নবী ও রাসূলদের পাঠিয়েছেন। আজীবন তাঁরা এ পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছেন। অনেকে জীবন দিয়েছেন। অনেকে দেশ থেকে বিতারিত হয়েছেন। এ জন্যই ইসলাম ও অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্ম মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে সোচ্চার। মূর্তিপূজা ও পৌত্তলিক সংস্কৃতির বিরোধিতা করা তাদের ধর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

যদি পূজা উপাসনার জন্য মূর্তি নির্মিত না হয় তবুও ?
অনেকেই ফতোয়া দিয়ে বসেন, এ ছবি, এ প্রতিকৃতি, এ ভাস্কর্যতো পূজার জন্য নয়। এতে দোষের কী? দোষের কিছু আছে কিনা তা জানতে প্রশ্ন করা দরকার, আপনি ছবিটা কেন টানাবেন, অর্থ, শ্রম, সময় ও মেধা খরচ করে ভাস্কর্যটা কেন নির্মাণ করবেন? এর উত্তর হতে পারে একাধিক। যেমন-

(ক) মূর্তিটি যার বা প্রতিকৃতিটি যার, তাকে স্মরণীয় করে রাখতে এ কাজটি আমরা করে থাকি। ভাল কথা, সে ভাল মানুষ, তাকে স্মরণীয় করে রাখা হোক এটা ইসলাম অনুসারীরাও চায়। কিন্তু তাকে স্মরণীয় করে রাখতে এ পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনো পদ্ধতি আছে কিনা? যদি বিকল্প থাকে, তাহলে যা ইসলাম পছন্দ করে না এমন পদ্ধতি অবলম্বন করতে আমরা বাধ্য কেন? কে আমাদের বাধ্য করে? কে আমাদের প্ররোচিত করে?

এ পদ্ধতিতে তাকে স্মরণীয় করে রাখতে অন্য মানুষের কোনো কল্যাণ আছে কি না? যদি না থাকে তাহলে আমরা এমন অনর্থক কাজ কেন করব যা মৃত মানুষকে কোনো কল্যাণ দেয় না। যা জীবিত মানুষের কোনো উপকারে আসে না? তার নামে একটি হাসপাতাল, একটি ইয়াতিমখানা, একটি নলকূপ, একটি রাস্তা, একটি স্কুল নির্মাণ ইত্যাদি জনহিতকর কাজ করেও তাকে স্মরণীয় করে রাখা যায়। এতে তারও কল্যাণ, আর অন্যান্য মানুষেরও কল্যাণ। এ ভাল পদ্ধতি বাদ দিয়ে আমরা খারাপ পদ্ধতি গ্রহণ করব কার নির্দেশে?

(খ) মূর্তিটি যার তাকে সম্মান ও ভালোবাসা জানাতে তার ভাস্কর্য নির্মাণ করে থাকি। ভাল কথা, তার প্রতি সম্মান জানাতে ইসলাম অনুসারীরাও চায়। কিন্তু এ সম্মানের পদ্ধতিটা ইসলাম বিরোধী হতে হবে কেন? সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা এমন পদ্ধতিতে হওয়া দরকার যাতে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এতে অংশ নিতে পারে। আর মূর্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হল মূর্তি পূজা। যারা মূর্তিকে পূজা করে, তারাও তো এ সাকার মূর্তির মাধ্যমে অনুপস্থিত সত্তার সম্মান করে। মূর্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শনতো একটি বিশেষ ধর্মীয় রীতি।

যদি বলা হয়, আসলে মূর্তির প্রতি আমাদের সম্মান নয়। শ্রদ্ধা প্রদর্শন নয়। তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা নেই। বরং এটা হল যার মূর্তি তারই জন্য। তাহলে বলব, যে মূর্তির প্রতি আপনাদের কোনো শ্রদ্ধা নেই, ভালোবাসা নেই, কেউ সে মূর্তিটা ভাঙ্গতে চাইলে আপনাদের ব্যথা লাগে কেন? এ ব্যথা লাগার অনুভূতিই প্রমাণ করে আসলে আপনাদের ভালোবাসা ও সম্মান মূর্তির জন্য নিবেদিত। এটাই তো স্পষ্ট মূর্তিপূজা। ভাবতে আশ্চর্য লাগে, কত বড় মূর্খতা ও জাহেলিয়াত। একটি মূর্তি যা মানুষের কোনো কল্যাণে আসে না বরং পরোক্ষভাবে অকল্যাণই করে, তার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে জীবিত, সমাজে সমাদৃত মানুষগুলোকে অপমান করা হয়। এর চেয়ে মূর্তি পূজার বড় দৃষ্টান্ত আর কী হতে পারে?

ইবরাহিম আ. তার পিতা ও সম্প্রদায়কে জিজ্ঞেস করলেন,

'তোমরা এ মূর্তিগুলোর সামনে অবস্থান কর কেন?' তারা বলল, 'আমাদের পূর্বপুরুষদের এ রকম করতে দেখেছি।' ইবরাহিম বলল, 'যদি তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা স্পষ্ট ভ্রান্তিতে থাকে তবুও তাদের অনুসরণ করবে?' (আম্বিয়া : ৫২-৫৪)
যারা এখন এগুলো করে তাদের কাছে এ কাজের সমর্থনে এর চেয়ে ভাল কোনো জওয়াব নেই।

(গ) বলা হতে পারে মূর্তির প্রতি সম্মান বা ভালোবাসা প্রদর্শন উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হল আমাদের জাতীয় পরিচয়, দেশজ সংস্কৃতি তুলে ধরা। ভাল কথা, জাতীয় পরিচয়, দেশজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে সকল জাতির ও সব দেশের লোকেরাই চায়। এটা দেশ প্রেম সন্দেহ নেই। কিন্তু বাংলাদেশিদের সংস্কৃতি মূর্তির মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে এটা কোন সংস্কৃতির প্রকাশ। আমাদের সংস্কৃতিতে মূর্তি গড়ার সংস্কৃতি কোথায়? এটা ভারতের সংস্কৃতি হতে পারে বাংলাদেশের নয়। কাজেই যা আমাদের নয়, তা আমাদের বলে চালিয়ে দেয়া তো অন্যায় কাজ। আলোচিত লালন মূর্তির নির্মাতা মৃণাল হককে বিবিসি থেকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওটা নির্মাণ করতে বিমান বন্দর চত্বর কেন বেছে নিলেন? তিনি উত্তরে বললেন, 'বাহির থেকে মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেই যেন আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে যায়। এ জন্য ওই স্থানটিকে বেছে নেয়া।'
কত চমৎকার জওয়াব! বাহির থেকে মানুষ এসেই যেন ধারণা করে বাংলাদেশি সমাজ ও সংস্কৃতি হল একটি পৌত্তলিক সংস্কৃতি। এরা শুধু একতারা দোতারা সেতারা নিয়েই ব্যস্ত থাকে। মৃণালের কথায় প্রমাণ, এটা ছিল বাংলাদেশি জাতির ওপর চাপিয়ে দেয়া একটি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন।

কিন্তু তারা এতটুকু ভাবল না, এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মপ্রাণ মানুষ যতবার এটা দেখবে ততবার অভিশাপ দেবে। এ স্থান থেকে হাজার হাজার হজ যাত্রী পৌত্তলিকতা ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে দিতে মূর্তিমুক্ত পবিত্র মক্কার উদ্দেশ্যে হজ করতে যায়, উমরা করতে যায়। আবার এ পথেই ফিরে আসে। এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে মারাত্মকভাবে।

একটি ভাস্কর্য যতই সুন্দর হোক, তা যদি ইসলামি সংস্কৃতির কোনো পরিচয় বহন করে তাহলে তা ভারত বা আমেরিকা তাদের দেশের উন্মুক্ত স্থানে স্থাপন করতে দেবে না। তারা বলবে, 'এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।' বাংলাদেশে কেন এমন ভাস্কর্য স্থাপিত হবে, যা এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে? যা একশ ভাগই একটি পৌত্তলিক গোষ্ঠীর সংস্কৃতির অংশ।
বলা হচ্ছে, ইরানে মূর্তি আছে, ইরাকে আছে, লিবিয়াতে মূর্তি আছে, ইন্দোনেশিয়াতে মূর্তি আছে। আরো অনেক মুসলিম দেশে আছে। তাহলে আমাদের দেশে থাকলে ক্ষতি কী? ভাল কথা। মুসলিম দেশে কোনো খারাপ বস্তু থাকলে সেটা গ্রহণ করা যায়, কিন্তু কোনো ভাল বিষয় থাকলে তা গ্রহণ করা যায় না?! অনেক মুসলিম দেশে শরিয়া আইন চালু আছে। আছে ইসলামি পারিবারিক আদালত আছে। কিংবা সেখানে সুদি কারবার নিষিদ্ধ। অনেক মুসলিম দেশে সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা নেই। অথচ মুসলিম দেশে যদি ইসলাম পরিপন্থী কিছু থাকে তাহলে সেটা আমাদের অনুসরণ করতে হবে! আপনাদের ব্যাপারে কী তাহলে আল্লাহর সে বাণীই প্রযোজ্য, যেখানে তিনি বলেছেন-
'তারা সঠিক পথ দেখলেও তাকে পথ হিসাবে গ্রহণ করবে না। আর ভ্রান্ত পথ দেখলে পথ হিসাবে গ্রহণ করবে। এটা এ জন্য যে, তারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে এবং সে সম্পর্কে তারা ছিল অমনোযোগী।' (নিসা : ১১৫)

সমাপ্ত

লেখক: আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

تأليف : عبد الله شهيد عبد الرحمن

সম্পাদনা: আলী হাসান তাইয়েব

مراجعة : علي حسن طيب

সূত্র: ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়াহ, রিয়াদ, সৌদিআরব

المكتب التعاوني للدعوة وتوعية الجاليات بالربوة بمدينة الرياض

© Collected from:

Address

Khagrachari

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when গৃহপালিত পশু ও পাখি পালন পদ্ধতি posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to গৃহপালিত পশু ও পাখি পালন পদ্ধতি:

Share