24/09/2025
শূন্যতার পথে
সন্ধ্যার আলো ফিকে হয়ে আসছিলো। আকাশের রঙ যেন আমার ভেতরের মতোই ধূসর। আমি হঠাৎই হাঁটতে বের হলাম। কোনো গন্তব্য ঠিক ছিল না। শুধু মনে হচ্ছিলো—বসে থাকলে বুকের ভেতরের শূন্যতা আরও ঘন হয়ে আসবে।
রাস্তার ভিড়ের মধ্যে আমি একেবারেই আলাদা। সবাই ব্যস্ত নিজের ছন্দে, আর আমি হাঁটছি অন্যমনস্কভাবে। চোখ সামনে থাকলেও মন ছুটছে অন্য কোথাও।
হঠাৎ পরিচিত এক মানুষ থেমে জিজ্ঞেস করল
—কোথায় যাচ্ছ?
আমি অদ্ভুতভাবে হাসি দিয়ে উত্তর দিলাম
—এই তো সামনে…
কথাটা বলেই মনে হলো বুকের ভেতরে ঢেউ উঠছে। আসলে আমি কোথায় যাচ্ছি? কেনই বা যাচ্ছি? নিজের কাছেই প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিলাম। উত্তর অবশ্য পাইনি।
আমি হাঁটতেই থাকলাম। পরিচিত রাস্তা গুলো হঠাৎ অচেনা হয়ে উঠল। প্রতিটি মোড় যেন অন্য এক জগতে নিয়ে যাচ্ছিলো আমাকে। মনে হলো—আমি এই শহরের মানুষ হয়েও এ শহরে নেই, আমি শুধু নিজের ভেতরের শূন্যতার মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছি।
একসময় রাস্তার পাশে থেমে বসে পড়লাম। চারপাশের শব্দ কানে এলেও মনে হলো সবকিছু দূরের কোনো গ্রহে ঘটছে। আমার ভেতরে তখন কেবল নিস্তব্ধতা।
আমি ভাবলাম—এই শূন্যতাই হয়তো আমার আসল সঙ্গী। মানুষ পাশে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমাকে একাই লড়াই করতে হয়। প্রিয় মানুষ চলে যায়, স্বপ্ন ভেঙে যায়, কিন্তু শূন্যতা কখনো আমাকে ছেড়ে যায় না।
আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে বললাম
-হয়তো শূন্যতা আমার চেয়ে ভালো জানে আমি কে, আর কোথায় যাচ্ছি।
সেদিনের হাঁটা শেষ হলেও, আমার ভেতরের যাত্রা তখনই শুরু হয়েছিল। আমি বুঝতে পারলাম
-জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ, যত অন্যমনস্কভাবেই হোক না কেনো, আমাকে ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের সত্যের দিকে নিয়ে যায়।
#শূনতার #পথে #গল্প