11/04/2020
বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য আমরা মাঝে মাঝেই বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজতে থাকি। অথচ আমরা অনেকেই জানি না, এই বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে আমরা বাড়িতে সোলার প্যানেল বসাতে পারি। সোলার প্যানেল বাড়িতে স্থাপন যেমন সহজ তেমনি সাশ্রয়ীও। মূলত সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সূর্যের আলো থেকে শক্তি আহরণ করে তা বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা হয়। তারপর সেই বিদ্যুৎ দিয়ে বাতি, পাখা, টেলিভিশন চালানো হয়। যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বা ঘটতি আছে সেখানেই সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব। শুধু বাসা নয় বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজেও ব্যবহার করা যায় এই সোলার প্যানেল।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে সোলার বিদ্যুতের সুবিধা ও সম্ভাব্য খরচের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
সোলার বিদ্যুতের সুবিধা
-বিদ্যুৎ উৎপাদনে কখনো ঘটতি হবেনা কারণ সৌরশক্তি অপরিসীম।
-প্যানেল স্থাপনের পর বিদ্যুতের কোন বিল দিতে হবে না।
-বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কখনও বিচ্ছিন্ন হবে না।
-সোলার প্যানেল রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব সহজ।
-পরিবেশ দূষণ করেনা।
-প্যানেলের দীর্ঘস্থায়িত্ব বেশী তাই অনেক বছর ব্যবহার করা যায়।
-যেখানে পাওয়ার গ্রিড প্রসারিত ব্যয়বহুল, সেখানে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে।
দুই ধরনের প্যানেল রয়েছে
সৌর-তাপ প্যানেল ও ফটোভল্টাইক অথবা পিভি প্যানেল।
বাড়িতে কীভাবে সোলার প্যানেল বসাবেন
সবার আগে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য এমন স্থান নির্ধারণ করতে হবে যেখানে দিনের অধিকাংশ সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায়। সেজন্য জায়গাটি হতে হবে খোলামেলা এবং বড় বড় গাছ থেকে দূরে। এই ক্ষেত্রে বাড়ির ছাদই সবচেয়ে উত্তম স্থান। স্থান নির্ধারনের পর ধাতব কাঠামোর উপর আগে থেকে বসানো সোলার প্যানেলকে বিশেষ ভাবে তৈরি বেইজে বসাতে হবে। যেদিকে বশি সময় সূর্যের আলো পাওয়া যায় সেদিকে সোলার প্যানেলের সামনের অংশ রাখতে হবে। উত্তর গোলার্ধে সোলার প্যানেলকে দক্ষিণমুখী করে বসাতে হবে। তবে গ্রীষ্মকালে হেলানো কোনের পরিমাণ কম হলে ভাল। এজন্য সোলার প্যানেলকে প্রায় মাটির সমান্তরালে রাখতে হয়। আর শরৎ ও বসন্তকালে ভূমির অক্ষাংশের সমান কোণে কাত করে বসাতে হবে। এরপর সংযোগ তার দুটি মাটির ভিতর দিয়ে নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের সাথে সংযোগ করতে হবে। সংযোগ বাক্সে ব্যাটারি এবং চার্জ কন্ট্রোলার যথানিয়মে (প্যাকেটে উল্লেখিত নিয়ম) যুক্ত করতে হবে।
সম্ভাব্য খরচ
প্যানেল: মনোক্রিস্টালাইন প্রতি ওয়াট ৭০-৯০ টাকা, পলিক্রিস্টিলাইন প্রতি ওয়াট ৫৫-৬৫ টাকা
কন্ট্রোল বক্স: পি.এম.ডব্লিউ- ৩৫০-১০০০ টাকা, এম.পি.পি.টি- ১৫০০-৩৫০০ টাকা
ব্যাটারি: ভলভো- ৪২০০-২০০০০ টাকা, হ্যামকো- ৬৫০০-৩০০০০ টাকা
অন্যান্য: বাল্ব- ৮০-৩৫০ টাকা, ফ্যান- ৬৫০-৩৫০০ টাকা, তার- ২৫-৪৫ গজ।