06/07/2026
বিষয় : রাজা! রাজ চক্র! প্রজাকূল! [ পর্ব ৪ ]
রানী : কৃষাণী! রাজা তোমার যে সর্বনাশ করিয়াছে, তোমার প্রতি যে অবিচার করিয়াছে, তাহার সকল প্রকার ক্ষতিপূরণ করিতে আমি ইচ্ছা পোষণ করিতেছি। তুমি কি চাও, বল।
কৃষাণী : না, মহারানী না। আমি আমার মাটির কুঠিরে ফিরিয়া যাইতে চাই। যেখানে আমার কৃষকের স্পর্শ আছে, আছে ভালোবাসা।
রানী : তুমি চাইলে অর্ধেক রাজ্য তোমার। সহস্র স্বর্ণমুদ্রা, রাজপ্রাসাদ, রানীর মর্যাদা সব তোমার জন্য। তুমি একবার শুধু বল।
কৃষাণী: আমার কৃষকের ভালোবাসা, তাহার কাব্যিক সত্তা, আমার সকল ভালোবাসার উৎস। ইহা লইয়া আমি বাকি জীবন বাঁচিতে চাই।
রানী : কি এমন কাব্য! যাহা তোমাকে পাগল করিয়াছে ? আজও তুমি ভোলনি এতোটুকু। আমাকে শুনাও হে নারী!
কৃষাণী : তবে শুনন মহারানি।
[ কৃষকের কন্ঠে কৃষানীর জন্য প্রেম গাঁথামালা বা কাব্য ]
তোমাকে ভালোবাসি বলে
রাজ দরবারে যাই না আজকাল,
শাসনভার অর্পণ করেছি কোন এক
আনাড়ি ব্যক্তির হাতে।
তোমাকে ভালোবাসি বলে
শরতের শিশিরে পা ভেঁজাতে যাই।
গায়ের মেঠো পথে হাঁটি আমি।
রাখালের বাঁশির সুর শুনতে যাই কোন এক গায়ে।
নদীর ঢেউ, স্বর্ণলতার ছড়ি ছড়ি সৌন্দর্য,
সোনালী রোদের চকমকি,
ছোট্ট নদীর হাঁটু জলে পাতিহাঁসের ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ ডুব দেওয়া
আমার আকাশ কে করেছে সমৃদ্ধ।
কঙক্রিটির জীবন, মনোহারির সব মোহকে করেছি তুচ্ছ।
তোমাকে ভালোবাসি বলে
সাঁঝের বেলা বাঁশবাগানে, যেখানে
জোনাকিরা জ্বলে আর নেভে,
আলো-আঁধারের মাঝে খুঁজে ফিরি তোমার অবয়ব।
শহরের বদ্ধ জীবনকে করেছি তুচ্ছ,
হীনতাকে করেছি ত্যাগ।
বিরাগ হয়েছি চকমকির সব উথাল-পাতাল।
তোমাকে ভালোবাসি বলে
মেহেদির রং , গ্রামীন চেকের শাড়ি,
নগ্ন পায়ে মেঠো পথে হেঁটে যাওয়া কোন এক বধুর সৌন্দর্যকে মূল্য দিয়েছি সর্বোচ্চ।
অধিক দামে কিনতে চেয়েছি খেজুরের রস,
পাটকাঠি, ঝরা পাতা আর রাখালের বাঁশি।
তোমাকে ভালোবাসি বলে
নদীর দুর্বার স্রোতের বিপরীতে ভেলায় ভেসে তোমার কুঠির খুঁজেছি যুগ থেকে যুগান্তর।
বাঁশ আর ছন দিয়ে বানিয়েছি অট্টালিকা।
মাটির বাসন, পাটকাঠির দেওয়াল, খেজুর পাতার মাদুর, আমার দামি আসবাবপত্র।
তোমার মেহেদির সব জোগাড় সেরছি সেই কবে,
দুধের সর, শশা, পুকুরের এটেঁল মাটি তোমার সৌন্দর্যের দামি উপকরণ।
তোমাকে ভালবাসি বলে........
তোমাকে ভালোবাসি বলে......
[ চলবে। এই পর্বটি আপনাদের জন্য রিল আকারে আবৃত্তি করে দেওয়া আছে ]