01/03/2026
আজকে আলী খামেনীর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ইরানে নতুন যুগের সূচনা হয়ত হবে। আল্লাহ আলী খামেনীকে মাফ করুক। তাকে শাহাদতের মর্যাদা দান করুক। বেহেশতে নসীব করুক।
এইবার আসি মূল কথায়।একটা ডুয়েল স্ট্যান্ডার্ডে বসবাস করি বোধহয় আমরা বাংলাদেশীরা।আমরা আলী খামেনী ও ইরান আক্রমণ নিয়ে খুবই চিন্তিত। গেলো গেলো। ইসলাম গেলো! ইসলামের একমাত্র ডিফেন্ডার গেলো!! এবার সব গেছে পশ্চিমাদের হাতে। অনেকে মনে মনে হয়ত ইরানের মতো শাসন ব্যবস্থাও চান।
অথচ এই বাংলাদেশে বসে কেউ যদি খামেনীর মতো কথা বলে বা খামেনীর মতো শাসন ব্যবস্থা চায়, তবে তাকে ট্যাগ দিবেন জামাত শিবির নাকি চরমোনাই। চলে যেতে বলবেন পেয়ারী পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান। বাংলাদেশে ট্যাগবিহীনভাবে শান্তিতে বসে শুধু মাত্র ফিল-ইস্তিন অথবা ইরানের ইসলামকে Defend করা যায় অথচ নিজের দেশেরটা না।
আফগানিস্তান আর ইরানের মাঝে সামাজিকভাবে মূলত খুব বেশি পার্থক্য নেই। শুধু মাত্র ইরানে নারীদের উচ্চশিক্ষার অধিকার আছে, আর আফগানিস্তানে নেই। আর একটা আছে, ইরানের পার্লামেন্ট active। তালে আফগানিস্তানটা inactive। ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলেও সব ক্ষমতা মূলত খামেনীর হাতে থাকত।
তাহলে বাংলাদেশীদের মনে ইরান নিয়ে এত দরদ অথচ আফগানিস্তান নিয়ে এত ভয় কেন? পশ্চিমাদের হিসেবে দুইটাই তো জঙ্গি রাষ্ট্র।
বাংলাদেশী মুসলমানদের, বিশেষত আমরা যারা সুন্নি, তাদের এ ফাকে বলে রাখি, আপনাদের অনেকের মতে তো শিয়ারা মুসলিমই না। তারা কাফির। ইসমাইলি শিয়া। সে হিসেবে তো ইরান মুসলিম দেশই না। ইরানের শতকরা ৯০%-৯৫% মানুষ তো শিয়া!
আমরা যাদেরকে ইসলামের Defender ভাবছি, বাংলাদেশে অনেকে সুন্নির মতে তারা তো আসলে কাফির! What an irony!
ও হ্যা বলা হয়নি, আমরা বাঙ্গুল্যান্ড বাসী আল খামেনীর মৃত্যু দেখে যত কষ্ট পেয়েছি, আরববাসী ততটা পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। আমার ভিডিওতেও বলেছি, এই যুদ্ধ ধর্মীয় না। স্বার্থের। ইরান ও অনেক আরব দেশের সমস্যা মূলত ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির মিলিত দ্বন্দ্ব। ইরান শিয়া প্রধান, আরব দেশগুলো সুন্নি প্রধান, তাই ধর্মীয় ভিন্নতা একটা অংশ। মূলত ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াতে চায়, আরব দেশগুলো তা নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি মনে করে বিধায় আরবদের মিত্র পশ্চিমারাও ইরানকে হুমকি ভাবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান শিয়া বিপ্লবের রপ্তানি নীতি নেয়ার কারণে দ্বন্দ্ব আরও জটিল হয়েছে।ধর্ম এইখানে মুখ্যে না। আমার দুইটা ভিডিওর লিংক দিয়েছি সেইখানেও আমি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি।
আমি ইসলাম জাহানে যুদ্ধ-বিগ্রহ দেখে খুব একটা কষ্ট পাই না। It was inevitable। এটা হবে। মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৭৬৫, সুনান আবু দাউদে উল্লেখ আছে, “মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হবে, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো দুর্বল হবে, আর ফিতনা ও যুদ্ধ সাধারণ ঘটনা হবে।”
আপনি মানেন না মানেন আমরা শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। ইসলামি হাদিসে শেষ যুগ বা আখেরি জামানাকে অনেক চিহ্ন দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
নবী (সা:) বলেছেন, “শেষ যুগের পূর্বে দুনিয়ার সম্পদে মানুষ অত্যধিক লোভী হবে, সততা কমে যাবে, মিথ্যা বলার অভ্যাস বৃদ্ধি পাবে, এবং নেতা ও সমাজের শ্রেষ্ঠরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বে।” (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৮৯)
আরেকটা দেখেন, মুসনাদ আহমাদে বলা হয়েছে, “শেষ যুগে খুনখারাপি ও অস্থিরতা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে মানুষ নিরাপদ স্থানের সন্ধান করবে কিন্তু কোথাও নিরাপত্তা পাবে না।”
আবার ইরান-ইরাকের শিয়া সূত্রেও বলা হয়েছে, “শেষ যুগে দুনিয়া জুলুম ও অন্যায়ের মধ্যে ডুবে যাবে, মানুষের ধর্মভীতি কমে যাবে, এবং অনেক দেশ অস্থিরতার শিকার হবে।” (আল-কাফি, জিলদ ১, হাদিস ৩৫৭)
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে যে মহামারী, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও বাড়বে, ধর্মভ্রষ্ট নেতাদের প্রভাব বেড়ে যাবে, এবং ইসলামী শিক্ষার চর্চা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।
আপনি শেষ জামানায় আছেন বুঝতে আপনাকে খুব জ্ঞানী মুসলিম হতে হবে না। আমাদের মত মডার্ন, মূর্খ মুসলিম হলেও টের পাবেন। আমাদের বাংলাদেশে বসে আমরা নিজেদের যতোই সেকুলার কিংবা যতোটাই ট্র্যাডিশনাল ইসলাম বিরোধি দেখাই না কেন, পশ্চিমাদের কাছে কিন্তু আপনি, আমি, জনগণ—all group of industries-এর অংশ! আপনার গায়ের চামড়া যতোই ধলা হোক, সে দেশে কিন্তু আপনি কালো।
যাইহোক, আমাদের দেশের লোক ইসরাইলের ঘৃণা করে কোক-বয়কট করে, কোকের দাম বাড়াইয়ে বিক্রি বাড়াইয়ে দিয়েছে। এবার ভাবেন আমাদের লেভেল। দাজ্জালের আবির্ভাব হলে আমরা নিসন্দেহে দাজ্জালের পিছু নেব। কারণ দাজ্জাল যে বেহেশত দেখাবে, সেইখানে বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যাবসা করতে চাইবে না—তা হতে পারে না। আল্লাহু আলাম।
যাইহোক, অনেক আলেম মনে করেন মুসলিম বিশ্বের নিজেদের মাঝের হানাহানি, ভাতৃত্ববোধের অভাব শেষ জামানার অন্যতম বড় লক্ষণ ইমাম মাহদীর আগমনের একটা সূতিকাগার হতে পারে। ইসলামজাহান এখন আসলে দিকভ্রান্ত। পশ্চিমা বিশ্বের দাসের পরিনত হয়েছে ইসলাম জাহান্দের শাসকরা। শাসন ক্ষমতাই থাকতে দাজ্জালীয় NWO র অংশ তাদের হতে হচ্ছে বলে অনুমেয়। আল্লাহু আলাম!
বাংলাদেশ তথা পুরা বিশ্ব এখন দাজ্জালের এক চোখা বা৷ ডুয়েল স্ট্যান্ডার্ডে ফিতনাতে ডুবে আছে। দাজ্জালের একটি চোখ (AI) আমাদের ঘরে ঘরে। মুসলমানদের দ্বারা/মুসলমানদের কারনে মুসলমানরা আজকে কোনঠাসা।
ইসলামের সুদীন আসবে। সামনে শহীদের সাড়ি দেখতে পারবো হয়ত... কোটি কোটি শহীদের আত্মত্যাগের পর যেদিন ইমাম মাহদী আসবেন, আল্লাহর কসম কোন ট্যাগ খাওয়ার ভয় সেদিন থাকবে না, গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে মুসলমানরা বলবে, আল্লাহু আকবার।