Pritam Azim

Pritam Azim Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Pritam Azim, Geological service, Kushtia, Khulna.

মানবিক সাহায্যের আবেদন:ছবিতে  যাকে দেখা যাচ্ছে আমার স্কুলের বন্ধু খোকনের খালাতো ভাইয়ের মেয়ে মরিয়ম। মরিয়মের বয়স ছয় বছর। ম...
10/03/2026

মানবিক সাহায্যের আবেদন:

ছবিতে যাকে দেখা যাচ্ছে আমার স্কুলের বন্ধু খোকনের খালাতো ভাইয়ের মেয়ে মরিয়ম। মরিয়মের বয়স ছয় বছর। মেয়ের বাবা গার্মেন্টেসে কাপড় সেলাই করে। আমার বন্ধু খোকনের ভাষ্যমতে তার কাজ পার্মানেন্ট না। দিন মজুরের মত।

মরিয়ম বর্তমানে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। ডাক্তাররা বলেছে সেকেন্ড স্তর৷ গত তিন মাস যাবত অসুস্থ। ঢাকা মিটফোর্ডে ভর্তি আছে সে।

ডাক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী ওর ট্রিটমেন্ট চলবে দীর্ঘমেয়াদ। খরচ হতে পারে আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকা। খোকনের অবস্থাও খুব একটা ভালো না। তবু সে ও তার পরিবার চেষ্টা চালাচ্ছে এদিক ওদিক থেকে টাকা জোগার করে চিকিৎসাটা সচল রাখতে। চিকিৎসাতে দৈনিক ৩-৪ হজার টাকা খরচ হয়। যে ব্যয় খোকন বা মরিয়মের বাবা, কারো পক্ষেই বহন করা সম্ভব না।

খোকন বলেছে," রোজার মাসে বন্ধুরা যাকাত ফিতরা বা দান-সদগা অনেকেই করবা,দয়া করে যদি তোমরা ওর ট্রিটমেন্টের জন্য কিছু সাহায্য কর হয়তোবা ও বাঁচতেও পারে,,,, তাই তোমাদের কাছে আকুল আবেদন থাকবে একটা বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য যতটা পারো সবাই একটু সাহায্য করো"

স্কুলের গ্রুপে ওর খোকনের মেসেজ আর মরিয়মের ছবি দেখে আমার বুকটা ফেটে গেলো। আমি ভাবলাম, একটা পোস্ট দিয়ে দেখি, যদি আল্লাহ কিছু অর্থ জোগার করতে সহায়তা করেন। তাই চাইলে মহান আল্লার জন্যে মরিয়মকে যাকাত বা সদাকা দান করতে পারেন।

টাকা পাঠাতে পারেন আমার বিকাশ নাম্বারে। আমি ইনশাআল্লাহ নিজ দায়িত্বে টাকা হস্তান্তর করে দিবো।

আমার বিকাশ: 01516160702

এছাড়া মরিময়ের বাবার নাম্বার ০১৭৪১২৯৩৩৯৯ (নাম্বারে বিকাশ ও আছে)।চাইলে কথা বলতে পারেন। আমার বন্ধু খোকনের নাম্বারটাও দিয়ে দিলাম
+880 1741-293399।

07/03/2026

"বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আমদানী নির্ভর দেশ। শতকরা ৫০% Finished Product আমাদের আমদানী করতে হয়। যে ৫০ শতাংশ আমরা দেশে তৈরী করি, তার সিংহ ভাগ কাচামাল আবার আমাদের আমদানী করতে হয়।

দেশীয় পেট্রোলিয়াম উৎপাদন খাতে পুরধা বলতে আমরা বুঝি "ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি" (ERPLC)কে। পাকিস্থান আমলে স্থাপিত এ প্রতিষ্ঠান দেশের উৎপাদিত সিংহ ভাগ অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, এলপি গ্যাস প্রস্তুত করে থাকে। যদি আমরা শতাংশে হিসাব করি তবে তা ২৫-৩০ শতাংশ৷ ERLPC র কাচামাল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানীকৃত ক্রুড ওয়েল।

আমদানীকৃত ক্রুড প্রসেস করে ERLPC প্রায় ১৬ টি ভিন্ন ভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে থাকে। এছাড়াও ক্রুডের সাথে সংমিশ্রণ হিসেবে ERPLC বাৎসরিক প্রায় ১০০,০০০ মেট্রিক টন প্রাকৃতিক গ্যাস কন্ডেন্সেট প্রসেস করে থাকে। এ থেকে তারা পেয়ে থাকে LP Gas.

দেশের আমদানী নির্ভর পেট্রোলিয়ামের দুই জায়ান্ট শতাংশ হলো আমদানী নির্ভর। যাকে আমরা ধরতে পারি Static. যার হিসাব ধরলাম প্রায় ৭৫ শতাংশ। প্রশ্ন থেকে হচ্ছে বাকি ২৫% কোথায়?

আগে বলে নি, এই ২৫ শতাংশের মুল কাচামাল দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস ক্ষেত্র হতে গ্যাসের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট।

এই ২৫% এর প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ আসে দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট কোম্পানি থেকে। Super Petrochemical Ltd (SPPL),CVO Petrochemical Refinery Ltd, Partex Petro Ltd, Aqua Refinery Ltd, Petromax Refinery Ltd. ইত্যাদি। তারা কনডেনসেটকে রিফাইন করে পেট্রোলিয়াম তৈরী করে।

আর বাকি ১৫ থেকে ১০ শতাংশ আসে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড বা SGFL এর মাধ্যমে। SGFL এর ওয়েবসাইট বলছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উৎপাদন হওয়া অকটেনের ৪০% SGFL এর রিফাইনারীতে তৈরী হয়। SGFL এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৪-১৬% অকটেন (RON ৯৫) এবং ২৪-২৬% পেট্রোল (RON ৮৯) এর চাহিদা পূরণ করে থাকে।

SGFL এর ৩৭৫০ ব্যারেল এবং দৈনিক ৪০০০ ব্যারেল ক্ষমতা সম্পন্ন দুইটা ফ্র‍্যাকশিনেশন প্ল্যান্ট আছে(CFP)। আর আছে একটা ৩০০০ ব্যারেল দৈনিক ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যাটালাইটিক রিফর্মেটিক ইউনিট(CRU) যার পুরাটাই মূলত অকটেন তৈরীতে লাগে। এছাড়া ৬১ সালে হরিপুরে দৈনিক ৬৮ ব্যারেল ও ১৯৮৩ তে কৈলাশটিলাতে দৈনিক ৩০০ ব্যারেল ক্ষমতা সম্পন্ন দুইটি প্ল্যান স্থাপন করা হয়। ব্যাক্তিগতভাবে আমি ভাগ্যবান যে ভূতত্ববিদ হয়েও CFP ও CRU এই প্ল্যান্টগুলাতে ডিউটি করেছি এবং দীর্ঘ তিন বছর সফলতার সাথে প্ল্যান্ট চালিয়েছি।

বলে রাখি দেশের গ্যাস হতে পাওয়া একমাত্র এলপি গ্যাস উৎপাদন প্ল্যান্ট কিন্তু SGFL। যদি মোটা দাগে বলি, বাংলাদেশের পেট্রোলিয়াম খাতের সব থেকে Dynamic ও Versatile প্রতিষ্ঠান SGFL।

SGFL বাংলাদেশে উত্তোলনকৃত বাই প্রোডাক্ট অর্থাৎ নিজস্ব গ্যাসের কনডেনসেট থেকে এই তেল উৎপাদন করে। প্রতিদিন গ্যাসের সাথে কনডেনসেট তৈরী হয় যা Dynamic। SGFL পেট্রোবাংলার অধিনস্ত একমাত্র রাষ্ট্রয়াত্ব প্রতিষ্ঠান যারা এ কাজ করে। পুর্বে SGFL অকটেন ডিজেল পেট্রোল কেরোসিনে সমানভাবে তৈরী করলেও এখন CRU-এর মাধ্যমে মূলত উৎপাদনে আসার পর থেকে অকটেনে বেশী নজর দিচ্ছে। পেট্রোল ডিজেল ও তৈরী হচ্ছে। তবে ডিজেলের পার্সেন্টেজ দেশের মূল চাহিদার তুলনায় অতি নগন্য।

দেশের পেট্রোলিয়াম production ও supply সারসংক্ষেপ করলে দেশের মোট fuel supply-এর মধ্যে Crude Oil (ERL) ≈ ২৫%, Condensate fractionation (SGFL,private) ≈ ২৫%, এবং Imported refined fuel ≈ ৫০%।

খবরে দেখেছি দেশে মজুত আছে ২০-২৫ দিনের, যা Static আমার ভূল না হলে আমাদের মত যারা Dynamic ভাবে তেল উৎপাদন করে তাদের হিসাব এর মজুদের ভিতর নাই। যদিও Arafat Mohammad Noman ভাইয়ের পোস্টে আমি হিসাব দেখলাম এপ্রিল অবধি তেলের মজুদ আছে। ভাই সরকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি বিধায় আমি সেই হিসাবকে সঠিক ধরছি।

আজ অনেকের থেকে তথ্য আসছে দেশের বিভিন্ন পাম্পে তেল নাই। অকটেন পেট্রোল নাই। খবর মতে এ সমস্যা হওয়ার কথা আরো দশ পনের দিন বাদে। এখন কেন? আজকে তো না! সরকার লিমিট ঘোষনা দিয়ে দিলেও আমাদের দেশের মানুষ মজুদ প্রিয়। অন্যে কেউ পেলো না পেলো, নিজের কাছে মজুদ থাকলেই হয়ে।

এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে পেট্রোলিয়াম ডিলারদের থেকে পাওয়া তথ্য বলছে,
বাংলাদেশে অকটেন এর মজুদ শেষ হওয়ার কথা না। বাংলাদেশে যে পরিমান অকটেন উৎপাদন এবং আমদানি হয় সে পরিমান অকটেন গাড়ী নেই। মোটরসাইকেল এর টাংকি অত্যন্ত ছোট। মোটরসাইকেল এ তেল ভরে অকটেন শেষ করা যাবে না।

তাহলে তেল পাম্পগুলোতে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে কেনো। এখানেই আসছে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট এর বিষয়।

তর্কের খাতিরে ধরা যেতে পারে একটা তেল পাম্প এ সাধারন সময় দিনে এক লরি তেল বিক্রি হয়। ফলে সেই পাম্প প্রতিদিন এক লরি তেল কেনে। কোম্পানিও সেই পাম্প এর জন্য প্রতিদিন এক লড়ি তেল বরাদ্দও রাখে এবং একটা গাড়ী নির্দিষ্ট করে রাখে। এখন হটাৎ ওই পাম্প এ দিনে দুই লরি পরিমান তেল লাগছে। অতরিক্ত একটা তেল এর গাড়ী হঠাৎ কোথায় পাওয়া যাবে??

ফলে চাহিদা বেড়ে গেছে কিন্তু সাপ্লাই চেইন সেই প্রেশার নিতে পারছে না। যার কারনেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়ছে।

মাঠ পর্যায়ের ভাষ্যমতে আসলেই সংকট হতে পারে ডিজেল এবং এলপিজির। এগুলো অমদানি করতে হয় অনেক বেশি এবং লাগেও অনেক বেশি পরিমানে। যদি খবরে দেখা যাচ্ছে ইতোমধ্যে এলপিজির চালান কাতারে লোড হওয়া শুরু হয়েছে। আরাফাত নোমান ভাইয়ের পোস্ট থেকে পাওয়া যে চট্টগ্রাম বন্দরে আরো পেট্রোলিয়াম কাচামাল খালাসের অপেক্ষায় আছে।

যাইহোক, আমি আশা করছি পেট্রোলপাম্পের এ সমস্যাটা শুধু আজকের জন্যে, শুধু মাত্র কয়েক জায়গাতে সীমাবদ্ধ। তা না হলে সাধারন মানুষ ভাবতে বাধ্যে হবে পেট্রোল পাম্প মালিকরা দাম বৃদ্ধির জন্য সিন্ডিকেট করে এ সংকট তৈরী করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্যে যদি সংকট হয় তখন দ্বিগুন,তিনগুন দামে এ তেল বিক্রি করবে।

দেশের সকল মজুতদাররা আসলে কানেক্টেড। তেলআলাদের কারনে বাস ভাড়াবৃদ্ধি হবে। মুল্যেবৃদ্ধি করবে শাক সবজি সহ সকল নিত্যপণ্যের, অথচ প্রান্তিক বিক্রেতা সে মুল্যে পাবে না।

যুদ্ধ আমাদের কারো কাম্য না। রাজায় রাজায় যুদ্ধ হলে উলুখাগড়ায় প্রাণঘাতি হয় আমাদের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ সমুহ। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং Negotiations ক্ষমতা বলে পৃথিবী উড়ে গেলেও আমরা টিকে থাকবো। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশ আমাদের প্রতি স্নেহশীল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষায় বলতে গেলে, আমরা আসলে সবার Close ছোট ভাই।

আর প্রতি রমজানের মুসলিম দেশ বনাম পশ্চিমাদের যুদ্ধ অনেকটা রুটিন। আমার মনে হয় না এ যুদ্ধ দীর্ঘকাল ব্যাপি চলবে। পরিস্থিতিও শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে।তাই জনসাধারণকে আমার অনুরোধ Panicked হইয়েন। সব কিছু ঠিকঠাক আছে আল্লাহর রহমতে।

বহি:বিশ্বের থেকে বাংলাদেশের বড় সমস্যা এ দেশের মজুতদাররা। দেশের আমজনতা দেশেকে যেভাবে ধারন করে ও ভালোবাসে এই মজুতদার ও সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা যদি সেই সাধারণ মানুষগুলার কথা যদি বেশী ভাবত ভালো হত।

দীর্ঘ লেখাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। মহান আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুক।

তথ্য উপাত্ত:
সরকারী প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট
গুগল
ইনবক্সে ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা"
আরাফাত নোমান ভাইয়ের পোস্ট মন্তব্য ঘরে

02/03/2026

ওয়াশি ইবনে হার্ব, একজন গোলাম ছিলেন কিন্তু খুব ভালো বর্শবিদ ছিলেন। উহুদের যুদ্ধের আগে ওয়াশিকে হিন্দ বিনতে উতবাহর তিনজনকে হত্যা করার জন্য নির্দেশ দেন। হযরত মোহাম্মাদ (সা:), হযরত আলী (রা:) ও হযরত হামযা (রা:)।

ওয়াশি নবীজি (সা:) চাচা হামযা (রা:) হত্যা করতে সফল হন।

পরবর্তী মক্কা বিজয়ের সময় ওয়াশি আল্লাহর রাসুল (সা:) এর কাছে গিয়ে শাহদাত পাঠ করেন। প্রাথমিক ভাবে আল্লাহর রাসুল (সা:) তাকে মাফ করে দেন। তবে শর্ত দেন যাতে ওয়াশি আল্লাহর রাসুল (সা:) সামনে কখনো না আসেন।

মুসলিম হওয়ার সময় থেকেই হামযা ( রা:) কে হত্যার অপরাধে ভুগতেন ওয়াশি। তখন থেকেই তিনি মনে মনে ঠিক করেন যেভাবেই হোক ইসলামের জন্য কিছু করতে হবে।

আল্লাহর রাসুল (সা:) এর পরবর্তী সময়ে ইসলামের সব থেকে বড় শত্রু হিসেবে দাঁড়ায় ভন্ড নবী মুসাইলিমা কাজ্জাব! যাকে আল্লাহর রাসুল (সা:) বলে গিয়ে সব থেকে বড় মিথ্যাবাদি যা কাজ্জাব শব্দটিকে বাংলা করলে এমনই শোনা যাবে। আল্লাহর রাসুল (সা:) তাকে এই উপাধি দেন। মুসাইলিমা একবার আল্লাহর রাসুল( সা:) এর সাথে দেখা করেন। এবং নিজের গোত্রের কাছে গিয়ে বলেন, যে আল্লাহ রাসুল (সা:) আমাকেও রাসুল ঘোষনা করেছেন। আমরা দুইজন মিলে ইসলাম প্রচার করবো। তবে সে যা প্রচার করেছিলো দু:খজনক ভাবে তার অনেক কিছুই বর্তমান মুসলিমরা পালন করে।

যাইহোক, তো মুসাইলিমাকে ধ্বংস করাএ জন্য খলিফা আবু বকর (রা:) যখন খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা:) নেতৃত্বে সৈণ্য পাঠান, এই সেনাবাহিনীতে ছিলেন ওয়াশি।

ওয়াশির একটাই লক্ষ্যে ছিলো, মুসাইলিমাকে হত্যা করা। যাতে যে কোন মূল্যে সে ইসলামের কিছু সেবা করতে পারে। এবং তার ভাষ্যমতে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সে মুসাইলিমা কে হত্যা করতে সফল হন এবং আল্লাহর রাসুল (সা:) পরবর্তী ইসলামের সবথেকে বড় শত্রুকে হত্যা করেন।

জীবন চক্রটা খুব মজার। আল্লাহর রাসুল (সা:) সব থেকে প্রিয়দের একজনকেও সে হত্যা করেছিলো, আবার আল্লাহর রাসুল (সা:) সব থেকে অপ্রিয় একজন ও তার দ্বারা নিশ্চিহ্ন হয়েছিলো। আল্লাহু আকবার।

আর সেই হিন্দ? হিন্দ নিজেও পরবর্তীতে তার স্বামী আবু সুফিয়ানসহ মুসলিম হয়েছিলো এবং তার কূটবুদ্ধি দিয়ে ইয়ারমুকের যুদ্ধ চলাকালীন ইসলামের খেদমতও করেছে বলে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তে পাওয়া যায়।

ইয়ারমুকের যুদ্ধের নারীদের অংশগ্রহণ টা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ছিলো। রোমান যোদ্ধারা ছিলো মুসলিমদের ৩ গুন। যাতে মুসলিমকেও যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পিছু হটতে না পারে এজন্য যোদ্ধাদের স্ত্রী/মা/বোন মূলত নারীরা মুসলিম সেনাদের লাইনের পিছনে বেশ তফাতে দাঁড়িয়ে ছিলো অস্ত্রসহ। মুসলিম সেনারা কেও পিছিয়ে আসলে তারা বলত, তোমরা যদি রোমানদের কাছে না মরো, তবে তোমাদের স্ত্রীদের কাছে মরতে হবে। তোমরাই ভাবো তোমাদের জন্য কোনটা ভালো। হিন্দ এই নারীদের দলে ছিলো বলে শোনা যায়।

নিশ্চয় আল্লাহ ভালো জানেন।

তথ্য উপাত্ত: অন্তর্জাল হতে গৃহীত।

01/03/2026

আজকে আলী খামেনীর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ইরানে নতুন যুগের সূচনা হয়ত হবে। আল্লাহ আলী খামেনীকে মাফ করুক। তাকে শাহাদতের মর্যাদা দান করুক। বেহেশতে নসীব করুক।

এইবার আসি মূল কথায়।একটা ডুয়েল স্ট্যান্ডার্ডে বসবাস করি বোধহয় আমরা বাংলাদেশীরা।আমরা আলী খামেনী ও ইরান আক্রমণ নিয়ে খুবই চিন্তিত। গেলো গেলো। ইসলাম গেলো! ইসলামের একমাত্র ডিফেন্ডার গেলো!! এবার সব গেছে পশ্চিমাদের হাতে। অনেকে মনে মনে হয়ত ইরানের মতো শাসন ব্যবস্থাও চান।

অথচ এই বাংলাদেশে বসে কেউ যদি খামেনীর মতো কথা বলে বা খামেনীর মতো শাসন ব্যবস্থা চায়, তবে তাকে ট্যাগ দিবেন জামাত শিবির নাকি চরমোনাই। চলে যেতে বলবেন পেয়ারী পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান। বাংলাদেশে ট্যাগবিহীনভাবে শান্তিতে বসে শুধু মাত্র ফিল-ইস্তিন অথবা ইরানের ইসলামকে Defend করা যায় অথচ নিজের দেশেরটা না।

আফগানিস্তান আর ইরানের মাঝে সামাজিকভাবে মূলত খুব বেশি পার্থক্য নেই। শুধু মাত্র ইরানে নারীদের উচ্চশিক্ষার অধিকার আছে, আর আফগানিস্তানে নেই। আর একটা আছে, ইরানের পার্লামেন্ট active। তালে আফগানিস্তানটা inactive। ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলেও সব ক্ষমতা মূলত খামেনীর হাতে থাকত।

তাহলে বাংলাদেশীদের মনে ইরান নিয়ে এত দরদ অথচ আফগানিস্তান নিয়ে এত ভয় কেন? পশ্চিমাদের হিসেবে দুইটাই তো জঙ্গি রাষ্ট্র।

বাংলাদেশী মুসলমানদের, বিশেষত আমরা যারা সুন্নি, তাদের এ ফাকে বলে রাখি, আপনাদের অনেকের মতে তো শিয়ারা মুসলিমই না। তারা কাফির। ইসমাইলি শিয়া। সে হিসেবে তো ইরান মুসলিম দেশই না। ইরানের শতকরা ৯০%-৯৫% মানুষ তো শিয়া!

আমরা যাদেরকে ইসলামের Defender ভাবছি, বাংলাদেশে অনেকে সুন্নির মতে তারা তো আসলে কাফির! What an irony!

ও হ্যা বলা হয়নি, আমরা বাঙ্গুল্যান্ড বাসী আল খামেনীর মৃত্যু দেখে যত কষ্ট পেয়েছি, আরববাসী ততটা পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে না। আমার ভিডিওতেও বলেছি, এই যুদ্ধ ধর্মীয় না। স্বার্থের। ইরান ও অনেক আরব দেশের সমস্যা মূলত ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির মিলিত দ্বন্দ্ব। ইরান শিয়া প্রধান, আরব দেশগুলো সুন্নি প্রধান, তাই ধর্মীয় ভিন্নতা একটা অংশ। মূলত ইরান মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বাড়াতে চায়, আরব দেশগুলো তা নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আধিপত্যের জন্য হুমকি মনে করে বিধায় আরবদের মিত্র পশ্চিমারাও ইরানকে হুমকি ভাবে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান শিয়া বিপ্লবের রপ্তানি নীতি নেয়ার কারণে দ্বন্দ্ব আরও জটিল হয়েছে।ধর্ম এইখানে মুখ্যে না। আমার দুইটা ভিডিওর লিংক দিয়েছি সেইখানেও আমি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছি।

আমি ইসলাম জাহানে যুদ্ধ-বিগ্রহ দেখে খুব একটা কষ্ট পাই না। It was inevitable। এটা হবে। মুসনাদ আহমাদ, হাদিস: ২৭৬৫, সুনান আবু দাউদে উল্লেখ আছে, “মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হবে, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো দুর্বল হবে, আর ফিতনা ও যুদ্ধ সাধারণ ঘটনা হবে।”

আপনি মানেন না মানেন আমরা শেষ জামানায় ঢুকে পড়েছি। ইসলামি হাদিসে শেষ যুগ বা আখেরি জামানাকে অনেক চিহ্ন দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।
নবী (সা:) বলেছেন, “শেষ যুগের পূর্বে দুনিয়ার সম্পদে মানুষ অত্যধিক লোভী হবে, সততা কমে যাবে, মিথ্যা বলার অভ্যাস বৃদ্ধি পাবে, এবং নেতা ও সমাজের শ্রেষ্ঠরা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়বে।” (সুনান তিরমিজি, হাদিস: ২১৮৯)

আরেকটা দেখেন, মুসনাদ আহমাদে বলা হয়েছে, “শেষ যুগে খুনখারাপি ও অস্থিরতা এমনভাবে বৃদ্ধি পাবে যে মানুষ নিরাপদ স্থানের সন্ধান করবে কিন্তু কোথাও নিরাপত্তা পাবে না।”

আবার ইরান-ইরাকের শিয়া সূত্রেও বলা হয়েছে, “শেষ যুগে দুনিয়া জুলুম ও অন্যায়ের মধ্যে ডুবে যাবে, মানুষের ধর্মভীতি কমে যাবে, এবং অনেক দেশ অস্থিরতার শিকার হবে।” (আল-কাফি, জিলদ ১, হাদিস ৩৫৭)
হাদিসে আরও উল্লেখ আছে যে মহামারী, অনাবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগও বাড়বে, ধর্মভ্রষ্ট নেতাদের প্রভাব বেড়ে যাবে, এবং ইসলামী শিক্ষার চর্চা ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হবে।

আপনি শেষ জামানায় আছেন বুঝতে আপনাকে খুব জ্ঞানী মুসলিম হতে হবে না। আমাদের মত মডার্ন, মূর্খ মুসলিম হলেও টের পাবেন। আমাদের বাংলাদেশে বসে আমরা নিজেদের যতোই সেকুলার কিংবা যতোটাই ট্র্যাডিশনাল ইসলাম বিরোধি দেখাই না কেন, পশ্চিমাদের কাছে কিন্তু আপনি, আমি, জনগণ—all group of industries-এর অংশ! আপনার গায়ের চামড়া যতোই ধলা হোক, সে দেশে কিন্তু আপনি কালো।

যাইহোক, আমাদের দেশের লোক ইসরাইলের ঘৃণা করে কোক-বয়কট করে, কোকের দাম বাড়াইয়ে বিক্রি বাড়াইয়ে দিয়েছে। এবার ভাবেন আমাদের লেভেল। দাজ্জালের আবির্ভাব হলে আমরা নিসন্দেহে দাজ্জালের পিছু নেব। কারণ দাজ্জাল যে বেহেশত দেখাবে, সেইখানে বাংলাদেশের অসাধু ব্যবসায়ীরা ব্যাবসা করতে চাইবে না—তা হতে পারে না। আল্লাহু আলাম।

যাইহোক, অনেক আলেম মনে করেন মুসলিম বিশ্বের নিজেদের মাঝের হানাহানি, ভাতৃত্ববোধের অভাব শেষ জামানার অন্যতম বড় লক্ষণ ইমাম মাহদীর আগমনের একটা সূতিকাগার হতে পারে। ইসলামজাহান এখন আসলে দিকভ্রান্ত। পশ্চিমা বিশ্বের দাসের পরিনত হয়েছে ইসলাম জাহান্দের শাসকরা। শাসন ক্ষমতাই থাকতে দাজ্জালীয় NWO র অংশ তাদের হতে হচ্ছে বলে অনুমেয়। আল্লাহু আলাম!

বাংলাদেশ তথা পুরা বিশ্ব এখন দাজ্জালের এক চোখা বা৷ ডুয়েল স্ট্যান্ডার্ডে ফিতনাতে ডুবে আছে। দাজ্জালের একটি চোখ (AI) আমাদের ঘরে ঘরে। মুসলমানদের দ্বারা/মুসলমানদের কারনে মুসলমানরা আজকে কোনঠাসা।

ইসলামের সুদীন আসবে। সামনে শহীদের সাড়ি দেখতে পারবো হয়ত... কোটি কোটি শহীদের আত্মত্যাগের পর যেদিন ইমাম মাহদী আসবেন, আল্লাহর কসম কোন ট্যাগ খাওয়ার ভয় সেদিন থাকবে না, গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে মুসলমানরা বলবে, আল্লাহু আকবার।

12/01/2026

দুই হাজার ষোলো সালের শেষ ভাগে জাহাঙ্গীরনগর মাতাতে আসবেন টাহসান। প্রোগ্রাম হবে সন্ধ্যা ৭ টাই। আমার একটা অনুমান আছে টাহসানকে দেখতে অনেক নারী সমাগম হবে। আমিও ভাবলাম, এইটা একটা ভালো সুযোগ টাহসানকে দেখার।

সাতটার প্রোগ্রামে, বিকাল ৩ টা থেকে কপোত কপোতিরা মুক্ত মঞ্চে ভীর করা শুরু করলো। আমি ভাবলাম, প্রোগ্রামের শুরুর এত আগে ভীর লাস্ট দেখেছিলাম ৩৪ ব্যাচের র‍্যাগে, জেমস -এর কনসার্টে।

টাহসানের একটা গান আমার খুব ভালো লাগে। ঈর্ষা। দূরে তুমি দাঁড়িয়ে... শুনেছি এই গান টাহসান নাকি অত গান না। স্পেশালি কনসার্টে। যদি এই গানটা গান, তবে এইটা শুনে আমি চলে আসবো। সে যখনই গান না ক্যান।

আমি সন্ধ্যার দিকে মুক্তমঞ্চে গেলাম। দাড়াতে হলো পরিমল দার দোকানের সামনে। আমার দেখা ৩৪ এর প্রোগ্রামের পর সব থেকে বেশী লোক সমাগম হওয়া কনসার্ট ছিলো টাহসানেরটা।

আমি অবাক হয়ে দেখলাম, মুক্ত মঞ্চে নারীর থেকে নর'র সংখ্যা বেশী। আমি ভাবলাম, সব ছেলে আমার মত ধান্দাবাজ। ভেবেছে টাহসানের কনসার্ট অনেক মেয়ে আসবে কিন্তু মেয়ে কম ছেলে বেশী। টাহসান না মেয়েদের মাঝে জনপ্রিয় ছিলো!!

যাইহোক, টাহসান একটা কালা ড্রেস পরে স্টেজে আসলেন। এসেই তার স্বভাব সুলভ অর্ধ পুরুষ স্টাইলে বললেন, ওয়াল! এমেজিং ক্রাউড৷ জাহাঙ্গীরনগর বেস্ট, লাভ ইউ অল। গান শুরুর আগে একটা সেলফি তুলি?

সেলফি শেষ হতেই টাহসান সবাইকে অবাক করে শুরু করলেন, দূরে তুমি দাঁড়িয়ে...

আমি দেখলাম, এই ভীরে দাঁড়ানো যাবে না। আস্তে আস্তে হাটাশুরু করলাম হলের দিকে। কলেজ জীবনের কথা ভাবছিলাম। আমার প্রিয় বন্ধু মাইগেলের খুব প্রিয় ছিল টাহসান। তার থেকে বেশী প্রিয় ছিল টাহসানের তখনকার বউ, মিথিলা। আমার মনে আছে, টাহসানের একক এলবামে,মাঝে মাঝেই মিথিলা কন্ঠ দিত। এলবামের কভারের চিপাতে মিথিলার ছোট্ট ছবি থাকতো মাইগেল সেই ছবি ছিড়ে দেয়ালে টাঙ্গিতে রাখতো, আর বলত, ম্যান মিথিলার মত যদি একটা বউ পাইতাম! উফফ...

মাইগেলের আরেকজন প্রিয় নায়িকা ছিলো, জয়া আহসান। সেই সময়কার জয়া ছিলো অন্য লেভেলের সুন্দর। মাইগেল মাঝে মাঝেই জয়াকে নিয়েও বলত, উফ ম্যান এমন একটা বউ যদি হতো আমার! বলেই কোল বালিশ জড়িয়ে মাইগেল শুয়ে পড়ত। ঠোটের কোনে মুচকি হাসি। মাইগেল নিশ্চয় কখনো নিজেকে টাহসান কিংবা আহসান ভাবত!

জয়া আর মিথিলা সিঙ্গেল, মাইগেলও সিঙ্গেলের...আর সামনে আবার রোজা...

পাদটিকা: এই কনসার্টের দুই তিন দিন পরেই দেখি এমএইচ হলের সামনে টাহসান দাঁড়িয়ে। আর পাশে বিদ্যা সিনহা মীম। কি একটা নাটকের শুটিং। হলের পোলাপান কয়েকজন দাঁড়িয়ে দেখছে শুটিং। আশেপাশে তেমন লোকজন নাই। টাহসান ভার্সিটির স্টুডেন্ট, ছাত্রনেতা। শুটিং খানেক দাঁড়িয়ে দেখে বুঝলাম, কেন শুটিং দেখতে বেশী লোক নাই। মানুষ নায়ক অপেক্ষা গায়ক টাহসানকে বেশী পছন্দ করে।

08/01/2026

আমিও উনচল্লিশ-A Memoir of Thirty-Nine"|| দ্বীতিয় পত্র|| শেষাংশ|| 🖤🖤

07/01/2026

"আমিও উনচল্লিশ-A Memoir of Thirty-Nine"
শেষাংশ|| Teaser||
চোখ রাখুন: আট এক দুইহাজার ছাব্বিশে..

01/01/2026

"আমিও উনচল্লিশ-A Memoire Of Thrity-Nine"

২ রা জানুয়ারি ২০১০। কুয়াশা মাখা সে শীতের সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রাশুরু করে একটা নতুন ব্যাচ। হাজার হাজার নতুন মুখ। কেউ কাউকে চেনে না। জানে না। একে একে এই অচেনা মুখগুলা হয়ে গেলো চিরচেনা। ৩৯ নামে একটা সংখ্যা চিরজীবনের মত হয়ে গেল নিজ নিন ছায়া।

ষোল বছর বাদে সেই চিরচেনা মুখগুলার কয়েকজনকে একটা ছোট Memoir এ নিতে পারলাম।

ক্যাম্পাসের গন্ডি পেরিয়ে মুখগুলা ছড়িয়ে পড়েছে দেশ বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে! উত্তর গোলার্ধের বরফ শীতলতা থেকে মধ্যে প্রাচ্যের বালুর মহাদেশ কিংবা আফ্রিকার ঘন জংগল থেকে দক্ষিণের শেষ ভূ-খন্ডে।

পৃথিবীর যে খানে যে প্রান্তেই ৩৯ থাকে না ক্যান, শুধু দেখা হলে বলতে হবে, আমিও উনচল্লিশ...

ভিডিও ভালো কুয়ালিটি ও বাফারিং ফ্রি দেখার জন্যে মন্তব্যে ঘরে দেওয়া ইউটিউব লিংকে ক্লিক করেন।

29/12/2025

নজর রাখিয়েন..
আসছে।
জানুয়ারি-১,২০২৬

01/12/2025

মেট্রোরেলের ছাদে উঠা দেখে ইত্যাদির বিখ্যাত এ স্কেচটা মনে আসলো! 🤪🤪

27/11/2025

একটা ভূমিকম্প আরেকটা ভূমিকম্পকে ট্রিগার করতে পারে। আবার আরেকটা ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা কমাতেও পারে। দুইটাই সত্য। বর্তমান ভূমিকম্প যে কোনটা করছে, সে একমাত্র ওই ব্যাটা নিজেই বলতে পারে। এইখানে প্রেডিক্ট করে "আমিই সঠিক" বলে কেরামতি দেখানোর সুযোগ কম।

আফটার শক, ফোর শক। বোঝা আসলে খুব কঠিন। আমার জানামতে ভূমিকম্পের শক হলো তিনটা।

Foreshock = মেইন ভূমিকম্পের আগে ঘটে, সাধারণত ছোট কম্পন।
Mainshock = সবচেয়ে বড় কম্পন।
Aftershock = মেইনশকের পরে ঘটে, ধীরে ধীরে কমে আসে।

এইখানে ইদানীং আসলে আমরা যে কোন শকটা খাচ্ছি তা ধরা মুস্কিল। একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষেই বলা সম্ভব। কোন শকটা খেলাম।

তত্ত্ব অনুযায়ী আফটার শক সাধারণত মেইন শকের পর পরই ঘটে থাকে। ভূমিকম্পের মাত্রার উপর সে নির্ভরশীল। মাধ্যমে মানের ভূমিকম্প (আমি ধরে নিচ্ছি নরসিংদীর ভূমিকম্প মধ্যেম মানের, যেহেতু ৫.৭ মাত্রার, এবং মেইন শক) সে হিসেবে আফটার শক আগামী তিন চার মাস অবধি হতে পারে। আবার আজকের টাও শেষ হতে পারে। এইটা পুরাটাই নির্ভর করছে কতখানী এনার্জি স্টোর ছিল, কতখানি রিলিজ হয়েছে তার উপর। তবে এইটা সময়ের সাথে সাথে কমবে।

আমার জ্ঞ্যান বলে, আপাতত যা হচ্ছে, তা আফটার শক। আল্লাহ ভালো জানেন।

ভূমিকম্প হচ্ছে সেই ঘটনার উদাহরণ যেভাবে দুনিয়া ধ্বংস হবে। এখন তো মহড়া চলছে।

ইদানীং একটু নেট ঘেটে সবাই ভূমিকম্প স্পেশালিষ্ট হয়ে গেছে। হতেই পারে। তবে অধিকাংশ মানুষের এই বিষয়ে কনসেপ্ট পরিস্কার না। আমরা হুজুগে মানুষ। যে কোন নিউজেই ভয় পায়। ভয়ের কিছু নাই। যে দেশে নর্দমার মশার কামড়ে হাজার হাজার মানুষ মরে, সেই দেশে ভূমিকম্পে মৃত্যু তো রীতিমতো লাক্সারিয়াস ব্যাপার।

একটাই কথা বলি, যখন ভূমিকম্প হবে, যেখানে আছেন সেইখানেই থাকেন। যদি নিচতলায় থাকেন, বাইরে আসতে পারেন। উপরের লোকেরা যেইখানে আছেন, সেইখানেই থাকেন। আল্লাহ চাইলে সেইখানেই সব থেকে সেফ থাকবেন।

বিপদের সময় ধৈর্য ধারন একটা বড়গুন...

লেখক: প্রফেশনাল ভূতত্ত্ববিদ।

22/11/2025

গতকাল একটা বেশ বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়ে গেল। যদিও মাত্রা বিবেচনায় এটি মাঝারী, কিন্তু উৎপত্তিস্থল ঢাকা শহরের কাছাকাছি হওয়াতে দেশের প্রাণকেন্দ্রের জনগণ বেশ ভালোভাবেই টের পেয়েছি ঝাকুনি। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭। উৎপত্তিস্থল ছিল, নরসিংদী জেলার মাধবদি/ঘোড়াশালের কাছে।

আমার ভূতাত্ত্বিক জ্ঞ্যানে এই ভূমিকম্প টেকটোনিক প্লেটের জন্য না, বরঞ্চ কোন একটা লোকাল ফল্টের কাছাকাছি। যেহেতু নরসিংদীর কিছু অংশ প্রাচীন প্যালিওস্টিন টেরাসের মধ্যে আছে এবং এখানে বেশ কিছু লোকাল ছোট ছোট ফল্ট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফল্ট মানে চ্যুতি। নরসিংদী অঞ্চলের মাটিতে বিভিন্ন ধরনের ফাটলও এই ধরনের লোকাল ফল্ট ইন্ডিকেট করে বলেই আমার ধারনা। কয়েক জায়গায় ভূমি বসে গেলেও আমি অবাক হবো না।

আমরা যখনই বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভূমিকম্প নিয়ে আলোচনা করি, আমরা টেকটোনিক প্লেট মুভমেবট এবং এ প্লেট বাউন্ডারি সংলগ্ন বড় বড় ফল্ট, যেমন ডাউকি নিয়ে আলোচনা করি। বাস্তবে আমাদের দেশের মাটির নিচে নরসিংদী এলাকার লোকাল ফল্টের মত অসংখ্যে ফল্ট আছে, যা ভূমিকম্প সৃষ্টিতে সক্ষম। বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গলে সংগঠিত ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প কিন্তু এই লোকাল ফল্ট ঘটিত!

মেজর আর মাইনর যে ফল্ট আছে দুইটা কিন্তু দুইরকম।।ডাউকি ফল্টের বিস্তৃতি ৩০০-৪০০ বা হাজার কিলোমিটার জুড়ে। অপর দিকে লোকাল বা মাইনর ফল্টগুলা ৫-১০ কিলো বিস্তৃত বা কম বেশী।

ভূমিকম্প নিয়ে সচরাচর পাওয়া কিছু তত্ব বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি। "প্রতি ১৫০ বছর পর বড় ভূমিকম্প হয়/হবে" এ মন্তব্যটা সম্পুর্ণ সঠিক না। যদি আপনি USGS (United States Geological Survey)র পেজ ফলো করেন, দেখবেন, আসাম মিজোরাম মেঘালয়ের প্লেট বাউন্ডারি বরাবর প্রতি মাসেই ২-৩ মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে।

এনার্জি তৈরী ও রিলিজ কিন্তু কন্টিনিউয়াস প্রসেস। এখন কোন পেজ যদি প্রতিমাসেই লেখে আগামী মাসে ভূমিকম্প হবে, এর মানে সে ভূমিকম্প প্রেডিক্ট করছে তা না। ভূতাত্ত্বিক জ্ঞ্যান থাকলে আপনিও জানবেন, প্লেট বাউন্ডারি বরাবর ভূমিকম্প হয়ইই। আমিও চাইলে প্রতিমাসের শুরুতে এমন পোস্ট মারতে মারি। এরমানে আমি বিশাল বিজ্ঞানী হচ্ছি তা না।

তেমনি বারবার ছোট ভূমিকম্প হতে হতে একটা বড় ভূমিকম্প হতেই পারে, সেইটার জন্য ভাষা ব্যবসায়ীদের কাছে ১৫০ বছর একটা লোভনীয় সংখ্যা। আমার লেখা যে পড়ছেন, সে দেড়শ বছর আগে বেচে ছিলো না, আবার ১৫০ বছর পরেও থাকবে না।

সম্ভাবতা বা পরিসংখ্যান ফ্যাক্টকে সব সময় পরিস্কার ভাবে সামনে তুলে ধরতে পারে না। এইখানে ফ্যাক্ট হচ্ছে বাংলাদেশ ও হিমালয় রেঞ্জের আশেপাশে ভূমিকম্প সংঘটনের মাত্রা শেষ ২০-৩০ বছরে বেড়েছে, এবং এইভাবে চললে সামনে আরো বাড়বে।

অনেকে বলেন, এই ছোট ভূমিকম্প গুলার ফলে এনার্জি রিলিজ হচ্ছে, ফলে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কমে যাচ্ছে। এই কথাটা শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে এমন হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ কারন 'তাদের মতনুযায়ী" একটা ছোট ভূমিকম্প এনার্জি রিলিজের সাথে বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনা কমিয়ে দিলেও নরসিংদীর মত লোকাল ফল্টগুলাকে জাগিয়ে দিতেও সক্ষম। এইটা মনে হয় না "বড় ভূমিকম্প হবে না" মতবাদেরাও Deny করতে পারবে না।

ভূমিকম্প হবে, প্রকৃতি আপনার উপর আঘাত করবে এইটা তো অবিশাম্ভ্য। এজন্য তো আর জীবন থেমে থাকবে না। পরম করুনাময় আল্লাহর উপর আস্থা রেখে আমাদের চলতে হবে, বেচে থাকতে হবে। আল্লাহ প্রকৃতিকে একই সাথে করেছে সুন্দর ও বিপদজনক।

এখন নয় মাত্রার ভূমিকম্প বাংলাদেশে হবে কি না, এইটা আসলে অতিরিক্ত হাইপোথিটিক্যাল প্রশ্ন। ৯ মাত্রার ভূমিকম্প পৃথিবীতে খুব কম। আমাদের দেশেও আমার মনে হয় না হবে। আর হলেও সেক্ষেত্রে আগে ৬ বা ৬.৫ বা ৭ মাত্রার ভূমিকম্প গুলা সার্ভাইব করতে হবে। বাংলাদেশের মত ঘনবসতি পূর্ণ দেশে এই মাত্রাগুলার ভূমিকম্প ৯ মাত্রার মত প্রাণঘাতি হতে সক্ষম।

আজকেই দেশের অর্ধেক লোক ভুলে গেছে গতকাল ভূমিকম্প হইছে। এইসব নিয়ে এত চিন্তা কইরেন না। যে লেভেলের হাইরাইজ বানাচ্ছেন এমনিও ভূমিকম্প হলে সার্ভাইব করার চান্স কম। মরে গেলে দেখা যাবেনে। আপাতত শনিবারের দিন, বউ-বাচ্চা নিয়ে গরুর মাংস দিয়ে ভাত খান, আর বেশী বেশী আল্লাহকে ডাকেন।

একটা জিনিস খেয়াল করছেন তো, এই যে হাজার হাজার টাকা দিয়ে দোকান ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বানাইছেন, যে কম্পনটা শুরু হইলো সব কিছু ফেলাইয়ে দৌড়, একজন তো দেখলাম বাচ্চা রেখেই দৌড়। দুনিয়ার ভ্যালু যে দুই পয়সাও না এইটা বুইঝা নেন।ইহকালে নিজের শখের বানানো বিল্ডিং-এর ইট চাপা পইড়ে মরে পড়কালে আগুনে পুড়লে লাইফের ১৬ আনায় মিছা হয়ে যাইবো গা।

লেখক: প্রফেশনাল ভূতত্ত্ববিদ ও গ্যাস-তেল উত্তোলনে জড়িত।

Address

Kushtia
Khulna

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Pritam Azim posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share