01/11/2025
বিটিআরসি এখন চাইছে — এক এনআইডি দিয়ে ২টার বেশি সিম রাখা যাবে না।
তারা প্রথমে সীমা নামাল ২০ থেকে ১০-এ, এখন চাচ্ছে ৫-এ আনতে।
এরপর নামাবে ২-এ, তারপর ১-এ।
আপনার কাছে হয়তো মনে হতে পারে — “ভালোই তো! এতে নিরাপত্তা বাড়বে।”
কিন্তু বাস্তবে এটা একটা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত।
এবং এটা হচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলোর সিন্ডিকেটের পরিকল্পনা।
এই সিদ্ধান্তে কী হবে জানেন?
👉 আপনি এক-দুইটার বেশি সিম রাখতে পারবেন না।
👉 ফলে আপনি বাধ্য হয়ে একটা অপারেটরের কাছেই আটকে যাবেন।
👉 অপারেটর পরিবর্তন করার ঝামেলায় যাবেন না।
👉 আর তখন অপারেটররা চাইলে কলরেট, ইন্টারনেট রেট, অফার—সব নিজের মতো নির্ধারণ করবে।
অর্থাৎ, আপনার হাতে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
এটাকেই বলে সিন্ডিকেট।
সবাই মিলে বাজারকে কন্ট্রোল করা, প্রতিযোগিতা বন্ধ করা, আর সাধারণ মানুষকে বন্দী করে ফেলা।
একটা বাস্তব উদাহরণ দেই 👇
মহেশখালী হাসপাতালের সামনে অনেকগুলো ফার্মেসি ছিল।
তারা একসময় নিজেদের মধ্যে ঠিক করল — রাত ১২টার পর একদিনে একটাই ফার্মেসি খোলা থাকবে।
শনিবার একটার পালা, রবিবার আরেকটার।
প্রথমে শুনলে মনে হয় ভালো — অন্তত একটা তো খোলা থাকে!
কিন্তু আসলে উল্টোটা ঘটল।
আগে যেখানে রাতেও কয়েকটা দোকান খোলা থাকত, এখন একটা ছাড়া আর কিছুই খোলা থাকে না।
তাদের কাছে যে দাম বলবে, আপনাকে সেই দামে ওষুধ নিতে হবে।
কারণ আপনার আর কোনো বিকল্প নাই।
ঠিক এই কাজটাই এখন মোবাইল অপারেটরগুলো বিটিআরসির মাধ্যমে করাতে চাইছে।
বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত বহুদিন ধরেই সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাতগুলোর একটি।
টেলিটকের সেবা যাতে ভালো না হয় — এজন্য নাকি বড় বড় অপারেটররা আগে বছরে কোটি কোটি টাকা ঘুষ দিত।
এখন প্রশ্ন হলো, এই সিন্ডিকেট বাস্তবায়নের জন্য আবার কত কোটি টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছে?
আমরা আমাদের এনআইডি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে বৈধভাবে সিম কিনি।
আমাদের সিমের বিপরীতে পরিচয় স্পষ্ট — কে, কোথায়, কবে রেজিস্টার করেছে সবই রেকর্ডে আছে।
তাহলে আমরা চাইলে একাধিক অপারেটরের কয়েকটা সিম ব্যবহার করবো না কেন?
আমরা তো কোনো ভুয়া সিম চালাচ্ছি না!
অনেক পরিবারে বাবা বা মা নিজের এনআইডি দিয়ে পরিবারের সবার সিম রেজিস্ট্রেশন করে রাখেন।
এখন যদি হঠাৎ সব বন্ধ করে ১–২টাতে নামিয়ে আনা হয়, তাহলে হাজারো মানুষ বিপদে পড়বে।
তারা ধীরে ধীরে কাজটা করছে যাতে কেউ প্রতিবাদ না করে —
প্রথমে ১০, এখন ৫, এরপর ২, তারপর ১...
এভাবে ধাপে ধাপে জনগণকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।
অন্যদিকে কলরেট, ইন্টারনেট প্রাইস, সিম রিপ্লেসমেন্ট চার্জ কমানো বা নিয়ন্ত্রণে আনার কোনো উদ্যোগ নেই।
বরং বৈধ এনআইডি দিয়ে বৈধভাবে নিবন্ধিত সিমহোল্ডারদের উপর উল্টো “খবরদারি” চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে দেশের অসংখ্য পরিবারে পিতার নামে পুরো পরিবারের সিম রেজিস্টার করা থাকে —
এই বাস্তবতাকে বিবেচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ভুয়া নিবন্ধন বন্ধের জন্য বিটিআরসি চাইলে “সিম মালিকানা কনফার্মেশন” প্রক্রিয়া চালু করতে পারতো,
অথবা অনলাইনেই সহজ মালিকানা ট্রান্সফার ও ডি-রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করতে পারতো।
কিন্তু তারা সেটা না করে এখন জনগণকে জালে ফেলছে।
প্রতারণা রোধে বিকাশের নাহিদ আর নগদের মোকলেসদের ঠেকাতে পারে না,
আর বৈধ গ্রাহকদের উপরই “কঠোর নীতির” মহড়া দেখায়!
👉 প্রশ্ন একটাই —
বিটিআরসি কোন যুক্তিতে বৈধ নাগরিকের সিম ব্যবহারের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে চায়?
এবং এই সিন্ডিকেট বাস্তবায়নের জন্য কত কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে?