18/04/2025
আপত্তি: মির্জা সাহেব মুসলমানদেরকে কাফের বলেছেন। যেমন,
১. "আমার প্রতি ইলহাম হয়েছে যে ব্যক্তি তোমার অনুসরণ করবে না এবং তোমার বায়াতে অন্তর্ভুক্ত হবে না সে খোদা এবং তার রসূলের নাফরমানকারী জাহান্নামী হবে"। (ইশতিহার, মায়ারুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা ৮)
২. "খোদা তালা আমার নিকটে স্পষ্ট করেছেন যে প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যার নিকটে আমার বাণী পৌঁছেছে আর সে আমাকে গ্রহণ করেনি সে মুসলমান নয়"। (ইশতেহার, আয-যীকরুল হাকিম নাম্বার ২, পৃষ্ঠা ২৪)
৩. তার ছেলে মির্জা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ লিখেছে, "প্রত্যেক মুসলমান যারা হযরত মাসীহে মওউদ (আ.) এর বয়াতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি; যদিও তারা মাসীহে মওউদ (আ.) নাম পর্যন্ত শুনে নাই, তারা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডির বহির্ভূত"। (আয়নায়ে সাদাকাত, পৃষ্ঠা-৩৫)
উত্তর: এই আপত্তিসমুহ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সত্যের সাথে এর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ فَمِنۡکُمۡ کَافِرٌ وَّمِنۡکُمۡ مُّؤۡمِنٌ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ
অর্থাৎ তিনিই সেই সত্ত্বা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছে। অতঃপর তোমাদের মাঝে কেউ কাফের হয়ে যায় এবং কেউ মুমিন (বিশ্বাসী)।
অথচ আল্লাহ তাআলা তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যহ দেখছেন। (সূরা আত -তাগাবুন -৩)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে মানুষ দুই ধরনের । ১. যারা নির্দেশ মেনে নেই তারা মুমিন । ২. আর যারা মেনে নেই না তারা কাফের।
এখন এই কাফের বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কেউ এক নবীকে মেনে নেই কিন্তু পরবর্তী নবীকে না মানার কারণে কাফের হয়। অর্থাই একই ব্যাক্তি ভিন্ন পর্যায়ে কাফের ও মুমিন উভয় হতে পরে। এখন যেহেতু সে পূর্ববর্তী নবীকে মেনেছে সে হিসেবে তাকে জাহান্নামী বলাও যায়না। জাহান্নামী বা শাস্তিযোগ্য তখনই বলা যাবে যখন এটি স্পস্ট হবে যে সে ব্যাক্তি জেনে বুঝে, সকল দলিল প্রমাণ এবং নিদর্শন দেখেও পরবর্তী নবীকে বা যাকে মানার নির্দেশ রয়েছে মান্য করবে না।
হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) বলেন,
"এ বিষয়টি স্মরণ রাখা উচিত! নিজ দাবীর অস্বীকার কারীদেরকে কাফের বলা এটি কেবল সেই সকল নবীদের অধিকার রয়েছে যারা খোদার পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশনা এবং শরীয়ত নিয়ে আসেন। কিন্তু শরীয়তবাহী ব্যক্তি ব্যতীত যত ধরনের মুলহাম এবং মুহাদ্দাস রয়েছেন, তারা খোদাতালার যতই নৈকট্য অর্জন এবং বাক্যালাভের সম্মানে ভূষিত হোক না কেন তাদের অস্বীকার করার কারণে কেউ কাফের (প্রকৃত) হয়ে যায় না"। (তিরিয়াকুল কুলুব, রুহানি খাজায়েন, ১৫তম খন্ড, পৃষ্ঠা -৪৩২, হাশিয়া)
এছাড়াও তিনি (আ.) বলেন,
"কুফর দুই ধরনের। ১. এই কুফর যে এক ব্যক্তি ইসলামকেই অস্বীকার করে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে খোদার রাসুল মনে করে না। ২. দ্বিতীয়তঃ এই কুফর; উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি মসীহে মওউদ (আ.) কে মানে না এবং সকল দলিল প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যাবাদী মনে করে; যাকে মান্য করার ব্যাপারে এবং সত্যবাদী মনে করার ব্যাপারে খোদা এবং রসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন আর পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবেও নির্দেশ পাওয়া যায়। সুতরাং এটি এজন্য যে সেই ব্যক্তি খোদা এবং রসূলের নির্দেশকে অস্বীকার করে সে কাফের। যদি গভীর দৃষ্টিতে দেখা যায় তাহলে এই দুই ধরনের কুফর মূলত একই ধরনের। কেননা যে ব্যক্তি সবকিছু জেনে বুঝে খোদা এবং রসূলের নির্দেশ মান্য করে না সে কোরআন এবং হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী খোদা এবং রসূলকেও (প্রকৃত অর্থে) মান্য করে না। ....
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তির স্বপক্ষে খোদাতালার নিকটে প্রথম ধরনের কুফর অথবা দ্বিতীয় ধরনের কুফারের জন্য ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হবে সে কেয়ামতের দিনে পাকড়াও হবার যোগ্য হবে। এবং যে ব্যক্তির স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়নি কিন্তু সে মুকাজ্জেব এবং অস্বীকারকারী তাহলে যদিও শরীয়ত (যার ভিত্তি বাহ্যিকতার উপর) তার নাম কাফের আখ্যা দেয় আমরাও তাকে শরীয়ত অনুযায়ী কাফের নামেই আখ্যা দিয়ে থাকি, কিন্তু এরপরেও সে খোদাতালার দৃষ্টিতে এই আয়াত অনুযায়ী لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا পাকড়াও হবার যোগ্য হবে না। কিন্তু আমরা এই বিষয়ের অধিকার রাখি না যে আমরা তার স্বপক্ষে মুক্তির নির্দেশ দিব। তার সম্পর্ক খোদা তায়ালার সাথে আমাদের এর মাঝে কোন সংযুক্তি নেই। আর যেমনটি আমি এখনই বর্ণনা করেছি যে, এই জ্ঞান কেবলমাত্র খোদাতালার রয়েছে যে তার দৃস্টিতে বিবেক বুদ্ধি ও দলিল প্রমাণাদি এবং উত্তম শিক্ষা ও ঐশী নিদর্শন প্রদর্শন সত্ত্বেও কাদের স্বপক্ষে এখনো ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়নি।" (হাকিকাতুল ওহী, রুহানি খাজায়েন, ২২ তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫-১৮৬)
সুতরাং ১. প্রথম ধরনের কুফর ধর্মকেই সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করাকে বুঝায়।
২. দ্বিতীয় ধরনের কুফর যেটি ধর্মকে অস্বীকার করা হয় না কিন্তু ধর্মের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়কে অমান্য করা হয়।
👉হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) বলেন,
"যাই হোক! কোন ব্যক্তির কুফরি করা এবং তার স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে সকলের ব্যক্তিগত অবস্থা নিরীক্ষণ করা আমাদের কাজ নয়। এটি সেই সত্তার কাজ যিনি আলিমুল গায়েব। আমরা এতোটুকু বলতে পারি যে খোদাতালার দৃষ্টিতে যার স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হবে এবং খোদার নিকটে যে অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে সে পাকড়াও হওয়ার যোগ্য"। (হাকিকাতুল ওহী, রুহানি খাজায়েন, ২২ তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫)
হাকিকাতুল ওহীর উক্ত এবারত এবং পৃষ্ঠা: ১৭৯-১৮০ অনুযায়ী তার (আ.) এর দৃষ্টিতে জাহান্নামী কেবল সেই সকল অস্বীকারকারীরা যাদের স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়েছে এবং এর পরেও তাকে (আ.) মিথ্যাবাদী মনে করে।
আরেকটি বিষয় হলো, যে উদ্ধৃতিতে জাহান্নামী শব্দ ব্যবহার হয়েছে এটি মির্জা সাহেবের নিজের কথা নয় বরং আল্লাহ তাআলা ইলহামের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। যে খোদার দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য সে তো শাস্তি পাবেই যদিও বা সে নামে মাত্র মুসলমান হোক না কেন।!!!
👉👉 দ্বিতীয় আপত্তি: "খোদা তালা আমার নিকটে স্পষ্ট করেছেন যে প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যার নিকটে আমার বাণী পৌঁছেছে আর সে আমাকে গ্রহণ করেনি সে মুসলমান নয়"। (ইশতেহার, আয-যীকরুল হাকিম নাম্বার ২, পৃষ্ঠা ২৪)
এখানে এটি লেখা রয়েছে যে "সে মুসলমান নয়" এর অর্থ হল সে পরিপূর্ণ মুসলমান নয়। কেননা এখানে আল্লাহ্ তালা স্পষ্ট করে বলেছে, যার নিকটে বাণী পৌঁছে গিয়েছে এর পরেও সে সেটি যাচাই বাছাই করে না এবং মান্য করে না সে মুসলমান নয়। আর কিভাবেই প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে!!! যেখান মুহাম্মাদ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে শেষ যুগে যখন ইমাম মাহদী আসবে তাকে মানতে হবে। কেউ যদি মুখে মুসলমান দাবী করে আর কার্যত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশের বিরুদ্ধে আচরণ প্রদর্শন করে সে কি প্রকৃত মুসলমান হতে পারে!? কখনোই নয়।।
সুতরাং এইখানে যে "সে মুসলমান নয়" এর অর্থ হল সে পরিপূর্ণ মুসলমান নয়। কেননা তিনি (আ.) সর্বদা কালেমা পাঠকারীকে মুসলমান হিসেবে জেনেছেন।
যেমন তার (আ.) এর ইলহাম রয়েছে যে,
"مسلماں را مسلماں باز کردند“
অর্থাৎ মুসলমানদেরকে প্রকৃত মুসলমান বানাও। এই ইলহামেও তার অস্বীকারকারীদেরকে মুসলমান নাম দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যারা নামে মাত্র মুসলমান তাদেরকে তালিম তর্বিয়ত দিয়ে পরিপূর্ণ মুসলমান হিসেবে তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি (আ.) আরো বলেন,
“আমরা কালেমা পাঠকারীকে ইসলামের বাইরের লোক মনে করি না, যতক্ষণ না সে আমাদের কাফের বলে যা তাকে কাফের করে দেবে” [মালফুজাত (1988 সংস্করণ), খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৩৫]।
সারাংশ হলো, যে কালেমা পাঠ করে সে মুসলমান হয়ে যায়। এখন সে ভালো মুসলমান কি না, পরিপূর্ণ মুসলমান কি না, সঠিক মুসলমান কি না এসব কিছু তার আমলের মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হবে। একজন মুসলমান কালেমা পাঠ করেও যখন নামাজ সময় মত আদায় করে না বা সুদ গ্রহণ করে তখন সে কালেমা পাঠ করার কারণে মুসলমান তো থাকে কিন্তু কর্মের কারণে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে পরিগণিত হয় না।
সুতরাং মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) যেখানে বলেছেন "সে মুসলমান নয়" এর অর্থ হল সে পরিপূর্ণ মুসলমান নয়। কেননা সে মুহাম্মদ (সা.) এর একটি নির্দেশকে অস্বীকার করে। এখন এই অস্বীকার করার কারণে শাস্তিযোগ্য তখনই হবে যখন আল্লাহ তাআলার নিকটে সে শাস্তিযোগ্য হিসেবে পরিগণিত হবে।। অন্যথায় তাকে কালেমা পাঠ করার কারণে মুসলমান হিসেবেই ধরা হবে।
দেখুন এখানেও মির্জা সাহেব নিজের পক্ষ থেকে বানিয়ে বলেন নি বরং খোদাতালা তাকে যা জানিয়েছেন সেটি তুলে ধরেছেন মাত্র।
আহলে হাদীসদের প্রসিদ্ধ বুজুর্গদের ফতোয়া উল্লেখ্য করছি।
১. ”مَنْ کَذَّبَ بِالْمَھْدِیِّ فَقَدْ کَفَرَ “
যে মাহদীকে অস্বীকার করে সে অবশ্যই কুফর করে। ( নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভূপালীর প্রণীত হুজাজুল কিরামা, পৃষ্ঠা -৩৫১, প্রকাশনা: শাহজাহানপুর প্রেস ভূপাল)
২. নওয়াব নুরুল হাসান খান সাহেব ভূপালি লিখেন যে, যে কেউ মাহদীর অস্বীকার করবে সে কাফের হয়ে যাবে। (اقتراب الساعة ইক্তারাবুস সাআ, পৃষ্ঠা - ১০০)
এখন আপনারাই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন।
👉👉👉 তৃতীয় যে উদ্ধৃতি দিয়ে আপত্তি করা হয়েছে যে "সে ইসলামের গণ্ডির বহির্ভূত" এখানে এটি বোঝানো হয়েছে যে এমন ব্যক্তি প্রকৃত ইসলাম থেকে বঞ্চিত। কেননা শুরুতেই "প্রত্যেক মুসলমান" শব্দ ব্যবহার করে এটি স্পষ্ট করেছেন যে তারা তো মুসলমান থাকবে কিন্তু প্রকৃত যে ইসলাম সেটি থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। দেখুন তাদেরকে অমুসলিম হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়নি বরং মুসলমান শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
হযরত মির্জা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ (রা.) এই উদ্ধৃতি সেই হাদিসের অনুরূপ যেখানে মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
" مَنْ مَشَى مَعَ ظَالِم لِيُقَوِّيَهُ فَقَدْ خَرَجَ مِنَ الإسلامِ-
অর্থাৎ "যে অত্যাচারী ব্যক্তির সাহায্যের জন্য দাঁড়িয়ে যায় সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়"। ( বায়হাক্বী, মিশকাত)
এই হাদিস দ্বারা এটি বোঝানো হয়েছে যে এমন ব্যক্তির এ ধরনের কার্যকলাপ প্রকৃত ইসলাম বহির্ভূত, এটি নয় যে সে ব্যক্তি অমুসলিম হয়ে যায়।
কেননা, হযরত মির্জা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ (রা.) এর বিশ্বাস এটি ছিল যে তিনি (রা.) বলেন,
"কাফের শব্দের অর্থ আমরা কখনই এটি করি না যে, এমন ব্যক্তি যে স্বীকার করে আমি মুহাম্মদ (সা.) কে মান্য করি তাকে কে বলতে পারে যে তুমি মান্য করো না??? অথবা কাফের শব্দের অর্থ আমরা কখনো এটি করি না যে এমন ব্যক্তি খোদাতালার অস্বীকারকারী হয়ে যায়। যখন কেউ বলে যে আমি খোদাতালার সত্তায় বিশ্বাসী। সে মুহূর্তে এমন কে আছে যে বলবে, তুমি খোদাতালাকে বিশ্বাস করো না??? আমাদের দৃষ্টিতে ইসলামের প্রত্যেক শিক্ষার মধ্য থেকে একটি শিক্ষাকে অস্বীকার করা কুফর। যেটি ব্যতীত কোন ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না। আমাদের কখনোই এমন বিশ্বাস নয় যে কাফের (প্রত্যেক) জাহান্নামী হয়ে থাকে। এমনটি হতে পারে যে একজন কাফের (অস্বীকারকারী অর্থে) হয়েও জান্নাতি হবে। উদাহরণস্বরূপ! এমন অস্বীকারকারী যে সারা জীবন প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি। এবং তার স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়নি। সুতরাং যদিও আমরা এমন ব্যক্তি সম্পর্কে এটিই বলব যে সে অস্বীকারকারী কিন্তু খোদাতালা তাকে দোযখে নিক্ষেপ করবেন না কেননা সে প্রকৃত ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানতো না আর আল্লাহ অত্যাচারী নন যে তিনি নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন"। (জুমার খুতবা, আল ফজল, ১লা মে ১৯৩৫, পৃষ্ঠা ৮, কলাম নম্বর ৩)
সুতরাং প্রত্যেকটি শব্দ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যারা সত্যকে জেনেও মিথ্যা বলা থেকে বিরত হয় না আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে জানার এবং মান্য করার তৌফিক দান করুন। আমীন।