Reply to Allegations

Reply to Allegations Know about true Islam

18/04/2025

অপত্তি: মির্জা সাহেব মুসলমানদের কাফের বলেছেন!

উত্তর: এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা অপবাদ। সত্যের সাথে এর দূরতম সম্পর্ক নেই। প্রকৃত বিষয় হলো রাসূল (সা.) বলেছেন, যদি কেউ কোনো মুসলমান ভাইকে কাফের বলে ডাকে তাহলে সে নিজেই কাফের হয়ে যায়। হাদীসটি উল্লেখ্য করে দিচ্ছি:

পরিচ্ছেদঃ ২৫০৫. কোন ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইকে বিনা কারণে কাফির বললে তা তার নিজের উপরই বার্তাবে

ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ৫৬৭৩, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ৬১০৩
৫৬৭৩। মুহাম্মাদ ও আহমাদ ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন কোন ব্যাক্তি তার মুসলিম ভাইকে ’হে কাফির’ বলে ডাকে, তখন তা তাদের দু’জনের কোন একজনের উপর বর্তায়।

باب مَنْ كَفَّرَ أَخَاهُ بِغَيْرِ تَأْوِيلٍ فَهْوَ كَمَا قَالَ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، وَأَحْمَدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا قَالَ الرَّجُلُ لأَخِيهِ يَا كَافِرُ فَقَدْ بَاءَ بِهِ أَحَدُهُمَا ‏"‏‏.‏ وَقَالَ عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، سَمِعَ أَبَا سَلَمَةَ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ৬৫/ আচার ব্যবহার (كتاب الأدب)

উক্ত হাদীসকে সামনে রেখে মির্জা সাহেব কেবল মাত্র মুসলমানদেরকে যারা তাকে কাফের বলে এবং মিথ্যাচার করে তাঁদেরকে সতর্ক করেছেন। কিন্তু যখন মৌলবীরা কোনোভাবেই বিরত হচ্ছিল না তখন তিনি তাদের কাফের বলা সম্পর্ক রাসূল (সা.) এর ফতোয়া শুনিয়েছেন মাত্র।

মির্যা সাহেব বলেন, “কোন মৌলভী, কোন বিরুদ্ধবাদী অথবা কোন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি কি এই প্রমাণ দিতে পারবে যে প্রথমে আমরা ঐ লোকদের কাফের আখ্যা দিয়েছি। যদি কোন এমন কাগজ, বিজ্ঞাপন অথবা পত্রিকা আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাফের ফতওয়া দেয়ার পূর্বে আখ্যা দিয়েছি তাহলে তা উপস্থাপন করুন। নতুবা ভাবুন, এটা কত বড় বেঈমানী যে নিজেরাই কাফেরের ফতোয়া দেয় আবার আমাদের উপর এই অপবাদ লাগায় যে, আমরা সকল মুসলিমদের কাফের বলেছি।“ (হাকিকাতুল ওহী, রুহানী খাজায়েন, ২২ তম খন্ড, পৃষ্ঠা ১২৩)

তিনি আরো বলেন,
আমি কোনো কালেমা পাঠকারীকে কাফির বলি না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে আমাকে কাফের ফতোয়া দিয়ে নিজে কাফের আখ্যায়িত না হয়। ..... যদি আমি আল্লাহ্ তাআলা দৃষ্টিতে মুসলমান হয়ে থাকি তাহলে আমাকে কাফের আখ্যা দেওয়ায় রাসূল (সা.) এর ফতোয়া তাদের জন্য এটাই যে তারা স্বয়ং নিজেরাই কাফের। সুতরাং আমি তাদেরকে কাফের বলি না বরং তারা আমাকে কাফের বলে নিজেরাই নবী (সা.) এর ফতোয়ার অন্তর্ভূক্ত হয়ে যায়। ( তিরিয়াকুল কুলুব, রুহানী খাজায়েন, ১৫ তম খন্ড, পৃষ্ঠা -৪৩৩)

অন্য এক স্থানে বলেন- “যারা আমাদের কাফের না বলে আমরা তাদের কাফের বলি না, কিন্তু যে আমাদের কাফের বলে তাকে যদি কাফের না বলা হয় তাহলে এখানে হাদিস ও সর্বসম্মত বিষয়ের পরিপন্থী হয়ে যায়। আর এটা আমরা কখনও করতে পারি না।“ (মলফুজাত ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৫-৩৩৬, ১৯৮৮ এডিশন)

তিনি (আ.) বলেন, আমি এখনো কোন কিবলামুখিকে কাফের ফতোয়া দেই না, কিন্তু যে নিজেই নিজের উপর কাফের ফতোয়া আরোপিত করে তার বিষয়ে আমি কি-ই-বা বলতে পারি? (হাকীকাতুল ওহী, রুহানী খাজায়েন, ২২ তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৯, টিকা)

আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সত্যকে মানার তৌফিক দান করুন। আমীন।

18/04/2025

আপত্তি: মির্জা সাহেব মুসলমানদেরকে কাফের বলেছেন। যেমন,
১. "আমার প্রতি ইলহাম হয়েছে যে ব্যক্তি তোমার অনুসরণ করবে না এবং তোমার বায়াতে অন্তর্ভুক্ত হবে না সে খোদা এবং তার রসূলের নাফরমানকারী জাহান্নামী হবে"। (ইশতিহার, মায়ারুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা ৮)
২. "খোদা তালা আমার নিকটে স্পষ্ট করেছেন যে প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যার নিকটে আমার বাণী পৌঁছেছে আর সে আমাকে গ্রহণ করেনি সে মুসলমান নয়"। (ইশতেহার, আয-যীকরুল হাকিম নাম্বার ২, পৃষ্ঠা ২৪)
৩. তার ছেলে মির্জা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ লিখেছে, "প্রত্যেক মুসলমান যারা হযরত মাসীহে মওউদ (আ.) এর বয়াতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি; যদিও তারা মাসীহে মওউদ (আ.) নাম পর্যন্ত শুনে নাই, তারা কাফের এবং ইসলামের গণ্ডির বহির্ভূত"। (আয়নায়ে সাদাকাত, পৃষ্ঠা-৩৫)

উত্তর: এই আপত্তিসমুহ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট। সত্যের সাথে এর দূরতম কোন সম্পর্ক নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ فَمِنۡکُمۡ کَافِرٌ وَّمِنۡکُمۡ مُّؤۡمِنٌ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ
অর্থাৎ তিনিই সেই সত্ত্বা যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছে। অতঃপর তোমাদের মাঝে কেউ কাফের হয়ে যায় এবং কেউ মুমিন (বিশ্বাসী)।
অথচ আল্লাহ তাআলা তোমাদের কার্যকলাপ প্রত্যহ দেখছেন। (সূরা আত -তাগাবুন -৩)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট যে মানুষ দুই ধরনের । ১. যারা নির্দেশ মেনে নেই তারা মুমিন । ২. আর যারা মেনে নেই না তারা কাফের।
এখন এই কাফের বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। কেউ এক নবীকে মেনে নেই কিন্তু পরবর্তী নবীকে না মানার কারণে কাফের হয়। অর্থাই একই ব্যাক্তি ভিন্ন পর্যায়ে কাফের ও মুমিন উভয় হতে পরে। এখন যেহেতু সে পূর্ববর্তী নবীকে মেনেছে সে হিসেবে তাকে জাহান্নামী বলাও যায়না। জাহান্নামী বা শাস্তিযোগ্য তখনই বলা যাবে যখন এটি স্পস্ট হবে যে সে ব্যাক্তি জেনে বুঝে, সকল দলিল প্রমাণ এবং নিদর্শন দেখেও পরবর্তী নবীকে বা যাকে মানার নির্দেশ রয়েছে মান্য করবে না।
হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) বলেন,
"এ বিষয়টি স্মরণ রাখা উচিত! নিজ দাবীর অস্বীকার কারীদেরকে কাফের বলা এটি কেবল সেই সকল নবীদের অধিকার রয়েছে যারা খোদার পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশনা এবং শরীয়ত নিয়ে আসেন। কিন্তু শরীয়তবাহী ব্যক্তি ব্যতীত যত ধরনের মুলহাম এবং মুহাদ্দাস রয়েছেন, তারা খোদাতালার যতই নৈকট্য অর্জন এবং বাক্যালাভের সম্মানে ভূষিত হোক না কেন তাদের অস্বীকার করার কারণে কেউ কাফের (প্রকৃত) হয়ে যায় না"। (তিরিয়াকুল কুলুব, রুহানি খাজায়েন, ১৫তম খন্ড, পৃষ্ঠা -৪৩২, হাশিয়া)
এছাড়াও তিনি (আ.) বলেন,
"কুফর দুই ধরনের। ১. এই কুফর যে এক ব্যক্তি ইসলামকেই অস্বীকার করে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে খোদার রাসুল মনে করে না। ২. দ্বিতীয়তঃ এই কুফর; উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি মসীহে মওউদ (আ.) কে মানে না এবং সকল দলিল প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও মিথ্যাবাদী মনে করে; যাকে মান্য করার ব্যাপারে এবং সত্যবাদী মনে করার ব্যাপারে খোদা এবং রসূল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন আর পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবেও নির্দেশ পাওয়া যায়। সুতরাং এটি এজন্য যে সেই ব্যক্তি খোদা এবং রসূলের নির্দেশকে অস্বীকার করে সে কাফের। যদি গভীর দৃষ্টিতে দেখা যায় তাহলে এই দুই ধরনের কুফর মূলত একই ধরনের। কেননা যে ব্যক্তি সবকিছু জেনে বুঝে খোদা এবং রসূলের নির্দেশ মান্য করে না সে কোরআন এবং হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী খোদা এবং রসূলকেও (প্রকৃত অর্থে) মান্য করে না। ....
এতে কোন সন্দেহ নেই যে, যে ব্যক্তির স্বপক্ষে খোদাতালার নিকটে প্রথম ধরনের কুফর অথবা দ্বিতীয় ধরনের কুফারের জন্য ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হবে সে কেয়ামতের দিনে পাকড়াও হবার যোগ্য হবে। এবং যে ব্যক্তির স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়নি কিন্তু সে মুকাজ্জেব এবং অস্বীকারকারী তাহলে যদিও শরীয়ত (যার ভিত্তি বাহ্যিকতার উপর) তার নাম কাফের আখ্যা দেয় আমরাও তাকে শরীয়ত অনুযায়ী কাফের নামেই আখ্যা দিয়ে থাকি, কিন্তু এরপরেও সে খোদাতালার দৃষ্টিতে এই আয়াত অনুযায়ী لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا পাকড়াও হবার যোগ্য হবে না। কিন্তু আমরা এই বিষয়ের অধিকার রাখি না যে আমরা তার স্বপক্ষে মুক্তির নির্দেশ দিব। তার সম্পর্ক খোদা তায়ালার সাথে আমাদের এর মাঝে কোন সংযুক্তি নেই। আর যেমনটি আমি এখনই বর্ণনা করেছি যে, এই জ্ঞান কেবলমাত্র খোদাতালার রয়েছে যে তার দৃস্টিতে বিবেক বুদ্ধি ও দলিল প্রমাণাদি এবং উত্তম শিক্ষা ও ঐশী নিদর্শন প্রদর্শন সত্ত্বেও কাদের স্বপক্ষে এখনো ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়নি।" (হাকিকাতুল ওহী, রুহানি খাজায়েন, ২২ তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫-১৮৬)
সুতরাং ১. প্রথম ধরনের কুফর ধর্মকেই সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করাকে বুঝায়।
২. দ্বিতীয় ধরনের কুফর যেটি ধর্মকে অস্বীকার করা হয় না কিন্তু ধর্মের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়কে অমান্য করা হয়।
👉হযরত মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) বলেন,
"যাই হোক! কোন ব্যক্তির কুফরি করা এবং তার স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে সকলের ব্যক্তিগত অবস্থা নিরীক্ষণ করা আমাদের কাজ নয়। এটি সেই সত্তার কাজ যিনি আলিমুল গায়েব। আমরা এতোটুকু বলতে পারি যে খোদাতালার দৃষ্টিতে যার স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হবে এবং খোদার নিকটে যে অস্বীকারকারী সাব্যস্ত হবে সে পাকড়াও হওয়ার যোগ্য"। (হাকিকাতুল ওহী, রুহানি খাজায়েন, ২২ তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৮৫)
হাকিকাতুল ওহীর উক্ত এবারত এবং পৃষ্ঠা: ১৭৯-১৮০ অনুযায়ী তার (আ.) এর দৃষ্টিতে জাহান্নামী কেবল সেই সকল অস্বীকারকারীরা যাদের স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়েছে এবং এর পরেও তাকে (আ.) মিথ্যাবাদী মনে করে।
আরেকটি বিষয় হলো, যে উদ্ধৃতিতে জাহান্নামী শব্দ ব্যবহার হয়েছে এটি মির্জা সাহেবের নিজের কথা নয় বরং আল্লাহ তাআলা ইলহামের মাধ্যমে তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। যে খোদার দৃষ্টিতে শাস্তিযোগ্য সে তো শাস্তি পাবেই যদিও বা সে নামে মাত্র মুসলমান হোক না কেন।!!!

👉👉 দ্বিতীয় আপত্তি: "খোদা তালা আমার নিকটে স্পষ্ট করেছেন যে প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যার নিকটে আমার বাণী পৌঁছেছে আর সে আমাকে গ্রহণ করেনি সে মুসলমান নয়"। (ইশতেহার, আয-যীকরুল হাকিম নাম্বার ২, পৃষ্ঠা ২৪)
এখানে এটি লেখা রয়েছে যে "সে মুসলমান নয়" এর অর্থ হল সে পরিপূর্ণ মুসলমান নয়। কেননা এখানে আল্লাহ্ তালা স্পষ্ট করে বলেছে, যার নিকটে বাণী পৌঁছে গিয়েছে এর পরেও সে সেটি যাচাই বাছাই করে না এবং মান্য করে না সে মুসলমান নয়। আর কিভাবেই প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে!!! যেখান মুহাম্মাদ (সা.) স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে যে শেষ যুগে যখন ইমাম মাহদী আসবে তাকে মানতে হবে। কেউ যদি মুখে মুসলমান দাবী করে আর কার্যত মুহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশের বিরুদ্ধে আচরণ প্রদর্শন করে সে কি প্রকৃত মুসলমান হতে পারে!? কখনোই নয়।।
সুতরাং এইখানে যে "সে মুসলমান নয়" এর অর্থ হল সে পরিপূর্ণ মুসলমান নয়। কেননা তিনি (আ.) সর্বদা কালেমা পাঠকারীকে মুসলমান হিসেবে জেনেছেন।
যেমন তার (আ.) এর ইলহাম রয়েছে যে,
"مسلماں را مسلماں باز کردند“
অর্থাৎ মুসলমানদেরকে প্রকৃত মুসলমান বানাও। এই ইলহামেও তার অস্বীকারকারীদেরকে মুসলমান নাম দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ যারা নামে মাত্র মুসলমান তাদেরকে তালিম তর্বিয়ত দিয়ে পরিপূর্ণ মুসলমান হিসেবে তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি (আ.) আরো বলেন,
“আমরা কালেমা পাঠকারীকে ইসলামের বাইরের লোক মনে করি না, যতক্ষণ না সে আমাদের কাফের বলে যা তাকে কাফের করে দেবে” [মালফুজাত (1988 সংস্করণ), খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৬৩৫]।
সারাংশ হলো, যে কালেমা পাঠ করে সে মুসলমান হয়ে যায়। এখন সে ভালো মুসলমান কি না, পরিপূর্ণ মুসলমান কি না, সঠিক মুসলমান কি না এসব কিছু তার আমলের মাধ্যমে দৃষ্টিগোচর হবে। একজন মুসলমান কালেমা পাঠ করেও যখন নামাজ সময় মত আদায় করে না বা সুদ গ্রহণ করে তখন সে কালেমা পাঠ করার কারণে মুসলমান তো থাকে কিন্তু কর্মের কারণে প্রকৃত মুসলমান হিসেবে পরিগণিত হয় না।
সুতরাং মির্জা গোলাম আহমদ (আ.) যেখানে বলেছেন "সে মুসলমান নয়" এর অর্থ হল সে পরিপূর্ণ মুসলমান নয়। কেননা সে মুহাম্মদ (সা.) এর একটি নির্দেশকে অস্বীকার করে। এখন এই অস্বীকার করার কারণে শাস্তিযোগ্য তখনই হবে যখন আল্লাহ তাআলার নিকটে সে শাস্তিযোগ্য হিসেবে পরিগণিত হবে।। অন্যথায় তাকে কালেমা পাঠ করার কারণে মুসলমান হিসেবেই ধরা হবে।
দেখুন এখানেও মির্জা সাহেব নিজের পক্ষ থেকে বানিয়ে বলেন নি বরং খোদাতালা তাকে যা জানিয়েছেন সেটি তুলে ধরেছেন মাত্র।

আহলে হাদীসদের প্রসিদ্ধ বুজুর্গদের ফতোয়া উল্লেখ্য করছি।
১. ”مَنْ کَذَّبَ بِالْمَھْدِیِّ فَقَدْ کَفَرَ “
যে মাহদীকে অস্বীকার করে সে অবশ্যই কুফর করে। ( নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভূপালীর প্রণীত হুজাজুল কিরামা, পৃষ্ঠা -৩৫১, প্রকাশনা: শাহজাহানপুর প্রেস ভূপাল)
২. নওয়াব নুরুল হাসান খান সাহেব ভূপালি লিখেন যে, যে কেউ মাহদীর অস্বীকার করবে সে কাফের হয়ে যাবে। (اقتراب الساعة ইক্তারাবুস সাআ, পৃষ্ঠা - ১০০)
এখন আপনারাই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন।

👉👉👉 তৃতীয় যে উদ্ধৃতি দিয়ে আপত্তি করা হয়েছে যে "সে ইসলামের গণ্ডির বহির্ভূত" এখানে এটি বোঝানো হয়েছে যে এমন ব্যক্তি প্রকৃত ইসলাম থেকে বঞ্চিত। কেননা শুরুতেই "প্রত্যেক মুসলমান" শব্দ ব্যবহার করে এটি স্পষ্ট করেছেন যে তারা তো মুসলমান থাকবে কিন্তু প্রকৃত যে ইসলাম সেটি থেকে বঞ্চিত হয়ে যাবে। দেখুন তাদেরকে অমুসলিম হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়নি বরং মুসলমান শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।
হযরত মির্জা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ (রা.) এই উদ্ধৃতি সেই হাদিসের অনুরূপ যেখানে মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন,
" مَنْ مَشَى مَعَ ظَالِم لِيُقَوِّيَهُ فَقَدْ خَرَجَ مِنَ الإسلامِ-
অর্থাৎ "যে অত্যাচারী ব্যক্তির সাহায্যের জন্য দাঁড়িয়ে যায় সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়"। ( বায়হাক্বী, মিশকাত)
এই হাদিস দ্বারা এটি বোঝানো হয়েছে যে এমন ব্যক্তির এ ধরনের কার্যকলাপ প্রকৃত ইসলাম বহির্ভূত, এটি নয় যে সে ব্যক্তি অমুসলিম হয়ে যায়।
কেননা, হযরত মির্জা বশির উদ্দিন মাহমুদ আহমদ (রা.) এর বিশ্বাস এটি ছিল যে তিনি (রা.) বলেন,
"কাফের শব্দের অর্থ আমরা কখনই এটি করি না যে, এমন ব্যক্তি যে স্বীকার করে আমি মুহাম্মদ (সা.) কে মান্য করি তাকে কে বলতে পারে যে তুমি মান্য করো না??? অথবা কাফের শব্দের অর্থ আমরা কখনো এটি করি না যে এমন ব্যক্তি খোদাতালার অস্বীকারকারী হয়ে যায়। যখন কেউ বলে যে আমি খোদাতালার সত্তায় বিশ্বাসী। সে মুহূর্তে এমন কে আছে যে বলবে, তুমি খোদাতালাকে বিশ্বাস করো না??? আমাদের দৃষ্টিতে ইসলামের প্রত্যেক শিক্ষার মধ্য থেকে একটি শিক্ষাকে অস্বীকার করা কুফর। যেটি ব্যতীত কোন ব্যক্তি প্রকৃত মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে না। আমাদের কখনোই এমন বিশ্বাস নয় যে কাফের (প্রত্যেক) জাহান্নামী হয়ে থাকে। এমনটি হতে পারে যে একজন কাফের (অস্বীকারকারী অর্থে) হয়েও জান্নাতি হবে। উদাহরণস্বরূপ! এমন অস্বীকারকারী যে সারা জীবন প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারেনি। এবং তার স্বপক্ষে ইতমামে হুজ্জত (সত্যতার জন্য প্রমাণ স্পষ্ট হওয়া) পূর্ণ হয়নি। সুতরাং যদিও আমরা এমন ব্যক্তি সম্পর্কে এটিই বলব যে সে অস্বীকারকারী কিন্তু খোদাতালা তাকে দোযখে নিক্ষেপ করবেন না কেননা সে প্রকৃত ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানতো না আর আল্লাহ অত্যাচারী নন যে তিনি নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দিবেন"। (জুমার খুতবা, আল ফজল, ১লা মে ১৯৩৫, পৃষ্ঠা ৮, কলাম নম্বর ৩)
সুতরাং প্রত্যেকটি শব্দ বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যারা সত্যকে জেনেও মিথ্যা বলা থেকে বিরত হয় না আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করুন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে প্রকৃত বিষয় সম্পর্কে জানার এবং মান্য করার তৌফিক দান করুন। আমীন।

18/04/2025

আপত্তি: মির্যা সাহেব তার পুস্তকে মুসলমানদেরকে যুররিয়াতুল বাগায়া বা বেশ্যার সন্তান বলে গালি দিয়েছেন। (নাউজুবিল্লাহ)

উত্তর: এই আপত্তির উত্তরে দুটি বিষয় স্মরণ রাখা উচিত.।
১. যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দটি কাদের জন্য ব্যবহার করেছেন?
২.যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দের অর্থ কি?
👉🏻কাদের জন্য ব্যবহার করেছেন:
হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.) তার বিখ্যাত পুস্তক আয়েনায়ে কামালাতে ইসলাম এর ৫৪৭, ৫৪৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
تِلْکَ کُتُبٌ یَنْظُرُ اِلَیْھَا کُلُّ مُسْلِمٍ بِعَیْنِ الْمَحَبَّۃِ وَالْمَوَدَّۃِ وَ یَنْتَفِعُ مِنْ مَعَارِفِھَا وَ یَقْبَلُنِیْ وَ یُصَدِّقُ دَعْوَتِیْ اِلَّا ذُرِّیَّۃَ الْبَغَایَا الَّذِیْنَ خَتَمَ اللہُ عَلٰی قُلُوْبِھِمْ فَھُمْ لَا یَقْبَلُوْنَ۔
অর্থাৎ এটি (বারাহীনে আহমদীয়া) সেই কিতাব যেটিকে প্রত্যেক মুসলমান ভালোবাসা এবং অনুগ্রহের দৃষ্টিতে দেখে। আর এই পুস্তকের তত্ত্বজ্ঞান থেকে উপকৃত হয়। এবং আমাকে গ্রহণ করে আর আমার দাবীর সত্যায়ন করে। কেবলমাত্র যুররিয়াতুল বাগায়া ব্যতীত যাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ তাআলা মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং তারা আমাকে গ্রহণ করে না।

এখানে এটি পরিষ্কার যে তিনি (আ.) যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দটি মুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেননি। কেননা শুরুতেই স্পষ্ট লিখেছেন যে প্রকৃত মুসলমানরা তাঁর এই পুস্তককে সাদরে গ্রহণ করে। সুতরাং যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দের অর্থ যেমনি করা হোক না কেন এতে মুসলমানদের কোনো সমস্যা নেই।
যুররিয়াতুল বাগায়া তাহলে কাদেরকে বলা হয়েছে?: দেখুন বাক্যের শেষে স্পষ্ট লিখা রয়েছে, যাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ তাআলা মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং যুররিয়াতুল বাগায়া তারাই যাদের হৃদয়ে মোহর লাগানো হয়েছে। আর তারাই প্রকৃত উদ্দেশ্য।

যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দের অর্থ কি?:

সর্বপ্রথম জানা আবশ্যক যে আরবী ভাষায় একই শব্দের বিভিন্ন অর্থ হয়ে থাকে যা সেই বাক্য অনুযায়ী উপযুক্ত অর্থ প্রদান করে। যেমন: কাফের শব্দের একটি অর্থ রাতের অন্ধকার। কিন্তু কুরআন শরীফে এটি বিশেষভাবে অস্বীকারকারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আবার সালাত এর মূল শব্দের একটি অর্থ আগুন বা পিঠের কুজ কিন্তু ইসলামী পরিভাষার দোয়া ও নামাজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। .......এখন এই শব্দের অর্থ হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.) কি করেছেন সেটি দেখা যাক। মির্যা সাহেব তথা লেখক নিজেই এ শব্দের অর্থ 'বিদ্রোহী মানুষ' করেছেন। মৌলবী সা'দুল্লাহ লুধিয়ানীকে 'আঞ্জামে আথম' পুস্তকে তিনি 'ইবনু বাগা' বলে সম্বোধন করেন এবং নিজেই এর অনুবাদ করেন: 'হে বিদ্রোহী মানুষ' (আল-হাকাম, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯০৭ সন)।

👉🏻 লিসানুল আরব আবিধানে লিখা আছে,
اَلْبَغِیَّۃُ فِی الْوَلَدِ نَقِیْضُ الرُّشْدِ وَ یُقَالُ ھُوَ ابْنُ بَغِیَّۃ. (لسان العرب۔جلد14صفحہ 78)
অর্থাৎ কাউকে ইবনুল বাগায়া বলার অর্থ হলো সে হেদায়াত থেকে দূরে রয়েছে অর্থাৎ পথভ্রষ্ট। এই অর্থ অনুযায়ী যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দটির অর্থ হবে পথভ্রষ্টরা।
👉🏻 তাজুল উরুস অবিধানে লিখা আছে,
والبَغايا: الطِّلائِعُ الَّتِي تكونُ قبلَ وُرودِ الجَيْشِ۔
(تاج العروس۔جلد37صفحہ 188)
অর্থাৎ এমন সৈন্যদল যারা অপর দলের পূর্বেই পৌঁছে যায়। এ হিসাবে যুররিয়াতুল বাগায়া শব্দের অর্থ হবে এমন ব্যক্তিরা যারা কোন নেতার অধীনে থাকে।

অবশ্যই বাগায়া শব্দের অর্থ দুশ্চরিত্রা নারীও হয়ে থাকে তবে শর্ত হল যখন এই শব্দটি কোনো নারীর সম্পর্কে বলা হয়। আপনিই বলুন উক্ত বাক্যে কোনো নারীর বিষয়ে আলোচনার হয়েছে কী????????
সুতরাং এটি স্পষ্ট যে মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.) -এর প্রতি যে আপত্তি আরোপ করা হয় তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।
কেননা, প্রথমত তিনি (আ.) যুররিয়াতুল বাগায়া কোনো মুসলমানকে উদ্দেশ্য করে বলেননি। দ্বিতীয়ত, বাক্য অনুযায়ী এর অর্থ এমন ব্যক্তিরা যাদের হৃদয়ে আল্লাহ্ তাআলা মোহর মেরে দিয়েছেন অর্থাৎ পথভ্রষ্টরা। কোনো ভাবেই বাক্য অনুযায়ী এর অর্থ বেশ্যার সন্তান হয়না। যে এমন অর্থ করে সে মিথ্যাবাদী, আরবী সম্পর্কে অজ্ঞ এবং সে মিথ্যা রটনাকারী।
আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে সঠিক অর্থ বুঝার ও মানার তৌফিক দান করুন। আমীন।

18/04/2025

আপত্তি: কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় খলিফা মির্যাপুত্র বশীরুদ্দীন মাহমুদ বলেছে- হযরত মাসীহে মাওউদ (মির্যা কাদিয়ানী) তো বলেছেন, তাদের (মুসলমানদের) ইসলাম ভিন্ন আর আমাদের ইসলাম ভিন্ন। তাদের খোদা ভিন্ন আর আমাদের খোদা ভিন্ন। আমাদের হজ্জ ভিন্ন আর তাদের হজ্জ ভিন্ন। এমনিভাবে প্রতিটি বিষয়ে তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য রয়েছে। -কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের মুখপত্র দৈনিক আলফযল, ২১ আগস্ট ১৯১৭ ঈ., পৃ. ৮ কলাম ১)
উত্তর: আপত্তিকারী মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে মূল বিষয়কে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করেছে। আলফাজল পত্রিকায় যাকিছু লেখা হয়েছে তার উদ্দেশ্য কখনোই এটি নয় যে আহমদীরা মুহাম্মদ (সা.) এর শেখানো নামায, রোজা ইত্যাদী ছেড়ে দিয়ে ভিন্ন কোনো ইবাদত আমদানী করেছে। বরং এর উদ্দ্যেশ্য হল, একজন আহমদী যেমন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে ইবাদত করে তা নামধারী মুসলমানের ইবাদত থেকে ভিন্ন। হৃদয়ের এই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পার্থক্য বুঝানোর জন্য বলা হয়েছে যে আমাদের ইবাদত ভিন্ন। তবে এটিও সঠিক যে আহমদীদের ইবাদত আর রাসূলে কারীম (সা.) এর শেখানো ইবাদতের মাঝে কোনো পার্থক্য নেয়। হ্যাঁ নামধারী মুসলমানদের ইবাদতের সাথে অবশ্যই পার্থক্য রয়েছে।কেননা, আল্লাহ্ তা’লা মহানবী (সা.)-কে ভবিষ্যতে তাঁর উম্মতের কি অবস্থা হবে সে সম্পর্কে অনেক সংবাদ দিয়েছেন যার মাঝে এটিও ছিল যে, মুসলমানদের হৃদয় থেকে ঈমান উঠে যাবে এবং মুসলমান নাম থাকা সত্ত্বেও ঈমান শুন্য হবে। যেভাবে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
’আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ শীঘ্রই মানুষের ওপর এমন এক যুগ আসবে, যখন শুধু নাম ব্যতীত ইসলামের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না, সেদিন কুরআনের অক্ষরই শুধু অবশিষ্ট থাকবে। তাদের মাসজিদগুলো তো বাহ্যিকভাবে আবাদ হতে থাকবে, কিন্তু হিদায়াতশূন্য থাকবে। তাদের ’আলিমগণ হবে আকাশের নীচে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট লোক, তাদের নিকট হতেই (দীনের) ফিতনাহ্-ফাসাদ সৃষ্টি হবে। অতঃপর এ ফিতনাহ্ (ফিতনা) তাদের দিকেই ফিরে আসবে। (বায়হাক্বী- শু’আবুল ঈমান, মিশকাত কিতাবুল ইলম)
http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=54835
অপর এক হাদীসে এসেছে,
"আমরা হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের নিকট বসেছিলাম। তখন সূরা জুমুআ' যার মধ্যে 'ওয়া আখারিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকু বিহিম' আয়াত আছে, অবতীর্ণ হল। বর্ণনাকারী বললেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'হে আল্লাহর রসূল! তারা কে (যারা এখনও আমাদের সঙ্গে মিলিত হন নি)? কিন্তু তিনি এর কোন উত্তর দেন নাই, এমন কি তিনবার জিজ্ঞাসা করা হল। তখন সালমান ফারসীও আমাদের মধ্যে ছিলেন। হযরত রসূলুল্লাহ্ (সা.) সালমান ফারসী (রা.)-এর উপর হাত রেখে বললেন, ঈমান সুরাইয়া নক্ষত্রে চলে গেলেও তাদের (পারস্য বংশোদ্ভূত) এক বা একাধিক ব্যক্তি তথা হতে তাকে নামিয়ে আনবে।" (বুখারী কিতাবুত্ তাফসীর)
http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=4815
অতএব মুসলমানদের এ দূরাবস্থা থেকে উত্তোলনের জন্যই ইমাম মাহদী আগমন করবেন। সুতরাং সত্যিকার মাহদীর হাতে যারা বয়াত করবে তাদের ইসলাম আর বিভিন্ন বে’দাত ও ভ্রান্ত বিশ্বাসে লিপ্তদের ইসলাম এক হতে পারে না।
মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর যুগে মুসলমানদের কি অবস্থা ছিল তার উদাহরণ সে যুগের আলেমদের মুখে শুনুন-
মাওলানা হালী লিখেন:
رہا دین باقی نہ ایمان باقی
ایک اسلام کا رہ گیا نام باقی
অর্থাৎ, না ধর্ম-দ্বীনদারী অবশিষ্ট আছে, আর না ঈমান অবশিষ্ট আছে
কেবল মাত্র ইসলামের নাম অবশিষ্ট আছে।
আল্লামা ডক্টর মুহাম্মদ ইকবাল লিখেন:
وضع میں تم ہو نصاریٰ تو تمدن میں ہنود
یہ مسلمان ہیں جنہیں دیکھ کر شرمائیں یہود
অর্থাৎ, পোশাক পরিচ্ছদে তোমরা খৃষ্টান, সংস্কৃতিতে তোমরা হিন্দু
এ হলো মুসলমান যাদের দেখে ইহুদীরাও লজ্জা পায়।

'বুরুয' এর স্বরুপ ১. শেখ মুহাম্মদ আকরাম সাহেব নিজের পুস্তক ইকতেবাসুল আনোয়ার এ লিখেছেন,  "পূণ্যবান বান্দাদের আধ্যাত্মিকত...
20/01/2025

'বুরুয' এর স্বরুপ

১. শেখ মুহাম্মদ আকরাম সাহেব নিজের পুস্তক ইকতেবাসুল আনোয়ার এ লিখেছেন,
"পূণ্যবান বান্দাদের আধ্যাত্মিকতা কখনো কখনো খোদার স্মরণে নিমজ্জিত ব্যক্তিদের উপর এমনভাবে ক্রিয়াশীল হয় যে সেই আধ্যাত্মিকতা তাদের (খোদার প্রেমিকদের) কর্মের কর্তা হয়ে যায়। এই অবস্থানকে সুফীগণ বুরুয আখ্যা দেয়। " (ইকতেবাসুল আনোয়ার, পৃষ্ঠা-৫১)
২. খাজা গোলাম ফরিদ সাহেব অফ চাচড়া বলেন , " বুরুয হল, পূণ্যবানদের রুহসমূহ হতে কোনো রুহ কোনো পুণ্যবান মানুষের উপর আত্মিকভাবে (তার আধ্যাত্মিকতা) ক্রিয়া করা। যেমন , তার উপর ঐশী জ্যোতি ক্রিয়াশীল হয় আর সেই পুণ্যবান ব্যক্তি সেই রূহের কল্যাণের প্রকাশস্থল হয়ে যায়। আর বলতে থাকে আমিই সে।" (ইরশাদাতে ফরীদি, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ১১০)

বুরুয ও জন্মান্তরবাদ এর মাঝে পার্থক্য:

শেখ আকরাম সাহেব তার পুস্তক ইকতেবাসুল আনোয়ার এর ৫২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন,
"কাফেরদের বিশ্বাস হল যখন আত্মা দেহ ত্যাগ করে তখন যে নারী চার মাসের গর্ভবতী থাকে তার গর্ভে (সেই আত্মা ) নতুন সত্তায় পৃথিবাসীর রীতি অনুযায়ী প্রকাশিত হয়। একে জন্মান্তরবাদ বলা হয়। কিন্তু বুরুয সেই অবস্থানকে বলা হয় যখন পূণ্যবান বান্দাদের আধ্যাত্মিকতা কখনো কখনো খোদার স্মরণে নিমজ্জিত ব্যক্তিদের উপর এমনভাবে ক্রিয়াশীল হয় যে সেই আধ্যাত্মিকতা তাদের (খোদার প্রেমিকদের) কর্মের কর্তা হয়ে যায়।"
সুতরাং জন্মান্তরবাদ একই আত্মার অন্য দেহে পূনরায় ফিরে আসার সাথে সম্পর্ক রাখে । কিন্তু বুরুয কেবল আধ্যাত্মিকতার সাথে সম্পর্ক রাখে। দেহ বা আত্মা ফিরে আসার সাথে নয়।

হযরত ঈসা (আ.)-এর (বুরূযী) আগমনের বিষয়ে বুযুর্গানে উম্মতের অভিমত।১. রাসূলে কারীম (সা.) স্বয়ং দুইজন ইসা (আ.) এর বর্ণনা দি...
20/01/2025

হযরত ঈসা (আ.)-এর (বুরূযী) আগমনের বিষয়ে বুযুর্গানে উম্মতের অভিমত।

১. রাসূলে কারীম (সা.) স্বয়ং দুইজন ইসা (আ.) এর বর্ণনা দিয়েছেন। একজন বনী ইসরাঈল জাতির নবী অপরজন শেষ যুগে আগমনকারী।
বনী ইসরাইল জাতির নবী ইসা (আ.) সম্পর্কে বলেছেন,
৩৪৩৮. ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ‘ঈসা (আঃ), মূসা (আঃ) ও ইব্রাহীম (আঃ)-কে দেখেছি। ‘ঈসা (আঃ) গৌর বর্ণ, কোঁকড়ানো চুল এবং প্রশস্ত বুকবিশিষ্ট লোক ছিলেন, মূসা (আঃ) বাদামী রঙের ছিলেন, তাঁর দেহ ছিল সুঠাম এবং মাথার চুল ছিল সোজা যেন ‘যুত’ গোত্রের একজন মানুষ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩১৮৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩১৯৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
শেষ যুগে আগমনকারী ঈসা (আ.) সম্পর্কে বলেছেন,
৩৪৪০. আমি এক রাতে স্বপ্নে নিজেকে কা‘বার নিকট দেখলাম। হঠাৎ সেখানে বাদামী রং এর এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তোমরা যেমন সুন্দর বাদামী রঙের লোক দেখে থাক তার থেকেও অধিক সুন্দর ছিলেন তিনি। তাঁর মাথার সোজা চুল, তাঁর দু’স্কন্ধ পর্যন্ত ঝুলছিল। তার মাথা হতে পানি ফোঁটা ফোঁটা পড়ছিল। তিনি দু’জন লোকের স্কন্ধে হাত রেখে কা‘বা তাওয়াফ করছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে? তারা জবাব দিলেন, ইনি হলেন, মসীহ ইবনু মারইয়াম। (হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) বর্ণনাকারীঃ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) পুনঃনিরীক্ষণঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ পাবলিকেশন) ৬০/ আম্বিয়া কিরাম ('আঃ) (كتاب أحاديث الأنبياء)
২. হযরত মুহিউদ্দিন ইবনে আরাবী (রহ.) হযরত ঈসা (আ.)-এর বুরুযী নুযুল বা আগমনকে সমর্থন করতেন। তিনি লিখেছেন
وَجَبٌ نُزُولُهُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِتَعَلَّقِهِ بِبَدَنِ آخَرَ
অর্থাৎ, শেষ যুগে হযরত ঈসা (আ.)-এর নুযূল অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে হবে অর্থাৎ তাঁর বুরুযী আগমন হবে। হযরত ঈসা (আ.) আক্ষরিকভাবে আগমন করবেন না। (তফসীরে মুহিউদ্দিন ইবনে আরাবী, টিকা আরাইসুল বায়ান, পৃষ্ঠা ২৬২)
৩. ইকতিবাসুল আনোয়ার, পৃষ্ঠা ৫২-তে সুফিদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে লিপিবদ্ধ আছে যে, কতিপয় সুফির ধর্মবিশ্বাস হলো, ঈসার রুহের বুরুয মাহদীর মাধ্যমে প্রকাশিত হবে আর ঈসার আগমন সম্পর্কে হাদিস লাল মাহদীয়্যু ইল্লা ঈসা অর্থাৎ, যিনি ঈসা তিনিই মাহদী- এ বুরূযের কথাই বলা হয়েছে।
৪. সিরাজুদ্দিন আবি হাফস (রহ.) লিখেছেন, মুসলমানদের একটি জামাত এ কথা বলে যে, ঈসার নুযুল অর্থ হলো, এরূপ এক ব্যক্তি আগমন করবেন যিনি বুযুর্গী এবং পরাকাষ্ঠায় হযরত ঈসা (আ.)-এর সদৃশ হবেন। উদাহরণস্বরূপ, এক নেক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়, সে ফেরেশতা আবার মন্দলোককে বলা হয় শয়তান, কিন্তু এর মানে প্রকৃত অর্থে ফেরেশতা বা শয়তান বুঝায় না। (খারিদাতুল আজায়েব, পৃষ্ঠা ২১৪, মিশর)
৫. আল্লামা মিয়াবজি দিওয়ানের ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ঈসা (আ.)-এর রুহ মাহদী (আ.)-এর মাধ্যমে প্রকাশিত হবে আর নুযুলে ঈসার মাধ্যমে এই বুরূযকেই বুঝানো হয়েছে। (গায়াতুল মাকসুদ, পৃষ্ঠা ২১)

17/01/2025
12/01/2025
12/01/2025

Address

Kushtia

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Reply to Allegations posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share