16/01/2026
পয়শা উচ্চ বিদ্যালয়-প্রাক্তন ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও মূল উদ্যোক্তা
🔴➖➖সৃষ্টির উদ্দেশ্য➖➖🔴
পয়শা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করার পেছনে অনেকেরই অবদান আছে। একটি সংগঠন তৈরি করতে হলে অনেকের সহযোগিতা দরকার হয়। কেউ দৈহিক ভাবে, কেউ বুদ্ধি দিয়ে, কেউ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। যারা এটার জন্য কাজ করেছেন-তাদের সকলের কাছেই আমরা ঋণী। তাদের অবদান অপরিসীম। তবে সর্ব প্রথম যারা মনে প্রানে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন- যাদের উদ্যোগে, যাদের চিন্তা, কঠোর পরিশ্রম আর নির্ভিকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রাক্তন ছাত্র সংসদ তারা হলেনঃ
🔴➖➖মূল উদ্যোক্তা➖➖🔴
* ঢালী মনিরুজ্জামান
* তাজুল ইসলাম হাওলাদার
* খন্দকার আনিসুর রহমান ও
* রোকেয়া আখতার শিলা।
এরপরে যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে সংগঠনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে তারা হলেন সর্বজনাবঃ
🔴➖যাদের ভূমিকা অপরিসীম➖➖🔴
১.আনোয়ার হোসেন বেপারী-মাইজগাঁও
২.আব্দুল আউয়াল সারেং
৩. জিল্লুর রহমান সিকদার
৪. আওলাদ হোসেন দেওয়ান
৫. পলি রানী সেন
৬. দেলোয়ার হোসেন শেখ
৭. এম. আহমেদ বেপারী
৮. মোস্তফা কামাল
৯. নজরুল ইসলাম খান (বাবুল)
১০.সাখাওয়াত হোসেন সরদার (আক্তার)
১১. এমদাদ হোসেন পিপল
১২. ইফতেখার আলম জুয়েল
১২. আলম খান (আটি গাঁও)সহ আরো অনেকে।
অনেক আগে থেকেই একটি ছাত্র সংগঠন করার ইচ্ছা ছিল আমার। প্রথমে আমরা ছোট্র পরিসরে সংগঠনটি করার চিন্তা করেছিলাম। কারণ সংগঠন করতে গেলে আশেপাশের ছোট বড় সবার কাছ থেকে যে ধরনের প্রেরণা আশা করেছিলাম তার চেয়ে তাড়নাই বেশি পেয়েছি। পদে পদে বাঁধা এসেছে। যখন মোটামুটি গুছিয়ে এনেছি-ঠিক সেই সময় একটি গুজব ছড়ানো হলো যে, আমরা নাকি ম্যানেজিং কমিটির হিসাব নিকাশ অনুসন্ধানের জন্যই এই কমিটি করার চেষ্টা করছি!
কি সাংঘাতিক কথা চিন্তা করেন! এরকম দু'একটি কথা ছড়াতে পারলেই তো সংগঠনের সাধ মিটে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা হাল ছাড়েনি।
১৯৯৩ সালে আমরা যখন এই সংগঠনটি করার উদ্যোগ গ্রহন করি তখন আমাদের মধ্যে যারা সাহসী তারা অধিকাংশই ছিল বিদেশে। আমার মত কপাল পোঁড়া কিছু ছাত্র মাত্র দেশে ছিল। তবুও যেখানেই বাঁধাগ্রস্ত হয়েছি সেখানেই মনোবল দৃঢ় হয়েছে। আমরা এগিয়ে গেছি। মাঝে মাঝে বিস্মিত হয়েছি এমন কথা শুনে-যাদের দ্বারা বাঁধাগ্রস্ত হয়েছি তারাও নাকি এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য !
🔴➖প্রথম আহবায়ক কমিটি➖🔴
১৯৯৩ সালের শেষের দিকে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করেছিলাম তাজুল ইসলাম হাওলাদারকে আহবায়ক করে। সে কিছুতেই হতে চায়নি। আমি যেহেতু বড় এবং শুরুটা যেহেতু আমি করেছিলাম তাই সে আমাকেই করতে চেয়েছিল। আনিস ভাই এবং অন্যান্যদের যুক্তিতে সে রাজি হয়।
আমি জানতাম ওকে সাথে নিয়ে শুরু করলে আমি সংগঠনটি দাঁড় করাতে পারবো। তাই ওর অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি ওকে আহবায়ক করে সদস্য সচিব হিসেবে ফরমে আমার নাম লিখে সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করি। বেশ সাড়া পেলাম। মনোবল আরো দৃঢ় হলো।
বেশ কিছুদিন পর ঐতিহাসিক পাটুয়াটুলী মসজিদের ৫ম তলার ১টি রুমে আমি থাকা শুরু করি। সেখানে বিশিষ্ট বাউল শিল্পী শাহ আলম সরকার, খন্দকার আনিসুর রহমান, আল আমিন বেপারী, মরহুম সোবহান বেপারী এবং আমি সেখানে থাকতাম। এখানে আসার কারনে সংগঠনের কাজ করতে আরো সুবিধা হলো। কারণ আমাদের এলাকার অধিকাংশ লোকজনের ব্যবসা বানিজ্য এই এলাকায়। সন্ধার পরে বেশির ভাগ আলাপ আলোচনা পাটুয়াটুলি মসজিদের ছাদেই করতাম।
তখন আবার নতুন করে তাজুল আর আমার স্বাক্ষরিত ফরমে "সদস্য সংগ্রহ অভিযান" শুরু করলাম। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের ফরম দিয়ে আসতাম আবার ফিলাপ শেষে নিয়ে আসতাম।
একটা সময় সহপাঠী পলি রানী সেনকে দায়িত্ব দিলাম। কারণ প্রতিদিন ঢাকা থেকে গিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। সে ছাত্রছাত্রীদের মাধ্যমে ফিলাপ করা ফর্মটি তার কাছে এনে রাখতো-শুক্রবারে গিয়ে আমি তার কাছ থেকে সেগুলো নিয়ে আসতাম। এভাবেই আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছিলাম।
একটা পর্যায়ে আমরা ছাত্র সংগ্রহ অভিযান করতে গিয়ে তিনজন বড় ভাইয়ের সান্নিধ্য পাই। তারা হলেন আনোয়ার হোসেন বেপারী, আঃ আউয়াল সারেং এবং জিল্লুর রহমান সিকদার।
তাদের পরামর্শ এবং দিক নির্দেশনায় আমরা নতুন করে গতি পাই।
🔴➖মুক্ত আলোচনা সভা➖🔴
কিভাবে কমিটি করা যায়-কিভাবে করলে সকল শ্রেনির ছাত্রছাত্রীদের কাছে গ্রহন যোগ্যতা পায়, প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য আমরা একটি মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করলাম। ১১ই ডিসেম্বর ১৯৯৮ তারিখের দৈনিক কামাল হাসান জুয়েল সাপোর্টার ফোরাম। ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় বিজ্ঞাপন আকারে নিউজ করে সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আলোচনা অনুষ্ঠানে আসার আহবান করলাম। পোষ্টার করলাম। তারিখ দিলাম পহেলা জানুয়ারি ১৯৯৯ ইং
🔴➖অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটি➖🔴
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটি করা হলো। আমরা শুরুর দিকেই সিনিয়রদের যোগ্য সম্মান দিয়েই এগিয়ে ছিলাম। তাই কোন সমস্যা হচ্ছিল না। অনুষ্ঠান কিভাবে করবো-কার নেতৃত্বে করবো? এনিয়ে নিজেদের মধ্যে অনেক আলাপ আলোচনা করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত গৃহিত হলো এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির মাধ্যমে একটি পূর্নাঙ্গ কার্যকরী কমিটি করা হবে।
অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটি করার সময় হঠাৎ করে লক্ষ্য করলাম-কেউ কেউ নিজেদের চালাক প্রমানের চেষ্টা করছে, নেতা হবার চেষ্টা করছে-যা আশা করিনি।
যাইহোক, প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের খানের মাধ্যমে উদযাপন কমিটি করা হলো।
আহবায়কঃ আনোয়ার হোসেন বেপারী
যুগ্ম আহবায়কঃ আব্দুল আউয়াল সারেং, দেলোয়ার হোসেন শেখ (আহমেদ বেপারী সম্মান জানিয়ে ছেড়ে দেয়)
বাকিদের সদস্য করে ৭সদস্যের কমিটি করা হয়। এই কমিটির মাধ্যমেই উম্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আগের দিন রাত ১টা পর্যন্ত মাঠে ডেকোরেটর ওয়ালাদের দিয়ে ষ্টেজ কম্পিলিট করিয়ে বাসায় গেলাম। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান।
ভোর বেলায় পিপল মোল্লা দৌঁড়িয়ে এসে খবর দিল, "ভাই ষ্টেজ তো নাই। কারা যেন ভেঙে ফেলেছে!" হায়রে মানুষ! বিচিত্র স্বভাব!
তারাতারি ছুটে এলাম। এসে দেখি ষ্টেজ নাই। অনেক খোঁজাখুঁজি করে দেখলাম মাঠের পশ্চিম পাশের লাল চান ভাইদের পুকুরে। তাদের উঠানে মিটিং করছে মালেক শিকদার, আনোয়ার হোসেন মোল্লা, আবুল খান, আওলাদ হোসেন দেওয়ান, আঃ বারী খানসহ কোট-টাই পড়া কিছু সিনিয়র ভাই।
তারা আমাকে খবর পাঠালো। আমি গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম কি অপরাধে স্টেজ ভাঙা হয়েছে? তারা জানালো, আনোয়ার বেপারীকে সভাপতিত্ব করতে দেয়া হবেনা। তাহলে নাকি জাত যাবে! এই নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটি হলো আমার সাথে। মেহমানরা চলে আসছে। কি করবো বুঝতে পারছিনা। এক পর্যায়ে নিয়মবর্হিভূত ভাবে হেডমাষ্টার সাহেবকে সভাপতি করে অনুষ্ঠান শুরু করি।
বাকীটা ইতিহাস
বিভিন্ন জন বিভিন্ন মত দিলেন। তবে সবাই যে পরামর্শ দিলেন তার সারমর্ম হলো এই যে, নামকরা স্কুল গুলো থেকে তাদের গঠনতন্ত্র যোগাড় করো এবং সেগুলো দেখে তোমরা একটি সুন্দর গঠনতন্ত্র তৈরি করো। আর যাই কোথায়?
এ দায়িত্ব কার? কার ঝুলিতে এত সময় আছে যে নিজের কাজকর্ম তালা মেরে স্কুলে স্কুলে ঘুরবে এগুলো যোগাতে?
এ কর্মখানা করতে তখন কাউকেই পাওয়া গেল না।
হেডমাষ্টার সাহেব বাধ্য হয়ে অনুরোধ করলেন, মনিরকে, বাবা তুই যা। তুই ছাড়া কেউ এ কাজ করতে পারবে না।
কলমা, রুশদী, ব্রাম্মনগাঁও, কাজীর পাগলা, মালখানগর, ঢাকা কলেজিয়েট, আরমানী টোলা, ইষ্ট বেঙ্গল, সেন্টগ্রেগরী স্কুলসহ বেশ কিছু স্কুলের গঠনতন্ত্র সংগ্রহ করে স্যারের সাথে বসলাম। তিনি নিবীর ভাবে সব দেখলেন। প্রায় সব স্কুলেই যারা এস এস সি পাশ করেছে শুধুমাত্র তারাই প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে গন্য হয়েছে। আমিও সেটাই চাচ্ছিলাম। কিন্তু কি যেন চিন্তা করে হেডমাষ্টার আমাকে বললেন, দেখো স্কুলের কোন ফান্ড নেই। ক'দিন আগেও আমি শিক্ষকদের বেতন দিতে পারতাম না। বিভিন্ন মানুষের কাছে হাত পাততে হতো ।
আমার স্কুলের অনেক ছাত্ররা টাকার জন্য মেট্রিক পরীক্ষা দিতে পারে নাই অথচ বিদেশে গিয়ে স্কুলের জন্য বড় ধরনের একটা ফান্ড তৈরি করে দিয়েছে। তাদের সেই লভ্যাংশের টাকা দিয়ে আমি স্কুল চালাই। আমার অনুরোধ ক্লাস নাইনে যারা রেজিষ্ট্রেশন করেছে সেখান থেকে শুরু করো। তাদের রেখো।
এরমধ্যে অনেক বড় বড় নেতারা চলে এসেছেন সভাপতি/সেক্রেটারি হতে। তারা এটা করে দিবেন ওটা করে দিবেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাথা খারাপ করে ফেলছেন। আবার কেউ কেউ তাদের পক্ষের সমর্থক হয়ে আমাদের রুমকে (পাটুয়াটুলী মসজিদের ৫মতলা) অফিস বানিয়ে ফেললেন। যার যেখানে যা কিছু করার ছিল তারা করে ফেলছেন।
কিন্তু আমরা ছিলাম অনড়। কোনক্রমেই ৯০ এর আগে যেতে চাচ্ছিলাম না।
আমরা চাচ্ছিলাম যারা সংগঠন বুঝে, স্কুলের প্রতি মমত্ববোধ আছে, নিবেদিত প্রাণ, ত্যাগী এমন কর্মীদের সমন্বয়ে কমিটি করবো।
কিন্তু একটা সময় আমরা আর পারলাম না। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম শেখ এবং প্রধান শিক্ষক আব্দুল কাদের খানের একটি প্রস্তাবের কাছে দূর্বল হয়ে গেলেন। প্রস্তাবটি হলো, আমাদের স্কুল মাঠের ঠিক পশ্চিম পাশে যে জমিটি আছে-খেলার সময় সেখানে প্রায়শই বল চলে যায়। এতে ফসলের ক্ষতি হয় এবং জমিচাষী প্রায়ই ছাত্রদের গালমন্দ করেন। এই জমিটির মালিক আবুল খান সাহেব। তিনি জমিটি স্কুলকে লিখে দেয়ার বিনিময়ে সভাপতি হতে চান।
হেডমাষ্টার বিষয়টি আমাদের বুঝালেন এবং অনুরোধ করলেন। পরিশেষে আমরা রাজি হলাম। পরবর্তী ইতিহাস কমবেশি সবাই জানেন।
🔴➖➖➖➖🔴
তারিখঃ ১৫ ফেব্রুয়ারী-২০১৬
চলবে..........!