27/06/2022
▌❝ব্যবহার বংশের পরিচয়❞- আসলেই কি তাই?
মনে করুন কেউর সাথে আপনার ঝগড়া হলো। সে আপনাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলো, আপনার পরিবার নিয়ে যাচ্ছেতাই বললো। অতঃপর আপনি তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ❛ব্যবহার বংশের পরিচয়❜ বা তাকে বিদ্বেষীতার সূরে বললেন, ❛এই কি তোমার পরিবারের শিক্ষা!? তোমার পরিবার তোমায় আদব-কায়েদা শিক্ষা দেয় নি!?❜
তো এখানে নোটেবল একটা পয়েন্ট হলো অন্যের ভুল ধরতে গিয়ে বা হয়তো আপনি তাকে গিল্টি ফিল করিয়ে তাকে সংশোধন করার জন্য বা অন্য কোনো কারণে তাকে এই সব বললেন, যা আজকাল অহরহ মানুষ একে অপরকে বলে থাকে এমনকি বলা চলে যে এই কথাটা একটা প্রবাদে পরিনত হয়েছে!
একটু চিন্তা করে দেখুন তো, কোন পিতা-মাতা চায় তার সন্তান অনৈতিক কাজ করুক!? কোনো পিতা-মাতা যদি তাদের সন্তানকে ছোট বেলা থেকে সন্তানের বুঝ-জ্ঞান হওয়া পর্যন্ত যথেষ্ট ভালো ভাবে শিক্ষা দেয় এরপরেও যদি ঐ সন্তান নিজের ইচ্ছায় অসৎ পথে পা বাড়ায় তবে দোষ টা কার!? বাবা-মায়ের!?-- অবশ্যই না!--কিন্তু সমাজ তো তা-ই বলে!
আসলে আমাদের সমাজের একটা বড় সমস্যা হলো সন্তানের ভুল হলেই জাজমেন্টাল হয়ে পিতা-মাতাকেই দোষারোপ করা হয়, বলা হয় হয়তো পিতা-মাতা সঠিক শিক্ষা দেয় নি, পরিবার থেকে সঠিক আদব-কায়েদা শিখে নি আরো কত কি!
আমাদেরকে কাছে এইসব ছোট খাটো ইস্যু হয়তোবা। তাই এইসব নিয়ে লেখালেখি বা বক্তব্য খুবই কম দেখা যায়। তবে কয়েকটা ছোট ছোট প্রবলেম যখন একসাথে হয় তখন তা অনেক বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আমাদের উচিত এইসব প্রবাদ বাদ দেওয়া যার মাধ্যমে অন্যকে দোষারোপ করা হয়।
মনে রাখতে হবে আল্লাহ ﷻ কুরআন মাজিদে আমাদের জানিয়েছেন যে, একজনের পাপের দায়ভার আরেকজন নিবে না।
তাছাড়া মুসা(আলাইহি সালাম) এবং খিযির (আলাইহি সালাম) এর ঘটনা থেকেও এটি অনুধাবন করা যায় যেখানে একটা বালককে খিযির (আলাইহি সালাম) হত্যা করেছিলো এই কারণে যে আশংকা করা যায় যে সে যদি বেঁচে থাকে তবে কুফরী করবে এবং তার মুমিন পিতামাতাকে অতিষ্ঠ করে তুলবে [সুরা কাহফ,আয়াত ৮০]।
এখানে এটি বলা হয় নি যে, ঐ পিতা-মাতা তার সন্তানকে কি শিক্ষা দিলো!? যে সন্তান কুফরী করার মতো পর্যায়ে যেতে পারে! এমন উদাহরণ আরো অনেক আছে।
ঐ সব ঘটনায় ঐ পিতা-মাতাদের প্যারেন্টিং এর উপর বিন্দুমাত্রও দোষারোপ করা হয়, তাহলে আমরা কেন সন্তানের ভুলের কারণে পিতা-মাতা/বংশ/পরিবার -কে দোষারোপ করবো!?
চলুন না নিজে পরিবর্তন হই, সমাজকে পাল্টানোর চেষ্টা করি।
..........................................................
▌ ধন্যবাদন্তে
কামরুল হাসান বিন হোসেন
--পরিচালক, আল-ইনাবাহ একাডেমি
--২৮/০৬/২২ ইং: