13/02/2026
▪️এখনকার যুগে কোনো ছেলের বউকে শ্বাশুড়ির সুনাম করতে দেখিনি। শ্বাশুড়িকেও দেখিনি বউয়ের সুনাম করতে। কিন্তু এমন কেন?
এটি বর্তমান সময়ের একটি তিক্ত কিন্তু বাস্তব চিত্র। তবে এর পেছনে কেবল "মানুষ খারাপ হয়ে গেছে" এমন সরল যুক্তি নেই; বরং আমাদের সামাজিক কাঠামো এবং মানসিকতার পরিবর্তনের কিছু গভীর কারণ জড়িয়ে আছে। বিষয়টির কয়েকটি দিক তুলে ধরছি:
▶️ ১. প্রত্যাশার আকাশচুম্বী ফারাক
আগের দিনে বউরা আসতেন মানিয়ে নেওয়ার মানসিকতা নিয়ে, আর শাশুড়িরা আসতেন শাসনের অধিকার নিয়ে। এখনকার মেয়েরা স্বাবলম্বী এবং সচেতন। তারা নিজেদের ব্যক্তিত্ব বজায় রাখতে চান। অন্যদিকে, অনেক শাশুড়ি এখনও পুরনো সেই "কর্তৃত্ব" বজায় রাখতে চান। এই Authority vs. Autonomy-র লড়াইয়ে সুনাম করার জায়গাটা হারিয়ে যায়।
▶️ ২. সোশ্যাল মিডিয়া ও ‘পারফেক্ট’ জীবনের চাপ
ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে আমরা অন্যদের সাজানো সংসার দেখি। অন্যের শাশুড়ি বা বউ কত ভালো—সেটা দেখে নিজের সঙ্গের মানুষটির ছোট ভুলগুলোকেও তখন অনেক বড় মনে হয়। এই তুলনা থেকে ভেতরে ভেতরে একটা অসন্তোষ তৈরি হয়।
▶️ ৩. যোগাযোগের অভাব (Communication Gap)
আগে যৌথ পরিবারে অনেক মানুষ থাকত, মধ্যস্থতা করার লোক ছিল। এখন ছোট পরিবারে বউ আর শাশুড়ি মুখোমুখি। সামান্য মান-অভিমান সরাসরি তিক্ততায় রূপ নেয়। একে অপরের পিছে সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু সামনাসামনি মন খুলে প্রশংসা করাটা এখনকার ইগো বা অহমিকার কারণে হয়ে ওঠে না।
▶️ ৪. নেতিবাচক ব্রেনওয়াশ
আমাদের সমাজ, নাটক এবং সিনেমা যুগ যুগ ধরে শিখিয়ে আসছে যে "শাশুড়ি মানেই ভিলেন" আর "বউ মানেই অশান্তির মূল"। আমরা অবচেতনভাবেই একে অপরের দোষ খুঁজতে শুরু করি। ভালো কিছু করলেও সেটাকে "নাটক" বলে ধরে নেওয়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
▪️কেন সুনাম করা জরুরি?
সম্পর্ক অনেকটা আয়নার মতো। আপনি যদি অন্যকে সম্মান বা প্রশংসা না দেন, তবে সেটা ফিরে পাওয়ার আশাও করা যায় না। শাশুড়ি যদি বউকে নিজের মেয়ের মতো আগলে নেন, আর বউ যদি শাশুড়িকে মায়ের মতো সম্মান দেন (ভুলত্রুটিসহ), তবে পরিস্থিতি পাল্টানো সম্ভব।
▶️ একটি ছোট টিপস: প্রশংসা সবসময় সরাসরি করতে হয় না। শাশুড়ি যদি অন্যের কাছে বউয়ের রান্নার প্রশংসা করেন, আর বউ যদি তার স্বামীর কাছে মায়ের গুণের কথা বলে—তবে সেই খবর যখন কানে পৌঁছাবে, তখন সম্পর্ক এমনিতেই সহজ হয়ে যাবে।
আপনার কি মনে হয় এই দূরত্ব ঘোচানোর জন্য দুই প্রজন্মের মধ্যে কার এগিয়ে আসা বেশি জরুরি?
- Safayet Muhammad Aabdullah