22/07/2025
পৃথিবীর গতি বাড়ছে! সময়ের রহস্যে এক নতুন ধাঁধা
----------------------------------------------------------------------------------
২২ জুলাই, ২০২৫—একটি অনন্য তারিখ, যখন পৃথিবী নিজের অক্ষের চারপাশে ঘুরে ফেলেছে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১.৩৪ মিলিসেকেন্ড কম সময়ে। এই ঘটনা এটিকে ১৯৭৩ সাল থেকে ঘূর্ণন সময় পরিমাপ শুরুর পর দ্বিতীয় সবচেয়ে ছোট দিন হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। যদিও এ পরিবর্তন এতটাই ক্ষুদ্র যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর কোনো স্পষ্ট প্রভাব অনুভব করা যায় না, তবুও বিজ্ঞানীদের কাছে এটি এক জটিল ও গভীর বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের উৎস।
কীভাবে সময় মাপা হয়?
পৃথিবীর একটি পূর্ণ আবর্তন—অর্থাৎ নিজ অক্ষে একবার সম্পূর্ণ ঘোরা—হতেই আমরা এক দিন বা ২৪ ঘণ্টা বলে থাকি। তবে প্রকৃতপক্ষে এই সময় ৮৬,৪০০ সেকেন্ড নয়; পৃথিবীর ঘূর্ণন কিছুটা অনিয়মিত ও প্রাকৃতিক প্রভাবের কারণে ভিন্ন হতে পারে।
১৯৭৩ সাল থেকে আণবিক ঘড়ির (atomic clock) মাধ্যমে পৃথিবীর ঘূর্ণন সময়ের নির্ভুল হিসাব রাখা হচ্ছে। এই ঘড়ির মাধ্যমে যে সময় নির্ধারিত হয়, তার সঙ্গে পৃথিবীর প্রকৃত ঘূর্ণনের যে সামান্য ব্যবধান ঘটে, সেটাই বিজ্ঞানীদের নজরে আসে।
হঠাৎ গতি বাড়ছে কেন?
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানেন না ঠিক কী কারণে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি হঠাৎ বাড়ছে। তবে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে:
1. পৃথিবীর অভ্যন্তরে তরল লোহা (liquid iron) ও কোরের গতি পরিবর্তন
2. মেরু অঞ্চলের বরফ গলার ফলে ভরবন্টনের পরিবর্তন
3. ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি বা প্লেট টেকটনিক গতিবিধি
4. বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের গতিশীলতা
প্রকৃত কারণ যাই হোক না কেন, এই গতি পরিবর্তন সূক্ষ্ম হলেও সময়ের পরিমাপ ও প্রযুক্তিগত খাতে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সময় কি কমে যেতে পারে?
এখন যদি পৃথিবীর গতি বাড়তেই থাকে, তবে বিজ্ঞানীদের মতে, ২০২৯ সালের মধ্যে হয়তো আমাদের "এক সেকেন্ড মুছে ফেলতে" হতে পারে সময় থেকে। একে বলা হয় Negative Leap Second।
আমরা আগে বহুবার Leap Second যোগ করেছি, যখন পৃথিবীর গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়েছিল। কিন্তু সময় থেকে এক সেকেন্ড বাদ দেওয়ার নজির ইতিহাসে এখনো নেই। এটি হবে এক অভূতপূর্ব বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত।
সময়ের ইতিহাসেও ছিল বড় পরিবর্তন!
জানা যায়, আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর দিনে ছিল মাত্র ১৯ ঘণ্টা। চাঁদের মহাকর্ষীয় টান, জোয়ার-ভাটার প্রভাব ও অন্যান্য প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর গতি ধীরে ধীরে কমে এসেছিল।
এখন সেই প্রবণতার উল্টো পথে হাঁটছে পৃথিবী, যা বিজ্ঞানীদের চমকে দিচ্ছে।
আমাদের জীবনে কী প্রভাব পড়বে?
সাধারণ মানুষের জীবনে এই পরিবর্তনের তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব না থাকলেও:
স্যাটেলাইট, জিপিএস, ইন্টারনেট টাইমিং সিস্টেমে সমস্যা হতে পারে
স্টক এক্সচেঞ্জ, ডেটা সেন্টার ও সময়-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে
ঘড়ির সময় (UTC) হয়তো নতুনভাবে সামঞ্জস্য করতে হবে
শেষ কথা
পৃথিবীর গতি বাড়া বা কমা একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও তার প্রতিক্রিয়া আমাদের আধুনিক সময় নির্ভর সভ্যতায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছে। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রস্তুত সময়ের এই নতুন রূপের জন্য?
যদি একদিন সময়ই বদলে যায়—তাহলে সত্যিই কি আমাদের ঘড়ির কাঁটা বদলাতে হবে?
সেই উত্তর সময়ই দেবে।