03/01/2021
𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 কিভাবে কোন ধরনের পেইড মার্কেটিং না করে পৃথিবীর অন্যতম বড় ব্র্যান্ডে পরিণত হল...
আমি রাস্তার পাশে ভ্যান থেকে কাপড় কেনা মানুষ, ব্র্যান্ডের ড্রেস কখনো গায়ে দিই নি। ব্র্যান্ডের ড্রেস গায়ে না দিলেও আমি প্রতিটি ব্র্যান্ড নিয়ে পড়াশোনা ও গবেষণা করতে ভালবাসি। কেন আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা ইন্টারন্যাশনাল ব্র্যান্ড হতে পারে না, অথচ আমাদের কাছ থেকে কাপড় বানিয়ে অনেক বিদেশীরা কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে।
রাস্তার পাশ থেকে কাপড় কেনার সময় 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 ব্র্যান্ডের কাপড় দেখেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। কপি ড্রেস কিনলেও আমাদের মোটামুটি সবার মনেই অরিজিনাল ড্রেস পরার ইচ্ছা থাকে, থাকাটা স্বাভাবিক। সবার ইচ্ছা পূরণের শুভ কামনা রইল।
প্রতি বছর ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি ৫০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে থাকে। 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর মধ্যে এক টাকাও খরচ করে না। আপনি 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 ব্র্যান্ডের মার্কেটিং খুব কমই দেখে থাকবেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর নেট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। ৫০০ মিলিয়নে Carlyle এর কাছে বিক্রি হবার পরেও Supreme এর ব্র্যান্ড ভ্যালু, হাইপ একটুও কমে নি।
𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে একটি স্কেটবোর্ড দোকান হিসেবে। James Jebbia, যার মোট সম্পদের পরিমান ৪০০ মিলিয়ন ডলার, ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা।
শুরুর দিকে 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 স্কেটবোর্ড কমিউনিটির জন্য পোশাক বানাত, যা ছিল সোয়েটার ও হুডি। ২০০০ সাল পর্যন্ত 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 স্কেটবোর্ড কমিউনিটির পোশাক নির্মাতা হিসেবে বেশি পরিচিত ছিল। ছোট পরিসরে ব্যবসা করলেও 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚তাদের পণ্যের কঠিন মান নিয়ন্ত্রনের জন্য জনপ্রিয় ছিল। এতে তাদের পণ্য মোটামুটি সবসময় আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে চলত।
𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 প্রথমবারের মত নজরে আসে ত্যাদের প্রিমিয়াম কোয়ালিটির টি শার্ট বানানোর পর, তাদের ডিজাইন এতটাই নজরকাড়া হয়, যে সেলিব্রেটিরা তাদের টি-শার্ট নেয়ার জন্য কাড়াকাড়ি শুরু করে।
2019 সালে GAP ও Victoria's Secret এর মত ব্র্যান্ডগুলো যখন পৃথিবীর অনেক জায়গায় তাদের স্টোর বন্ধ করে দিচ্ছিল, সেখানে 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 তাদের ব্র্যান্ড গ্লোবালি লঞ্চ করে।
𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 পোশাক হিসেবে মাঠ কাপিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, পোশাকের বাইরে তারা এমন সব পণ্য বিক্রি করত যা মূহুর্তেই স্টোর থেকে খালি হয়ে যেত। মানুষের কাজে লাগুক আর না লাগুক, তারা কোন কারণ ছাড়াই 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর পণ্য কিনত। কারো কাছে Supreme এর কোন একটা পণ্য থাকাই মানে সে অন্যদের চেয়ে আলাদা।
𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 নিয়ে আপনার সামান্যতম ধারণা থাকলেও আপনি জানবেন যে তারা সবসময় তাদের চাহিদার চেয়ে পণ্য কম বের করত। এতে দোকানে সবসময় আগে আসলে আগে পাবেন স্টাইলে বিক্রি চলত। চাহিদার চেয়ে কম পণ্য বের করে তা দিয়ে হাইপ সৃষ্টি করে পণ্য বিক্রির কৌশল তাদের ক্ষেত্রে বেশ ভালই কাজে দিয়েছল।
তবে James Jebbia'র মতে এটি কোন কৌশল ছিল না। তিনি বলেছিলেন, প্রথম দিকে তাদের তেমন কোন ফান্ডিং ছিল না, তাই তারা বাল্ক এমাউন্টে পণ্য বানিয়ে ফতুর হয়ে যেতে চান নি।
তারা প্রথমে পণ্য কম পরিমাণে বের করত, তবে কম হলেও মানের ব্যপারে কোন ছাড় দিত না, এবং এই পণ্যের অসাধারণ মানই তাদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এসবের বাই প্রোডাক্টই হল তাদের দোকানের সামনে লম্বা লাইন ও সোশ্যাল হাইপ।
এই সোশ্যাল হাইপটাই Supreme এর পোয়াবারো হয়। সমাজে তৈরি হয় Hype Beast যারা ফ্যাশন আর স্টাইল বলতে অজ্ঞান। আর বলাই বাহুল্য, তারা সবাই 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর Hype Beast এ পরিণত হয়। এরা নিজেদের কমিউনিটি তৈরি করে ফেলে, এরাই ছিল 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর সবচেয়ে লয়্যাল কাস্টোমার ও এডভোকেট, সেলস ফানেলের সর্বশেষ পর্যায়।
Hype Beast রা 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর একটি কালচার গড়ে তুলে, আর 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর একেকটি পণ্য মানেই তাদের কাছে স্যুভেনির পর্যায়ে। এমনিই এক Hype Beast হল Joe Migraine. ইন্সটাগ্রামে সার্চ করে দেখলে দেখতে পাবেন এই লোক 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 লেভের 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 ফ্যান, এর সংগ্রহে ১ লাখ ডলারের বেশি 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর পণ্য রয়েছে।
আর্টিস্ট কোলাবোরেশন ও ব্র্যান্ডিং- প্লেইন টি-শার্টের উপরে 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর লোগো দিয়ে বানানো পণ্য 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর এভারগ্রীন প্রোডাক্ট। প্লেইন টি-শার্টের উপর তাদের লোগোর অনেক আগে নজর কাড়ে বিভিন্ন বিখ্যাত আর্টিস্টদের ছবি ছাপানো টি শার্ট। মূলত এই জিনিসটি তাদের অন্যান্য ব্র্যান্ড থেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
তাদের প্রথম আর্টিস্ট ছিল রবার্ট ডি নিরো, সাথে ছিল তাদের আইকনিক বক্স লোগো। পরে তারা আরো আর্টিস্টের ছবি যোগ করে, ২০০০ সালের আগ পর্যন্ত তারাই একমাত্র ব্র্যান্ড ছিল যারা এই কাজ করে।
তারা একাদশে বৃহস্পতি শুরু হয় যখন বিখ্যাত আর্টিস্টরা তাদের টি-শার্ট পরিধান করে বিভিন্ন মিডিয়ার সামনে হাজির হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, Kanya West একবার 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর জুতা পরে মিডিয়ার সামনে হাজির হন যা ছিল নাইকির যৌথ প্রযোজনা। এই জুতাটি অনেক বেশি জনপ্রিয় হয় ও নাইকি ও 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚কে অনেক বিক্রি এনে দেয়।
পরের বছরগুলোতে জাস্টিন বিবার সহ টাইলার দ্যা ক্রিয়েটরের মত নামীদামী সেলিব্রেটিরা 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর পণ্য ব্যবহার করে মিডিয়ার সামনে হাজির হয়। এরপরে কি হয়, তা আর না বললেই চলে।
২০২০ সালে এসেও 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 তাদের মার্কেটিং কৌশলের কোন পরিবর্তন আনে নি। ২০২০ সালেও তাদের উইন্টার কালেকশনগুলোও ছিল নাইকির সাথে। 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর রিসেল ভ্যালু তাদের অরিজিনাল ভ্যালুর চেয়ে ২-৩ গুন বেশি।
জেনে অবাক হবেন 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর ব্যবহৃত শপিং ব্যাগও রিসেল মার্কেটে বিক্রি হয়। অনেকেই শুধু 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 এর পণ্য পুনঃ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
Supreme এর কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা-
𝐁𝐫𝐚𝐧𝐝𝐢𝐧𝐠 𝐓𝐚𝐤𝐞𝐬 𝐓𝐢𝐦𝐞- এক লাফে যেমন গাছে ওঠা যায় না, তেমনি এক দিনে ব্র্যান্ডিং ও হয় না। দুই দশক সময় নিয়ে 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 তাদের এই জায়গায় পৌছেছে।
𝐁𝐮𝐢𝐥𝐝 𝐓𝐫𝐮𝐞 𝐚𝐧𝐝 𝐋𝐨𝐲𝐚𝐥 𝐅𝐚𝐧𝐛𝐚𝐬𝐞- সেলস ফানেলের সর্বশেষে আমরা বিক্রি বুঝে থাকি মূলত। আসলে তা না, বিক্রির পরেও আপনার দরকার লয়্যাল কাস্টোমার যারা আপনার কাছ থেকেই পণ্য কিনবে ও আপনার হয়ে সবার সাথে কথা বলবে।
𝐐𝐮𝐚𝐥𝐢𝐭𝐲 𝐎𝐯𝐞𝐫 𝐐𝐮𝐚𝐧𝐭𝐢𝐭𝐲- 𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 তাদের পণ্য বানাতে প্রচুর সময় ব্যয় করত, ও কম পরিমাণে বানাত। তারা তাদের পণ্যর ব্যপারে এতটাই আস্থাবান ছিল যে, তারা জানত তীর্থের কাকের মত বাইরে অপেক্ষা করা ক্রেতারা যত দেরি হোক তাদের পণ্য কিনবেই।
𝙎𝙪𝙥𝙧𝙚𝙢𝙚 কোন ধরণের টাকা খরচ না করেও এত বড় ব্র্যন্ড হতে পারলে, আপনিও পারবেন।সকল ধরণের অনলাইন বিজনেস কন্সালটেন্সি পেতে আমাদের কে সরাসরি কল
☎️01859060360,01641178015 করতে পারেন
অথবা আমাদের পেইজে📨 যোগাযোগ করতে পারেন।আমরা আপনাকে সকল কিছু বিস্তারিতভাবে আপনার প্রয়োজন মত তুলে ধরবো।
Our Website : https://freelancerschoolbd.com/