At Tijarah - আত তিজারাহ

At Tijarah - আত তিজারাহ দ্বীনের ভালোবাসা, বিশ্বস্ততা আর সেবাকে সাথে নিয়েই আমাদের পথচলা।
"At Tijarah - আত তিজারাহ" সর্বদা আছে আপনাদের পাশে।
(419)

কাষ্টমার পাঠিয়েছে ছবি। ইরানি মরিয়ম খেজুর। রিসিভ করে সন্তুষ্ট হয়ে পাঠিয়েছেন। এটার স্বাদটা বেশ ভিন্ন। সুস্বাদু, রসালো খেজু...
31/08/2026

কাষ্টমার পাঠিয়েছে ছবি। ইরানি মরিয়ম খেজুর। রিসিভ করে সন্তুষ্ট হয়ে পাঠিয়েছেন। এটার স্বাদটা বেশ ভিন্ন। সুস্বাদু, রসালো খেজুর। কাউকে গিফট করার জন্য আদর্শ খেজুর।

30/08/2026

পাকিস্তানের করাচির এক মহিলা একটি পতিতালয় চালাতেন। রামাদানের এক রাতে তার ছেলে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে দেখল মসজিদের সামনে কেউ ফ্রিতে অডিও সিডি বিলি করছে। সে সেখান থেকে একটা সিডি নিয়ে বাসায় ফিরে এল।

ঐ রাতে সে বাসায় গিয়েই সিডি চালিয়ে শুনতে লাগল। ছেলের রুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেটা তার মায়ের কানেও গেল। মহিলা বসে বসে শুনতে লাগলেন যতক্ষণ না পুরো আলোচনা শেষ না হয়। শেষ হওয়ার পর তিনি ছেলেকে বললেন, ‘সিডিটা আবার চালাও।’

ছেলে সিডি আবার চালাল। শেষ হওয়ার পর তার মা আবারও বললেন, ‘পুনরায় চালাও।’

এভাবে টানা তিনবার শুনলেন।

‘এই সিডিতে যে লোক কথা বলছে, সে কে?’- মহিলা তার ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন।

‘আমি জানি না। মসজিদের সামনে একজন বিলি করছিল। আমি একটা নিয়ে এসেছি।’- ছেলে জবাব দিল।

পরের রাতে মহিলাও তার ছেলের সাথে মসজিদে গেলেন। তারাবির নামাজ শেষে তিনি ছেলেকে বললেন, তিনি ইমাম সাহেবের সাথে কথা বলতে চান।

ইমাম সাহেব আসার পর মহিলা গিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কি আমার ছেলেকে এই সিডি দিয়েছিলেন গত রাতে?’

‘হ্যাঁ, কিন্তু কেন জিজ্ঞেস করছেন?’

‘এই সিডিতে যিনি কথা বলছেন, তিনি কে?’- মহিলা জিজ্ঞেস করলেন।

ইমাম বললেন, ‘তিনি আমার শিক্ষক। মাওলানা তারিক জামিল।’

‘আপনি কি সত্যি করে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দেবেন?’

‘অবশ্যই! কেন নয়!’

‘আমি যদি আল্লাহর কাছে তাওবা করি, তিনি কি আমার তাওবা কবুল করবেন?’

‘কেন এমন প্রশ্ন করছেন? কী করেছেন আপনি?’

‘একজন পুরুষ বা মহিলা সবচেয়ে নিকৃষ্ট যে পাপ করতে পারে, তারও অনেকগুণ বড় পাপ—আমি এতটাই পাপী।’

ইমাম বললেন, ‘আমি নিজ থেকে কোনো উত্তর দেব না। আমি আপনাকে সেই উত্তর দেব যেটা স্বয়ং আল্লাহ কুরআনে দিয়েছেন,

يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

“হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরাহ যুমার, ৩৯ : ৫৩)

মহিলা বললেন, ‘তাহলে আপনি সাক্ষী থাকুন, আমি আজ এই মুহূর্তে আল্লাহর কাছে তাওবা করলাম।’

পরের রাতে সেই মহিলা মসজিদে এল নামাজ পড়তে। সম্পূর্ণ তারাবি নামাজ শেষ করল। শেষে তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘ও আল্লাহ! যদি আমার তাওবা কবুল হয়ে থাকে, তবে আমাকে এক্ষনি আপনার কাছে নিয়ে যান।’

পরের রাতেও মহিলা মসজিদে এলেন। নামাজ শেষে আবারো চিৎকার করে বললেন, ‘ও আল্লাহ! যদি আমার তাওবা কবুল হয়ে থাকে, তবে আমাকে এক্ষনি আপনার কাছে নিয়ে যান।’

এরপরের রাতেও একই ঘটনা। এরপরের রাত, এরপরের রাত। এভাবে ২৯ রামাদানের রাত এলো, ঐ রাতে তারাবির কুরআন খতম হবে।

তারাবি শেষে কুরআন খতম হলো, ইমাম সাহেব বিশেষ দুআ করলেন। এরপর সবাই একে একে মসজিদ থেকে বেরিয়ে গেল, শুধু একজন ছাড়া...
সেই মহিলা!

তিনি সিজদায় পড়ে আছেন। আল্লাহ মহিলার তাওবা কবুল করে নিয়েছেন, সেই সাথে তাঁর দুআও!

কখনও মনে করবেন না আল্লাহ আপনার তাওবা কবুল করবেন না। কখনও মনে করবেন না আল্লাহ আপনার দুআ শোনেন না। আপনি যত বড় পাপীই হোন না কেন, তা কখনও আল্লাহর রহমত আর দয়াকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে না।

কিন্তু আমরা শয়তানের ফাঁদে পড়ে যাই। পাপের সাগরে ডুবে থেকেও অবহেলায়, অলসতায় সময় কাটিয়ে দিই।

আগামী সপ্তাহ থেকে, আগামী বছর থেকে, হজ্জ করে এসে, সবকিছু একটু গুছিয়ে উঠে জীবনে একটা “ফ্রেশ স্টার্ট” করার আশায় আমরা বসে থাকি। তাওবা করে, পাপকাজ ছেড়ে, একদিন নামাজ-দুআ শুরু করব—এর জন্য শয়তানের দেওয়া আশ্বাসে আমরা বিশ্বাস করে থাকি।

কবরস্থানে গিয়ে যত নতুন কবর দেখেন, এর প্রত্যেকেই হয়তো আপনার আমার মতো এভাবেই একদিন জীবনে “ফ্রেশ স্টার্ট” করার আশায় বসে ছিল। তাদের সেই দিনটা আর কোনোদিন আসেনি।

আল্লাহর কাছে তাওবা করার জন্য কোনো এপয়েন্টমেন্ট লাগে না। তাঁর কাছে যেকোনো সময় যাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদেরকে দ্রুত তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ দিন। আমীন।
"প্রত্যাবর্তন"
বই: কাল আবার পাখিরা আকাশে উড়বে

টাকা ধার করে হলেও এই ফ্যান কিনুন! নিশ্চিত টানা ৭ ঘন্টা দুর্দান্ত বাতাসের গ্যারান্টি দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ।  কারেন্ট প্রতারণা...
30/08/2026

টাকা ধার করে হলেও এই ফ্যান কিনুন! নিশ্চিত টানা ৭ ঘন্টা দুর্দান্ত বাতাসের গ্যারান্টি দিচ্ছি ইনশাআল্লাহ। কারেন্ট প্রতারণা করলেও এটি আপনাকে ঠকাবে না। পুরো রাত এটা বাতাস দেয়। কারেন্ট চলে গেলেও টের পাবেন না।

নতুন স্টকে মাত্র ৪ পিস আছে।

পার্সেলগুলো একের পর এক চলে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। যারা ফ্যানের অর্ডার করেছিলেন, প্লিজ ধৈর্য ধরুন। ২/১ দিনের মধ্যে পৌছে য...
30/08/2026

পার্সেলগুলো একের পর এক চলে যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ। যারা ফ্যানের অর্ডার করেছিলেন, প্লিজ ধৈর্য ধরুন। ২/১ দিনের মধ্যে পৌছে যাবে ইনশাআল্লাহ। পুরো ফ্যামিলি অথবা নিজের জন্য বাতাস চাইলে দুটি ভেরিয়্যান্টের ফ্যানই আমাদের কাছে পাবেন।

শেষ হয়ে আফসোস হবে!

খেজুরগুলো সরাসরি না দেখলে বুঝবেন না। মোবাইলের আলোক স্বল্পতায় অনেক সময় ছবিতে ভালো বোঝা যায় না। কতটা রসালো আর সুস্বাদু। গত...
30/08/2026

খেজুরগুলো সরাসরি না দেখলে বুঝবেন না। মোবাইলের আলোক স্বল্পতায় অনেক সময় ছবিতে ভালো বোঝা যায় না। কতটা রসালো আর সুস্বাদু। গত বছর এই খেজুর বিক্রি করিনি, কিন্তু এবার শুরুতেই ৪ কার্টুন স্টক করেছি।

নামটা বলতে পারবেন কি খেজুর?

১০ আইটেম দিয়ে তৈরী করেছি এটা। বলতে পারবেন কি কি আইটেম?  সঠিক উত্তরদাতার জন্য থাকবে মোবাইল রিচার্জ ইনশাআল্লাহ!
30/08/2026

১০ আইটেম দিয়ে তৈরী করেছি এটা। বলতে পারবেন কি কি আইটেম? সঠিক উত্তরদাতার জন্য থাকবে মোবাইল রিচার্জ ইনশাআল্লাহ!

প্যাকেজিং দেখেছেন?  মাশাআল্লাহ!সুপার ফ্রেশ ড্রাইফ্রুটগুলো দৈনিক এভাবে প্রিমিয়াম প্যাকেটে চলে যাচ্ছে। কাজু বাদাম থেকে নিয়...
29/08/2026

প্যাকেজিং দেখেছেন? মাশাআল্লাহ!
সুপার ফ্রেশ ড্রাইফ্রুটগুলো দৈনিক এভাবে প্রিমিয়াম প্যাকেটে চলে যাচ্ছে। কাজু বাদাম থেকে নিয়ে ব্লাক সাকুরা প্লাম সব কিছুই আছে। সর্বনিন্ম ১০০ গ্রাম থেকে অর্ডার করতে পারবেন যে কোন আইটেম।

খেজুর রেডি আলহামদুলিল্লাহ। আগামিকাল থেকে ডেলিভারি শুরু হচ্ছে। ইরানি মরিয়ম আরো ২ কার্টুন এসেছে। যাদের লাগে, ঝটপট নক করুন।
29/08/2026

খেজুর রেডি আলহামদুলিল্লাহ। আগামিকাল থেকে ডেলিভারি শুরু হচ্ছে। ইরানি মরিয়ম আরো ২ কার্টুন এসেছে। যাদের লাগে, ঝটপট নক করুন।

29/08/2026

আমার মায়ের সঙ্গে আমার শেষ কথাটা ছিল,
"মা, পরে কথা বলি।''
মা বলেছিল,
"আচ্ছা।"
আমি ফোন কেটে দিয়েছিলাম।
তারপর আর ফোন করা হয়নি।
মা-ও করেনি।

এটা শুনলে গল্পটা খুব সাধারণ মনে হবে।
এই শহরে প্রতিদিন হাজার হাজার ছেলেমেয়ে মাকে বলে,
"পরে কথা বলবো।"
তারপর পরে আর আসে না।

আমার নাম সোহেল।
বয়স ত্রিশ।
ঢাকায় থাকি।
বাবা মা থাকতো বগুড়ায়।
আমি বছরে দুইবার বাড়ি যেতাম।
ঈদে।
মা প্রতিবারই বলতো,
"আর কয়দিন থাকবি?"
আমি বলতাম,
"দুই দিন।"
মা বলতো,
''তিন দিন থাক।"
আমি বলতাম,
''অফিস আছে।''
মা তখন মুখটা একটু ছোট করে বলতো,
"অফিসের মানুষ তোকে ছাড়া চলে না?"
আমি হাসতাম।
"না।"
মা-ও হাসতো।
আমরা দুজনেই জানতাম, কথাটা মিথ্যা।
অফিস আমাকে ছাড়া দিব্যি চলতো।
শুধু আমার জীবনটা মা ছাড়া চলতো না।
সেটা আমি বুঝিনি।

মা ফোন করতো প্রতিদিন।
সকাল আটটায়।
প্রথমে বলতো,
"ঘুম থেকে উঠছিস?"
আমি বলতাম,
"হ্যাঁ।"
যদিও অনেক সময় তখনও বিছানায়।
তারপর,
"নাশতা করছিস?"
"হ্যাঁ।"
"কী খাস?"
"রুটি।"
"ডিম আছে?"
"আছে।"
সব মিথ্যা।
মা জানতো।
তবু আর কিছু বলতো না।
তারপর জিজ্ঞেস করতো,
"শরীর ভালো?"
আমি বলতাম,
"ভালো।"
মা বলতো,
"আচ্ছা।"

এভাবেই আমাদের প্রতিদিনের কথাবার্তা চলতো।
একটা আশ্চর্য বিষয় ছিল।
মা কখনো নিজের শরীরের কথা বলতো না।
আমি জিজ্ঞেস করলেও বলতো,
"আমি তো ভালোই আছি।"
এই "ভালো আছি" কথাটার উপর আমাদের পুরো পরিবার দাঁড়িয়ে ছিল।

এক রাতে অফিস থেকে ফিরতে অনেক দেরি হলো।
ফোনে মায়ের পাঁচটা মিসড কল।
আমি বিরক্ত হলাম।
ফোন করলাম।
মা ধরেই বললো,
"কোথায় ছিলি?"
"অফিসে।"
"খাইছিস?"
"না।"
"খেয়ে নে।"
আমি বললাম,
"এতবার ফোন করছো কেন?"
ওপাশে কিছুক্ষণ চুপ।
তারপর বললো,
"কিছু না।"
আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম,
"কিছু না হলে এতো ফোন করো না।"
মা বললো,
"আচ্ছা।"

আমি বুঝতে পারিনি, ঐ "আচ্ছা" শব্দটার মধ্যে কী ছিল।
পরদিন সকালেও ফোন করলো না।
আমি ভাবলাম, রাগ করেছে।
দুপুরে আমিই ফোন করলাম।
বন্ধ।
সন্ধ্যায় আবার।
বন্ধ।
রাতে বাবার ফোন এলো।
আমি ধরলাম।
বাবা বললো,
"তুই এখনই বাড়ি আয়।"
আমি বললাম,
"কেন?"
বাবা বললো,
"তোর মায়ের শরীরটা খারাপ।"
আমি বললাম,
"কী হয়েছে?"
বাবা উত্তর দিলো না।
শুধু বললো,
"আয়।"

রাতের বাসে উঠলাম।
সারাটা পথ একটা কথাই মাথায় ঘুরছিল,
"কিছু না হলে এতো ফোন করো না।"
আমি জানতাম না, মানুষের জীবনে কিছু কিছু বাক্য থাকে, যেটা বলার পর আর ফেরত নেওয়া যায় না।

ভোরে বাড়ি পৌঁছালাম।
মা বিছানায়।
চোখ বন্ধ।
আমি পাশে বসতেই মা চোখ খুললো।
আমাকে দেখে হাসলো।
বললো,
"এত সকালে আসছিস কেন?"
আমি মায়ের হাত ধরলাম।
হাতটা অস্বাভাবিক ঠান্ডা।
বললাম,
"তুমি কেমন আছো?"
মা আগের মতোই বললো,
"আমি তো ভালোই আছি।"
আমি হেসে ফেললাম।
"তুমি সবসময় ভালো থাকো কীভাবে?"
মা বললো,
"তুই থাকলে ভালো থাকি।"
আমি আর কিছু বলতে পারিনি।

দুপুরে ডাক্তার এলো।
বাবাকে বাইরে নিয়ে কিছু কথা বললো।
আমি শুনিনি।
শুনতে চাইনি।
আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে একটা অদ্ভুত অভ্যাস আছে।
বিপদের কথা যতক্ষণ না সরাসরি বলা হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা ধরে নিই বিপদ নেই।
আমি ধরে নিলাম, মা ভালো হয়ে যাবে।

পরের কয়েকদিন আমি মায়ের পাশে ছিলাম।
একদিন দুপুরে মা বললো,
"তোর ফোনটা দে।"
আমি দিলাম।
মা ফোনটা হাতে নিয়ে আমার কললিস্ট দেখলো।
তারপর বললো,
"আমি এত ফোন করি?"
আমি বললাম,
"হুম।"
মা একটু লজ্জা পেল।
"বুড়া হয়ে গেছি তো।"
আমি বললাম,
"বুড়া হওয়ার সঙ্গে ফোন করার সম্পর্ক কী?"
মা বললো,
"তুই বিরক্ত হোস।"
আমি বললাম,
"হই না।"
মা তাকিয়ে রইল।
"মিথ্যা বলিস না।"
আমি হেসে বললাম,
"তুমি তো নিজেই সবসময় মিথ্যা বলো।"
মা বললো,
"আমি কী মিথ্যা বলি?"
আমি বললাম,
"আমি তো ভালোই আছি।"
মা হাসলো।

মা এক সপ্তাহ পর কিছুটা সুস্থ হলো।
আমি ঢাকায় ফিরে এলাম।
যাওয়ার সময় মা বললো,
"পরের মাসে আসিস।"
আমি বললাম,
"আসবো।"
মা বললো,
"কয়দিন?"
আমি বললাম,
"তিন দিন।"
মা বললো,
"পাঁচ দিন থাকিস।"
আমি হেসে বললাম,
"দেখা যাবে।"
বাস ছাড়ার সময় জানালা দিয়ে দেখলাম, মা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে।
খুব ছোট দেখাচ্ছিল।
আমি হাত নাড়লাম।
মা-ও নাড়ল।
তারপর বাস চলে গেল।

কয়েকদিন পর মা ফোন করলো।
সেদিন আমার খুব ব্যস্ততা।
মিটিং।
ফাইল।
ক্লায়েন্ট।
ফোন বেজে উঠলো।
স্ক্রিনে, মা।
আমি কেটে দিলাম।
পাঁচ মিনিট পর আবার।
কেটে দিলাম।
তৃতীয়বার বেজে উঠলে ফোনটা সাইলেন্ট করে ব্যাগে রেখে দিলাম।
সন্ধ্যায় মনে হলো ফোন করি।
করিনি।
রাতে মনে হলো কাল করবো।
পরদিন অফিসে ঢুকতেই বাবার ফোন।
আমি ধরলাম না।
আবার করলো।
ধরলাম।
বাবা বললো,
"তোর মা আর নেই।"
আমি বিশ্বাস করিনি।
কারণ মানুষ যখন সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যটা শোনে, প্রথম কাজ হিসেবে সে সত্যটাকে অস্বীকার করে।
আমি বললাম,
"কীভাবে?"
বাবা বললো,
"ঘুমের মধ্যে।"

মায়ের জানাজায় অনেক মানুষ এসেছিল।
আমি সবার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
মানুষজন আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল।
কেউ বলছিল,
"শক্ত হও।"
কেউ বলছিল,
"সবাইকে একদিন যেতে হয়।"
কেউ বলছিল,
"মা হারানোর কষ্ট কেউ বোঝে না।"
আমি কারও কথা শুনছিলাম না।
শুধু মনে হচ্ছিল
মা আমাকে শেষবার ফোন করেছিল।
আমি ধরিনি।
তার আগের দিন ফোন করেছিল।
আমি বিরক্ত হয়েছিলাম।
তারও আগে বলেছিল,
"তুই থাকলে ভালো থাকি।"
আমি তখন হাসছিলাম।

মা মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর মায়ের ফোনটা হাতে নিলাম।
কললিস্টটা চেক করলাম।
তারপর একটা জিনিস দেখলাম।
মা শুধু আমাকে ফোন করেনি।
আমি ফোন না ধরলে
বাবাকে ফোন করেছে।
বাবা না ধরলে
আমার মামাকে।
মামা না ধরলে
পাশের বাড়ির খালাকে।
কেন?
আমি বুঝতে পারছিলাম না।

সেদিন রাতে আমি মায়ের ঘরে একা শুয়েছিলাম।
মায়ের বালিশে এখনও তার গন্ধ।
আলমারির উপর আমার ছোটবেলার ছবি।
আমি ছবিটা হাতে নিলাম।
ছবিতে আমি স্কুলের পোশাকে।
মা পাশে দাঁড়িয়ে।
আমি মায়ের হাত ধরে আছি।
হঠাৎ মনে হলো
ছবিটা উল্টে দেখি।
পেছনে মা লিখেছিল-
"এই ছেলেটা একদিন বড় হবে। তখন আমার সাথে গল্প করবে।"
তার নিচে আরেকটা লাইন-
"আল্লাহ যেন ততদিন আমাকে রাখেন।"
আমি প্রথমবার হাউমাউ করে কেঁদে ফেললাম।

তারপর কেটে গেছে অনেক বছর।
ততদিনে আমি বিয়ে করেছি।
ছেলের বাবা হয়েছি।
আমি এখনো মাঝে মাঝে মাকে ফোন করি।
জানি, কল ঢুকবে না।
তবু করি।
একদিন আমার ছেলে আমাকে বললো,
"আব্বু, তুমি দাদীকে ফোন করো কেন?"
আমি বললাম,
"অভ্যাস।"
সে বললো,
"দাদী তো মারা গেছে।"
আমি বললাম,
"জানি।"
সে আবার বললো,
"তাহলে?"
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম,
"কিছু মানুষ মারা যাওয়ার পরও আমাদের জীবনে থেকে যায়।"
সে বুঝলো না।
ঐ বয়সে আমিও বুঝিনি।

এখন আমি একটা কাজ করি।
সারাদিন ফোনটা হাতে রাখি।
যে মানুষই ফোন করুক; ধরি।
বন্ধু।
আত্মীয়।
অপরিচিত নম্বর।
কেউ যদি বলে,
"ব্যস্ত?"
আমি বলি,
"না।"
যদি বলে,
"পরে কথা বলবো?"
আমি বলি,
"না, এখনই বলো।"
কারণ আমি জানি
মানুষের জীবনে "পরে" বলে কোনো নিশ্চিত সময় নেই।
পরে মানে হতে পারে
এক ঘণ্টা পর।
এক মাস পর।
দশ বছর পর।
আবার কখনো; কোনোদিন না।

আর আজও, মাঝরাতে কখনো কখনো ফোনের স্ক্রিনে মায়ের নামটা দেখে মনে হয় ফোনটা বেজে উঠেছে।
আমি জানি সেটা সত্যি নয়।
তবু নামটার দিকে তাকিয়ে থাকি।
তারপর খুব আস্তে বলি,
"মা, আজ আমি ব্যস্ত না।"
ঘর নীরব থাকে।
কেউ উত্তর দেয় না।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়
সেই নীরবতার মধ্যেই আমি যেন মায়ের পুরোনো গলাটা শুনতে পাই-
"আমি তো ভালোই আছি।"

সোহেল ভাই

28/08/2026

খলীফা মামুনের অন্তিম মুহুর্ত এসে গেছে। তিনি চারপায়ীতে শোয়া ছিলেন। সঙ্গীদের বললেন তাকে যমিনে শুইয়ে দিতে। তা-ই করা হলো। তিনি দুই হাত উপর দিকে তুলে বললেন:

হে ঐ সত্তা! যার রাজত্ব কোনোদিন শেষ হবে না আপনি আপনার এই বান্দার উপর রহম করুন যার রাজত্ব শেষ হয়ে গেছে।

-

আলমেরিয়ার আমির মু‘তাসিম ইবন সামাদিহ শহরের উপকণ্ঠে এক বিশাল ও বিস্ময়কর প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। যার নাম ছিল মুনিয়াতুস-সামাদিহিয়া (مُنْيَةُ الصمادحية)। এই প্রাসাদ নির্মাণে তিনি তাঁর সর্বশক্তি ও সামর্থ্য এবং সম্পদ উজাড় করে দিয়েছিলেন। সেরা ইঞ্জিনিয়ার ও স্থপতিদের সঙ্গে তিনি নিজেই পরিকল্পনা করেছিলেন এই নির্মাণকাজ। ফলাফল ছিল এক অনন্য শিল্পকর্ম। চোখ জুড়ানো এক রত্ন যা আলমেরিয়া শহরের সৌন্দর্য আরও বহুগুণ বৃদ্ধি করেছিল।

ইন্তিকালের সময় মু'তাসিম এই প্রাসাদের এক বিছানায় শোয়া ছিলেন। চারদিকে গভীর স্তব্ধতা, শোনা যায় শুধু উত্তাল সাগরের গর্জন। যা নির্দয় শক্তিতে আছড়ে পড়ছে সাম্রাজ্যের কাছেই থাকা পাথুরে তটে। অন্ধকার তার পর্দা টেনে আন্দালুসের আকাশ ঢেকে ফেলেছে। সাগরের লবণমাখা ঠান্ডা বাতাস হাওয়া হয়ে বয়ে এলো। দাসী দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সামাদিহিয়ার বাগানমুখী জানালাগুলো বন্ধ করল, রেশমি পর্দা নামিয়ে দিল একটি জানালা ছাড়া। সেই এক জানালা থেকেই ফুটে আসছিল ম্লান, বোবা, হলুদ আলো। এটাই সেই কক্ষ যেখানে শয্যাশায়ী রাজা অথবা বলা যায়, আলমেরিয়ার আমির মৃত্যুর দোরগোড়ায় শুয়ে আছেন। কঠোর পাহারা সত্ত্বেও সমুদ্রের দিক থেকে কিছু একটি এসে পৌঁছাল যা কোনো প্রাচীর, কোনো রক্ষী, কোনো দুর্গকেও ভয় করে না।

মৃত্যুর গন্ধ ধীরে ধীরে ঘরটিতে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। সেই গন্ধের সামনে ফুলের সুগন্ধ নিস্তব্ধ হয়ে হারিয়ে গেল। আর মৃত্যু—তার গন্ধকে কে চিনে না? সেই শীতল, নরম, রেশমী বিছানায় আলমেরিয়ার আমির প্রসারিত হয়ে শুয়ে আছেন। আমির ধীরে ধীরে চোখ ঘুরিয়ে ঘরের চারদিকে তাকালেন। অবশেষে দৃষ্টি থমকে গেল সোনালি ঝাড়বাতির ওপর যার চারটি দীপ বিশুদ্ধ জলপাই তেলের আলোয় জ্বলছে।

তিনি বিদায় নিচ্ছেন তাঁর সেই সুন্দর রাজ্য থেকে। যে রাজ্যের সিংহাসনে তিনি একচল্লিশ বছর বসেছিলেন। কিন্তু হায়! সবই তো মনে হয় যেন গতকাল বিকেল কিংবা আজ সকাল। আরও কঠিন সত্য হলো তাঁর রাজ্য তাঁর হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁর নিজের প্রাণ যাওয়ার মাত্র কিছু মুহূর্ত আগেই। রোগ তাকে ভেতর থেকে ঘিরে ফেলেছে, আর বাইরে শহর ঘিরে রেখেছে মুরাবিতুন বাহিনী যারা সমুদ্র পেরিয়ে মরক্কো থেকে এসেছিল আন্দালুসকে রক্ষা করতে, শত্রুদের আগ্রাসন থেকে, বিভক্তি আর দাঙ্গা থেকে, এবং লোভী আঞ্চলিক-রাজাদের ক্ষমতার লড়াই থেকে।

সময়টা খুবই কঠিন। মনে হচ্ছে প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটা যুগ। রাজকক্ষের দরজা না রক্ষী বন্ধ করতে পারে, না প্রহরী ঠেকাতে পারে। মৃত্যু ইতিমধ্যেই সেখানে প্রবেশ করেছে। রাজা মৃত্যুযন্ত্রণায় কাতর, কিন্তু তবুও তিনি শান্তি পাচ্ছেন না। কারণ বাইরে যুদ্ধ চলছে। শহর অবরুদ্ধ, ঘোড়ার উৎপাত, তরবারির শব্দ, সৈন্যদের চিৎকার সবই তাঁর কক্ষে পৌঁছে তাঁর শেষ মুহূর্তকে আরও ভারী করে তুলছে।

তিনি কাতর স্বরে বললেন:

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ…মৃত্যুকেও আমাদের জন্য তিক্ত করে দেওয়া হলো। মৃত্যু এসে গেছে, আর শত্রুরাও ঢুকে পড়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُوَ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَانُهُ ثُمَّ يَهِيجُ وَرَنهُ مُصْفَرًا ثُمَّ يَكُونُ حُطَامًا وَفِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٌ وَمَا الْحيَوةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ ﴾:

জেনে রাখো! দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া কৌতুক, শোভা-সৌন্দর্য, তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে আধিক্যের প্রতিযোগিতা মাত্র। এর উপমা হল বৃষ্টির মত, যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়, তারপর তা শুকিয়ে যায়, তখন তুমি তা হলুদ বর্ণের দেখতে পাও, তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়। আর আখিরাতে আছে কঠিন আযাব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। আর দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকার সামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।

[সুরা হাদিদ: ২০]

Address

House-8, Road-2, Block-D, Mirpur-1, Dhaka
Mirpur
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when At Tijarah - আত তিজারাহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share