07/08/2026
হিংসা, অহংকার কিংবা বিদ্বেষ—কখনোই আমার মাঝে জায়গা করে নিতে পারেনি। কাউকে কষ্টে দেখলে আমার নিজেরও কষ্ট হয়, অল্পতেই মন খারাপ হয়ে যায়। আবার অন্যকে সুখী দেখলে মন থেকে ভালো লাগে। কখনো মনে হয় না—“ও ভালো আছে, আমি কেন নেই?” বরং অন্যের ভালোতে খুশি হতে পারাটাকেই আমি সৌভাগ্য মনে করি। 🤍
আমি সবসময় নিজের অবস্থান আর নিজের প্রাপ্তির জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। আমার জীবনে হয়তো সবকিছু নেই, কিন্তু যা আছে, সেটাও তো আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত। তাই অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে আফসোস করার চেয়ে নিজের জন্য “আলহামদুলিল্লাহ” বলতে পারাটাই আমার কাছে বেশি সুন্দর।
অন্যের ভালো দেখে হিংসা করা, বিদ্বেষ পোষণ করা কিংবা কারও সুখ সহ্য করতে না পারা—এসব আমার খুব খারাপ লাগে। কারণ অন্যের সুখ কমিয়ে নিজের সুখ কখনো বাড়ানো যায় না।
আমি অল্প দিনের পরিচয়েই মানুষকে খুব আপন ভেবে ফেলি, খুব সহজেই বিশ্বাস করে ফেলি। হয়তো এই সরলতার কারণে কখনো কষ্টও পাই, তবুও কাউকে আপন ভাবতে গেলে হিসাব-নিকাশ করতে পারি না। মন থেকে আপন মনে হলে আপনই মনে হয়।
কাউকে কষ্ট দিয়ে কথা বলতে পারি না। রাগ হলেও অনেক সময় চুপ হয়ে যাই। কারণ কাউকে ছোট করা, অপমান করা কিংবা ইচ্ছে করে তার মনে কষ্ট দেওয়ার মধ্যে আমি কোনো আনন্দ খুঁজে পাই না। বরং মনে হয়, এতে নিজের মন ও শান্তিই নষ্ট হয়।
আমি নিখুঁত নই। আমারও ভুল হয়, রাগ হয়, অভিমান হয়। কিন্তু ইচ্ছে করে কাউকে কষ্ট দিতে চাই না। কারণ মানুষের মন ভেঙে দেওয়ার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই। সবচেয়ে বড় কথা, আমি চাই না আমার কোনো কাজের কারণে আল্লাহ আমার ওপর নারাজ হন।
আমি চাই আমার মনটা এমনই থাকুক—
অন্যের সুখে খুশি হওয়ার মতো,
অন্যের কষ্টে কষ্ট পাওয়ার মতো,
নিজের প্রাপ্তিতে শুকরিয়া আদায় করার মতো,
আর কাউকে কষ্ট দেওয়ার আগে নিজের বিবেকের কাছে থেমে যাওয়ার মতো। 🤍
দিনশেষে কত মানুষের প্রশংসা পেলাম, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—আমার কারণে কোনো মানুষের চোখে পানি এসেছে কি না এবং আমার কাজকর্মে আমার রব সন্তুষ্ট কি না।
আল্লাহ যেন আমার অন্তরকে হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ ও কু-চিন্তা থেকে পবিত্র রাখেন। অন্যের সুখে সত্যিকারের আনন্দ পাওয়ার তাওফিক দেন এবং নিজের নিয়ামতের জন্য সবসময় শুকরিয়া আদায় করার তাওফিক দেন। আমিন। 🤲🏻
অন্যের ভালোতে খুশি হতে পারাটাও এক ধরনের নিয়ামত।
আর সেই নিয়ামতের জন্য—আলহামদুলিল্লাহ। 🤍🌿