18/09/2025
#মধু কি?
মধু হলো এক প্রকারের মিষ্টি ও ঘন তরল পদার্থ, যা মৌমাছি ও অন্যান্য পতঙ্গ ফুলের নির্যাস হতে তৈরি করে এবং মৌচাকে সংরক্ষণ করে। এটি উচ্চ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি ভেষজ তরল; এটি সুপেয়। বিভিন্ন খাদ্য প্রস্তুতিতে এর ব্যবহারে চিনির চেয়ে এর অনেক সুবিধা রয়েছে। এর বিশিষ্ট গন্ধের জন্য অনেকে চিনির চাইতে মধুকেই পছন্দ করে থাকেন। বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু স্বাদ, রং, হালকা সুগন্ধ এবং ঔষধিগুণাবলীর জন্য প্রসিদ্ধ। সুন্দরবনের বেশিরভাগ মধু কেওড়া গাছের ফুল থেকে উৎপন্ন। সুন্দরবনের মাওয়ালী সম্প্রদায়ের লোকেরা মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে এবং তা বিক্রয় করে জীবন নির্বাহ করে। মধুর অন্য একটি গুণ হলো এটি কখনো নষ্ট হয় না। হাজার বছরেও মধুর গুণাগুণ নষ্ট হয় না।
কোরআন-হাদিসের আলোকে মধুর নানান গুনাগুন ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের আলোকে কিছু উপকরিতার কথা।
”আপনার রব মৌমাছিদেরকে তার অন্তরে ওহী (ইংগিত) করেছেন যে, গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, বৃক্ষে ও মানুষ যে গৃহ নির্মাণ করে তাতে।” ( নাহল:৬৮)
“.অতঃপর চোষণ করে নাও প্রত্যেক প্রকার ফল হতে, তৎপর তোমরা রবের সহজ সরল পথে চলতে থাকো; আর তার উদর হতে নানা বর্ণের পানীয় (মধু) নির্গত হয়; যাতে মানুষের জন্য আরোগ্য রয়েছে। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সমপ্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন’ (সূরা নাহল, আয়াত ৬৯)।
আল-হাদীস
হযরত জাবীর (রা) হতে বর্ণিত আছে। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছেন, তোমাদের ওষুধগুলোর মধ্যে কোনগুলোতে যদি শিফা থেকে থাকে তবে সেগুলো হচ্ছে শিঙ্গা লাগানো, মধু পান এবং আগুনের দাগ নেয়া, যেটা যে রোগের জন্যে উপযুক্ত। তবে আমি দাগিয়ে নেয়াকে পছন্দ করি না। (সহীহ আল বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ৬১৭/২০৩২)
একদা এক লোক হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নিকট এসে তার ভাইয়ের পেটের সমস্যার কথা জানালেন। রাসূলে পাক সা: বললেন, তাকে মধু খাওয়াও। লোকটি দ্বিতীয় দিন এলেন। হুজুর সা: বললেন, মধু খাওয়াও। লোকটি তৃতীয় দিনেও এসে বললেন, হুজুর সা:, আমি তো তাকে মধু খাইয়েছি। হুজুর সা: বললেন, আল্লাহ তায়ালা সত্য বলেছেন; তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে। তাকে মধু খাওয়াও। তারপর মধু খাওয়ানোতেই তার পাকস্তলীর সমস্যা ভালো হলো (বুখারি)। হাদিসে আরো এসেছে, নবী করিম সা: বলেছেন, দু’টি আরোগ্য ব্যবহার করো; কুরআন এবং মধু (তিরমিজি, ইবনে মাজা, বায়হাকি)।
তাফসীর
৬৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে ইবনে কাসীরে বলা হয়েছে যে, মধু সাদা হলদে লাল ইত্যাদি বিভিন্ন রঙ-এর হয়ে থাকে। ফল, ফুল ও মাটির রং এর বিভিন্নতার কারণেই মধুর এই বিভিন্ন রঙ হয়ে থাকে। মধুর বাহ্যিক সৌন্দর্য ও চমকের সাথে সাথে ওর দ্বারা রোগ হতেও আরোগ্য লাভ হতে থাকে। আল্লাহ্ এর দ্বারা বহু রোগ হতে আরোগ্য দান করে থাকে। এটা ঠাণ্ডা লাগা রোগের প্রতিষেধক। ঔষধ সবসময় রোগের বিপরীত হয়ে থাকে। মধু গরম, কাজেই ঠাণ্ডা লাগা রোগের জন্যে উপকারী। মুজাহিদ (রহ) এবং ইবনু জারীর (রহ) হতে বর্ণিত আছে যে, এর দ্বারা কুরআন কারীমকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কুরআনে শিফা রয়েছে। এ উক্তিটি আপন স্থানে সঠিক বটে; কিন্তু এখানে তো মধুর বর্ণনা দেয়া হয়েছে। ফলে এখানে মুজাহিদের (রহ) উক্তির অনুসরণ করা হয়নি। হ্যাঁ, তবে কুরআন শিফা হওয়ার বর্ণনা সূরা বনী ইসরাঈল : ৮২নং আয়াতে বলা হয়েছে। আল্লাহ পাকের এ বাণী ‘শিফাউন’ দ্বারা উদ্দেশ্য যে মধু তার দলীল হচ্ছে নিম্নের হাদীস ঃ
“হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক রাসূলুল্লাহর (সা) কাছে এসে বললো: ‘আমার ভাইয়ের পেট ছুটে গিয়েছে। অর্থাৎ খুব পায়খানা হচ্ছে।’ তিনি বললেন, তাকে মধু পান করিয়ে দাও। সে গেল এবং তাকে মধু পান করালো। আবার সে আসলো এবং বললো (এভাবে দু’বার) পুনরায় এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (সা)! তার পায়খানা তো আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বললেন, আল্লাহ সত্যবাদী এবং তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যাবাদী। সে গেল এবং তাকে মধু পান করালো। এবার সে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য লাভ করলো। (সহীহ আল-বুখারী, ৫/২৯১, মুসলিম, তিরমিযী/৬০৭ পৃ, হাদীস নং ২০২৩)