27/04/2026
আয়কর রিটার্ন না দিলে সম্মানিত করদাতাগন কী কী ঝামেলায় পড়তে পারেন এবং জরিমানা গুনতে হবে:-
এ বছর প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা আয়কর রিটার্ন দিয়েছেন। কিন্তু দেশে ১ কোটি ২০ লাখের মতো কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী TIN (টিআইএনধারী) আছেন। সেই হিসাবে ৭৮ লাখের মতো টিআইএনধারী আয়কর রিটার্ন জমা দেননি।
সময়মতো আয়কর রিটার্ন না দিলে তার জন্য জরিমানা এবং উল্লেখযোগ্য যেসব ঝামেলায় পড়তে পারেন করদাতারা এগুলো হলো—
১. জরিমানা হবে
আয়কর আইনের ২৬৬ ধারা অনুসারে শর্ত সাপেক্ষে জরিমানা আরোপ করা যাবে। আয়কর রিটার্ন জমা না দিলে করদাতার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০ শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হয়, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়।
২. কর ছাড় নেই
আয়কর আইনের ১৭৪ ধারা অনুসারে কর অব্যাহতির ক্ষেত্র সংকোচন করা হবে। যেমন বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, কর অবকাশ ইত্যাদি। উদাহরণ দিয়ে বলা যেতে পারে, আপনি প্রতিবছর সঞ্চয়পত্রসহ সরকার নির্ধারিত খাতে বিনিয়োগ করে কর রেয়াত পেতেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এই কর ছাড় পাবেন না।
৩. বাড়তি কর বসবে
নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে প্রতি মাসে আরোপিত করের ওপর ২ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ২৪ মাস পর্যন্ত ৪৮ শতাংশ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে।
৪. গ্যাস–বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে। শুধু বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন নয়, গ্যাস, পানিসহ যেকোনো রাষ্ট্রীয় পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর কর্মকর্তাদের।
৫. বেতন পাওয়া নিয়ে ঝামেলা
সরকারি–বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বেতন–ভাতার একটি নির্ধারিত সীমা দিয়ে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে বেতন–ভাতা পাওয়ায় জটিলতা হতে পারে। অফিস থেকে রিটার্ন জমার কপি চাওয়া হয়, তা না হলে বেতন–ভাতা কেটে রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।