16/09/2026
✨এমন ঘটনা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়!
একজন বাবা থানায় গিয়ে একটি মামলা দায়ের করছে যে তার ভাইরার ছেলে সুমন (২৩) (ছদ্মনাম) তার মেয়ে লাবনী (১৫) (ছদ্মনাম) কে ধর্ষ*ন করেছে। মামলার এজহারে মেয়ের বাবা উল্লেখ করছে যে, তার মেয়ে লাবনী এবং আসামী সম্পর্কে সুমন খালাত ভাই বোন। এই সম্পর্কের সুবাদেই সুমন প্রায় তাদের বাসায় যাতায়াত করত। এক পর্যায়ে সুমন ভিক্টিম লাবনীকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে লাবনী রাজী না হওয়ায় সুমন বিভিন্ন সময় তার মেয়েকে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত করত। তারপর ঘটনার দিন লাবনীর মা বাবা বাসার বাইরে ছিল। এই সুযোগে সুমন বাসায় প্রবেশ করে এবং লাবনীকে একাই পেয়ে তাকে ধর্ষ*ন করে এবং যাওয়ার সময় লাবনীর গলার একটি ১ ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন চুরি করে নিয়ে যায়। এটাই হলো মামলার এজহারের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।
মামলা দায়ের হওয়ার পর পুলিশ আসামী সুমন কে গ্রেফতার করে। তারপর সুমনের পরিবার তার জামিন করার জন্য আমাদের চেম্বারে আসে। প্রথমে আমি মামলার এজহার পড়ি এবং পরবর্তীতে আসামীর পরিবারের নিকট থেকে প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি। প্রকৃত ঘটনা জেনে আমি ভীষণ অবাক হয়ে যায়। আসলে আজকের এই আসামী সুমনের সাথে লাবনীর প্রায় ২ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারপর ঘটনার তারিখের প্রায় ৮ মাস পূর্বে সুমনের সাথে লাবনীর পারিবারিকভাবেই বিবাহ সম্পূর্ন্ন হয়। বিবাহের সময় লাবনীর বয়স কম থাকায় বিবাহের কোন বৈধ কাগজ তৈরী করতে না পেরে হুজুরের মাধ্যমে শুধুমাত্র ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পূর্ন্ন করে। তারপর একত্রে ঘর সংসার শুরু করে। ঘর সংসার করাকালীন সময়ে উভয়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া বিবাদ এবং মনমালিন্যতা হয়। উল্লেখ্য যে বিবাহের সময় ছেলের পরিবার ওই মেয়েকে একটি ১ভরি ওজনের স্বর্নের চেইন গিফট দিয়েছিল।
পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের মধ্যে মনমালিন্যতা এবং ঝগড়া বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌছালে সুমন তার স্ত্রী লাবনীকে আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আইনজীবীর মাধ্যমে তালাক প্রদান করে। তালাক প্রদানের সময় সুমন তার স্ত্রীকে গিফট করা সেই স্বর্নের চেইন টাও নিয়ে নেয়। তালাকের নোটিশ পাওয়ার পর লাবনীর পরিবার প্রথমে চরম ক্ষিপ্ত হয় কিন্ত কিছুদিন পর মেয়ের পরিবার স্বর্নের চেইনটা ফেরত দেওয়া সহ একটা ভালো এমাউন্ট টাকা দাবী করে বিষয়টি আপোষ মিমাংসার করার প্রস্তাব দেয় কিন্ত ছেলেপক্ষ সেই পরিমান টাকা এবং চেইন ফেরত দিতে না চাইলে মেয়েপক্ষ থানায় গিয়ে খুব কৌশল অবলম্বন করে বিবাহের বিষয়টি সম্পুর্ণ গোপন রেখে একটি ধর্ষ*নের মামলা করে।
আসামী সুমনের পক্ষে আদালতে জামিন শুনানী করি এবং আদালতকে উপরোক্ত সকল বিষয় জানায়, এবং সুমন যে তালাক প্রদান করেছিল সেটির কপি আদালতে দাখিল করি। শুনানীকালে আদালতকে আরো বলি যে, এই মামলায় যেই ঘটনার তারিখে কথিত ধর্ষ*নের কথা বলা হচ্ছে তার প্রায় ১ মাস পূর্বেই আসামী তার সাবেক স্ত্রী এবং আজকের মামলার ভিক্টিমকে তালাক প্রদান করে। তালাক প্রদানের পরে আবার তাকে ধ*র্ষ*ন করতে যাওয়ার ঘটনা বাস্তবতা বিবর্জিত।
আদালত সকল বিষয় শুনে বলেন যে, যেহেতু ভিক্টিম নাবালিকা এবং তাকে ধর্ষ*ন এর অভিযোগ রয়েছে তাই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হলো।
তারপর আসামী প্রায় ১.৫ মাস হাজতে থাকে এবং পরবর্তীতে ছেলেপক্ষ বাধ্য হয়ে মেয়ের পরিবার এর সাথে আর্থিক লেনদেন করে আপোষ মিমাংসা করে এবং বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামীর জামিনে আপত্তি নাই মর্মে জানাইলে আদালত আসামী সুমনকে জামিন প্রদান করেন।