16/08/2026
গ্রামের ভেতরে একটা সুন্দর হলুদ রঙের বিল্ডিং বাড়ি।
বাড়ির সামনে খোলা উঠোন। উঠোনে ৭ বছরের ছোট একটা আম গাছ, একটা লিচু গাছ, কোণায় ছোট্ট ডালিম গাছ আর একটা ছোট মালটা গাছ। ডালিম আর মালটা এখনো ধরে নাই।
উপরে বারান্দা। বারান্দায় কয়েকটা টবে ফুলের গাছ। লাল, হলুদ, সাদা ফুল ফোটে। সকালে দাদিই বারান্দার সব গাছে পানি দেয়।
নোহার বয়স ৬ মাস ১ দিন। সারাদিন সে মা আর দাদির সাথে থাকে।
মা নোহাকে কোলে নিয়ে বারান্দায় নিয়ে যায়। দাদি ফুল ছিঁড়ে নোহার খোঁপায় দেয় আর বলে, “এই দেখো, এটা মালটা গাছ। তুমি বড় হলে এখান থেকে মিষ্টি মালটা খাবা।” নোহা পাতা ধরে টান দেয় আর হাসে।
নোহার বাবা ঢাকায় চাকরি করে। সে ২ মাস পর বাড়ি আসে।
যেদিন বাবা আসে সেদিন হলুদ বাড়িতে ঈদ লাগে। দাদি পিঠা বানায়, মা নোহাকে হলুদ ফ্রক পরায়।
বাবা এসে প্রথমে নোহাকে কোলে নেয়। নোহা বাবার গাল ধরে। বাবার গালে দাড়ি নাই, তাই নোহা আরাম করে গালে চুমু দেয়।
বিকালে চারজন বারান্দায় বসে গল্প করে। দাদি লিচু পাড়ে, মা নোহাকে ফুল দেখায়, আর নোহা “বা বা” করে। বাবা গাছে পানি দেয় না, শুধু বসে বসে সবার সাথে গল্প করে।
৩-৪ দিন পর বাবা আবার ঢাকায় চলে যায়। যাওয়ার সময় বলে, “মা, ২ মাস পর আবার আসবো। তুমি আম গাছ আর মালটা গাছের মতো বড় হও।”
তারপর আবার অপেক্ষা। হলুদ বাড়ি, উঠোনের গাছ, বারান্দার ফুল আর দাদি-মায়ের আদরে নোহা একটু একটু করে বড় হয l