Mujahidul Islam Jahid

Mujahidul Islam Jahid আমি জাহিদ, মুজাহিদুল ইসলাম জাহিদ ।
ফ্রন্টএন্ড ডিজাইনার, এবং চাষী ।

প্রচুর মানুষ আফ্রিকা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন । আমার সাথে কথা বলতে চাইছেন - আফ্রিকাতে ব্যাবসা শুরু করতে চাইছেন ।এদিকে আমি গর...
24/03/2024

প্রচুর মানুষ আফ্রিকা নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন ।
আমার সাথে কথা বলতে চাইছেন - আফ্রিকাতে ব্যাবসা শুরু করতে চাইছেন ।

এদিকে আমি গর্তে ঢুকে বসে আছি ।
কারন, প্রজেক্ট বর্গার নিয়ে ব্যাস্ততা চলছে, আমাদের প্রায় আরো ৩০০ গরু কিনতে হবে । এই মুহুর্তে আমাদের খামারে ৩০৭ টি গরু আছে ।

কোরবানি উপলক্ষ্যে ৫০০+ গরু খামারে তোলার ইচ্ছে ।
অন্যদিক এ, ঢাকায় কসাইখানা নেয়া হয়েছে সেটার কাজ গোছানো চলছে ।

কসাইখানায় নিয়মিত গরু জ**বাই হচ্ছে, এবং যে পরিমান অর্ডার সেটা ডেলিভারি দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি । এটা নিয়ে আলাদা করে মার্কেটীং তেমন করা লাগছে না ।
এইসব মিলিয়ে, নতুন প্রজেক্ট শুরু করার মত সময়, আলোচনায় বসার মত সময় করতে পারছি না ।

সেলিব্রিটি বা খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়ে বা লোভে পড়ে গেলেই ভুলের সম্ভাবনা তৈরি হয় । আমাদের ফান্ড বড় হচ্ছে, এটাই ভুল করার জন্য লোভনীয় সময় ।

কাজেই, ঘাপটি মেরে মাথাকে ডিপ ফ্রিজ বানিয়ে বসে আছি, কাজের কাজ যা মনে হচ্ছে সেটাই করছি ।

//.\\

কথায় বলে, বিপদ যখন আসে মিছিল করেই আসে ।

তেমনি, আল্লাহর রহমত যখন আসে, আসতেই থাকে ।

ইউরোপ থেকে সবজি'র বেশ কিছু অনুরোধ আছে, ভাল ব্যাবসার সম্ভাবনা এটা । সবজি পুর্ব বা পশ্চিম আফ্রিকা থেকে পাঠাতে হবে ।
আবার তাঞ্জানিয়া থেকেও সেখানে জমি দেখতে যাবার অনুরোধ আছে ।

অনেকেই এখনই বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখাচ্ছেন, নিজেরাই গিয়ে ব্যাবসা শুরু করবেন বলেও কথা বলতে চাইছেন ।

আমি উনাদের কি বলব ? কি বলা উচিত ?

গত ১০ বছর আফ্রিকা নিয়ে পড়াশোনা আর একবার ঘুরে এসেই আফ্রিকা নিয়ে অনেক জেনে বুঝে ফেলেছি এটা বলাটা কি ঠিক হবে ?
আমি ত সেখানে নিজে কাজ করিনি ।

নিজে অভিজ্ঞতা না নিয়ে, নিজে না বুঝে কাউকে সেখানে ফাইনালি যেতে বলা বা বিনিয়োগ নেয়াটা ঝুকিপুর্ন । খারাপ কিছু হলে সেটার দায় কে নেবে ?

সাহস পাই না,
সাহস তখন পাব যখন আমি নিজে গিয়ে সেখানে কাজ করে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটা কথা বলতে পারব ।

এ বছর নভেম্বর এ আমি ছোট মানে ১০০ একর মত জমি নিয়ে নিজেরা চাষ করে, প্রজেক্ট করে জানতে বুঝতে চাই সেখানের ফসল এবং বাজারের অবস্থা ।

সব পজিটিভ হলে হয়ত আগামী বছর এটা নিয়ে আগানো যায় ।

তবে, যেহেতু আমাদের দেশের আইন অনুসারে বাংলাদেশ থেকে বিনিয়োগ নেয়া সম্ভব না, কাজেই আমরা এটা করতে পারব না ।

হয়ত, আগামী বছর, দেশের বাইরে থেকে বিনিয়োগ পেলে তবেই বিনিয়োগ নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে ।

আর, যারা যেতে চাইছেন - আমরা এখনই ফাইনাল পরামর্শ দিতে চাই না ।

//.\\

আমাদের আইটি টিম শক্তিশালী হবে এর মাঝে, আমরা আরেকটি অনলাইন প্রজেক্ট শুরু করতে যাচ্ছি প্রবাসিদের জন্য। সে আরেক আলোচনা ।

কিন্তু রোজার ঈদের পরে অথবা কোরবানির ঈদের পরে, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডাতে আবার যাবার পরিকল্পনা আছে ।
তাঞ্জানিয়া ভালভাবে ঘুরব, বিশাল দেশ, সময় লেগে যাবে অনেক ।

এম্বায়ো, মোরোগোরো, আরুশা, দোদোমা, জাঞ্জিবার সহ আরো কিছু জেলায় যাবার ইচ্ছে আছে ।

আফ্রিকায় কিছু করতে গেলে, বড় করেই করতে হবে । বড় করে করার আগের প্রস্ততি হিসেবে আমাদের ফ্রেশি ফার্ম এর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে ।

১০০০০ একর জমি নিতে গেলে বড় ফান্ড দরকার ।
কোম্পানি রেজিস্টেশন করতে হবে, সেটা দুবাই এ হতে পারে, রুয়ান্ডাতে হতে পারে, সিলিকন ভ্যালিতেও হতে পারে ।

আর, আমাদের ২য় আইটি প্রজেক্ট এই গ্লোবাল কাজ করতে, মার্কেটিং করতে সাহায্য করবে । এইটা, এই আইটি প্রজেক্ট আমার পরিকল্পনা করা আছে ২০১২ সাল থেকে । সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা ছিল - এখন সেই সময় চলে আসছে ।

অনেকেই বিনিয়োগ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন ।
আমি জানিনা, আগামী বছর যদি বিনিয়োগ নিই, দেশের প্রচলিত আইন হিসেবে আমি নিতে পারব না ।

কিন্তু যারা আগ্রহী - শুরু করলে যেন অন্তত মেইলে জানাতে পারি যে আমরা শুরু করতে যাচ্ছি এজন্য এসএমএস + ইমেইল করতে পারি এজন্য কমেন্ট সেকশন এ লিংক দিচ্ছি, ফর্ম ফিলাপ করে রাখতে পারেন ।

এবার আফ্রিকায় আমি জমি ফিক্সড করেই ফিরব ইনশাল্লাহ ।
এরপরে, কাজ এ ঝাঁপিয়ে পড়ার সময় ।

পুনশচঃ আমরা উগান্ডার এন্তেব্বের একটা রিসোর্ট এ বিনিয়োগ করেছি খুবই সামান্য পরিমানে, সেখানের রিসোর্ট ব্যাবসা বোঝার জন্য ।
সাথে তথ্য - বছরে উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া আর রুয়ান্ডাতে ৭২ লাখ বিদেশি টুরিস্ট যায় যারা গড়ে ৮০০০ ডলার করে খরচ করে ।

আমাদের দেশের মানুষ, নতুন কথা সহজে গ্রহন করতে পারে না ।পডকাস্ট এ বলেছিলাম, রুয়ান্ডা থেকে শুকনো মরিচ ভারতে রফতানি হয় । একজ...
26/02/2024

আমাদের দেশের মানুষ, নতুন কথা সহজে গ্রহন করতে পারে না ।

পডকাস্ট এ বলেছিলাম, রুয়ান্ডা থেকে শুকনো মরিচ ভারতে রফতানি হয় ।
একজনবলে বসল - আমি বাটপার !
উনার কাছে পেইড এক্সপোর্ট ইমপোর্ট এর ডাটা আছে । আমি ভুল বলেছি ।

উনার জানা মতে ঠিকই আছে -
উনার ডাটায় সেরা এক্সপোর্টার দেশ গুলোর ডাটা আছে । সেই লিস্ট এ, পুর্ব আফ্রিকা থেকে এতই কম শুকনো মরিচ রফতানি হয় যে সেই ডাটা লিস্টে আসার মত কিছু না ।

তারা যদি সেরাই হত শুকনো মরিচ রফতানিতে, সেখানে আমরা গিয়ে কিছু করতে পারতাম কি ? করেনা বলেই, সুযোগ আছে - দেখার বিষয় তাদের দাম ইন্টারন্যাশনাল দাম আর মান এর সাথে সামঞ্জস্য আছে কিনা ।

আমার জানা তথ্য, সেটাকে আমি কিভাবে ব্যাবহার করব - এই দূরদৃষ্টি থাকাটা খুব জরুরি ব্যাবসাতে ।

//.\\

রুয়ান্ডার মরিচ চাষী ডিয়াগো ওয়াহিরা, ৬ বছর আগে ১ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ শুরু করে ।

রুয়ান্ডা প্রধানত চা এবং কফি রফতানি করেই তাদের কৃষি দিয়ে উপার্জন করত । ডিয়েগো ইন্ডীয়াতে মরিচ রফতানি করার জন্য তার ইউএসপি ব্যাবহার করে - প্রাইস এ।

এছাড়াও, মচির চাষে হাত দিয়েই মরিচ তুলতে হয়, কাজেই এখানে যান্ত্রিকিকরণ সম্ভব নয় - এটাও তার মরিচ নিয়ে কাজ করার জন্য অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে ।
গ্রীস, ইংল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন এবং ইটালিতেও কাচা মরিচের বিশাল বাজার আছে ।

ভারত, পাকিস্তান বা শ্রীলংকার চাইতেও রুয়ান্ডা আবহাওয়ায় মরিচ ভালহয় । কিছুটা শীত প্রধান আবহাওয়া মরিচ চাষের জন্য উপযোগী, সাথে নিয়মিত বৃষ্টিও রুয়ান্ডার চাষীদের মরিচ চাষে সুবিধা দিয়েছে । দিয়েগো এই সুবিধাই নিয়েছে ।

একই সাথে, রুয়ান্ডার সরকার তাদের দেশে ব্যাবসা করার জন্য অসাধারন সুযোগ সৃষ্টি করেছে ।

তারা বিজনেস ইনডেক্স এ বর্তমানে ৩৭ তম দেশ, যেকোণ লাইসেন্স অনলাইন এ আবেদন করার ২৪ ঘন্টার মাঝে কাগজ পাওয়া যায়, অন্যান্য সুবিধা ত আছেই ।

৩ হেক্টর এ শুরু করার পর ৬ বছর এ এসে ডিয়েগোর জমির পরিমান ৭০০ হেক্টর । হেক্টর প্রতি সব খরচ বাদ দিয়ে তার ৯০০০-১০০০০ ডলার লাভ থাকে ।

//.\\

Nafees Salim ভাই Sazzad Bin Ahsan Sourav ভাই এর সাথে এই পডকাস্ট করার সময় খুবই ক্লান্ত ছিলাম । আগের ১০ দিন উগান্ডায় টানা জার্নিতে ছিলাম ।

সারাদিন এর রুটিন ছিল সকাল ৭ টায় বের হয়ে নাশতা করে ৮ টার মাঝে গাড়ি স্টার্ট, পুরো উগান্ডা ঘিরে চক্কর দিয়েছি ।

ফিরে এসে সেই দিনই পডকাস্ট এ চেহারা দেখলেই বোঝা যাবে আমার অবস্থা ।
কিন্তু যেসব তথ্য এখানে আলোচনা হয়েছে, আমার মনে হয় এর আগের সব পডকাস্ট থেকে এটা ভাল হয়েছে ।

সামনে, পডকাস্ট এ ঘোরাঘুরি বাদ দিয়ে দিতে হবে - যথেস্ট হয়েছে ।

কাজ এ মনোযোগ দেয়াটা জরুরি ।
বিফল হলে পিঠের চামড়া থাকবে না !

আমাদের প্রজেক্ট ভিজিট এ এসেছিলেন সাভার ইবনে সিনা হাসপাতাল এর কয়েকজন কর্মকর্তা। উনারা ভোরে এসেছেন,রাতেই চলে যাবেন। আমাদের...
16/10/2022

আমাদের প্রজেক্ট ভিজিট এ এসেছিলেন সাভার ইবনে সিনা হাসপাতাল এর কয়েকজন কর্মকর্তা।

উনারা ভোরে এসেছেন,
রাতেই চলে যাবেন।

আমাদের প্রজেক্ট বর্গায় উনারা বিনিয়োগ করতে চান।
প্রজেক্ট বর্গায়, আমরা এখন পুরো প্রজেক্ট এর ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়ে কাজ করছি যেন কোথাও পানি না জমে৷
সেই সাথে, আগামীকাল প্রথম ব্যাচের কোরালের কাজ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

//.\\

এইটা ভিজিট করে উনাদের নিয়ে গেলাম কুড়েঘর এর কাজের অগ্রগতি দেখাতে। গতকাল আমাদের পানির লাইন চলে এসেছে।
আজকে ঘরের ছাউনি দেয়ার জন্য ঘরের চালায় বাশের বাতি বাধার কাজ শুরু হয়েছে । ঘরের চালায় দেয়ার জন্য বিন্নি / খেড় কেটে নিয়ে আসা হয়েছে ২৫০০ আটি, আমাদের আরো ২৫০০ আটি বিন্নি দরকার হবে।
পুরো প্রজেক্টকে ঘিরে দেয়া হবে কাশগাছের শুকনো গাছ দিয়ে।

//.\\

আমাদের গ্রীনিফাই ১ এ ড্রাগনের গাছ বাধার জন্য বাশের বাতি বাধার কাজ শেষ হবে আজকে।
আখের গাছের গ্রোথ এখন ভাল, কফিতে ড্রিপ ইরিগেশন দিলে ভাল হবে মনে হচ্ছে।
কফির জমি পুরোটা খড় আর ডালের শুকনো গাছ দিয়ে মালচিং করে দেয়া হয়েছে।

সেখানে ঘুরে পাশেই গ্রীনিফাই ২ এ গেলাম আমরা।
সেখানে জমিতে কাজ করা কয়েকজন রান্না করছে।
ভাত আর আলি বেগুনের সবজি রান্না হচ্ছিল।

আবহাওয়া এখন অনেক ভাল, একটু গরম তবে তা সহ্য করার মতন।

গ্রীনিফাই ২ এর জমি নেয়া এবং বিনিয়োগ নেয়া শুরু করেছি আলহামদুলিল্লাহ।

একযোগে কাজ চলছে,
আশা করছি সব ঠিকঠাকই হবে।

বাকিটা, আল্লাহর রহমতের উপর।

রিসোর্টের জন্য জমি নিশ্চিত হয়েছে, ছোট একটা পুকুরসহ ।গ্রামে থাকার স্বপ্ন নিয়ে যখন ক্লান্ত হয়ে  ২০১৪ সালে বগুড়ায় চলে এলাম ...
14/09/2022

রিসোর্টের জন্য জমি নিশ্চিত হয়েছে, ছোট একটা পুকুরসহ ।
গ্রামে থাকার স্বপ্ন নিয়ে যখন ক্লান্ত হয়ে ২০১৪ সালে বগুড়ায় চলে এলাম গ্রামের বাড়িতে - কেউই আশা করেনি নাই আমি সেখানে থাকব ।
ছোটবেলা থেকে বগুড়া শহরে বড় হয়েছি, আমি যখন গ্রামের বাড়ীতে ফিরলাম সবাই ধরেই নিয়েছিল আমি বেশিদিন টিকব না।
বগুড়াইয় আমাদের গ্রামের বাড়িতে এখন ৯ টা ইট ভাটা, সুন্দর নাই আর আমাদের গ্রাম । মন বেশিদিন টিকলোও না, এর মাঝে ঘুরতে ঘুরতে পঞ্চগড় গেলাম ।
অনিক ভাই এর অই চা বাগানে গিয়ে মনে হল অন্য এক দুনিয়ায় আসছি,
সেদিন আবার পুর্নিমা ছিল কাজেই, ভোর পর্যন্ত ইন্ডিয়ার বর্ডারে লাগানো জিরো পয়েন্ট এ নিভৃত এলাকা আমার চিন্তা, স্বপ্ন, ইচ্ছে বদলে দিল ।
আমি পঞ্চগড়েই সেটল করার স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম, কিন্তু আর্থিক সামর্থ্য আর আল্লাহর ইচ্ছে আমাকে নিয়ে এল আরো সুন্দর বরেন্দ্রভূমির পোরশা এলাকায় । এটাও বর্ডার এলাকা, এখানে টিলা আছে, ঢেউ খেলানো আম বাগান আছে ধাপে ধাপে নেমে যাওয়া ।
পাশেই বিল আছে কয়েক কিলোমিটার ব্যাপি যা পঞ্চগড়েও ছিল না ।
ইচ্ছে ছিল বাগান হবে, সাথে গরু, ২ টা ঘোড়া, ৪টা মহিষ, কিছু ছাগল, একটা ভেড়ার পাল ।
সাথে সাথে, একটা গ্রামীন রিসোর্ট যেখানে মানুষ জন আসবে, খুব কম ভাড়ায় থাকতে পারবে যতদিন খুশি ।
ট্রাভেলার না,
কৃষিতে যারা নতুন করে আসতে চান তারাই এখানে বেশি বেশি আসবে । শিখে যাবে কিভাবে নতুন প্রজেক্ট করতে গেলে কম ভুলে করা যায় । আমাদের যেটুকু অভিজ্ঞতা সেটুকুই শিখুক নাহয় ।
*** *** **** *** ***
আমাদের রিসোর্ট এর জমি ঠিক হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্‌ -
আগামীকাল থেকে সেখানের কাজ শুরু করব আমরা ।
চারিদিকে বেড়া দেব, সেই বেড়ায় নীল অপরাজিতার গাছ লাগয়ে তুলে দেব - সুন্দর সবুজ চাদরের মত দেয়াল হয়ে যাবে ।
পুরো যায়গার লে আউট প্লান করতে হবে, সবুজ বাগানের মাঝে মাঝে খড় আর বাশের তৈরি কিছু কটেজ থাকবে, ডাবল বেড এর ।
একটা বড় আলাদা ঘর থাকবে যে ঘরের এক পাশে ঝাঁপ খোলা যাবে যেন সেটাই কমন রুম হিসেবে দিনের বেলায় আড্ডা দেয়ার যায়গা হয়ে যায় ।
আমাদের বাগানও সেখান থেকে ৫ মিনিটের হাটা রাস্তা, দিনের বেলা চাইলে আমাদের বাগানে সারাদিন কাটানো যাবে ।
একটা কমন খোলা আকাশের নিচে ফিক্সড বারবিকিউ এরিয়া করব । যেখানে চারিদিকে গোল হয়ে বসে মাঝখানে আগুন জ্বালনো যাবে । শীতের রাতে বা সন্ধ্যায় সেখানে বসে আগুনের আচ উপভোগ করা যাবে ।
তালপাতার ঘর করব একটা, যার দেয়াল, ছাদ সবই তালপাতার হবে ।
খড়ের ঘরও করব, দেয়াল, চালা সবই খড়ের ।
একটা বই এর লাইব্রেরি করতে হবে, পানির লাইন এর ব্যাবস্থা করা হচ্ছে ।
পুকুর এ চাইলে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা যাবে, ওজন হিসেবে দাম পরিশোধ করলেই হবে ।
ঘোড়া পালার ইচ্ছে আছে, পিঠে চড়ে ঘুরতে ভাল লাগার কথা ।
আরো আইডিয়া আছে, আস্তে আস্তেই হবে সব ।
নভেম্বর এর মাঝে গুছিয়ে আনার ইচ্ছে যতটুকু সম্ভব ।
আর কি কি করা যায় ?

একজন চাষি হিসাবে আমার কেন অর্গানিক ফসল করা উচিত না ?এটা দারুন একটা প্রশ্ন, গত ৩ বছরের বাজার, ঢাকায় হোম ডেলিভারি করা এবং ...
14/09/2022

একজন চাষি হিসাবে আমার কেন অর্গানিক ফসল করা উচিত না ?
এটা দারুন একটা প্রশ্ন, গত ৩ বছরের বাজার, ঢাকায় হোম ডেলিভারি করা এবং কাস্টমার এর বিহাভিহার দেখে আমার মনে হয়েছে- বাণিজ্যিক বাগান করতে গেলে অর্গানিক করা সম্ভব না শুরুতেই ।

অথবা, অন্যভাবে বললে, করা উচিতই না ।

বর্তমানে প্রচুর নতুন চাষি উদ্যক্তা এই পেশায় আসছেন । নতুন হবার কারনে, তারা বাজার ব্যাবস্থাপনা, বাজারের চাহিদা আর ভোক্তার চাহিদা বুঝতে পারছেন না - আমিও সেই একই দোলাচালে আছি । কিন্তু কয়েকটা পন্য বাজারজাত করতে গিয়ে কিছুটা অভিজ্ঞতা হয়েছে ।

আর নিজে চাষ করেছি বলে, লাভ লসের আর কি কি সমস্যা হতে পারে তার কিছুটা ধারনা হয়েছে ।

ধরা যাক, আপনি শসা করতে চাইছেন, অর্গানিক উপায়ে কারন আপনার নীতি নইতিকতা আছে, আপনি মানুষকে ভাল ফল খাওয়াতে চান । এটা ভাল, এমনই হওয়া উচিত ।

আপনি হাইব্রিড বীজ ছাড়া ভাল বীজ বাজারে পাবেন না ।

কাজেই, চারা লাগানর পর সেখানে পর্যাপ্ত সার পানি আর ৩/৪ দিন পর পর কীটনাশক, ছত্রাকনাশক স্প্রে না করলে আপনি গাছ বাচাতেই পারবেন না ।

বাজারে তুলে ভাল দাম পেতে হলে আপনাকে মাছি পোকার জন্য স্প্রে করতেই হবে । অর্গানিক করতে গেলে আপনি হাতের কাছে অর্গানিক কোন কীটনাশক পাবেন না, যদি নিজে বানান তবে সেটা কাজ করবে কিনা সেটার রিস্ক নিতে হবে ।

সেই পরিক্ষা নিরিক্ষা যদি কাজ না করে তবে আপনি সেই পন্য অন্যজন আপনার সামনে বিক্রি করবে ১০০০/মন, আপনারটা হবে বাকা ত্যড়া । ইটা কোন ব্যাপারি কিনবেই না - আপনার ফল তুলে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ভ্যান ভাড়াও উঠবে না ।

*** *** ***

ভোক্তা চায় চকচকা সোজা সবুজ টাটকা চেহারার পটল, কাজেই সেই পটলকে ব্যাপারিরা কেনার পরে ডাভ শ্যাম্পুতে মেশানো পানি দিয়ে ধোয় । এর আগের দিন সেই পটলে যে কীটনাশক স্প্রে করা হয়েছে সেটার মেয়াদ হয়ত ৭ দিন ।

সরকারি উপ সহকারী কৃষি অফিসার হয়ত তাকে বলেইনি যে, এটা স্প্রে করার পর ৭ দিন ফসল ওঠানো যাবে না ।

কারন সেই অফিসারকে কীটনাশক কোম্পানি সন্মান করে ... সন্মান দেখায় ।

চাষি যদি এই স্প্রে না করে তার ফসল কেউই কিনবে না, ব্যাপারি কিনবে না, ভোক্তাও কিনবে না । একজন ভোক্তা হয়ে চিন্তা করেন বাজারে গেলে আপনি পোকায় কামড় দিয়েছে এমন পটল কিনবেন কিনা ।

*** *** ***

আমি মহান চিন্তা করলাম, খুব কস্টে বেগুন উৎপাদন করলাম যেটাতে কোন রাসায়নিক কীটনাশক স্প্রে করা হয়নি । আমার পাশের বাগানি সপ্তাহে চকচকা, তাজা, খুবই রঙ্গিন বেগুন হাটে নিয়ে যায় - বিক্রি করে সপ্তাহে ১০ মণ,

আমি অর্গানিক করতে গিয়ে হাটে নিয়ে যেতে পারি একই পরিমান জমি থেকে ৩ মণ । সেটাও, সে প্রতি মণ বিক্রি করে ৮০০/মণ
আমি বিক্রি করি ২৫০/- মণ কারন আমারটা দেখতে কিছুটা ফ্যাকাসে, আমার টায় প্রতি ৫ বেগুনের এক বেগুনে পোকা আছে ।

অই চাষির উৎপাদন খরচ আর আমার উৎপাদন খরচ যদি একই হয়, তবুও আমি কিভাবে টিকে থাকব এই পরিমান উতপাদনে ?

আমার পোকাযুক্ত বেগুন আমি কিভাবে বেচবো ?
কোথায় বেচবো ?
কয়জনে নেবে ?

উৎপাদিত সকল ফসল কি কোন পাইকার কিনে নেবেন ?
ভোক্তা হিসেবে আপনি কি পোকাযুক্ত বেগুন কিনবেন ?

*** ***

চাষিদের টিকে থাকতে হয়, চাষি সেটাই উৎপাদন করবে বাজারে যেটা চলবে । এবং একজন চাষী এইভাবে চাষ করে ৬ তলা বাড়ী বানিয়ে ফেলে না, সামান্য কিছু ভাত খায় সেটাও ব্রয়লার মুরগি দিয়ে - গরুর গোশত কেনার টাকা তার হয় না ।

এই যে রাসায়নিক চাষ করে ক্যান্সার বাধায়, এরপরে বিনা চিকিতসায় সেই চাষী মারা যায় ।

এই চক্র থেকে বের হবার রাস্তা নাই,
কারন ভোক্তা, পাইকার কেউই চায় না বের হতে ।

14/09/2022

৯০ দশকের নানা বাড়ী ছিল এক আজব মজার যায়গা !

আমার নানা খুব পরহেজগার এবং জ্ঞানি মানুষ ছিলেন - ভালভাবে লিখতে গেলে এই পোস্ট লম্বা হয়ে যাবে - তবে লেখা উচিত ।

নানা ছিলেন দশভুজা, এক হাতে ১০ কাজ করতেন । আমার দেখা - সবচেয়ে পরিশ্রমী মানুশ । এমন কাজ নেই তিনি পারতেন না ।
ফজরে উঠে মসজিদে নামাজে ইমামতি করতেন, এরপর বাড়িতে ফিরে কোরান তেলাওয়াত ।

এরপরে, কোরান পড়া শেষে কাছারি ঘরে রোগি দেখা - হোমিও ডাক্তার ছিলেন তবে ফ্রি ঔষধ দিতেন । অনেক বারই মানুশের সাথে রাগা রাগি করতে দেখেছি কারন, কেউ হয়তবা তার গাছের লাউ, বাড়ীর মুরগি বা লেবু নিয়ে এসে বসে আছে - খনকার সাব এর জন্য ।
নানা বেশির ভাগ সময়েই নিতেন না - কারন জ্ঞান তাপস ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ'র নিষেধ ছিল ।

নানার পুর্ব পুরুষ পীর ছিলেন - কিন্তু D: মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বুঝিয়েছিলেন - যে এসব করা বিদআত । D: মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ আর নানা একই মেসে থাকতেন বগুড়ার কাটনার পাড়ায় । নানা জিবনের প্রথম লাচ্ছা সেমাই উনার কাছেই খেয়েছেন ঈদে ।

নানা মুরিদের নিয়ে আসা গিফট / হাদিয়া নিতেন না, এনিয়ে হিন্দু পাড়ার লোক জনের সাথেও মনো মালিন্য হত - ভালবাসার দায় । যোগি চাচার কোলে ছোট বেলায় কত ঘুরেছি মহিষের পিঠে চড়ে !

যোগি চাচা ছিলেন বাড়ির বাঁধা লোক । অসাম্প্রদায়িকতা - সে আবার কি জিনিস !

এই গুলো দেখা শেষ হলে, বাড়ির কৃষাণদের সাথে পান্তা ভাত খেয়ে, গরু বের করে জমিতে চলে যেতেন । ধান লাগানো, পানি সেচা, জাল বোনানো, মাছ ধরা, মাছ কোটা, রান্নাতেও সেরা । নানির চাইতে নানার রান্না মজার ছিল । এছাড়াও খেতে বস্লে নানা লবন দিয়ে ভাত মাখিয়ে দিতেন - সে যে কি মজা - আহা, এখনো মুখে স্বাদ লেগে আছে ।

ভাত মাখার কিছু অংশ মিনিকেও দিতে হত, পাশে এসে বসে মিউ মিউ করতেই থাকত ।

খেজুরের রস, লালি, বড়ই, বড় পুকুরের জাম, কই মাছ ভাজা, দুধের সর, নানার হাতে বানানো ঘি, গোয়াল ঘরে থাকা শ খানেক কবুতর,ধানের গোলা ঘর -

কি সব দিন ছিল !

শুক্রবার এ গরুর গাড়িতে করে ধান বিক্রি করে বস্তা ভর্তি করে হাটের সদাই নিয়ে আসা, সাথে আমি থাকলে দোকানদাররা ফ্রিতেই কত সদাই হাতে ধরিয়ে দিত - খনকারের নাতি !!

একবার কোরবানির ঈদের ছাগল কিনতে গিয়ে এক ছাগল কাউকেই গায়ে হাত দিতে দেয় না । নানা কাছে যাবার পরে নানার জোব্বায় এমন কামড় দিয়ে ধরলে, আর ছাড়ে না - পরে সেই ছাগলই নিয়ে আসা হল । লক্ষী ছাগল দড়ি ছাড়াই পিছে পিছে বাড়ি চলে এল !

তাল, তালের শাঁস, পেয়ারা গাছ, আমাদের জন্যা আলাদা করে বোতলে রাখা হোমিও এর মিস্টি গোলা -( নানা জানত অইটা আমি আর বাবু মামা চান্স পেলেই হাপিস করে দেব) !

লিখে শেষ করা যাবেনা -
এছাড়াও বড় মামার কাতল মাছ ধরা ছিল আরেক উতসব ! ১০/১৫ কেজি ওজনের একেকটা কাতল - সেই কাতল মাছের মাথা দিয়ে মুসলিম নানির ( আরেক নানার বউ) আলু ঘাটি !

সোনালি দিন - এখনকার প্রজন্ম কি এই মজা কখনো পাবে ??
অনেক অনেক আগে, ক্লাস ফোরে,আমি ঠিক করেছিলাম - বড় হলে নানার মত হবো !

আমি জানি, আমার এক জীবনে নানার কুটোখানেকও হতে পারবো না ! নানার জানাযার নামাজের সময়ে হিন্দু পাড়ার কত লোক এসে বসে থেকে চোখ মুছেছে !

নানার মত পরিশ্রমী, আমুদ প্রিয়, কৃষক এবং জ্ঞানী মানুশ - আমি দেখিনি !

খুব চেস্টা করেও যদি নানার ১০% হতে পারি তবে আমাদের বাড়ি হবে অনেকের জন্য ভাল একটা বেড়ানর যায়গা ! আত্নীয়দের যদি সেই স্বাদ দিতে পারি !!

নানার বাড়ি আর নাই - সবাই শহরে

14/09/2022

৯০ দশকের নানা বাড়ী ছিল এক আজব মজার যায়গা !
আমার নানা খুব পরহেজগার এবং জ্ঞানি মানুষ ছিলেন - ভালভাবে লিখতে গেলে এই পোস্ট লম্বা হয়ে যাবে - তবে লেখা উচিত ।
নানা ছিলেন দশভুজা, এক হাতে ১০ কাজ করতেন । আমার দেখা - সবচেয়ে পরিশ্রমী মানুশ । এমন কাজ নেই তিনি পারতেন না ।
ফজরে উঠে মসজিদে নামাজে ইমামতি করতেন, এরপর বাড়িতে ফিরে কোরান তেলাওয়াত । এরপরে, কোরান পড়া শেষে কাছারি ঘরে রোগি দেখা - হোমিও ডাক্তার ছিলেন তবে ফ্রি ঔষধ দিতেন । অনেক বারই মানুশের সাথে রাগা রাগি করতে দেখেছি কারন, কেউ হয়তবা তার গাছের লাউ, বাড়ীর মুরগি বা লেবু নিয়ে এসে বসে আছে - খনকার সাব এর জন্য ।
নানা বেশির ভাগ সময়েই নিতেন না - কারন জ্ঞান তাপস ডঃ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ'র নিষেধ ছিল । নানার পুর্ব পুরুষ পীর ছিলেন - কিন্তু D: মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ বুঝিয়েছিলেন - যে এসব করা বিদআত । D: মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ আর নানা একই মেসে থাকতেন বগুড়ার কাটনার পাড়ায় । নানা জিবনের প্রথম লাচ্ছা সেমাই উনার কাছেই খেয়েছেন ঈদে ।
নানা মুরিদের নিয়ে আসা গিফট / হাদিয়া নিতেন না, এনিয়ে হিন্দু পাড়ার লোক জনের সাথেও মনো মালিন্য হত - ভালবাসার দায় । যোগি চাচার কোলে ছোট বেলায় কত ঘুরেছি মহিষের পিঠে চড়ে ! যোগি চাচা ছিলেন বাড়ির বাঁধা লোক । অসাম্প্রদায়িকতা - সে আবার কি জিনিস !
এই গুলো দেখা শেষ হলে, বাড়ির কৃষাণদের সাথে পান্তা ভাত খেয়ে, গরু বের করে জমিতে চলে যেতেন । ধান লাগানো, পানি সেচা, জাল বোনানো, মাছ ধরা, মাছ কোটা, রান্নাতেও সেরা । নানির চাইতে নানার রান্না মজার ছিল । এছাড়াও খেতে বস্লে নানা লবন দিয়ে ভাত মাখিয়ে দিতেন - সে যে কি মজা - আহা, এখনো মুখে স্বাদ লেগে আছে ।
ভাত মাখার কিছু অংশ মিনিকেও দিতে হত, পাশে এসে বসে মিউ মিউ করতেই থাকত ।
খেজুরের রস, লালি, বড়ই, বড় পুকুরের জাম, কই মাছ ভাজা, দুধের সর, নানার হাতে বানানো ঘি, গোয়াল ঘরে থাকা শ খানেক কবুতর,ধানের গোলা ঘর -
কি সব দিন ছিল ! শুক্রবার এ গরুর গাড়িতে করে ধান বিক্রি করে বস্তা ভর্তি করে হাটের সদাই নিয়ে আসা, সাথে আমি থাকলে দোকানদাররা ফ্রিতেই কত সদাই হাতে ধরিয়ে দিত - খনকারের নাতি !!
একবার কোরবানির ঈদের ছাগল কিনতে গিয়ে এক ছাগল কাউকেই গায়ে হাত দিতে দেয় না । নানা কাছে যাবার পরে নানার জোব্বায় এমন কামড় দিয়ে ধরলে, আর ছাড়ে না - পরে সেই ছাগলই নিয়ে আসা হল । লক্ষী ছাগল দড়ি ছাড়াই পিছে পিছে বাড়ি চলে এল !
তাল, তালের শাঁস, পেয়ারা গাছ, আমাদের জন্যা আলাদা করে বোতলে রাখা হোমিও এর মিস্টি গোলা -( নানা জানত অইটা আমি আর বাবু মামা চান্স পেলেই হাপিস করে দেব) !
লিখে শেষ করা যাবেনা -
এছাড়াও বড় মামার কাতল মাছ ধরা ছিল আরেক উতসব ! ১০/১৫ কেজি ওজনের একেকটা কাতল - সেই কাতল মাছের মাথা দিয়ে মুসলিম নানির ( আরেক নানার বউ) আলু ঘাটি !
সোনালি দিন - এখনকার প্রজন্ম কি এই মজা কখনো পাবে ??
অনেক অনেক আগে, ক্লাস ফোরে,আমি ঠিক করেছিলাম - বড় হলে নানার মত হবো !
আমি জানি, আমার এক জীবনে নানার কুটোখানেকও হতে পারবো না ! নানার জানাযার নামাজের সময়ে হিন্দু পাড়ার কত লোক এসে বসে থেকে চোখ মুছেছে !
নানার মত পরিশ্রমী, আমুদ প্রিয়, কৃষক এবং জ্ঞানী মানুশ - আমি দেখিনি !
খুব চেস্টা করেও যদি নানার ১০% হতে পারি তবে আমাদের বাড়ি হবে অনেকের জন্য ভাল একটা বেড়ানর যায়গা ! আত্নীয়দের যদি সেই স্বাদ দিতে পারি !!
ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে আসছি কৃষি কাজ করব বলে ।
নানার বাড়ি আর নাই - মামারা সবাই শহরে ।
বিশাল সেই গেরস্থ বাড়ি তালা চাবি ধলো জমে পড়ে আছে । হয়ত নানার বাড়ির চাবি চাবি খুলবো একদিন ।

আমার নানা ছিলেন আদর্শ গেরস্থ বলতে যা বোঝায় তাই । সাথে মসজিদের বিনা বেতনের ঈমাম, ফ্রি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ।নানার গোয়ালে ১...
14/09/2022

আমার নানা ছিলেন আদর্শ গেরস্থ বলতে যা বোঝায় তাই ।

সাথে মসজিদের বিনা বেতনের ঈমাম, ফ্রি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ।
নানার গোয়ালে ১০-১৫টা গরু, ৩/৪ টা মহিষ, গোয়াল ঘরের সিলিং এ ৫০/৬০ জোড়া কবুতর থাকত ।

সাথে ৫ টা ধানের গোলা ছিল ।
ধানের গোলার নিচে আমরা তালবীজ রেখে দিতাম, পরে সেগুলো বের করে খাওয়া হত ।

ধান চাষের আগে যোগী নানা (স্থায়ী কর্মী) মহিষ এর গাড়িতে করে গোবর সার নিয়ে যেতেন জমিতে, ২/৩ দিন ধরে গাড়ি ভর্তি করে গোবর সার নিয়ে যাওয়া হত জমিতে ।

সেই জমির ধানের ভাত দেশী গরুর দুধ দিয়ে নানা মেখে দিতেন চটকে চটকে । কি যে স্বাদ ছিল সেই দুধ ভাত মাখা, এখনো ভুলতে পারিনা । এই যে লিখছি, চোখে পানি আসছে কারন নানা নাই, আর জিভে জল আসছে স্বাদের কথা মনে করে ।

ধান হত প্রচুর, জৈব সারের কারনে রাসায়নিক সার খুব বেশি দিতে হত না ।

এর সাথে বছর বছর গরু বিক্রি করতেন, সেখান থেকেও ভাল টাকা আসত । গরু পালতে বিশেষ কোণ আলাদা খরচ হত না, দেশি জাতের এই গরু গুলোকে ধানের খড় যা নিজেদের জমিতেই উৎপাদন হত তাই খাওয়াতেন ।

মাঝে মাঝে যোগি নানা ধানের জমিতে যখন ফসল থাকত না তখন চড়াতে নিয়ে যেতেন । মহিষের পিঠে চড়ে কত যে ঘুরেছি সে সময় !
আদর্শ গেরস্থের গরু ছাড়া চাষ বাস করা উচিত না ।

*** *** ***

এই যে আমরা এখন আধুনিক হয়েছি, অনেক প্রজেক্ট করছি, উন্নত জাতের আম, ড্রাগন লাগাচ্ছি - আমাদের কি গরু আছে ?

আমাদের বাগানে (ফ্রশি ফার্মের বিনিয়োগকারি এবং আমরা যারা বাগানে কাজ করছি) যখন ভাল জৈব সার খুজতে গেলাম - পেলাম গোবরের সাথে বাড়ির যত আবর্জনা সব সহ ।

শুধু গোবর পাওয়া মুশকিল হয়ে গেল ।
আমাদের শুধু গোবর দরকার, সেটাকে আমরা প্রসেস করব এরপরে আমাদের বাগানের জমিতে দেব ।

কাজেই, এই ঘাটতি পূরনের জন্য মাথায় পরিকল্পনা এলো প্রজেক্ট বর্গার !
প্রজেক্ট বর্গা তার উৎপাদিত গোবর বাগানের প্রজেক্টকে দেবে । এটাকে প্রসেস করে যখন পর্যাপ্ত পরিমানে বাগানের গাছে দেয়া হবে তখন বাগানের গাছ গুলোর গ্রোথ হবে খুবই ভাল ।

আমাদের এখন ৪০০০ ড্রাগন,
১৬০০ আম গাছ,
৮৫০ কফি গাছ,
৩ বিঘায় আখের চাষ আছে ।
এসবে যদি পর্যাওপ্ত পরিমানের চাইতেও বেশি গোবর সার দিতে পারি আমরা সেক্ষেত্রে গাছের গ্রোথের দিক দিয়ে দ্রুত আগাতে পারব ।
দুই প্রজেক্টই তখন লাভবান হবে ।

*** *** ***

আমরা ভাল ফসল উৎপাদন করতে চাই । সাথে ভাল মানের গরুও, হয়ত এ বছরের শেষে প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় আমাদের গরু জবাই দেয়া হবে ।
হয়ত একসময় আমাদের মাংস আমরা রফতানিও করতে পারব,
কে বলতে পারে !

স্বপ্ন দেখতে হবে, সেটাকে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা করে কাজ করতে হবে, চেস্টাও ত করতে হবে ।

ঈদের পরে ইনশাল্লাহ প্রজেক্ট বর্গা শুরু করব আমরা । এই মুহুর্তে ৩০+ গরু বর্গা নেবার জন্য অনুরোধ আছে, আরো বাড়বে আশা করছি শুরু করার পরেই ।
আল্লাহ ভরসা !

সিলিকন ভ্যালিতে নিজের সফটওয়্যার ফার্ম, গোছানো জীবন ছিল শঙ্কর ভেংকটরমন এর !!!চমতকার জীবনের তাদের একটি ফুটফুটে মেয়েও জন্ম ...
14/09/2022

সিলিকন ভ্যালিতে নিজের সফটওয়্যার ফার্ম, গোছানো জীবন ছিল শঙ্কর ভেংকটরমন এর !!!

চমতকার জীবনের তাদের একটি ফুটফুটে মেয়েও জন্ম নেয় ।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া, যেখানে খাবার ভাল, সবকিছুই নিয়মের মাঝে সেখানেই তাদের ৬ বছরের মেয়ের এক্সিমা হয় । এই এক্সিমা তার জীবনকে বদলে দেয় ।

রাতদিন এই সমস্যা তদের পরিবারকে খুবই খারাপ অবস্থার মাঝে ফেলে দেয় । যেহেতু স্বামী স্ত্রী দুজনেই চাকুরি করেন, মেয়েকে দেখে রাখার জন্য শংকর তার স্টার্টাপ ছেড়ে দেন । খাবারের বিষ, রাসায়নিকের কারনে এই এক্সিমা এটা জানতে পেরে তারা অবাক হয়ে যান । আমেরিকার মত দেশ, যেখানে সবই নিয়মমাফিক করতে হয় সেখানেও খাবারে এত সমস্যা !
এবং এরপরেই তিনি খাবার, খাবারে রাস্যনিক এর ব্যাবহার এসব নিয়ে পড়াশোনা আর খোজ খবর নেয়া শুরু করেন ।

মেয়ের জন্য উনি বাড়ির পিছনে সবজি চাষ করা শুরু করেন যেন মেয়েকে ভাল এবং বিষ্মুক্ত সবজি খাওয়াতে পারেন । সাথে সাথে তিনি বিভিন্ন খামারে যাওয়া শুরু করেন, চাষবাস সম্পর্কে খোজ খবর নেয়া শুরু করেন ।

এভাবে ৩ বছর বিভিন্ন খামারে ঘোরাঘুরি করে এবং খোজ খবর নিয়ে নিয়ে ৩ বছর পর নিজের জমি কেনেন ক্যলিফোর্নিয়া থেকে ১ ঘন্টার দুরত্বে ।
কাজ শুরু করার এক পর্যায়ে উনি ভাবেন, আমেরিকায় যদি এই অবস্থা হয় তাহলে ভারতের মত দেশ, যেখানে কোথাও কোন নিয়ম নাই, নিয়ন্ত্রন নাই সেখানে কত ভয়ানক অবস্থা ।

তিনি, ব্যাঙ্গালোর চলে আসেন এরপর পরই । শহর থেকে দূরে গ্রামে কয়েক একর জমি নিয়ে শুরু করেন অর্গানিক সবজির খামার । এই খামারের উৎপাদিত সবজি সরাসরি চলে যায় ভোক্তার কাছে ।

সেখানে, তিনি অর্গানিক চাষাবাদ শেখানর জন্য ডিপ্লোমা কোর্স চালু করেছেন । থাকার যায়গা আছে আলাদা করে । উনার মতে -
চাষবাস খুবই পরিশ্রমের কাজ ।
খুবই নিয়ম শৃঙ্খলার মাঝে থাকতে হয় ।

এত কিছুর পরে উপার্জন খুবই কম ।
অনেকেই ভাবে খামার করাটা অসন্মানজনক কাজ কারন চাষের কাজ সবসময়ই অশিক্ষিত লোকজন করে থাকে ।

উনার অইখানে অর্গানিক খামার এ কাজ শেখা তরুনরাও এখন নিজেদের খামার করছেন । প্রতি ৬ মাসে উনাদের গ্রোথ ৪০০% হচ্ছে ।
সেখানের কর্মীদের বাচ্চাদের জন্য স্কুল করেছেন ।

শহুরে বাচ্চাদের জন্য সেখানে একদিনের ফার্ম ভিজিট চালু করেছে যেন বাচ্চারা অর্গানিক ভেজেটেবল নিয়ে ধারনা পায় ।

উনার মতে, কেউ যদি ডিপ্রেসন এ ভোগে তার উচিত গ্রামে গিয়ে মাটিতে কাজ করা । এতে দ্রুত তার ডিপ্রেসন কেটে যাবে ।
বর্তমানে প্রায় ৬০০০ পরিবারকে উনি সবজি সরবরাহ করেন ।

বিলিওনেয়ার একদিন তার প্রাইভেট জেট এ মেক্সিকোর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন কাক ডাকা ভোরে । হঠাত, বিমানে কিছু ত্রুটি দেখা দেয়ায়...
14/09/2022

বিলিওনেয়ার একদিন তার প্রাইভেট জেট এ মেক্সিকোর উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিলেন কাক ডাকা ভোরে ।

হঠাত, বিমানে কিছু ত্রুটি দেখা দেয়ায় বিমানটি এক উপসাগরীয় ছোট শহরে অবতরন করতে বাধ্য হয় । পাইলট জানায়, ত্রুটি সারাতে ঘন্টা ২ দেরি হবে, এসময়ে বিলিওনেয়ার চাইলে পাশের ফিশারিজ ঘাটে বেড়িয়ে সময় কাটাতে পারেন ।

বিলিওনেয়ার ঘাটে গেলেন - সেখানে একটি মাছ ধরার ছোট নৌকা এসে ভিড়লো । তারপর জেলে ঘাটে মাছ নামিয়ে, বিক্রি করে শিস দিতে দিতে তার পাশে দিয়েই যাচ্ছিলেন।

বিলিওনেয়ার তাকে ডাক দিলেন -
জেলে এগিয়ে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন-
তোমার সাথে কিছু কথা বলি ?
মাছ কেমন বিক্রি হল ?
জেলে - ভাল হয়েছে ৫০ ডলার বিক্রি হয়েছে, আজকের দিন আমার চলে যাবে ।
বিলিওনেয়ার - তুমি এই মাছ ধরতে কতক্ষন কাজ করো ?
জেলে -এই ত রাত ১২টায় যাই এখন ফিরি, ৬ ঘন্টা।
বিলিওনেয়ার - বাকি সময় তুমি কি কর ?

জেলে - এখন গিয়ে ঘুমাব, দুপুরে উঠে লাঞ্ছ সেরে পরিবারের সাথে সময় কাটাবো, এরপরে বিকেল এ ভলিবল খেলবো বন্ধুদের সাথে, সন্ধার পরে পাবে গিয়ে বন্ধুদের সাতেহ বিয়ার খাবো, হই হুল্লোড় করব । এরপরে সাপার সেরে রাত ১২টায় নৌকা নিয়ে বেড়িয়ে পড়বো ।

বিলিওনেয়ার - তুমি জানো তুমি চাইলেই অল্প কিছুদিন এ বিলিওনেয়ার হতে পার?

জেলে - কিভাবে ?
জেলে - এই যে তুমি বন্ধুদের সাথে সময় নস্ট করছ, এর চাইতে সন্ধ্যার পরেই যদি তুমি নৌকা নিয়ে বেড়িয়ে পরো তাহলে তুমি দিনে ১০০ ডলার উপার্জন করবে যা থেকে তুমি ডলার জমাতে পারবে । এভাবে কিছুদিন পরে তুমি আরো একটি ন্নউকা কিনতে পারবে ।

তখন তোমার দিনে ১৫০ ডলার সেভিংস হবে । সেটা দিয়ে আরো কিছু কম সময়ে আরো একটি নৌকা এভাবে । এভাবে ৩ বছর পরে তোমার মোটামুটী নউকার একটি ফ্লিট হয়ে যাবে । এরপরে তুমি চাইলে নিজেই একটি ফিশ প্রসেসিং ইউনিট করে নিজের মাছ নিজেই প্রসেস করে লাভ দ্বিগুন করতে পারবে । এভাবে কিছুদিন পরে তোমার ব্যাবসা বড় হবে, তুমি মিলিওনেয়ার হয়ে যাবে ।
এরপরে আরো কিছু ইনভেস্ট করলে, বছর ২০ এর মাঝেই তুমি বিলিওনেয়ার হয়ে যাবে ।

জেলে - বিলিওনেয়ার হয়ে কি করব ?

বিলিওনেয়ার - এরপরে তুমি চাইলেই তোমার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারবে । কোন সাগর পাড়ে সুন্দর বাংলো বানিয়ে বসবাস করতে পারবে । বন্ধুদের সাথে হই হুল্লোড় করতে পারবে । তোমার অবসর তুমি উপভোগ করতে পারবে।

জেলে - আমি ত এখনই সেটা উপভোগ করছি, সেজন্য ২০ বছর ধরে পরিশ্রম করার কি দরকার ?

---

মানুষ যখন বনে থাকত, জঙ্গলএর পশু ধরে খেত, গাছের ফলমূল পেড়ে খেত তখন তার অখন্ড অবসর ছিল । এরপরে সে পশুপালন শিখল, বেশি পশু তত্বাবধানের জন্য বেশি বেশি সন্তান নেয়া শুরু করল ।

বেশি সন্তান, বেশি খাবারের দরকারে সে কৃষি কাজ করা শুরু করলো । বেশি কৃষি জমি চাষের জন্য আরো বেশি সন্তান, আরো বেশি খাবার । আরো বেশি খাবার, আরো বেশি চাষ, আরো বেশি পরিশ্রম ।
এই যে চক্র, এই চক্র থেকে মানুষ কি বের হতে পারে ?

সকাল এ ঘুম থেক উঠে ব্যাবসায় বা অফিসে দৌড় । আরো বেশি আরামের প্রত্যাশায় আরো বেশি পরিশ্রম । আরো বেশি কাজ, আরো বেশি উপার্জন - আরো বেশি আরামের ফাদ ।

এই লাক্সারী ট্রাপ, থেকে কে কবে বাচতে পেরেছে ?
মেগাসিটিতে কে কবে অখন্ড অবসর উপভোগ করতে পেরেছে ??
সকালে উঠেই অফিসে দৌড় আর ফিরে একটু সময় কাটিয়েই ঘুম ।
একই রুটীন বছরের পর বছর ।

--------

into the wild নামের একটি মুভি আছে - আলেক্সান্ডার সুপারট্রাম্প গ্রাজুয়েট হয় । কিন্তু তার বাবা মা সবসময় লাক্সারি ট্রাপ এ জর্জরিত । তাদের নতুন গাড়ি লাগবে, আরো বেশি ভাল পোষাক লাগবে । এইটা লাগবে, অইটা লাগবে, আরো বেশি কিছু লাগবে ।
এই যে চাহিদা এর কোন শেষ নাই ।

সুপারট্রাম্প তার পরিচয়পত্র কেটে ফেলে, নিজের জমানো ২৪০০০ ডলার দান করে দেয়, মাস্টারকার্ড পুড়িয়ে ফেলে, সবকিছু ফেলে একদিন নিজের পুরোনো গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে অজানায় । নিরুদ্দেশ এ যাত্রায় সে এক সময় গাড়িও এক বন্যার পানিতে ফেলে চলে যায় । এভাবে ২ বছর এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে সে আলাস্কায় চলে যায় । যেখানে, সকালে উঠেই কোথাও ছোটার তাড়া নাই, সময়ের পিছনে ছোটার তাড়া নাই । আত্নীয়স্বজন, বন্ধুদের কাছে শো অফ করার কিছু নাই । শুধু আছে অখন্ড অবসর, পুরো সময় নিজের, সবকিছু নিজের ।

কোন লাক্সারি ট্রাপ নাই ।
এই নিরুদ্দেশ নিজের পুনর্জন্ম, নিজেকে চেনা, আত্ন উম্মোচন ।

একদিন ঘুম থেকে উঠে -
কোন চাহিদা নাই, কিছুই করার নাই, কোথাও যাবার নাই ।

সারাদিন মিছে কেটে গেল
সারা রাত বড্ড খারাপ ।
অথবা

আকাশের ওপারে আকাশ
বাতাসের ওপারে বাতাস ।
অথবা

কোথাও কেউ নাই,
কেউ না ।

14/09/2022

পাঞ্জাবে একটা ট্রেন আছে যার নামই ক্যান্সার ট্রেন - যে ট্রেন ক্যান্সার হাপাতালের জন্য রোগি নিয়ে যায় ।

এই ট্রেন যাত্রিদের ৫০% লোক ক্যান্সার আক্রান্ত ।

পাঞ্জাব এর ভাটিন্ডা থেকে রাজস্থানের বিকানর এর ক্যান্সার হসপিটাল পর্যন্ত এই ট্রেন যাতায়াত করে । কিন্তু কেন পাঞ্জাব থেকেই এই ট্রেন যায় ?
পাঞ্জাবেই এত ক্যান্সার রোগি কেন ?

এই প্রশ্নের উত্তর পোস্টের মাঝামাঝিতে দিচ্ছি, এর আগে আলোচনা করা যাক সবুজ বিপ্লব নিয়ে ।

নর্মান বর্লাগ নামের এক ব্যাক্তি ১৯১৪ সালে জন্মগ্রহন করেন যিন এই সবুজ বিপ্লব ধারনা জন্ম দেন । ১৯৩০ ধশকের আমেরিকার মহা মন্দার সময়ে মিনেসোটায় খাবারের দাম নিয়ে আন্দোলন দেখে তার মাথায় চিন্তা আসে খাবার নিয়ে । ১৯৪২ এ প্লান্ট ফিজিওলজি নিয়ে পিএইডি করে তিনি মেক্সিকোয় যান কাজে করতে ।

মেক্সিকোতে সেসময়ে কিছু ফসল এর রোগ আর খুবই কম উতপাদন দেখে তিনি এটা নিয়ে কাজ করা শুরু করেন ।

সেখানে গমের উপরে তিনি পরিক্ষা নিরিক্ষা করেন এবং সিলেক্টিভ মডেল এবং বায়োটেকনোলজি নিয়ে । যে জাত গুলো ফাঙ্গাস এবং রোগ প্রতিরোধি সেগুলোকে নিয়ে ফসল ফলানর চেস্টা করেন।

৩ বছর, মাত্র ৩ বছরেই এখানে সফলতা আসে । সাথে সাথে এই জাতগুলো রাসায়নিক সারের প্রয়োগে আরো ভাল ফল দেয়া শুরু করে । ফসল এতই ভাল হওয়া শুরু করে যে গাছ গুলো মাথার দিকের ফলের ভারে মাটিতে পড়ে যাওয়া শুরু করে ।

এটা ঠেকাতে আবার সিলেক্টিভ উপায়ে জাপান থেকে নিয়ে আসা গমের বীজ যেগুলো খাটো আর শক্তিশালি সেগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেন । ফলন আরো বেড়ে যায় এতে ।

এটা এতই বেশি উতপাদন করা শুরু করে যে, ১৯৫৩ সালে শুরু করা প্রজেক্ট এর কারনে, মেক্সিকোর খাবারের সমাধান হবার পরেও তারা রফতানি করা শুরু করে ১৯৬৩ সালেই ।

এই সাফল্য পাকিস্তান এবং ইন্ডিয়াতেও প্রভাব ফেলে এবং এখানেও একই উপায়ে ফসল ফলানো শুরু হয় । পাকিস্তান ১৯৬৫ তে ৫ মিলিয়ন টনকে ১৯৭০ এ ৮ মিলিয়ন টনে নিয়ে যায় ।

এই পরিক্ষার সময়ে খেয়াল রাখা হল যেন নতুন জাতগুলো কীটনাশক, সার সহনশীল হয় । ফসলে কীটনাশক দিয়ে পোকার আক্রমন কমিয়ে ফেলায় আর সার দেয়ায় ফলন বৃদ্ধির হার ছিল অস্বাভাবিক রকমের ভাল । ফলন প্রায় ৩ গুন বেড়ে যায় এভাবে ১৯৯০ সালের ভিতরেই ।

খুব ভাল শোনাচ্ছে তাই না ?
পর্দার অন্যপাশে তাকাই আসেন ।

এই সবুজ বিপ্লবের আড়ালে নতুন এক বিশাল ব্যাবসা দাঁড়িয়েছে, সার আর কীটনাশক এর ব্যাবসা ।

নতুন জাতের এসব ফসলে পানি লাগে অনেক বেশি, সাথে সাথে সার লাগে বেশি । রাসায়নিক এসব সারের কারনে, পৃথিবীর সামগ্রিক ইকো সিস্টেম আজ হুমকির মুখে । সবুজ বিপ্লব পশ্চিমা পরিকলনার একটু অংশ মাত্র ।

এই যে সার আর কীটনাশক - এটার ফলে আমাদের দেশীয় অনেক প্রজাতি আজ প্রায় নাই হয়ে গেছে । ৯০ এর দশকেও দেশি মাছ পাওয়া যেত ধান ক্ষেত এ । এখনকার কীটনাশকের কারনে মাছ নেই, জমি গুলোও বিষাক্ত হয়ে গেছে ।

উতপাদন খরচ বেড়ে গেছে । শুধু ভারতেই এখন প্রতি বছর ১২০০০ কৃষক আত্নহত্যা করে সবুজ বিপ্লবের ফাদের কারনে । অতিলোভের কারনে উচ্চ খরচে উৎপাদন করা ফসলে যখন দাম পায় না কৃষক, তখন দাদন ব্যাবসায়িদের সুদের টাকা পরিশোধে ব্যার্থ কৃষক তার কাছে থাকা টাকায় জীবনের শেষ কীটনাশক কিনে খেয়ে নেয় নিজেই ।
এই রাসায়নিক কৃষির কারনে স্ব্যাস্থ্যগত যেসব ঝুকির মাঝে আমরা পড়ছি, সেটা ভয়াবহ ।

এরপরে আসে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড অর্গানিজম ফুডস - আরো বেশি উতপাদন,আরো বড় ফাদ ।

ধরা যাক, আপনি সরিষা লাগাবেন আপনার জমিতে । আপনি বাধ্য হলেন মনসান্টো নামক এক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানির বীজ কিনতে, মানে তাদের কাছে থেকেই আপনাকে বীজ কিনতে হবে । আপনার নিজের কাছে আপনি বিজ সংরক্ষন করতে পারবেন না । যদি আপনার কাছে কোন বীজ পাওয়া যায় তাহলে আপনার বাড়িতে পুলিশ আসবে, আপনাকে ধরে নিয়ে যাবে বিজ সংরক্ষন করার অপরাধে । কারন, এই বিজের পেটেন্ট মনসান্টো কোম্পানির । আপনাকে হয় জেলে যেতে হবে অথবা বড় অংকের জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেতে হবে ।

রুপকথা মনে হচ্ছে ? আমেরিকাতে এখন এই নিয়ম চলছে ।
আমাদের দেশে এখন বিটি বেগুন নামের এক বেগুন আসছে । এই বেগুনে পোকা ধরবে না, অনেক ভাল ফলন হবে । আমেরিকার কর্নেল ইউনিভার্টির প্রজেক্ট এ বাংলাদেশে ফার্মিং ফিউচার বিডি নামক এক কোম্পানি বিটি বেগুন প্রোমোট করতেছে আমাদের দেশে ।

এই বেগুনের বিজ আপনাকে কিনতে হবে তাদের কাছে থেকে । এখনো পেটেন্ট এর প্র্যোগ শুরু হয়নি, কিন্তু আগে ত মাঠ দখল করে মনোপলি করতে হবে তাই না ? তারপরে কোন এক শুভদিনে, তারা ঘোষনা দেবে - তাদের অনুমোদিত বীজ ছাড়া কেউ নিজেরা বিজ সংরক্ষন করতে পারবে না ।
আমাদের কৃষিতে সাহায্য করার চেহারা নিয়ে এই ভালমানুশি চেহারার কোম্পানির পিছনে কারা - এটা বুঝতে কস্ট হয় না । তাদের করা একটি ভিডিও কমেন্ট এ দিচ্ছি - দেখেন ।

পাঞ্জাবে যেসব কৃষক আত্নহত্যা করছে, তাদের নিয়ে খোজ নিয়ে জানা গেছে সব খানেই বিটি ব্রান্ড ।

জিএমও ফুড আরো ভয়াবহ ফলাফল নিয়ে আসতেছে । আমেরিকাতে এখন ৯০% ফসল এই উপায়ে ফলানো হয় । এই উপায়ে ফলানো গো-খাদ্যও বিষাক্ত । ক্যান্সার, অ্যালার্জি, অকাল গর্ভপাত, মানসিক ভারসাম্যহীন বাচ্চা এসবের মূল এসব ফফলের গ্লাইফোসেট ।
আরেকটা পয়েন্ট - এসব ফসলের পরাগায়ন এর জন্য মৌমাছি ঠিকভাবে মধু সংগ্রহ করতে পারে না - যার কারনে মৌমাছি এবং ইকো সিস্টেম এর অনেক পোকা, প্রানি মারা যাচ্ছে ক্ষুধায় । আর মৌমাছি না থাকলে কি আমাদের পুরো মানব্জাতি কি পরিমান হুমকির মুখে পড়বে সেটা চিন্তা করাও সম্ভব না ।

রাজস্থানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কৃষকদের আখ উতপাদনের জন্য মাথায় হাত দিয়ে বুঝিয়েছে । আখ উতপাদনে পানি বেশি লাগে, পানি দেয়ার জন্য ডিপ টিউবওয়েল দরকার । আর এই ফসল ফলানর জন্য কেমিকেল দরকার । এই কেমিক্যাল পানিতে মিশে যাচ্ছে । এভাবে আমাদের নদি, পানি সব দুষিত হয়ে যাচ্ছে কেমিক্যাল এ ।

এতে করে যে রোগ হচ্ছে যেমন- ক্যান্সার, অ্যালার্জি, অকাল গর্ভপাত, মানসিক ভারসাম্যহীন বাচ্চা সেগুলোর সমাধান করার জন্য আরো ঋন নিচ্ছে আমাদের দেশ ।
৯০ দশকের আগে বাংলাদেশে ক্যান্সার শব্দটা ছিল না ।
আমাদের দেশে সবুজ বিপ্লব মানে রাসায়নিক কৃষি শুরু হয়েছিল ৮০ এর দশকেই ।

ভারতের পাঞ্জাবে যা ৬০ এর দশকে শুরু হয়েছিল । বর্তমানে পুরো পাঞ্জাব রাসায়নিক কৃষির উপর দাঁড়িয়ে আছে । এই রসায়নিক কৃষির ফলাফল - ক্যান্সার ট্রেন ।

রাজস্থানে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক কুয়ো বাদ দিয়ে ডিপ টিউবওয়েল প্রচলন করে যা ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে । এজন্য তারা ঋন দিয়েছে ।
সাথে শর্ত দিয়েছে যে আখ চাষ করতে হবে কারন এটা সরাসরি টাকা দেবে, অন্য যে ফসল তার ফলাত সেটা তারা খায় । আগেতারা অল্প পানিতেই যেসব ফসল ফলাত সেই ফসল তার দেয়া ঋন পরিশোধ করে না ।

একটি প্রবাহমান নদি ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে টাকা দেয় না । বাধ টাকা দেয় তার দেয়া ঋন পরিশোধ করার জন্য ।

বাধ বানানর জন্য ঋন নিতে হয়, নতুন সেচ প্রকল্প বানালে ঋন নিতে হয় । সেখানে নতুন নতুন ফসল চাষ করা যায় যে ফসল এর বীজ তাদের অনুদান পাওয়া বীজ কোম্পানি বিক্রি করে ।

তারা উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের জন্য টাকা ঋন দেয়, সেখানে সবুজ বিপ্লব ঘটায় । এরপরে সেখানে যখন মানুশ রোগে ভুগতে শুরু করে তখন আরো ঋন দেয় চিকিতসা খাতে । সেখানে মেডিসিন বানানর সরঞ্জাম বানানর মেশিন দেয়, রাসায়নিক দেয় । উন্নয়নশীল দেশ সেই ঋন শোধ করে ।

আমরা - জনগন হয়ে যাই তাদের গিনিপিগ ।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংক চায় তার ঋন পরিশোধ হোক,
এটাই তাদের আসল উদ্দেশ্য ।

Address

Porsha
6551

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mujahidul Islam Jahid posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Mujahidul Islam Jahid:

Share