22/11/2024
কীভাবে গাছের ভেতর থেকে সুমিষ্ট খেজুরের রস নেমে আসে, ভাবতে যাবেন না। হয়রান হতে হবে। বাচ্চারা যখন বুকের দুধ খায়, আমি বলি সে ফেরেশতা, আল্লাহ তাকে খাওয়াচ্ছে। খেজুরের রসের বিষয়টিও আমার কাছে তেমন লাগে। সরাসরি আল্লাহ তাঁর বান্দাদের খাওয়াচ্ছেন। এক্ষেত্রে খেজুর গাছের তুলনা চলে মায়ের সাথে।
বুকের দুধে যেমন বাচ্চার দৈহিক সকল পুষ্টি বিদ্যমান, অবাক হবেন, খেজুরের রসেও মানুষের বহু জটিল রোগের নিরাময় নিহিত। না জানলে অভিজ্ঞদের দ্বারস্থ হোন, হতবাক হয়ে যাবেন। মূলত মৌসুমের যেকোন জিনিসে সে-সময়ের ঋতুবাহিত রোগের উপশম থাকে। আমাদের দেশের আবহাওয়ার সাথে সঙ্গতি রেখেই, আল্লাহ তায়ালা একেক মৌসুমে একেক খাবারের নিয়ামত দিয়ে থাকেন। শীত আর খেজুরের রস তো কিছু ক্ষেত্রে সমার্থকই হয়ে গেছে।
মূলত খেজুরের রস বেশিক্ষণ থাকে না, নোনতা হতে হতে তেতো হয়ে যায়। উপকার পরিণত হয় অপকারে। সেজন্য জ্বালিয়ে তাকে ঝোলা করে রাখা হতো, যেন এর গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। ধীরেধীরে তাতে যোগ হয় আরও বহু-জাতের গুড়; দানাদার, চকোলেট, পাটালি ইত্যাদি। মণখানেক রস ঢেলে জ্বালাতে জ্বালাতে কয়েক কেজি গুড় তৈরি করা হয়। কিন্তু তাতে সেই মণখানেকের পুষ্টি ও উপকার পুরোপুরিই থেকে যায়।
রসের কিছু সাইড-ইফেক্ট আছে, যা গুড়ে নেই। কারণ দীর্ঘক্ষণ আগুনে জ্বালানোয় এর নেগেটিভিটি জিরোতে নেমে আসে। তবে হ্যাঁ, হাতের কাছে বাজারে যে গুড় পাওয়া যায়, তাতে রস ছাড়া সবই থাকে। চিনিতে আটা, হাইড্রোজ, ফিটকারি, সোডা, চুন, ডালডাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে রাতের আঁধারে তৈরি হয় নকল খেজুরের গুড়। প্রাকৃতিক একটা খাবার বানাতে এত কষ্ট করার মানে আছে, বলুন!
অল্প টাকায় কখনোই খেজুরের গুড় কিনবেন না। যে দামে বাজারে হাঁক ছাড়া হচ্ছে, কোনোভাবেই যশোর-ঝিনাইদহ বা উত্তরবঙ্গের প্রকৃত খেজুররসের গুড় সেই দামে আপনাকে দেয়া সম্ভব না। শীতকে স্বাগত জানাতে এমন পচা জিনিস একদমই বাসায় নেবেন না। খেয়ে যেমন গালাগালি দেবেন, এনেছেন বলে গিন্নির ঝাড়িও শুনবেন। বাচ্চাদের পেট খারাপ হবে ইমিডিয়েট।
সব কথার মূলকথা হলো, এবার শীতে খেজুরের গুড় নিয়ে কাজ করছি।
আশা করি পাশে থাকবেন...