আমার যেভাবে আমের ব্যবসায় আসা
আমি দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে অনলাইনে আছি । এক সময় ব্লগে প্রচুর সময় ব্যায় করতাম । অনেক সময় পরিচিত অনেকই আক্ষেপ করতেন যে ফরমালিনের ভয়ে তার বাচ্চাদের বা নিজেরাই রাজশাহীর খেতে পারছেন না ।
তখন আমার মাথায় একটা চিন্তা কাজ করলো যে, আমাদের নিজেদের (পৈত্রীক) বিভিন্ন জাতের প্রায় ১০০০ আমের গাছ নিয়ে বাগান আছে । আমি যদি আমাদের নিজেদের বাগানের আম সাপ্লাই করি তাহলে কেমন হয় ।
এই বিষয়ে
আমাকে জনী ভাই (ইন্ডিপেডেন্ট টেলিভিশনের ব্রডকাস্ট ইন্জিনিয়ার) ও নাসির ভাই (ব্রাকের সিনিয়র সিড রিসার্স অফিসার) এর সাথে পরামর্শ করলাম তারা দুজন আমাকে আরও উৎসাহীত করলেন ।
আমিও চিন্তা করলাম তাহলে আমার বাগানের আম ও বিক্রি হলো অনেক মানুষ ফরমালিন মুক্ত আম খেতে পারলো । যা ভাবা সেই কাজ!! আমার দুই বন্ধুর সহায়তায় ২০১২ সালের মে মাসে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিলাম । আর এই খবর টা সবাইকে অনলাইনে পরিচিতদের জানালাম ।
অবাক করার কথা, প্রথম দিনেই সাখওয়াত ভাই আমার কাছে অর্ডার দিয়ে টাকা পাঠিয়ে দিলেন । আমিও তাকে সময় মত কুরিয়ারের মাধ্যমে আম পাঠিয়ে দিলাম ।
আম পেয়ে তিনি খুশি হলেন ও পরে তিনি ৩ বার অর্ডার করেন । এর পরে সোহেল ভাই সৌদীআরব থেকে অর্ডার করেন । এছাড়া প্রথম বছরেই লন্ডন, দুবাই অস্ট্রেলিয়া থেকে অর্ডার আসতে থাকে ।
আমিও তাদের চাহীদা অনুযায়ী আম পাঠাতে থাকি । এভাবেই প্রথম বছরে বেশ ভাল পরিমানে আম সাপ্লাই হয় ।
এছাড়া আমার পুরাতন গ্রাহকরাই বার বার অর্ডার করতে থাকেন । আমি ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ফেসবুকে ফ্যান পেইজ তৈরী করে সেখানেও আমার সাইটের প্রচার করতে থাকি । পেজে অল্প দিনের মাঝেই ভাল লাইক আসতে শুরু করে ।
এর মাঝে রুয়েটের অমিত ভাই এর মাধ্যমে জানতে পারলাম ফেসবুকে একটি গ্রুপ আছে যারা ছোট ব্যবসায়ীদের নানা রকম পরামর্শ ও বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে থাকে । গ্রুপের নাম “চাকরি খুজব না চাকরি দেব” দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে জয়েন করলাম ।এর কিছু দিন বাদেই গ্রুপ থেকে গ্রুপে উদ্যক্তাদের নিয়ে একটি প্রতিযোগীতার আয়জন করে । এটা সমগ্র দেশের উদ্যগক্তাদের নিয়ে আয়জন করা হয় । যাদের উদ্যগ সফল তাদের মধ্যে থেকে ৩২ জনকে পুরস্কৃত করা হয় । এর মধ্যে আমি ৯ম স্থান অধিকার করি, ও উত্তর বঙ্গ হতে ২য় স্থান ।আমাদের একটি করে ট্রফি ও একটি করে সার্টিফিকেট দেওয়া হয় । সার্টিফিকেটের ছবি আমার ফ্যান পেজে ছবি আকারে দেওয়া আছে ।
২০১৩ সালে আমি আমার আম নিয়ে ঢাকায় যাই ও মোহাম্মদ পুরে একটি দোকান নেই । কিন্তু রাজনৈতীক অস্থিরতার কারনে আমের ক্রেতা না থাকার আমি ব্যাবসা বন্ধ করে রাজশাহী ফিরে আসি ।
২০১৪ সালে আল্লাহ মুখতুলে তাকায় আমার দিকে । এক মৌসুমেই ৩ লক্ষ + টাকার আম বিক্রি করতে সামর্থ্য হই । আর গ্রাহক সংখ্যা ৩০০+ এ পৌঁছে যায় । এই কাজে আমাকে সর্বখনিক সাহায্য করেন আমার দুই সহপাঠি ১. নাজমুল ভাই ও ২. জাহাঙ্গীর ভাই ।
পাশাপাশি ২০১৫-১৬-১৭ সালেও ভালো ব্যাবসা হয়। এরপর ২০১৮-১৯ সাল অসুস্থতার জন্য ব্যাবসায়িক কার্যক্রম প্রায় বন্ধ থাকে।
আমাকে অনলাইন সাপোর্ট দিয়ে থাকেনঃ মাহিন, শাহ আলম ভাই, ফারুক, তহিদুর, আরাফাত, সুমন, আতিক, নোমান, নাজমুল, জাহাঙ্গীর, প্রহান, অনিক, মুন্না
প্যাকেজিং ও কুরিয়ারে সহায়তা করেনঃ শফিকুল, শহিদুল, মেহেদী, শাওন, সোহেল, নাজমুল, রুবেল, মিনারুল, সুমন, সহ আরও অনেকে
এছাড়াও বিশেষ সহায়তা করেনঃ বুলবুল মামা, ও আঃ রাজ্জাক এস, আই
২০১৪ তে আমার প্রাপ্তিঃ-
১. ৩০০+ গ্রাহক
২. (শুননো) ০% অভিযোগ
৩. ২য় বারের মত "চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব" এর পক্ষ থেকে সন্মাননা লাভ
৪. শত শত মানুষের ভালবাসা
Rajshahir Amm is an online market. We collect our items directly from our gardens and make them available to our customers. Our products are free from formalin or any other harmful chemical material. You can order us online and get your product at home as we have got a courier-like service. You can pay us using Dutch Bangla Bank online service and mobile banking service. If you wish you can also collect your orders directly from nearest garden of ours. Our popularity is increasing day by day at home and abroad.