18/05/2018
"কয়েকটি নির্দিষ্ট দিনের রোজা। যদি তোমাদের কৈউ রোগগ্রস্ত হয়ে থাকে অথবা মুসাফির তাহলে সে যেনো অন্য দিনগুলোয় এ সংখ্যা পূর্ণ করে। আর যাদের রোজা রাখার সামর্থ্য আছে (এরপরও রাখে না)তারা যেন ফিদয়া দেয়। একটি রোজার ফিদয়া একজন মিসকীনকে আহার করানো। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে কিছু বেশী সৎকাজ করে, তা তার জন্য উত্তম। তবে যদি তোমারা অনুধাবন করে থাকো তাহলে তোমাদের জন্য রোযা রাখাই উত্তম। রমযান মাস এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হেদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। অতএব এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে তার জন্য এ মাসটি রোযা রাখা অপরিহার্য। আর যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেনো অন্য দিনগুলোয় রোয়ার সংখ্যা পূর্ণ করে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করতে চান, কঠোর হতে চান না। তাই তোমাদেরকে এ পদ্বতি জানানো হচ্ছে, যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হেদায়াত দান করছেন সেজন্য তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে ও তার স্বীকৃতি দিতে পারো এবং তার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। আর হে নবী! আমার বান্দারা যদি তোমার কাছে আামার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তাহলে তাদেরকে বলে দাও, আমি তাদের কাছেই আছি। যে আমাকে ডাকে তার ডাক শুনি এবং জবাব দেই, কাজেই তাদের আমার আহ্বানে সাড়া দেয়া এবং আমার উপর ঈমান আনা কর্তব্য। একথা তুমি তাদের শুনিয়ে দাও হয়তো তারা সত্য-সরল পথের সন্ধান পাবে।
রোজার সময় রাতের বেলা স্ত্রীদের কাছে যাওয়া তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতে পেরেছেন, তোমরা চুপি চুপি নিজেরাই নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছিলে। কিন্তু তিনি তোমাদের অপরাধ মাফ করে দিয়েছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন। এখন তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে রাত যাপন করো এবং যে স্বাদ আস্বাদন আল্লাহ তোমাদের জন্য বৈধ করে দিয়েছেন তা গ্রহণ করো। আর তোমরা পানাহার করতে থাকো যতোক্ষণ না রাতের কালো রেখার বুক চিরে প্রভাতের সাদা রেখা সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়। তখন এসব কাজ ত্যাগ করে রাত পর্যন্ত তোমাদের রোয়া পূর্ণ করো। আর যখন তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত থাকো তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, এর ধারে-কাছেও যেয়ো না। এভাবে আল্লাহ তাঁর বিধান লোকদের জন্য সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, আশা করা যায় এর ফলে তারা ভুল আচারণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে।"
(সূরা বাকারা আয়াত নং ১৮৪-১৮৭)