24/03/2026
পুজ্য বনভান্তের ধর্মদেশনা বলেন—
গৃহীজীবন বড়োই বিপদ সঙ্কুল। কারণ গৃহী জীবন-যাপনে প্রতিটি পদে পদে অকুশলকর্মে লিপ্ত হবার সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকে। এখানে সৎসঙ্গী জুটা যেমন কষ্টকর তেমনি সৎকর্ম সম্পাদনের সুযোগও খুব বেশি হয় না। তবুও তোমরা যথাসম্ভব শীল প্রজ্ঞার সহিত নিজকে পরিচালিত করতে সচেষ্ট থাকবে। শীল প্রজ্ঞা দ্বারা পরিচালিত হলে সেই বিপদ হতে নিজকে মুক্ত রাখা সম্ভব হবে-অন্যথায় নয়। একবার এক দম্পতি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল-ভন্তে এ জীবনের স্বামী-স্ত্রী পরজন্মেও স্বামী-স্ত্রী হতে আকাঙ্ক্ষা করলে, হওয়া সম্ভব কি? আমি বললাম হ্যাঁ, ইহজন্মের স্বামী-স্ত্রী পরজন্মেও উভয় উভয়কে পেতে আকাঙ্ক্ষা করলে তা সম্ভব হয়। তবে স্বামী-স্ত্রী উভয়কে পরামর্শক্রমে মিলে-মিশে শীলপালন করতে হবে, দানাদি কুশলকর্মে নিয়োজিত থাকতে হবে। স্বামী-স্ত্রী দুইজনকেই ধর্মপরায়ণ শীলবান, প্রজ্ঞাবান হতে হবে। এবং পরস্পরে সহ্যশীল, প্রিয়ভাষী, আস্থাবান ও বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব বজায় রাখতে হবে, কায়মনোবাক্য আঘাত করা হতে বিরত থাকতে হবে। শ্রদ্ধায়, দানে, শীলে, প্রজ্ঞায়, সংযমে সমভাব-সম্পন্ন দম্পতিরা এ জীবনের মত পরজীবনেও পরস্পর পরস্পরকে স্বামী-স্ত্রীরূপে লাভ করে পরম সুখে থাকে। মনে রাখবে শীলসম্পন্ন দম্পতিরা পরজন্মেও একে অপরকে দর্শনের আকাঙ্ক্ষা করলে মৃত্যুর পর কর্মানুসারে স্বর্গে অথবা ধনী, উচ্চবংশে জন্মগ্রহণ করত আবার মিলিত হয়ে থাকে। বুদ্ধের সময়ে ভারতবর্ষে অনেক উচ্চবংশীয় মহা ধনাঢ্য ব্যক্তির বাস ছিল। এবং তারা প্রায় সকলেই ছিলেন বুদ্ধের অনুগামী গৃহীশিষ্য। ভগবান বুদ্ধ ধর্মদেশনাকালে সেসব ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে দেখায়ে দিয়ে বলতেন দেখ এই ব্যক্তিরা অতীত জন্মে এরূপ দানশীলাদি প্রতিপালন করত বর্তমানে এই মহাধনের অধিকারী হয়েছে। এভাবে ভগবান বুদ্ধ দানশীলাদি কুশলকর্মের প্রত্যক্ষ সুফল দেখায়ে অন্যদেরকেও দান-শীলাদি পুণ্যকর্ম সম্পাদনে উৎসাহিত, অনুপ্রাণিত করতেন। আর জনসাধারণও তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে কুশলকর্ম সম্পাদন করত। অকুশল, পাপকর্ম পরিত্যাগ করে কুশলকর্মেই প্রতিষ্ঠিত থাকত। চাকমা সমাজেও যদি সেরূপ প্রভূত সম্পতি যেমন আশি, নব্বই কোটি অর্থের ছড়াছড়ি, বহুতলা বিল্ডিং, এয়ার কণ্ডিশন, মূল্যবান গাড়ী, পোষাক পরিচ্ছেদ, অলংকারাদিসহ অফুরন্ত বিত্ত-সম্পদশালী উপরন্তু ধার্মিক পরিবার থাকতো তাহলে তাদেরকে দর্শন করে অন্যজনেরাও ধর্মের প্রতি বিশ্বাসবান আস্থাশীল হতো। সর্বদা পুণ্যকর্ম সম্পাদনে অনুপ