04/08/2025
বন্যা বাংলাদেশের একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি করে। বন্যার সময় এবং বন্যার পর ধানের জমির যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে কিছু করণীয় বিষয় তুলে ধরা হলো।
বন্যার সময় যা করণীয়
* বন্যা সহনশীল জাতের ধান চাষ: বন্যাপ্রবণ এলাকায় থাকলে এমন জাতের ধান চাষ করুন যা দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকলেও টিকে থাকতে পারে। যেমন: ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২, বিনা ধান১১ ইত্যাদি।
* বীজতলা তৈরি: যদি বন্যার কারণে উঁচু জমিতে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে ভাসমান বীজতলা বা দাপোগ পদ্ধতিতে চারা তৈরি করতে পারেন।
* বন্যার পানি নিষ্কাশন: যদি জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকে এবং তা ধানের জন্য ক্ষতিকর হয়, তাহলে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন।
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর করণীয়
বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর পরই ধানের জমি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। তাই কিছু জরুরি পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
জমির পরিচর্যা
* কাদা ও আবর্জনা পরিষ্কার: বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর জমিতে জমে থাকা পলি, কাদা, কচুরিপানা এবং অন্যান্য আবর্জনা দ্রুত পরিষ্কার করে দিন।
* ধান গাছ ধোয়া: যদি ধানের পাতায় কাদা লেগে থাকে, তাহলে হালকা চাপ দিয়ে পরিষ্কার পানি স্প্রে করে তা ধুয়ে দিন। এতে গাছ সহজে সূর্যের আলো পাবে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে।
* নতুন চারা রোপণ: যদি বন্যার কারণে ধানের চারা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোনো উঁচু জমির ধানের গোছা থেকে কুশি তুলে এনে বা নতুন চারা দিয়ে নষ্ট হওয়া অংশে রোপণ করুন। দেরিতে চারা রোপণের ক্ষেত্রে, প্রতি গোছায় ৪-৫টি চারা ঘন করে লাগান।
সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমন
* সার প্রয়োগ: বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই সার দেওয়া উচিত নয়, এতে গাছের ক্ষতি হতে পারে। পানি নেমে যাওয়ার প্রায় ১০ দিন পর যখন ধানের চারায় নতুন পাতা গজানো শুরু হবে, তখন বিঘা প্রতি ৮ কেজি ইউরিয়া এবং ৮ কেজি পটাশ সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে।
* কীটনাশক প্রয়োগ: বন্যা পরবর্তী সময়ে ধানের জমিতে পাতা মোড়ানো পোকা, গলমাছি বা নলিমাছি, মাজরা পোকা, খোলপোড়া এবং পাতাপোড়া রোগের আক্রমণ হতে পারে। নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ করুন এবং ব্যাপক আক্রমণের আগেই উপযুক্ত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করুন।
* ফসল নির্বাচন: যদি কোনো কারণে সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নাবী জাতের ধান সরাসরি বপন বা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে রোপণ সম্ভব না হয়, তাহলে আমন ধান না করে আগাম রবি শস্য চাষ করার প্রস্তুতি নিন।
এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে বন্যার ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। নিয়মিত আপনার স্থানীয় কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে আরও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নিতে পারেন।