15/09/2025
ডাকসুতে রায়হান উদ্দিন-উম্মে সালমা দম্পতি বিজয়ী হয়ে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছেন। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থেকে উঠে আসা এই দম্পতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চলমান শিক্ষার্থী। একাডেমিয়া, সংসার এবং সোস্যাল অ্যাক্টিভিটিজ; এ তিনকে সমানতালে চালিয়ে দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন তারা। ছাত্রজীবনে সংসার পেতে বসা বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি তাদের সামনে।
জাকসুতে তারিকুল ইসলাম-নিগার সুলতানা দম্পতির বিজয় এ যাত্রায় আরেকটি অসাধারণ সংযোজন। তারিকুল ইসলাম কার্যকরী সদস্য এবং নিগার সুলতানা সহ সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন। একাডেমিয়া, সংসার এবং সোস্যাল অ্যাক্টিভিটিজকে সমানতালে চালিয়ে সফলতা পেয়েছেন তারা। ছাত্রজীবনে বিয়ে করা প্রতিবন্ধক হয়ে ওঠেনি তাদের জন্য, বরং সহযোগী হয়েছে।
ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার তামান্না, সেক্রেটারি আফসানা আক্তার বিবাহিতা এবং তাদের সংসার-সন্তান আছে। যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে। এই মেয়েগুলো সংসার করেও একাডেমিয়া, আন্দোলন, ডাকসু; সবখানে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। এই ছেলে-মেয়েগুলোকে দেখেও আমাদের দেশের অভিভাবকরা শিখবেন না। বরং কেউ ছাত্রজীবনে বিয়ে করলে এমনভাবে তাকাবেন, যেন তারা গুরুতর অপরাধ করে ফেলেছে!
কুরআন-সুন্নাহর টেক্সট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়– ন্যূনতম সুযোগ-সামর্থ্য থাকলে বিয়ে করে ফেলতে উৎসাহ দিয়েছে ইসলাম। দেরি করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সেই সময়ের বাস্তবতায় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'বিয়ে করো একটি লোহার আংটির বিনিময়ে হলেও।' [সহীহ বুখারী : ৫১৫০] স্বয়ং আল্লাহ বলেছেন, 'তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদের বিয়ে করিয়ে দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করবেন।' [সূরা নূর : ৩২] আজকাল অভিভাবকরা আল্লাহর কথাতেও ভরসা পান না!
'যে জীবন মরুপথে'/ লাবিব আহসান