NUSA AGRO LTD

NUSA AGRO LTD Nusa agro ltd is an initiative to horticulture,aquaculture, eviculture,cattle,and set up an agro based industry

02/01/2025

একটি বীজ পেলে ভেজা মাটিতে পুতে দিন। আর তার জন্য পারলে যত্ন নিন। এক দিন আপনাকে অনন্য এক ভালো লাগা উপহার দেবে।

24/06/2023
25/03/2022

Having tender grass

27/04/2020

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে চিংড়ি ও

অন্যান্য মাছ চাষ

সালাহ উদ্দিন সরকার তপন : আজকের পর্বে আলোচনা করবো মাছ ও চিংড়ী কেন আমরা বায়োফ্লক পদ্ধতিতে চাষ করব, বায়োফ্লক পদ্ধতিতে চাষ করতে কি কি লাগে এবং প্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোর সাথে পরিচিতি ও আলোচনা। বায়োফ্লক হলো প্রোটিন সমৃদ্ধ জৈব পদার্থ এবং অণুজীব, ফ্লক পানিতে ভাসমান বা নিমজ্জিত অবস্থায় থাকতে পারে। ফ্লকে প্রচুর প্রোটিন ও লিপিড রয়েছে,যা মাছ বা চিংড়ির গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যের উৎস, যেমন- ডায়াটম, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, অ্যালজি, ফেকাল পিলেট, জীবদেহের ধ্বংসাবশেষ এবং অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণি ইত্যাদির ম্যাক্রো-এগ্রিগেট।

বায়োফ্লকে মাছ চাষের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা ও ফ্লক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেকোন মাছ বা চিংড়ি চাষ বা বায়োফ্লক প্রজেক্ট করার আগে পানির উৎস কি হবে এবং তার গুণাগুণ বা ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সবচেয়ে জরুরি বিষয়।

তার আগে আসুন আমরা জেনে নেই কেন আমরা বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ ও চিংড়ি চাষ করব-

কেন বায়োফ্লক?
ইদানীং বায়োফ্লক নিয়ে যে এত মাতামাতি। এটার কারণ কি? কারন হলো-
১. বায়োফ্লক প্রযুক্তি মূলত বর্জ্য পুষ্টির পুর্নব্যবহারযোগ্য নীতি, বিশেষ করে, নাইট্রোজেন, মাইক্রোবায়াল জৈব বস্তুপুঞ্জের মধ্যে খাবারের খরচ কমাতে এবং মাছের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ‘বায়োফ্লক’ প্রযুক্তি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে।

২. পানির পিএইচ ডিও সহ অন্যান্য প্যারামিটার সহজেই মনিটরিং ও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

৩. বায়োফ্লকের মূল লক্ষ্য হলো- অধিক ঘনত্বে ছোট এরিয়াতে মাছ চাষ করা। এ পদ্ধতিতে স্বাভাবিক পুকুরের চাইতে প্রায় ৩০ গুণ বেশি মাছ চাষ করা যায়।
৪. সম্পূর্ণ প্রোবায়োটিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা বিধায় বায়োফ্লক ব্যাপকভাবে অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন সালফাইড মাত্রা হ্রাস করে।

৫. প্রোটিন ও লিপিড যুক্ত ফ্লক মাছ বা চিংড়ি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে ফলে অপেক্ষকৃত ভালো FCR পাওয়া যায়। প্রজাতিভেদে প্রায় ১০-৩০% উন্নত FCR পাওয়া যায় বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে।
৬. পানিতে হ্যাটারটপিক ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতির কারণে পানিতে ময়লা আবর্জনা গঠন হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
৭. অতিরিক্ত খাবার সহ সব ধরনের জৈব বর্জ্য জারিত করার মাধ্যমে ধ্বংস করে ফ্লক (প্রোবায়োটিক কলোনি) তৈরি করে এবং পুকুরটি পরিষ্কার রাখে।

৮. বায়োফ্লকের জলজ পরিবেশ উন্নত রাখতে বন্ধুর মত কাজ করে।

৯. ফ্লকে উপকারি ব্যাকটেরিয়া তাদের কলোনি সৃষ্টি করে যা খাদ্যের মাধ্যমে মাছের শরীরে প্রবেশ করে ফলে মাছ বিভিন্ন ক্ষতিকারক জীবাণু থেকে রক্ষা পায়।
১০. উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতির কারণে অপকারি ব্যাকটেরিয়াজনিক সমস্যা ও রোগ প্রতিরোধ করে।

১১. বায়োফ্লকের তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ফ্লক বিভিন্ন ট্যাংক বা পুকুরে সরাসরি খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

১২. প্রোবায়োটিকের নিজেদের বংশ বৃদ্ধি করার ফলে ফ্লকে প্রাকৃতিক খাদ্যের যোগান বাড়ায়।
১৩. পানির রং এবং ও অন্যান্য গুণগতমান সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
১৪. সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা হাতের মুঠোয় থাকার কারনে মাছের বেঁচে থাকার হার এবং মাছের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায়।
১৫. সম্পূর্ণ প্রোবায়োটিক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা বিধায় পানিতে গন্ধজনিত সমস্যা কমায়।
১৬. কম শ্রমিকে অধিক মাছ চাষ, অর্থাৎ শ্রমিক খরচ কম।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ চাষ করতে মোটামুটি যা যা লাগবে তার একটি প্রাথমিক ধারনা ১০ টনের একটি ট্যাংকির হিসেব করে প্রাথমিক শুরু করার উপাদান গুলো দেওয়া হলো-

১. পানির ট্যাংক;
২. গুনগত মান সম্পন্ন পানি;
৩. ১০০ গ্রাম প্রোবায়োটিক (Floc Pro-1, Floc Pro-2, Booster, Bioflucan etc);
৪. ১-২ কেজি চিটাগুড় মোলাসেস;
৫. চুন Caco3: ২ কেজি ;
৬. র সল্ট ১০ কেজি;
৭. এয়ার স্টোনসহ এয়ার পাম্প বা এয়ার ব্লাওয়ার;
৮. টিডিএস মিটার;
৯. পিএইচ মিটার;
১০. ডিও মিটার;

১১. এলকালাইনিটি টেস্ট কিট
১২. অ্যামোনিয়া টেস্ট কীট;
১৩. থার্মোমিটার;

১৪. TSS (Total Suspended Solid) পরিমাপের জন্য প্রয়োজন ইমহোফ কোন.

১৫. ২০ – ২৫ লিটারের বালতি ২-৩টি।

প্রোবায়োটিক কী?
গ্রিক শব্দ ‘প্রো’ কথার ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘প্রোমোটিং’যার বাংলা অর্থ উন্নয়ন করা বা বেগবান করা বা পক্ষে। ‘বায়োটিক’ কথার ইংরেজি অর্থ হলো ‘লাইফ’, যার বাংলা প্রতিশব্দ জীবন, এবার এই দুটি শব্দকে একত্র করলে দাঁড়ায় জীবনের উন্নয়ন করা বা জীবন বেগবানকারি।

আবার বলা যায় প্রোবায়োটিক মানে: জীবনের জন্য বা জীবনের পক্ষে! “প্রোবায়োটিকস হলো এমন কিছু জীবন্ত অনুজীব যা পর্যাপ্ত পরিমানে প্রয়োগের ফলে পোষক দেহের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।” আমরা ঐসমস্ত ব্যাকটেরিয়াকে প্রোবায়োটিক বলি, যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া মানুষের সুস্থ জীবন ধারনের জন্য প্রতিনিয়ত গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালান করে চলছে।

এখানে প্রোবায়োটিকের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করবোনা। বায়োফ্লকে যে প্রোবায়োটিক ব্যবহার করা হয় সে ব্যাপারে এক কথায় কিছুটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বায়োফ্লকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে প্রোবায়োটিক বা ব্যাক্টেরিয়া। ব্যাক্টেরিয়া প্রধানত দুই প্রকার-

১. উপকারি ব্যাক্টেরিয়া বা প্রোবায়োটিক,

২. অপকারি বা ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া, যেমন ল্যাকটোব্যাসেলিয়াস নাম ব্যাকটেরিয়া। এটা দিয়ে দুধ থেকে দই তৈরি হয়। এছাড়া আমাদের পাকস্থলীতে অনেক ভালো ব্যাকটেরিয়া থাকে যার সংখ্যা প্রায় ৪০০ হবে। যা আমাদের হজম কাজে সাহায্য করে। বায়োফ্লকে ব্যবহৃত প্রোবায়োটিক মাছের উচ্ছিস্ট থেকে তৈরি অ্যামোনিয়া গ্যাস দূরীভূত করে ফ্লক বা প্রোটিন সেল তৈরি করে।

চিটাগুড়/মোলাসেস কি?

মোলাসেস হলো চিটাগুড় বা গুড়ও বলা যায়। আবার অঞ্চলভেদে ঝোলাগুড়, লালি, রাব সহ বিভিন্ন নামেও ডাকা হয়। এটা হলো কার্বনের উৎস, তাই বলে কয়লা নেয়া যাবে না। কারণ, কয়লার কার্বন অণুজীব গ্রহণ করতে পারবেনা। যদি চিটাগুড়/মোনাসেস না পেলে গুড় বা চিনি বা লাল চিনি ব্যবহার করা যাবে।

ডিও মিটার কি?

এটা দিয়ে পানির ডিজল্ভ অক্সিজেন পরিমাপ করা হয়। পানিতে ৫-৮ মি.গ্রা/লিটার হারে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকলে মাছ কাঙ্ক্ষিত হারে বৃদ্ধি পায়। পানিতে ২.০ মি.গ্রা/লিটারের কম অক্সিজেন থাকলে রুইজাতীয় মাছ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে না। অবশ্য মাছ ভেদে অক্সিজেনের মাত্রা পৃথক হতে পারে।

‘র’ সল্ট কি?

মানে খোলা লবন, যেই লবন আমরা সাধারণত গরুকে খাইয়ে থাকি, এই লবন অপরিশোধিত সামদ্রিক লবন, যেটাতে কোন আয়োডিন থাকে না।

পিএইচ মিটার কি?

এটা দিয়ে পানির পিএইচ পরিমাপ করা হয়। মাছ চাষের পানিতে পিএইচ এর মাত্রা ৭-৮.৫ এর মধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়। পিএইচ মাত্রা যদি ৪.৫ এর নিচে হয় এবং ১০ এর উপরে হয় তবে সব মাছ মারা পড়বে। পিএইচ যদি ৬.৫-৮.৫ এর নিচে বা উপরে হয় তবে এক্ষেত্রে মাছ যেকোনভাবে আক্রান্ত হবে।

টিডিএস মিটার কি?

TDS এর পূর্ণরূপ Total Dissolved Solid. পানিতে সাধারণত দ্রবীভূত অবস্থায় ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , পটাসিয়াম ও সোডিয়ামসহ আরো কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে যাকে টিডিএস (TDS) বলা হয় এবং এগুলো পরিমাপের যন্ত্রটিই হল টিডিএস মিটার। প্রজাতিভেদে মাছ চাষের জন্য উপযুক্ত টিডিএস হল ৩০০-২০০০মিগ্রা/লিটার এর মধ্যে।

অ্যামোনিয়া টেস্ট কিট কি?

এটা একধরণের তরল পানীয় রি-এজেন্ট। এটা দিয়ে পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমান পরীক্ষা করা হয়। অ্যামোনিয়া ০.৬-২.০ মিলিগ্রাম/লিটার হলে মাছের জন্য তা বিষাক্ত হয়ে থাকে। বায়োফ্লকের জন্য অ্যামোনিয়া ঘনত্বের সর্বোচ্চ মাত্রা হলো ০.১মিলিগ্রাম/লিটার। অ্যামোনিয়ার পরিমাণ ০.২ মিলিগ্রাম/লিটার এর কম থাকা ভালো, যদিও ০.৪ মিলিগ্রাম/লিটার গ্রহণযোগ্য। সাধারণত: ৫ মিলি পানির সাথে ৪ ফোটা কিট যোগ করে পরীক্ষা করতে হয়।

TSS (Total Suspended Solid)

যা দিয়ে মূলত ট্যাংকের ফ্লকের পরিমাপ করা হয়। এটা বায়োফ্লকের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, সেসপেন্ডেড সলিড এর পরিমান বেশি হয়ে গেলে, যেমন-

১. যেসব মাছ/চিংড়ি তাদের ফুলকা দিয়ে ফিল্টারিং করতে পারবে না তাদের ব্রীদিং প্রোবলেম শুরু হবে ও দূর্বল হয়ে মারা যাবে।

২. ফ্লকের পরিমান বেশি হয়ে গেলে ট্যাংকের ডিও কমে যাবে (কেননা হেট্রোট্রফিক ব্যকটেরিয়া এ্যারোবিক মানে তারাও অক্সিজেন গ্রহণ করে)। তাই ট্যাংক এর পরিবেশ চাষের উপযুক্ত রাখতে ও সকল উপাদানের মধ্যে (পিএইচ, এ্যমোনিয়া, প্রোয়গকৃত কার্বন সোর্স ) ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের কে ফ্লক এর পরিমানের উপর নজর রাখাতে হবে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

বায়োফ্লকের জন্য তাপমাত্রা একটা বড় ফ্যাক্টর। তাপমাত্রা ২০ এর নিচে নেমে গেলে বায়োফ্লক তৈরী হবে না। স্ট্যান্ডার্ড তাপমাত্রা হল ৩০ ডিগ্রী। তাই তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, বিশেষ করে শীতকালে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ট্যাংকের মাটি পিভিসি শিট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। অথবা কর্কশীটও (ফোম) ব্যবহার করা যায়। আর উপরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য শেড দিতে হবে। অনেকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক ধরণের ফোম ব্যবহার করে থাকে, আবার অনেক শীতকালে তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্য হিটার ব্যবহার করে থাকে, তবে বিদ্যুৎ বিলের দিকে নজর দিতে হবে, তাছাড়াও বিভিন্ন ধরণের এয়ারেশন এর সাহায্যও নেওয়া হয় শীতের দিনে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রের জন্য।

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ট্যাংকে ও পুকুরে চাষ করতে গেলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্যালেনিটি। তাই ট্যাংক এ সল্ট ব্যবহারের সময় প্রজাতি ভেদে স্যালেনিটির দিকে খুব সতর্কতার সাথে অবশ্যই নজর রাখতে হবে, অনেকেই মাছি মারা কেরানীর মত আমাদের দেশের সব মাছের জন্য টিডিএস ১৮০০ ধরে বেশী পরিমানে লবণ দিয়ে থাকে, যা ঠিক নয় আমাদের দেশের ফ্রেশ ওয়াটার ফিস অধিকাংশ ৩০০-৮০০ টিডিএস হলেই যথেষ্ট, অবশ্য মাছ বড় হলে ধীরে ধীরে কিছুটা টিডিএস বাড়াতে পারেন; তেমনি স্যালেনিটির ক্ষেত্রেও খুব সতর্কতার সাথে পথ চলতে হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শিং মাগুর স্যালাইনিটি কম থাকাই ভাল, আবার তেপালিয়ার শিং মাগুর থেকে কিছুটা বেশী থাকলে সমস্যা নাই।

লেখক: ম্যানেজিং পার্টনার, সরকার এগ্রো ফিসারিজ ও বারানি

21/04/2020

অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার পরে জমি গুলো পড়েই থাকে । ব

A Production  of nusa
31/03/2020

A Production of nusa

লালশাকের পুষ্টি ও উপকারিতালালশাক একটি জনপ্রিয় পুষ্টিকর শাক। এর রং লাল। একটুখানি শাক মিশিয়ে ভাত মাখালে কী সুন্দর টকটকে লা...
31/03/2020

লালশাকের পুষ্টি ও উপকারিতা

লালশাক একটি জনপ্রিয় পুষ্টিকর শাক। এর রং লাল। একটুখানি শাক মিশিয়ে ভাত মাখালে কী সুন্দর টকটকে লাল হয়ে যায় ভাতগুলো। লালশাক দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি খেতেও সুস্বাদু। এর ইংরেজি নাম Red Amaranth এবং বৈজ্ঞানিক নাম Amaranthus gangeticus . লালশাক পুষ্টিগুণে ভরপুর। এশাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘এ’ (ক্যারোটিন), বি. সি. এবং ক্যালসিয়াম ও আয়রণ রয়েছে। তাছাড়া এতে অ্যামাইনো এ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও ফাইবার বা আঁশ থাকে।
লালশাকের উৎপত্তি দক্ষিণ আমেরিকা, বিশেষ করে মেক্সিকো। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, চীন, তাইওয়ান, আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, গিনি, গিনি-বিসাউ, সেনেগাল, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে লালশাক চাষ হয়। লালশাকের গাছ ছোট বর্ষজীবী গুল্ম প্রকৃতির। কান্ড ফাঁপা। লালশাকের পাতা ডাঁটা শাকের পাতার চেয়ে ছোট ও নরম।
পুষ্টি বিজ্ঞানীদের মতে, খাদ্য উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে রয়েছে প্রোটিন ৫.৩ গ্রাম, শ্বেতসার ৫.০ গ্রাম, চর্বি ০.১ গ্রাম, ১০ গ্রাম আঁশ, ১.৬ গ্রাম খনিজ লবণ, ০.১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-১ ও ০.১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২। তাছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে ৪৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’, ৩৭৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৮৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ২৫.৫ মিলিগ্রাম আয়রন, ১১৯৪০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ৪৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি থাকে। ভিটামিন ও বিভিন্ন পুষ্টির ভালো উৎস হওয়ায় লালশাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
পালংশাক, মুলাশাক, বাঁধাকপি, লেটুস, ধনেপাতা ও সরিষা শাকের তুলনায় লালশাকে অধিক পরিমাণে ক্যারোটিন ( carotene ) থাকে। এ ক্যারোটিন হতে আমাদের দেহে ভিটামিন ‘এ’ সৃষ্টি হয়। চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখা ভিটামিন ‘এ’ র প্রধান কাজ। এছাড়া ত্বক, হাড় ও দাঁতের গঠন এবং সুস্থতা রক্ষার জন্য ভিটামিন ‘এ’ বিশেষ প্রয়োজন। দেহে ভিটামিন ‘এ’র অভাব হলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। রাতের বেলায় অল্প আলোতে দেখতে অসুবিধা হয়। এ অবস্থাকে বলা হয় রাতকানা রোগ। ভিটামিন ‘এ’ র অভাব ক্রমাগত চলতে থাকলে চোখে অন্যান্য কঠিন রোগ দেখা দেয় এবং আস্তে আস্তে চোখ অন্ধ হয়ে যায়। অল্প বয়স্ক শিশুরাই (দশ বছর বয়স পর্যন্ত) এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। শিশু ও ছোট ছেলে-মেয়েদের অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধে লালশাক খুবই উপকারী। এ শাকে বিদ্যমান ভিটামিন ‘এ’ রেটিনার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়ে সার্বিকভাবে দৃষ্টি শক্তির উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের দেহে ভিটামিন ‘এ’র অভাব হলে গর্ভের শিশু দুর্বল ও ক্ষীণ স্বাস্থ্যের অধিকারী হতে পারে। বুকের দুধে ভিটামিন ‘এ’ তৈরির জন্য স্তন্যদানকালে প্রসূতি মায়ের বেশি করে গাঢ় ও সবুজ রঙের শাক-সবজি খাওয়া উচিত। তাই শিশু ও কিশোর-কিশোরীসহ গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যারোটিন (ভিটামিন ‘এ’) সমৃদ্ধ লালশাক এবং গাঢ় সবুজ ও হলুদ রঙের অন্যান্য শাক-সবজি থাকা আবশ্যক।
সরিসা শাক, বাঁধাকপি ও লেটুস পাতার চেয়ে লালশাক থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। ভিটিামিন ‘সি’ আমাদের দাঁত, মাড়ি ও পেশি মজবুত করে। তাছাড়া সর্দি-কাশি ও ঠান্ডার কবল থেকে রক্ষা করে এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন ‘সি’ ক্যালসিয়াম ও আয়রণের বিপাকেও সহায়তা করে। তাই দেহের ভিটামিন ‘সি’ এর চাহিদা পূরণে লালশাক এবং অন্যান্য ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ শাক-সবজি আমাদের বেশি করে খাওয়া উচিত। ভিটামিন ‘সি’ তাপে সংবেদনশীল বলে রান্নার সময় শাক-সবজির শতকরা ৫০ ভাগ ভিটামিন ‘সি’ নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য লালশাক এবং অন্যান্য শাক-সবজিতে বিদ্যমান ভিটামিন ‘সি’ রক্ষার জন্য উচ্চতাপে অল্প সময়ে রান্না করে যত দ্রুত সম্ভব তা খেয়ে ফেলা উচিত।
পালংশাক, মুলাশাক, সরিষাশাক, লাউশাক ও ধনেপাতার চেয়ে লালশাকে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে। মানবদেহের হাড় ও দাঁত গঠনে ক্যালসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গর্ভবতী মহিলারা যদি ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগেন তাহলে এর প্রভাব শিশুদের ওপর দেখা যায়। যেমন – ক্যালসিয়ামের অভাবে শিশুদের হাড়ের কাঠামো দুর্বল, ছোট ও বাঁকা হয়, দাঁত দেরীতে ওঠে এবং দাঁ হয় অপুষ্ট। তাছাড়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় প্রসূতি মায়ের খাবারেও যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকা আবশ্যক। তাই শিশু, কিশোর-কিশারী এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য লালশাক অত্যন্ত উপকারী।
আবার লালশাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন থাকে। দেহে আয়রণের অভাব হলে শরীরে অপুষ্টিজনিত রক্তশূন্যতা ( anaemia ) রোগ দেখা দেয়। ছোট ছেলে-মেয়েরা এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েরা অতি সহজেই এ রোগের শিকার হয়। লালশাক দেহের রক্তপ্রবাহে উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত লালশাক খেলে রক্ত পরিশোধিত হয়। লালশাক শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই রক্তশূন্যতা রোধ করতে লালশাক খুবই উপকারী।
লালশাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকার কারণে এটি দেহের হজম, পরিপাক ও বিপাক প্রক্রিয়ার কাজে সহায়তা করে, কোলন পরিস্কারেও ভূমিকা রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। লালশাক রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতেও লালশাকের ভূমিকা রয়েছে। চুলের স্বাস্থ্যের জন্য লালশাক অনেক উপকারী। এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলে মিনারেল ও পুষ্টি জোগায়। তাছাড়া নিয়মিত লালশাক খেলে কিডনির কার্যকারিতা ভালো থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত লালশাক খেলে একদিকে যেমন কিডনির কর্মক্ষমতা বাড়ে, তেমনি অন্যদিকে রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। লালশাকের এন্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এছাড়া লালশাকে উপস্থিত অ্যামাইনো এসিড, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-ই, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন ‘সি’ শরীরে উপস্থিত একাধিক টক্সিক উপাদান দূর করে। সেই সঙ্গে ক্যান্সার কোষ যাতে জন্ম নিতে না পারে, সেদিকেও খেয়াল রাখে। সর্বোপরি, আমাদের দেেহর সুস্থতা বজায় রাখার জন্য লালশাকের গুরুত্ব অনেক বেশি।
লালশাক ভাজি ও মাছের সঙ্গে ব্যঞ্জন হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। এশাকের তরকারী খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। পরিমাণমতো তেল দিয়ে রান্না না করার কারণে লালশাক এবং অন্যান্য শাকে বিদ্যমান ক্যারোটিন দেহে শোষিত হতে পারে না। এজন্য লালশাক অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল দিয়ে রান্না করে খেতে হবে। লালশাক দামে সস্তা ও সহজলভ্য অথচ পুষ্টিমাণে সমৃদ্ধ। তাই দেহের পুষ্টি সাধন এবং দেহকে সুস্থ-সবল ও নিরোগ রাখার জন্য শিশু ও পূর্ণবয়স্ক লোকের প্রতিদিন লালশাক ও অন্যান্য পুষ্টিকর শাক সবজি খাওয়া একান্ত প্রয়োজন।
উৎপাদন প্রযুক্তি:
উপযোগী জমি ও মাটিঃ দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি লালশাক চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
জাত নির্বাচনঃ বাংলাদেশে প্রচলিত জাতগুলো হচ্ছে আলতাপেটি, রেড ব্লাড, ললিতা, রক্ত রাঙা, রক্ত জবা, পিংকি কুইন, অরুণা, বারি লালশাক-১ এবং স্থানীয় উন্নত জাত।
বীজ বপণের সময়ঃ সারা বছরই লালশাকের চাষ করা যায়। তবে ভাদ্র থেকে পৌষ মাস পর্যন্ত লাল শাকের চাষ বেশি হয়।
জমি তৈরিঃ ৩/৪টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে জমি তৈরী করতে হবে।
সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতিঃ লালশাকের জীবনকাল কম। তাই সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে সার দেয়া প্রয়োজন। লালশাক চাষের জন্য প্রতি এক শতক জমিতে ২৫ কেজি গোবর, ৫০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৪০০ গ্রাম টি.এস.পি. ও ৩০০ গ্রাম এম,ও,পি ও ২০০ গ্রাম জিপসাম সার দরকার হয়। শেষ চাষের সময় সমুদয় গোবর, টি.এস.পি ও জিপসাম এবং অর্ধেক ইউরিয়া ও এম,ও,পি সার জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। অবশিষ্ট ইউরিয়া ও এম,ও,পি সার বীজ বপণের ২০-২৫ দিন পর উপরি প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভাল করে মিশিয়ে দিতে হবে।
বীজ বপণঃ ছিটিয়ে অথবা সারিতে বীজ বপণ করা যায়। লালশাকের বীজ খুব ছোট বলে ১ ভাগ বীজের সাথে ৯ ভাগ শুকনো ছাই অথবা বালি মিশিয়ে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে। এতে জমির সব জায়গায় সমানভাবে বীজ পড়ে। বীজ বপণের পর একটা হালকা চাষ ও মই দিয়ে বীজ মাটির মধ্যে ঢেকে দিতে হয়। বীজ সারিতে বা লাইনে বপণ করা হলে সারি থেকে সারির দূরত্ব রাখতে হবে ২০-২৫ সেঃ মিঃ। প্রতি সারিতে ১৫ সে. মি. দূরে দূরে কাঠি দিয়ে ১.৫-২.০ সেঃমিঃ গভীর করে লালশাকের বীজ বপণ করতে হয়। ছিটিয়ে বপণ করলে প্রতি শতকে ১০ গ্রাম এবং সারিতে বুনলে ৫ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়।
পরবর্তী পরিচর্যাঃ চারা গজানোর এক সপ্তাহ পর ঘন জায়গা থেকে চারা তুলে পাতলা করে দিতে হবে। এগুলো শাক হিসেবে খাওয়া যায়। মাটিতে রসের অভাব হলে জমিতে পানি সেচ দিতে হয়। জমি খুব শুকিয়ে গেলে লালশাকের পাতা ও কাণ্ড শক্ত হয়ে যায়, বাজারে বিক্রি করে ভাল দাম পাওয়া যায় না। তাই লালশাকের জমিতে ৪-৫ দিন পর পর সেচ দিতে পারলে ভালো হয়।
এছাড়া খেতের আগাছা নিড়ানি দিয়ে নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে। বৃষ্টিপাত বা সেচের পর জমির ওপরের মাটি চটা ধরে শক্ত হয়ে এলে নিড়ানি বা ছোট কোদাল দিয়ে তা ভেঙ্গে মাটি আলগা ও ঝুরঝুরে করে দিতে হবে।
পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই দমনঃ লালশাকে লেদা পোকা ও পাতার বিটল পোকার আক্রমন হয় এছাড়া লালশাকে সাদা মরিচা ( White rust ) রোগের আক্রমণ দেখা যায়। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার (আই,পি,এম) মাধ্যমে এসব পোকা-মাকড় ও রোগ-বালাই দমন করতে হবে।
ফসল সংগ্রহঃ বীজ বপণের এক মাস পর থেকে লালশাক সংগ্রহের উপযোগী হয়।

Address

SHINGRAULLY West. SHAMSHERNAGAR
Shamshernagar
3223

Telephone

+8801557701798

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NUSA AGRO LTD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to NUSA AGRO LTD:

Share