23/06/2024
সন্ন্যাসী রাজা ছবির জন্য গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার যখন লিখেছিলেন "কাহারবা নয় দাদরা বাজাও, উল্টোপাল্টা মারছো চাঁটি/ রাধাকান্ত তুমি দেখছি আসরটাকে করবে মাটি'" তখন সেই গানে মান্না দে-র সঙ্গে তবলা বাজাতে চাননি তিনি। তিনি মানে তবলার জাদুকর রাধাকান্ত নন্দী।
রাধাকান্ত কখনও উল্টোপাল্টা তবলা বাজান না। সুতরাং গীতিকারকে 'রাধাকান্ত' নামের জায়গায় লিখতে হল 'শশীকান্ত''। এমনই আপোষহীন তবলাশিল্পী ছিলেন তিনি।
রাধাকান্ত নন্দীর পরিচয় হাল আমলের লোকজন প্রায় জানেনই না। কত হিট বাংলা আধুনিক ও ছায়াছবির গানে তাঁর তবলা বিস্ময়ের চূড়া ছুঁয়েছে।
“তবলা আমায় বাজায়,তাইতো আমি বাজি/তবলাকে মোর দুঃখ দিয়ে বাজাতে নই রাজি”— এই অনুভূতি প্রবাদপ্রতিম তবলাশিল্পী রাধাকান্ত নন্দীর।
জন্মেছিলেন ২৩ মে বরিশাল জেলার বানরি পাড়া গ্রামে।
ঠাকুরদা কালীচরণ নন্দীর উৎসাহে গ্রাম পরিক্রমায় নগরকীর্তনের দলে শিশু রাধাকান্তকেও দেখা যেত শ্রীখোল হাতে। শ্রীখোল বাজাতে বাজাতে একদিন এভাবেই ঝোঁক এল তবলায়।
বাবার শাসন,পড়াশোনার চাপ ও তাঁকে তবলার বাজানোর ইচ্ছে থেকে বিরত করতে পারেনি। কথিত আছে এই জন্যই তিনি নাকি পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনীর সাথে পালিয়ে গেছিলেন।
তবলা বাজানোর মাসহারা এবং ওস্তাদ আনখেলালের শিষ্যত্ব তাকে ধীরে ধীরে পরিণত করে তোলে।
মার্গসঙ্গীতে সঙ্গত করছেন বাবা আলাউদ্দিন খাঁ, আমির খাঁ, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাপদ চক্রবর্তী, মণিলাল নাগ প্রমুখ ওস্তাদ ও পণ্ডিতের সঙ্গে। নেপথ্য সংগীতে ওস্তাদ আলি আকবর খাঁর সাথে সঙ্গত করেছেন।
সব ধরনের তালবাদ্যর বিষয়ে ছিল তাঁর প্রখর জ্ঞান।
একদিনও এমন ছিলনা যে রাধাকান্তর রেকর্ডিং থাকত না। এল পি রেকর্ড সঙ্গীত জগতে প্রশংসিত তাঁর হাতে বাজানো দশটি যন্ত্র।
আধুনিক বাংলা গানে মান্না দের গানের সাথে রাধাকান্ত নন্দীর তবলা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। মান্না দে ছাড়াও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র প্রমুখ বিখ্যাত গায়ক-গায়িকাদের সাথেও তিনি সঙ্গত করে গেছেন। নজরুল গীতিতে মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর তবলাবাদন বিশেষ উল্লেখযোগ্য