10/08/2025
ভারত উপমহাদেশে চা বাগান ও চা পান প্রচলনের ইতিহাস:
১. চা-পান প্রচলনের সূচনা
চা উদ্ভিদের আদি উৎস মূলত চীন। ঐতিহাসিকভাবে ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনের সম্রাট শেন নং প্রথম চা পান করেন।
ভারত উপমহাদেশে চা-পানের প্রমাণ প্রাচীনকালে খুব সীমিত হলেও, আসামের আদিবাসী সিংফো ও কচারি জনগোষ্ঠী বহু আগে থেকেই চা গাছের পাতা পানীয় আকারে ব্যবহার করত।
১৮শ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশরা চীন থেকে চা আমদানি করত, কিন্তু তখনও ভারতে চা চাষ শুরু হয়নি।
২. সর্বপ্রথম চা বাগান আবিষ্কার ও চাষ শুরু
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রবার্ট ব্রুস (Robert Bruce) ১৮২৩ সালে আসামের সিংফো উপজাতির কাছ থেকে চা গাছের অস্তিত্বের খবর পান।
১৮৩৪ সালে ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্ক ভারতে চা চাষের অনুমোদন দেন।
১৮৩৭ সালে আসামের চাবুয়া এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম চা বাগান স্থাপন করা হয়।
১৮৪০ সালের দিকে আসাম ও দার্জিলিংয়ে বাণিজ্যিক চা উৎপাদন শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. বাংলাদেশে চা শিল্পের সূচনা
তখনকার সময়ে বাংলাদেশ ছিল আসামের অন্তর্ভুক্ত (ব্রিটিশ ভারতের অংশ)।
বাংলাদেশের প্রথম চা বাগান প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়ায়।
মালনীছড়া চা বাগানটি প্রতিষ্ঠা করেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী ওয়াল্টার ডানকান।
এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন চা বাগান।
এখান থেকেই ধীরে ধীরে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় চা চাষ বিস্তার লাভ করে।
৪. বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৬৮টিরও বেশি চা বাগান রয়েছে, যার মধ্যে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ চা উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি এবং চা দেশের সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত।
সারসংক্ষেপ
প্রথম চা আবিষ্কার (ভারত): আসামের সিংফো উপজাতির কাছ থেকে ১৮২৩ সালে রবার্ট ব্রুস।
প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান (ভারত): ১৮৩৭ সালে আসামের চাবুয়া।
প্রথম চা বাগান (বাংলাদেশ): ১৮৫৪ সালে সিলেটের মালনীছড়া, প্রতিষ্ঠাতা ওয়াল্টার ডানকান।