03/09/2024
কেন আহলে হাদীস ত্যাগ করলাম!
আমি জানতাম আমরা হানাফী মাজহাবেরই অনুসারী, বেশ ওইটুকুই এর বেশী কিছু নয়, হানাফী মাজহাব কি? আসলে তা আমাদের নিকট ভাল করে জানা ছিলনা।* আজ থেকে দশ বছর আগে একটি কিতাব পড়ে আমি মুগ্ধ হলাম, তাতে লিখা ছিল রাসুলের কোনও মাজহাব ছিলনা, সাহাবাগন কোন মাজহাব অনুস্মরণ করেননি, রাসুল ছাড়া আর কারো তাকলীদ বা অন্ধ অনুস্মরণ করা যাবে না, যেখানে কুরআন ও সহীহ হাদিস মজুদ আছে সেখানে আবার মাজহাব মানতে হবে কেন? মাজহাব ধর্মকে খন্ড-বিখন্ডিত করে ফেলেছে ।
★ আমি মনে মনে ভেবে দেখলাম কথাগুলো তো বাস্তব সত্য, এমন অবাক করার মতো তথ্যগুলো তো আগে কখনো শুনিনি। মাজহাব নিয়ে মানুষ পড়ে আছে কেন ! সেটাই আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। এক সময় মনে মনে আমি নিজেকে লামাজহাবী ভাবতে শুরু করলাম।
★এরপর ফেইসবুকে মতিউর রহমান মাদানী, আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, আমানুল্লাহ মাদানী, আকরামুজ্জামান, মুরাদ বিন আমজাদ, মুজাফ্ফর বিন মহসিন প্রমুখের গ্যারান্টি দেয়া বক্তব্যগুলো শুনে আমি আরও আশাবাদী হলাম। এক সময় আমি আমার প্রিয় শায়েখদের বক্তব্যগুলোকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে লাগলাম, সেইসাথে আমার অন্তরে এমন এক ধারনার সৃস্টি হলো যে আমরা সালাফী তথা আহলে হাদিসেরা ব্যতীত বাকীরা সবাই বিদআতী ও বাতিল ফিরকা, আমরাই শুধুমাত্র হকপন্থী, বাকী সব বিদআতীদের জন্য অনেক আফসোস করতাম ।
★ গত বছর থেকে ফেইসবুকে ভিন্ন টাইপের কিছু নতুন হুজুরের আবির্ভাব পরিলক্ষিত হতে দেখে চমকে ওঠলাম। সেই সাথে কিছু ব্লগারেরও সন্ধান পেলাম। আমাদের বিখ্যাত শায়েখদের প্রদত্ত বক্তব্যগুলোকে তারা খন্ডন করে পাল্টা বক্তব্য দিতে থাকলেন।
আমি উভয় পক্ষের বক্তব্যগুলোকে একত্র করে হিসাব মিলাতে থাকলাম, আমি বুঝতে সক্ষম হলাম যে, ইবাদতের মধ্যে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে শায়েখ‘রা বিষেদগার করে যাচ্ছেন এগুলো কোনও মৌলিক বিষয় নয়। ১২ থেকে ১৩ শত বছর পূর্বে মাজহাবের ইমামগন সাংঘর্ষিক তথা ইখতেলাফী হাদিস থেকে মাসালা বের করে যেসব বিষয়ে সমাধান দিয়ে গেছেন শায়েখ‘রা সেইগুলো নিয়েই বিতর্ক সৃস্টি করে করে যাচ্ছেন। অথচ এগুলো নিয়ে আগে কেউ কোন বিতর্ক সৃস্টি করেনি।
★ আমি আরো লক্ষ করলাম যে, শায়েখগন নিজেরাই দিশেহারা হয়ে আত্মঘাতী বক্তব্য দিয়ে চলেছেন, রমজান আসলে তাদের নিকট তিন রাকাত বিতর নামাজ সহীহ হয়, রমজানের বাইরে বিতির নামাজ এক রাকাত সহীহ হয়ে যায়। ঈদের নামাজ তারা কারো নিকট ১২ তাকবীর সহীহ, আবার কারো কারো নিকট ৬ তাকবীর