14/06/2026
ভারত তাদের চিকেন নেক চওড়া করার জন্য রংপুর বিভাগ দখল করতে চায় - এটা কোনো নিছক ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নয়। রংপুর দখলের কথা কোনো যদু-মধু বলেনি। ভারতের অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এমনকি সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাও লিখিতভাবে চট্টগ্রাম ও রংপুর দখলের খায়েশ বহুবার ব্যক্ত করেছেন।
এমনকি কীভাবে তারা রংপুর এবং চট্টগ্রাম দখল করতে চায়, সেসব ভয়ংকর পরিকল্পনাও তারা লিখিতভাবে প্রকাশ করেছেন। "রংপুর বিচ্ছিন্ন করে মানচিত্রে যুক্ত করতে চায় ভারত" শিরোনামে করা আমার ভিডিও এপিসোডে তাদের সেই ভয়ংকর পরিকল্পনাগুলো আমি সবিস্তারে দেখিয়েছি (ভিডিও লিংক কমেন্টে)।
বাংলাদেশের ক্রুশিয়াল পয়েন্ট রংপুরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা একদম নগণ্য। সেখানে কার অর্থায়নে এক বিতর্কিত ব্যক্তির মাধ্যমে এত বড় মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছে, বিএনপি সরকারের উচিত ছিল বিষয়টি খতিয়ে দেখা।
ভারতীয় সাংবাদিক জয়দীপ মজুমদার যেখানে লিখিতভাবেই বলেছেন যে, হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের অজুহাত দিয়ে তারা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগ দখল করতে চায়, সেখানে বিএনপি সরকারের এই নির্লিপ্ততা সত্যিই বিস্ময়কর।
বাংলাদেশে যে কেউ যেকোনো জায়গায় মন্দির কিংবা মসজিদ নির্মাণ করতে পারে। এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন কোনো স্থাপনা বিদেশি দেশের রাষ্ট্রদূতের পৃষ্ঠপোষকতায়, এক বিতর্কিত ব্যক্তির অর্থায়নে এবং একটি কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্মিত হয়, তখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। এমন একটি প্রকল্পের অর্থায়নের উৎস, পৃষ্ঠপোষকতা এবং প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে সরকারের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়াই প্রত্যাশিত ছিল।
অহিংসভাবে সভা-সমাবেশ করার অধিকার সবার আছে। এই ষড়যন্ত্রপূর্ণ মন্দির স্থাপনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধার কিছু সচেতন মহল অহিংস প্রতিবাদ বেছে নেয়। তাদের সেই প্রতিবাদসভা পুলিশ-প্রশাসন লেলিয়ে দিয়ে পণ্ড করে দিয়ে বিএনপি কী বার্তা দিতে চাইল?
এই অবস্থায় যদি বলি, বিএনপি সরকারও বাংলাদেশের রংপুর বিভাগকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাহলে কি সেটা অত্যুক্তি হবে?