28/04/2026
আতর বা সুগন্ধি প্রধানত তাদের উৎস, তৈরির পদ্ধতি এবং ঘ্রাণের স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। সাধারণ ব্যবহারের সুবিধার্থে আতরকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:
১. উৎস অনুযায়ী প্রকারভেদ
আতর মূলত প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। এগুলোকে প্রধান তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
উদ্ভিজ্জ আতর (Plant-based): ফুলের পাপড়ি, গাছের ছাল, পাতা বা শিকড় থেকে এই আতর তৈরি হয়। যেমন: গোলাপ, জুঁই (বেলি), চন্দন, এবং খাস (Vetiver)।
প্রাণিজ আতর (Animal-based): এই ধরনের আতর এখন বিরল এবং দামি। যেমন: কস্তুরী (Musk) যা হরিণ থেকে পাওয়া যায় এবং আম্বর (Ambergris) যা তিমির শরীর থেকে সংগৃহীত হয়।
খনিজ বা মিশ্র আতর: বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান ও রেজিন ব্যবহার করে এই সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
২. ঘ্রাণের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী (জনপ্রিয় কয়েকটি)
বাজারে ঘ্রাণের ধরন অনুযায়ী আমরা সাধারণত নিচের নামগুলো বেশি শুনে থাকি:
মুকাল্লাত (Mukhallat): এটি মূলত কয়েকটি সুগন্ধির মিশ্রণ। এতে সাধারণত জাফরান, উদ, গোলাপ এবং কস্তুরীর সুষম সংমিশ্রণ থাকে।
উদ (Oudh): এটি আগর কাঠ থেকে তৈরি অত্যন্ত মূল্যবান এবং কড়া ঘ্রাণের আতর। এর স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়।
মাজমুয়া (Majmua): এটি ভারত ও বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কদম, জুঁই, মাটি এবং চন্দনের এক অনন্য মিশ্রণ এটি।
মিষ্টি বা ফ্লোরাল: গোলাপ, রজনীগন্ধা বা বকুল ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণের আতরগুলো এই তালিকায় পড়ে।
৩. ব্যবহারের আবহাওয়া অনুযায়ী
আতর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময়ের একটি বড় ভূমিকা আছে:
শীতকালীন আতর: শীতের সময় কড়া ও উষ্ণ ঘ্রাণ যেমন—উদ, আম্বর বা কস্তুরী বেশি ভালো লাগে।
গ্রীষ্মকালীন আতর: গরমে ঠান্ডা ও সতেজ ঘ্রাণ যেমন—খাস, সাদা গোলাপ বা লেবু জাতীয় সাইট্রাস সুগন্ধি আরামদায়ক হয়।
৪. তৈরির মাধ্যম
অ্যালকোহল মুক্ত আতর: এটি খাঁটি তেলের নির্যাস (Essential oil) দিয়ে তৈরি হয়, যা দীর্ঘক্ষণ ত্বকে লেগে থাকে।
পারফিউম অয়েল: আধুনিক অনেক সুগন্ধিকে আতরের মতো ঘনত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়। #এরাবিয়ানআতর