16/11/2025
#পথচিত্র #বজবজ
কলকাতার সকালটা ছিল একদম সিনেমার শুরুর দৃশ্যের মতো—হালকা ঠান্ডা হাওয়া, রাস্তায় গতি, আর আমরা দু’জন বাইকের সিটে পাশাপাশি। হেলমেটের ভেতর লুকোনো হাসিটা শুধু সঙ্গীই বুঝতে পেরেছিল। বাইকের ইঞ্জিন যেমন ধীরে ধীরে গতি নিচ্ছিল, ঠিক তেমনি আমাদের মনও শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল।
রিসোর্টের পথটা খুব লম্বা নয়, কিন্তু সেই পথ পেরোতে পেরোতে দু’জনে যে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো ভাগ করছিলাম—হঠাৎ বাতাসে চুল উড়ে যাওয়া, চোখাচোখি হলে চুপচাপ হাসি, আর পেছনে ফেলে আসা ধুলো–উড়া রাস্তা—সবটাই যেন কোনো রোমান্টিক সিনেমার মন্টাজ।
রিসোর্টে পৌঁছে মনে হল আমরা যেন একদম অন্য জগতে ঢুকে পড়েছি। চারদিকে গাছ, শীতল হাওয়া, আর নিস্তব্ধতা—ঠিক সেই জায়গা, যেখানে মানুষ নিজের হৃদয়ের শব্দটাও শুনতে পায়। একটু বিশ্রামের পর আমরা রিসোর্টের ভেতরেই হাঁটতে বেরোলাম। কাদামাটির ঘ্রাণ, পাখির ডাক, আর সঙ্গীর কাঁধে হাত রেখে হাঁটা—এ সবটাই ছিল কোমল আর আরামদায়ক।
বিকেলের আলোটা একটু নরম হলে আমরা গঙ্গার দিকে এলাম। নদীর ধারে পৌঁছতেই মনে হল যেন সূর্য আমাদের জন্যই ধীরে ধীরে সোনালি আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। জলের ওপর ভাঙা ভাঙা প্রতিফলন, চারপাশে হাওয়ার উষ্ণ ছোঁয়া, আর দু’জনাকে নিয়ে চুপচাপ বসে থাকা—এটা ছিল ভ্রমণের সবচেয়ে সিনেম্যাটিক মুহূর্ত। সূর্য যখন ডুবে গেল, মনে হল প্রাকৃতিক পর্দার উপর এক নিখুঁত দৃশ্যের শেষ লাইনটা লেখা হলো।
সন্ধে নামতেই রিসোর্টে ফেরার পথে বাতাসটা যেন একটু আলাদা লাগছিল—শীতল, নরম আর অদ্ভুতভাবে রোমান্টিক। রিসোর্টে ফিরে আমরা কিছু সুন্দর সময় কাটালাম—হাসি, গল্প, একান্ততা আর সেই বিশেষ অনুভূতি, যা শুধু দু’জন জানে। যেন গোটা দিনটাই আমাদের জন্য সাজানো ছিল।
পরদিন বাড়ি ফেরার আগে আবার বাইকটায় উঠলাম। কিন্তু এবার ব্যাগে শুধু পোশাক নয়, সঙ্গে ছিল অসংখ্য ছবির মতো স্মৃতি—যার প্রতিটা ফ্রেমে আমরা দু’জনই রয়ে গেছি, খুব আপন, খুব কাছাকাছি।
ফার্মহাউস হয়তো একটা জায়গা, কিন্তু আমাদের কাছে সেটা রয়ে গেল এক সুন্দর মুহূর্তের গল্প—যা হয়তো বহুদিন পরেও মনে পড়লে হাসি এনে দেবে।