15/11/2023
যথা ব্রহ্মণে ভগবান্ স্বয়মুপদিশ্যানুভাবিতবান্ ॥ ১/১-৫০ ॥
*অনুবাদ:-* পরমেশ্বর ভগবান স্বয়ং ব্রহ্মাকে উপদেশ দান করে তাঁকে অনুভব করিয়েছিলেন।
*তাৎপর্য:-* God helps those who help themselves (ভগবান তাদেরই সাহায্য করেন, যারা নিজেদের সাহায্য করে), এই ইংরেজী প্রবাদ বাক্যটি পারমার্থিক বিষয়েও প্রযোজ্য। অন্তর থেকে ভগবানের গুরুরূপে সাহায্য করার বহু নিদর্শন শাস্ত্রে রয়েছে। গুরুরূপে তিনি ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে উপদেশ দান করেছিলেন। ব্রহ্মার যখন জন্ম হয়, তখন তিনি জানতেন না কিভাবে তাঁর সৃজনী-শক্তিকে সৃষ্টিকার্যে নিয়োগ করবেন। আদিতে কেবল শব্দ ছিল, সেই শব্দ তপ কথাটি স্পন্দিত করছিল, যার অর্থ হচ্ছে পারমার্থিক তত্ত্বজ্ঞান লাভের জন্য তপশ্চর্যা করা। তত্ত্বজ্ঞান লাভের জন্য ইন্দ্রিয়সুখের চেষ্টা থেকে বিরত হয়ে সব রকমের অসুবিধা স্বীকার করতে হয়। তাকেই বলা হয় তপস্যা। ইন্দ্রিয় উপভোগকারীরা কখনই ভগবান, ভগবদ্ভক্তি ও তত্ত্ববিজ্ঞান উপলব্ধি করতে পারে না। তাই ব্রহ্মা যখন তপ শব্দের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের কাছে দীক্ষিত হয়েছিলেন, তখন তিনি তপশ্চর্যা শুরু করেছিলেন এবং ভগবানের কৃপায় দিব্যজ্ঞান লাভ করার মাধ্যমে চিন্ময় জগৎ বৈকুণ্ঠলোক দর্শন করতে পেরেছিলেন। আধুনিক যুগের বৈজ্ঞানিকেরা রেডিও, টেলিভিশন, কম্পিউটার প্রভৃতি আবিষ্কার করার মাধ্যমে জাগতিক সব কিছুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু তপশ্চর্যার মাধ্যমে মানবজাতির আদি পিতা ব্রহ্মা যে বিজ্ঞান আয়ত্ত করেছিলেন, তা ছিল আরও সুক্ষ্ম। এমন একদিন সময় আসবে যখন জড় বৈজ্ঞানিকেরাও জানতে পারবে কিভাবে আমরা বৈকুণ্ঠজগতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারি। ব্রহ্মা পরমেশ্বর ভগবানের শক্তি সম্বন্ধে জানতে অনুসন্ধিৎসু হয়েছিলেন এবং ভগবান তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন পরবর্তী ছয়টি শ্লোকে। পরম গুরুরূপে পরমেশ্বর ভগবানের দেওয়া এই জ্ঞান শ্রীমদ্ভাগবতে (২/৯/৩১-৩৬) উল্লেখ করা হয়েছে।
~শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত